আমার প্রিয় পোস্ট

মেঘমুক্ত নীলাভ দিঘীর কবোষ্ণতা খুঁজছে মন!

ইসলামে উত্তরাধিকার আইন (১): কতটা গাণিতিক ব্যবহারিক আইন

১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:২০

শেয়ারঃ
0 4 1

(লেখাটি দুটি অংশে বিভক্ত- আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর)

।।আলোচনা।।

ইসলামে উত্তরাধিকার আইন এত বিস্তৃত ও বিশাল পরিসরের যে সেটাকে একটা পোস্টে আলোচনা করা মোটামুটি দু:সাধ্য। তবে এটা নিয়ে লেখার তীব্র ইচ্ছা থেকে প্রায় সপ্তাহদুয়েক পরিশ্রম করে যথাসাধ্য সংক্ষিপ্ত পরিসরে নিয়ম কানুন শর্ত লিখবার কাজের একটা অংশ শেষ করি। এর জন্য আমাকে সাহায্য নিতে হয়েছে আমার সংগ্রহের ও অন্যান্য উৎস হতে পাওয়া অসংখ্য বই পত্রের ( কোন ওয়েবসাইট থেকে সাহায্য নেবার ব্যাপারে যথাসাধ্য শর্তকতা অবলম্বন করেছি)। এধরনের কয়েকটা বই হচ্ছে Islamic Inheritance Law,General Rules & Shares by Mohammad Razi,Sep-2008, Toronto, Canada, Moohummudan Law of Inheritance by A. Rumsey,london. The Islamic Law of Succession by Dr A Hussain Islamic Inheritance Law by Dr Yusuf Ziya Kavakci The Final Bequest by Muhammad Al-Jibaly,ইসলামী উত্তরাধিকার আইন,মো.ফজলুর রহমান আশরাফী,মুসলিম আইন-এম হাবিবুর রহমান এবং একই সাথে যারা এ বিষয়ে আগ্রহী তাদের দেখা উচিত অন্যান্য সমাজ ব্যবস্থার (পুঁজিবাদ,সমাজতন্ত্র ও প্রমাণ প্রধান ধর্মসমূহ) উত্তরাধিকার আইন ।
এ পোষ্টে প্রতিটা তথ্য যা নিয়েছি তা প্রধান উৎস কুরআন ,হাদীস থেকে দেখে নিশ্চিত হবার চেষ্টা করেছি। তারপরও এ ব্যাপারে যারা আরও বিজ্ঞ তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে, যদি কোন ভুল থেকে থাকে বা কোন পরামর্শ থাকলে দয়া করে জানাবেন-কৃতজ্ঞ থাকবো।



প্রাথমিক শর্তাবলী:
মৃত ব্যক্তির সম্পদ হতে তার অন্তেষ্টেক্রিয়া খরচ,তার ঋন থাকলে পরিশোধ,স্ত্রীর অপরিশোধিত দেনমোহর প্রদান সম্পন্ন করতে হবে। বাকি সম্পদের সর্ব্বোচ্চ ১/৩ অংশ তার উইলে (যদি থাকে) ব্যয় হবে। এসব কাজ শেষে যে স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি থাকবে তা ইসলামি আইন অনুসারে উত্তরাধিকারিগণের মধ্যে বণ্টন করতে হবে।

উত্তরাধিকার আইনের উৎস:
ইসলামের জীবন যাপনের বিধি-বিধানকে বলা হয় শরীয়াত। আর এই শরীয়াতের উৎস হল চারটি: (১) আল কুরআন (২)সুন্নাহ বা হাদিস (৩)ইজমা ও (৪)কিয়াস। উত্তরাধিকার আইন একটি শরীয়া আইন হওয়ায় এর উৎসও এ ৪টি।
আল কুরআনের ৩৫ টি আয়াতে উত্তরাধিকার আইন নিয়ে বলা আছে,তাদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য-
সূরা বাকারা আয়াত ১৮০,২৪০
সূরা নিসা আয়াত ৭,৮,৯,১১,১২,১৯,৩৩,১৭৬
সূরা মায়িদাহ ১০৫,১০৮
কুরআন শরীফের আয়াতগুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে হাদীস বা সুন্নাহ হতে। বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থগুলিতে(৬টি) উত্তরাধিকার আইন নিয়ে আলাদা আলাদা অধ্যায় রয়েছে।
পরবর্তীতে কুরআন ও হাদীসকে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বিশ্লেষণ করে আরও কিছু নিয়ম প্রবর্তিত হয়, এদের বলা হয় ইজমা।

ইসলামী উত্তরাধিকারিগণ: তিন ভাগে বিভক্ত, যথা-
১.যাবিল ফুরুজ বা অংশীদার: যাদের অংশ শরীয়ত দ্বারা নির্দিষ্ট।
২.আসাবা: যাবিল ফুরুজদের মধ্যে বন্টিত হবার পর যারা অবশিষ্টাংশ পায়
৩.যাবিল আরহাম: দুর সম্পর্কের আত্মীয়স্বজন,উপরের দুই শ্রেনীর অনুপস্থিতে যারা অংশীদার হয়

