যে টেকউয়েতে কাজ করতাম সেখানে একটা বার আছে।পাবগুলো বন্ধ হলে মদ পাগলরা এসে ভিড় করতো এখানে।যতক্ষণ মদ শেষ না হবে ততক্ষণ উঠার নাম নেই।ইউকএন্ডে আরো খারাপ অবস্থা।দোকান বন্ধ বলার পরও মদ চাইবে।যেটুকু গ্লাসে আছে সেটুকু শেষ করেতো করেনা।মদ খাওয়ার বেলায় তাদের কোন সময়জ্ঞান নেই।আমাকেও বসে থাকতে হয় যতক্ষণ মদ শেষ নাহয়।
সপ্তাহে একদিন ডেঅফ।যেদিন ক্লাশ সেদিন ডেঅফ নেয়ার চেষ্টা করি।সকালে উঠেই ট্রেন ধরি।ট্রেনে বসেই হোম ওয়ার্ক শেষ করি। কলেজ বাঙ্গালী হলেও টিচার কিন্তু ইংলিশ।টিচাররাও খুব ফ্রেন্ডলী।আমার ক্লাশমেটের মধ্যে বেশীরভাগই বাংলাদেশী।প্রায় সবার সাথেই অল্প দিনে একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে।একে অন্যকে সাহায্য করতাম সবসময়।
এভাবে কিছুদিন চলার পর ভেবে দেখলাম ইনকাম বাড়ানো দরকার।প্রতিমাসেই দেশে টাকা পাঠাতে হচ্ছে।কলেজের টিউশান ফি হতে শুরু করে মোবাইলের বিল সবমিলিয়ে মাস শেষে ব্যাংক খালি।তাই বসকে বললাম বেতন বাড়াতে।বস মুখের উপর না করে দিলেন।ঠিক করলাম আরেকটা কাজ পেলে এটা ছেড়ে দেবো।
ইষ্ট লন্ডনে প্রচুর বাঙ্গালী জব সেন্টার আছে।তারা রেষ্টুরেন্টে কাজের জন্য লোক পাঠায় বিভিন্ন জায়গায়।এজন্য একটা ফি ও নেয় তারা।এরকমই কিছু জব সেন্টারে যোগাযোগ করলাম।তাদের মাধ্যমে সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে রেষ্টুরেন্টে কাজ পেয়ে গেলাম আরেকটু বেশী বেতনে।সাথে সাথে বসকে নোটিশ দিলাম কাজ ছাড়ার।
বেশ কিছুদিন একই জায়গায় কাজ করার ফলে সবার উপর কেমন মায়া পড়ে গেলো।চলে আসার দিন কষ্ট হলো খুব।যতটুকু তাদের জন্য কষ্ট হলো তার চেয়ে বেশী কষ্ট হলো আমার ভাঙ্গা দাতটার কথা ভেবে।
চলবে..................
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৬:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