ইসলামী উত্তরাধিকারি আইনের সংক্ষিপ্ত আউটলাইন:
উল্লেখ্য যে এটি উত্তরাধিকারি আইনের সংক্ষিপ্ত আউটলাইন, এ নিয়ম গুলো প্রাথমিক ,এদের দ্বারাই মোটামুটি সব বন্টন হিসাব করা যায়, আরও কয়েকটা শর্ত রয়েছে যা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রয়োগ হয়। এখানে, অধস্তন= মৃত ব্যক্তির পুত্র,কন্যা, পৌত্র,পৌত্রি...ইত্যাদি উর্ধ্বতন= মৃত ব্যক্তির পিতা,দাদা...ইত্যাদি আসাবা=অবশিষ্টাংশ ভোগী বোঝার নিয়মটা খেয়াল করুন,যেমন নীচে দেখুন ১(খ) এর নিয়ম হল"১.পিতা (খ)১/৬+আসাবা,যদি স্ত্রী অধস্তন থাকে" এর অর্থ হল যদি মৃত ব্যক্তির কন্যা,পৌত্রী..ইত্যাদি জীবিত থাকে তাহলে মৃত ব্যক্তির পিতা মোট সম্পত্তির ১/৬ অংশ পাবে এবং পরবর্তীতে বাকি ওয়ারিশগনকে সম্পত্তির অংশ দিয়ে দেবার পর বাকি থাকলে সেখান থেকেও একটা অংশ পাবেন।

১ম উত্তরাধিকারি. যাবিল ফুরুজ বা নির্দিষ্ট অংশীদার(১২জন)
১.পিতা
(ক) ১/৬, যদি পুং অধস্তন(পুত্র,পৌত্র ইত্যাদি) থাকে
(খ)১/৬ + আসাবা, যদি স্ত্রী অধস্তন (কন্যা, পৌত্রী ইত্যাদি) থাকে
(গ)আসাবা, কোন অধস্তন না থাকলে
২.দাদা
(ক) ১/৬, যদি পুং অধস্তন থাকে
(খ) ১/৬ + আসাবা, যদি স্ত্রী অধস্তন থাকে
(গ)আসাবা, কোন অধস্তন না থাকলে
(ঘ) ০, যদি পিতা থাকে
৩. স্বামী
(ক) ১/২, মৃত স্ত্রীর কোন অধস্তন না থাকলে
(খ)১/৪, মৃত স্ত্রীর কোন অধস্তন থাকলে
৪. সৎ ভাই (মায়ের পক্ষের)
(ক) ১/৬ , (একজন হলে)
(খ) ১/৩, (একাধিক হলে)
(গ) ০, অধস্তন বা উর্ধ্বতন থাকলে
৫. স্ত্রী
(ক) ১/৪, অধস্তন না থাকলে
(খ)১/৮, কোন অধস্তন থাকলে
৬.কন্যা
(ক) ১/২, (একজন হলে) পুত্র নেই
(খ)২/৩, (একাধিক হলে) পুত্র নেই
(গ) পুত্র থাকলে ১:২=কন্যা:পুত্র
৭.পৌত্রী
(ক) ১/২, ( একজন) কন্যা নেই
(খ) ২/৩, ( একাধিক) কন্যা নেই
(গ)১/৬ ,কন্যা একজন
(ঘ)০ , কন্যা একাধিক
(ঙ)আসাবা, কন্যা একাধিক এবং পৌত্রির ভাই বা অধস্তন থাকে
(চ) ০, পুত্র থাকলে
৮. সহোদর বোন:
(ক) ১/২ (একজন)
(খ)২/৩ (একাধিক)
(গ)আসাবা, ভাই থাকলে (সেেেত্র বোন:ভাই=১:২)
(ঘ)আসাবা, স্ত্রী অধস্তন (কন্যা,পৌত্রী ) থাকলে
(ঙ) ০ ,পুং অধস্তন বা উর্ধতন থাকলে
৯. পিতার পক্ষের সৎ বোন
(ক) ১/২ (একজন)
(খ) ২/৩ (একাধিক)
(গ)১/৬, একজন সহোদর বোন থাকলে
(ঘ)০,একাধিক সহোদর বোন
(ঙ) আসাবা, একাধিক সহোদর বোন ও সৎ বোনের ভাই থাকলে
(চ) আসাবা, কন্যা বা পৌত্রী থাকলে
(ছ) ০ ,পুং অধস্তন বা উর্ধতন থাকলে ও ৮ এর (ঘ) হলে
১০.মায়ের পক্ষের সৎ বোন
(ক) ১/৬ (একজন)
(খ) ১/৩ (একাধিক বা সাথে সৎ ভাই থাকলে) শুধুমাত্র এখানে ভাই:বোন=১:১
(গ)০, যদি অধস্তন বা উর্ধ্বতন থাকে
১১.মাতা
(ক) ১/৬ যদি অধস্তন বা যে কোন প্রকারের ভাই বা বোন একাধিক থাকে
(খ) ১/৩ যদি অধস্তন না থাকে বা যে কোন প্রকারের ভাই বা বোন একাধিক না থাকে
(গ) অবশিষ্টর ১/৩, যদি অধস্তন না থাকে বা যে কোন প্রকারের ভাই বা বোন একাধিক না থাকে কিন্তু পিতা মাতা থাকে তাহলে মাতা অবশিষ্টর ১/৩ অংশ পাবে।
১২.দাদী
(ক)১/৬,পিতা-মাতা না থাকলে
(খ)০, পিতা-মাতা থাকলে


২য় উত্তরাধিকারি. আসাবাগণ (যাবিল ফুরুজদের মধ্যে বন্টিত হবার পর যারা অবশিষ্টাংশ পায়)
১. পুত্র,পৌত্র,প্রপৌত্র, পিতা,দাদা,পরদাদা, ভাই,ভাতিজা,ভাতিজা পুত্র, চাচা,চাচাত ভাই চাচাত ভাইয়ের পুত্র ক্রম অনুসারে আসাবা হবে
২.কন্যা,পৌত্রী,সহোদর ও পিতার পরে সৎ বোন: তাদের ভাই থাকলে আসাবা হবে এবং ১:২ অনুপাতে অংশীদার হবে
৩.যথাক্রমে সহোদর বোন ও পিতার পরে সৎ বোন: মৃত ব্যক্তির এক বা একাধিক কন্যা থাকলে ক্রম অনুসারে আসাবা হবে
*ক্রম অনুসারে হলে বোঝায় ১ম জন আসাবা হলে পরের আর কেউ হবে না, ১ম জন না থাকলে ২য় জন হবে ইত্যাদি
৩য় উত্তরাধিকারি. যাবিল আরহাম:
দুর সম্পর্কের আত্মীয়স্বজন,উপরের দুই শ্রেনীর অনুপস্থিতে যারা অংশীদার হয়,যেমন -দৌহিত্র,দৌহিত্রী,ভাগিনা,ভাগিনী,খালা,ফুফু ইত্যাদি।


।।প্রশ্নোত্তর।।

প্রশ্ন ১.ইসলামে উত্তরাধিকারি আইনের উৎস হিসেবে কোরআন ছাড়াও হাদীস, ইজমা ও কিয়াসকে ব্যবহার করা হয় কেন?

উত্তর: ইসলাম ধর্মে দিক্ষীত বা ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞাত ব্যক্তির কাছে প্রশ্নটা হয়তো দুর্বল মনে হবে। কিন্তু এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ইসলামে উত্তরাধিকারি আইন নিয়ে যখন আমি ইন্টারনেটে সার্চ করি তখন বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর সাইট বা সমালোচক সাইট গুলোতে এ সম্পর্কে নানা প্রশ্ন পড়ে সর্বপ্রথম আমি উপলব্ধি করি এ প্রশ্নটার গুরুত্ব।
আসলে এ প্রশ্নটা সবচেয়ে বেশি এসেছে যারা খ্রিষ্ট ধর্ম বা ইহুদি ধর্মঅনুসারী বা এসব ধর্মের জ্ঞান থেকে যারা প্রশ্ন করে। কারন হল,খ্রিষ্টধর্মালম্বীদের সমস্ত ধর্মীয় আইন কানুনের উৎস একটিই, বাইবেল ((উভয় টেস্টামেন্ট) এবং ইহুদিদের ওল্ড টেস্টামেন্ট। অন্যান্য অনেক ধর্মের ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা কাছাকাছি।
কিন্তু ইসলাম ধর্মে বিষয়টা কী রকম? ইসলামের জীবন যাপনের বিধি-বিধানকে বলা হয় শরীয়াত। আর এই শরীয়াতের উৎস হল চারটি: (১) আল কুরআন (২)সুন্নাহ বা হাদিস (৩)ইজমা ও (৪)কিয়াস। কিন্তু এর প্রাথমিক শর্ত হল এ চারটি উৎস কখনো পরস্পরবিরোধী হবে না এবং অধিক গুরুত্ব অনুযায়ী ক্রমটি দেয়া।
(১)আল কুরআন : ইসলামিক সকল আইনের প্রথম ও প্রধান উৎস হল আল কুরআন। লক্ষ্যলনীয়, ইসলামী আইন তৈরির ক্ষেত্রে কুরআনের শুধুমাত্র একটি বা দুটি আয়াত অনুসরণ করলেই হবে না,সমগ্র কুরআন কে বিবেচনায় আনতে হয়।
(২)হাদীস: ইসলাম ধর্মের সর্বশেষ নবী মুহম্মদ(সা) এর নবী জীবনের সকল কথা,কর্ম, অনুমোদন,ব্যাখ্যা বিশ্লেষণই হল হাদীস। কুরআন মাজীদ নাজিল হয়েছিল তাঁর মাধ্যমে এবং কুরআনের সব সংপ্তি বিষয়ের ব্যাখ্যা বুঝিয়ে দেবার দায়িত্ব ছিল মুহম্মদ(সা)এর ওপর। যেমন-কুরআনে বলা আছে মদ্যপান নিষেধ, কিন্তু হাদীসে মদ্যপানের সাথে জড়িত কোন কোন পেশা নিষেধ তা ব্যাখ্যা দেয়া আছে। এ সম্পর্কে কুরআনের সূরা আননাহলের ৪৪ নং আয়াতে বলা আছে, আর আমি আপনার নিকট কুরআন নাযিল করেছি, মানুষকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেবার জন্য যা তাদের উপর নাযিল করা হয়েছে,যাতে তারা চিন্তা ভাবনা করে। এছাড়া সূরা হাশরের ৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে, রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক। লক্ষ্যনীয় হাদিস সর্বদা বিশুদ্ধ উৎস(যেমন-সহীহ বুখারী,সহীহ মুসলিম ইত্যাদি) হতে গ্রহণ করতে হবে।
(৩) ইজমা: ইজমার শাব্দিক অর্থ ঐক্যমত।অর্থাৎ কোন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ইসলাম ধর্মের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে বিশেষজ্ঞগন ঐক্যমতের ভিত্তিতে যে নিয়ম বা আইন তৈরি করেন তাই ইজমা। আসলে কুরআন ও হাদীস কোন দেশের সংবিধানের মত নয় কিন্তু এ উৎসদ্বয় হতে সংবিধান তৈরি করা যায়। যখন একটি দেশ গঠিত হয়, তার লিখিত আইন থাকতে হয়,সময়ের প্রয়োজনে নতুন আইনের প্রয়োগ দরকার হয়,সেইসব আইন তৈরির সময় কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী যে নিয়ম তৈরি হয় তাই ইজমা দ্বারা নির্ধারিত হয়। এ উৎস কুরআন ও হাদীস দ্বারা নিশ্চিত করা হয়েছে,আল কুরআনের সূরা আননিসার ১১৫ নং আয়াতে মুমিনগনের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে । মুহম্মদ(সা)বলেছেন, মুসলমানগণ যা ভাল বলে গ্রহণ করে তা আল্লাহর কাছেও ভাল। শরীয়াতের বিষয়ে ইজমা অকাট্য দলিলে পরিণত হয়। ইজমা কখনো কুরআন-হাদীসের পরিপন্থি হবে না,শুধুমাত্র নতুন কোন সমস্যার ক্ষেত্রে কুরআন হাদীস অনুযায়ী ব্যাখ্যা প্রদান করবে।
(৪)কিয়াস : নতুন কোন সমস্যায় পুরাতণ কোন সমস্যার সমাধানকে প্রবর্তন করাই কিয়াস, অর্থাৎ আগের তিনটি উৎসে যে ইসলামিক আইন রয়েছে তার কারন অনুসন্ধান করে নতুন সমস্যা সমাধানে সে কারন সংশ্লিষ্ট হলে তার মাধ্যমে সেই সমস্যা সমাধান করা, তবে তা কখনো আগের তিনটি উৎসের পরিপন্থী হবে না বা সেসব উৎসের মূলনীতি বিরোধী হতে পারবে না কখনো যদি দেখা যায় কিয়াস তাদের পরিপন্থি তাহলে তা বাদ হয়ে যায়।
ইসলামী উত্তরাধিকারি আইনে শরীয়াতের এ উৎসসমূহ ব্যবহৃত হয়, প্রকৃত পক্ষে ইসলামের সব আইন তৈরি হতে এ উৎসসমূহ ব্যবহার হয়,তাই এসব আইনকে শরীয়া আইন বলে। ইসলামে উত্তরাধিকার আইন কুরআন শরীফে একদম মূল বিষয়গুলি সংক্ষেপে বলা হয়েছে, তাঁর বিশদ ব্যাখ্যা রয়েছে হাদিসে, পরবর্তীতে আরও কিছু নিয়ম যুক্ত হয়েছে গভীর ভাবে কুরআনও হাদীস ব্যাখ্যার মাধ্যমে, কিন্তু কোন নিয়ম বা মূলনীতি কুরআন বা হাদীস এর পরিপন্থি নয়।
তাই প্রশ্নটা অবান্তর, শুধুমাত্র উত্তরাধিকার আইন নয়,প্রায় সকল ইসলামী আইনই ব্যাখ্যার জন্য কুরআনের পাশাপাশি হাদীস,ইজমা ইত্যাদি উৎসের সাহায্য নিতে হয়।






প্রশ্ন২. আউল বা রদ্দ নীতি কি কোরআন শরীফের নির্ধারিত অংশের বিরুদ্ধে যায় ?

উত্তর: এ প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কথা ছিল না, কিন্তু উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে জ্ঞানের স্বল্পতাহেতু এটা অমুসলিমদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ ,এমনকি মুসলিমদের মধ্যেও এ নিয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় অনেকে বিভ্রান্ত হচ্ছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, এ নিয়মটার জন্য অনেকে দাবি করছে কোরআন শরীফে গানিতিক ভুল আছে, সৃষ্টিকর্তা গণিত জানে না।
বিষয়টা কিছুটা এরকম,
ধরুন কাসে গণিতের টিচার ছাত্রদের বললেন,নেক্সট পরীক্ষায় যে অংকগুলি থাকবে তা বোঝার জন্য টেক্সট বইয়ের বাইরে আরও কয়েকটি রেফারেন্স বইয়ের সূত্র লাগবে। তো পরীক্ষার আগে কোন ছাত্র শুধু টেক্সট বই পড়ে গেলো এবং যথারীতি পরীক্ষায় আসা কয়েকটি অংক পারলো না। পরে সবাইকে বলে বেড়াল ঐসব অংকে ভুল ছিল বা টিচার অংক জানে না।
কোরআন শরীফে বলে দেয়া হচ্ছে যে হাদীসের সাহায্য নেয়ার জন্য,তা না নিয়ে গাণিতিক ভুলের দাবিটা কিছুটা সেরকম।
এ আইন বহু বিখ্যাত গণিতবিদদের দ্বারা পরীক্ষীত হয়েছে। মুসা আল খোয়ারজমী,৮৫০ খ্রিস্টাব্দের সময়কালীন একজন গণিতবিদ, যার বইয়ের প্রভাব ইউরোপে এতটাই ছিল যে তখন তার হিসাব আল জাবর ওয়াল মুকাবিলাহ ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ল্যাটিনে অনূদিত হয়ে শ্রেষ্ঠ ও প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে পড়ানো হয়। তার বইয়ের আল জাবর থেকে আলজেবরা শব্দের উৎপত্তি। তার এই গ্রন্থে ইসলামিক উত্তরাধিকার আইনটির গানিতিক দিক নিয়ে একটা অধ্যায় আছে, যেখানে তিনি সম্পদ বন্টণের জন্য লিনিয়ার ইকুইশন প্রবর্তন করেন। উত্তরাধিকার আইন এতটাই গনিতের সাথে সামঞ্জস্য পূর্ণ যে এটি গণিতের একটি শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ( Gandz, Solomon (1938), "The Algebra of Inheritance: A Rehabilitation of Al-Khuwarizmi", Osiris (University of Chicago Press 5: 319-91 )
তাছাড়া উত্তরাধিকার আইন তৎকালীন মুসলিম গণিতবিদদের জন্য একধরনের প্রেরণা ছিল, এটা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অর্থাৎ গানিতিক ভাবে কুরআনের মূলনীতির মাধ্যমে সম্পদ হিসাব করার জন্য গণিতের অনেক নতুন বিষয় আবিষ্কৃত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য উত্তর আফ্রিকার ১২ শতাব্দীর গণিতবিদ আল হাসার লব ও হরের হিসাবের জন নতুন গানিতিক নোটেশনের ধারণা প্রদান করেন। তার এই গাণিতিক নিয়ম পরবর্তীতে ১৩ শতাব্দীতে ইউরোপের বিখ্যাত গণিতবিদ ফিবোনক্কির কাজের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ( Prof. Ahmed Djebbar (June 2008). "Mathematics in the Medieval Maghrib: General Survey on Mathematical Activities in North Africa". FSTC Limited.)
এসব কারনে ইসলামের ও কোরআনের অনেক বড় সমালোচক গনও উত্তরাধিকার আইন নিয়ে কোন বিরূপ মন্তব্য করার চিন্তাও করেনি-যেমন ড. ক্যাম্পবেল,যার পিএইচডি এর বিষয় ছিল কুরআন তথা ইসলামের দুর্বল দিক গুলো তুলে ধরা,সেও উত্তরাধিকার আইন নিয়ে কোন সভায় কোন মন্তব্য করেনি। শুধুমাত্র এ আইনে স্বল্প জ্ঞান সম্পন্ন অতি উৎসাহী ইসলামের সমালোচকরা নানা বাগাড়ম্বর করে থাকে।

এই আইন এতটা সুচিন্তিত,বিস্তৃত ও গণিতবান্ধব যে, অনেক অমুসলিম আইনবিদও এটাকে অকুন্ঠচিত্তে সমর্থণ জানিয়েছে,যেমন: কিংস কলেজ,ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের প্রফেসর,আইনবিষয়ক অনেক গ্রন্থের লেখক ও আইনবিদ(ব্যরিস্টার অ্যাট ল) আলমারিক রামসে তার এক বইয়ে বলেন-মুসলিম উত্তরাধিকার আইন হল সভ্য সমাজে প্রচলিত সবচেয়ে বিস্তৃত ও বিশুদ্ধ্ উত্তরাধিকার আইন ও সব প্রশ্নের উর্ধ্বে। ( Rumsey, A. Moohummudan Law of Inheritance. 1880)

আউল নীতি: আউল শব্দের আভিধানিক অর্থ বৃদ্ধি হওয়া। শরীয়তের নিয়মানুযায়ী যাবিল ফুরুজ বা অংশীদারদের অংশ প্রদানের পর তাদের অংশাবলীর যোগফল যদি মূল সম্পদ হতে বেড়ে যায় বা ১ এর চেয়ে বেশি হয় তাহলে যে নিয়মে তা সমাধান করা হয় সেটাই আউল। কোরআন শরীফে অংশীদারদের যে তালিকা রয়েছে তাদের বিভিন্ন বিন্যাস ও সমাবেশে কখনো কখনো তা ১ এর চেয়ে বেশি হওয়াটা গাণিতিক ভাবে ও অনুপাত ভিত্তিক বন্টনে যদিও সেটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার কিন্তু এ বিন্যাস খুব সহজলভ্য নয়, তাই হাদীসে এ পরিস্থিতির উদাহরণ নেই,তবে চার খলিফা আমলে এটি আলোচিত হয় ও পরবর্তীতে শরীয়তের ৩য় উৎস কিয়াসের মাধ্যমে ইসলামী আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

রদ্দ নীতি: রদ্দ এর আভিধানিক অর্থ প্রত্যাবর্তন করা । এটি আউলের বিপরীত নিয়ম। শরীয়তের নিয়মানুযায়ী যাবিল ফুরুজ বা অংশীদারদের অংশ প্রদানের পর তাদের অংশাবলীর যোগফল যদি ১ এর চেয়ে কম হয় এবং মৃত ব্যক্তির কোন আসাবা না থাকে তাহলে অবশিষ্ট সম্পত্তি স্বামী স্ত্রী ব্যতিত অন্যান্য অংশীদারদের কাছে পুনরায় প্রত্যাবর্তন করা হয়।

তিনটি উদাহরণ :
১. জলিল সাহেব মৃত্যুকালে পিতা ও এক কন্যা রেখে গেল
প্রথমত, কন্যা পাবে ১/২ অংশ
পিতা পাবে ১/৬
এখানে ,১/২+১/৬=৪/৬ , সুতারাং আসাবা বা অবশিষ্টাংশ = ১-৪/৬= ২/৬
দ্বিতীয়ত, ১(খ) অনুযায়ী, পিতা এই আসাবা পাবে। তাহলে মোট পিতার অংশ=১/৬+২/৬ =৩/৬ =১/২ ও কন্যার অংশ=১/২
২.কামাল সাহেব ১ কন্যা ও মা রেখে মারা গেলেন।
প্রথমত, কন্যা পাবে ১/২
মা পাবে ১/৬
মোট ১/২+১/৬=৩/৬+১/৬=৪/৬
দ্বিতীয়ত, রদ্দনীতি প্রয়োগ করে পাই-৩/৪+১/৪=৪/৪=১
তাহলে, কন্যা ৩/৪ ও মা ১/৪ অংশ পাবে।

৩.আনিস সাহেব মৃত্যুকালে স্ত্রী, ২ সহোদর বোন ও ২ জন মায়ের পরে সৎ বোন রেখে গেল।
প্রথমত, এখানে স্ত্রী পায় ১/৪
সহোদর বোনদ্বয় ২/৩
সৎ বোনদ্বয় ১/৩
মোট= ১/৪+২/৩+১/৩ =৩/১২+৮/১২+৪/১২=১৫/১২
দ্বিতীয়ত, ১এর বেশি হওয়ায় আউল অবলম্বন করে হরকে ১৫ করে পাই,
৩/১৫+৮/১৫+৪/১৫=১৫/১৫=১
তাহলে স্ত্রী ৩/১৫,বোনদ্বয় ৮/১৫ ও সৎ বোনদ্বয় ৪/১৫ অংশ পাবে।
উদাহরণ তিনটিতে দেখা যায় প্রথম ২টি উদাহরনে অংশ বৃদ্ধি পায়, দ্বিতীয়টিতে অংশ কিছুটা হ্রাস পায়। এখন ১ম নিয়মটি সাধারন ভাবে আসাবা বা অবশিষ্টাংশভোগী নিয়মে করা হয়েছে ,২য় টি রদ্দ ও ৩য়টিতে আউল নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে।
দেখা যাচ্ছে কুরআনে বর্ণিত অংশ প্রাপ্ত হবার পর সে অংশ দ্বিতীয় ধাপে বাড়তে বা কমতে পারে, আর সেটা মোটেও কোরআনের পরিপন্থি নয় । কোরআনে এ সংক্রান্ত আয়াতগুলোতে দেখা যায় কয়েকজনের অনুপাত উল্লেখ করা হয় নি, যেমন পুত্র,ভাই,চাচা ইত্যাদি। এখন কেউ যদি বলে এদের উল্লেখ নেই, তাহলে এদের ভাগ দেয়া হলে কুরআনের বিরুদ্ধে যাবে, তাহলে তা অবান্তর মন্তব্য হবে। আসলে কোরআনে উল্লেখিত অংশ দেবার পর যা বাকি থাকবে সেখান থেকে তাদের অংশ নির্ধারিত হয়। আবার কখনো নিদির্ষ্ট অংশভোগীরাও তা পেতে পারে (যেমন- উদা ১), রদ্দ নীতিতেও বেশি পেয়ে থাকে। তাই নির্ধারিত অংশের বেশি পাওয়া ইসলামী আইনের পরিপন্থি নয়।
অধিকাংশ প্রশ্নে আমি দেখেছি আউল নীতি নিয়ে যত প্রশ্ন অথচ বেশি পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন প্রশ্ন নেই । কিন্তু গণিতের দৃষ্টিতে বলা যায়, বৃদ্ধি ধনাত্মক বা ঋণাত্মক দুইই হতে পারে আর আউল নীতিতে এই বেশি পাওয়া নীতি বা রদ্দ নীতির বিপরীত হয়, খুব স্বাভাবিক ভাবেই তা হয়।
ইসলামে উত্তরাধিকারি আইনে আউল ও রদ্দ নীতিতে পরস্পরের সম্পদের অনুপাত ঠিক রাখা হয়, তাই এভাবে বন্টন গাণিতিক ভাবে অত্যন্ত গ্রহনযোগ্য ও বৈজ্ঞানিক। যেমন ২ নং উদাহরণে প্রথমত অনুপাত থাকে, কন্যা:মা=৩/৬:১/৬=৩:১
রদ্দ নীতি প্রয়োগের পর এ অনুপাত, কন্যা:মা=৩/৪:১/৪=৩:১
৩নং উদাহরণের আউল নীতিতেও ৩:৮:৪ অনুপাত ঠিক থাকে।
তাই বলা যায়, রদ্দ আউল ও অন্যান্য শরীয়া নিয়ম যা শরীয়তের উৎসসমূহ থেকে করা হয়েছে তা কোনটিই পরস্পর পরিপন্থি বা কোরআন পরিপন্থি নয় এবং ইসলামি উত্তরাধিকার আইন একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ গাণিতিক বা বৈজ্ঞানিক ব্যবহারিক ব্যবস্থা।

(allah knows the best)





পরবর্তীতে আলোচনার ইচ্ছা রইল-
>ইসলামিক আইনে সম্পদের অংশে পুরুষ নারীর প্রাপ্য অংশের দ্বিগুন পায়,এতে কি নারীর অধিকার খর্বিত হচ্ছে না!
>ইসলামে উত্তরাধিকার আইনে পরিবর্তন করার দাবি কতটা যৌক্তিক!


 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): উত্তরাধিকার আইনকোরআনইসলামি আইন ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আপেক্ষিক ধর্মতত্ত্ব  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:২৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:২৪
বেয়াকুফ বলেছেন: এইটাতো ডিস্ক্রিট ম্যাথ আর এডভান্সড ক্যালকুলাসের সংমিশ্রনে জটিল গানিতিক জিনিস মনে হচ্চে।
২. ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৫
প্রলাপ বলেছেন: জটিল ম্যাথমেটিকস। পরের পোস্টের অপেক্ষায় রইলাম।
৩. ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৪১
তপন চৌধুরি বলেছেন: এটা তো রীতিমত জুলুমবাজি৷ জোর করে কতগুলি সংখ্যা চাপিয়ে দিলেই হলো? আইনের যৌক্তিকতা থাকতে হবে না? যত্তসব গাজাখোর আর পাগলের কারবার৷
১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:২৬

লেখক বলেছেন: আইনের যৌক্তিকতা ? আছে কি নেই সেটা কিসে বুঝলেন, আমি জানি যুক্তি দেখালেও হয়তো আপনি মানবেন না,কারন আমার যুক্তি আপনি মানবেনই বা কেন? চট করে কারও যুক্তি মানা আমিও কখনোই সাপোর্ট করতে পারি না,এ জন্যই তো রেফারেন্স দিয়ে দিয়েছি, আরও উৎসও হয়তো আছে, যৌক্তিকতা সন্ধানী হলে নিজেই যাচাই করে করেন,আগে ভালো মত জানুন তারপর যৌক্তিক মন্তব্য করুন।

৪. ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:০৯
বেতাল বলেছেন: "রদ্দ আউল ও অন্যান্য শরীয়া নিয়ম যা শরীয়তের উৎসসমূহ থেকে করা হয়েছে তা কোনটিই পরস্পর পরিপন্থি বা কোরআন পরিপন্থি নয় এবং ইসলামি উত্তরাধীকারি আইন একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ গাণিতিক বা বৈজ্ঞানিক ব্যবহারিক ব্যবস্থা।"
- আউল নীতি, রদ্দ নীতি আরো কত কিরে ভাই!!!!

এটা তো দেখি মগের মুল্লুক! যা খুশি তাই ও কিছু ভ্যারিয়েবল নিয়ে ফাইনাইট ভ্যালু আনার একটা লেইম চেষ্টা। যেমন:
(১+১ = ২) এক জিনিস, আর
(১+১ != ৩) হয় আরেক জিনিস। বুঝলেন?
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৬

লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: ১+১!= ৩, কীভাবে? ১! কে কি ইমাজিনারী নাম্বার মীন করছেন,তাহলে ৩ কীভাবে আসে, আর সেটার সাথে এর সম্পর্ক কী, ''খুশি তাই ও কিছু ভ্যারিয়েবল নিয়ে ফাইনাইট ভ্যালু আনার একটা লেইম চেষ্টা। '' এর ই বা মানে কী, ভ্যারিয়েবল কি বুঝে বলেছেন, নাকি ভড়ং বাজির স্বভাবদোষে কমেন্ট করলেন, যা ভালো তা যে ধর্মের বা যে সমাজ ব্যবস্থারই হোক না কেন তা মেনে নেবার মত সুস্থ মানসিকতা না থাকলে বেহুদা বাগাড়ম্বড় তো হবেই, কোন আইনই সরল গনিত দিয়ে পুরোপুরি চলে না,তার থাকে অসংখ্য শর্ত নিয়মাবলী, নতুন নতুন পরিস্থিতিতে তার প্রায়োগিক ক্ষেত্রও ক্রমশ বাড়তে থাকে, নতুন টার্ম যোগ হয়, আপনি কি একটা আইনও দেখাতে পারবেন যা এক হাজার বছর ব্যবধানে একটুও চেন্জ হয়নি, আগাগোড়া পাল্টে গেছে অধিকাংশ, কিন্তু ইসলামিক আইন মেইন ফ্রেম থেকে মোটেও বদলায়নি, বিভিন্ন নীতি (আউল ,রদ্দ) এগুলো হচ্ছে এ আইনের অ্যাপ্লিকেশন, আর যেকোন আইনেরই তা স্বভাবতই থাকে।

৫. ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:১৭
বিলাশ বিডি বলেছেন: "দেখা যাচ্ছে কুরআনে বর্ণিত অংশ প্রাপ্ত হবার পর সে অংশ দ্বিতীয় ধাপে বাড়তে বা কমতে পারে, আর সেটা মোটেও কোরআনের পরিপন্থি নয় ।"

কথাটা পরিষ্কার না ভাই মাসুদুল। প্রথম অংশে আপনি বলছেন কুরআনে বর্ণিত হয়ে যেভাবে ভাগ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সেভাবে ভাগ করা হলো। দ্বিতীয় অংশে বলছেন এই ভাগ করাটা আমরা বাড়িয়ে বা কমিয়ে দিতে পারি, কারণ কুরআনের হিসেবে ভাগ করলে সমস্যা হয়ে যায়। কিন্তু আপনি দাবী করছেন সেটা কুরআন পরিপন্থি নয়!!

আপনার কি মনে হয় না কুরআনের নির্দেশনা বিকৃত করাটা কুফরী কাজ?
২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:২০

লেখক বলেছেন: ব্যাখ্যাটা যথাসম্ভব সহজ ভাষায় দেয়া আছে,আমার মনে হয় কেউ কেউ মন্তব্য করেন পুরো পোষ্ট না পড়েই!
যাই হোক, ব্যাপারটা আরেকবার দেখুন, এ প্রশ্নের জন্যই আমি আসলে ৩ টা উদাহরণ দিয়েছি, ১ম যে উদাহরণ তা হচ্ছে সরাসরি নিয়ম, বাকি দুটা হচ্ছে অ্যাপ্লিকেশন, ভাগ বাড়ে বা কমে তা যে কোরআনের সরাসরি নিয়মের ব্যতিক্রম নয় সে জন্যই ১ম উদাহরণটা দেয়া হয়েছে, কারন এখানেও পরবর্তীতে সম্পত্তির প্রাথমিক বন্টনের সাথে অ্যাড হচ্ছে।

৬. ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:২৬
তপন চৌধুরি বলেছেন: আমি আইন তেমন বুঝি না তবে আমার মনে হয় আইনের ক্ষেত্রে আগের আইনের এক ব্যাপক ভুমিকা আছে (law of precedence)৷ এই ব্যাপারে ইসলামি চিন্তাবিদদের পরামর্শ নেওয়া জেতে পারে৷ আমার মনে হয় প্রাচিনকালে ঐ সমাজে তখন যে সমস্ত উলটা পালটা আইন প্রচলিত ছিল তাকেই পরিমার্জন করে এইসব আইন করা হয়েছিল যা আজকের দুনিয়া অচল এবং চরম হাস্যকর৷
২১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:২৫

লেখক বলেছেন: মানতে পারলাম না, বিজ্ঞানে একটি ল' আছে, এক্সসটিং দা অল্টারনেটিভ বা বিক্ল্প অনুসন্ধান, অর্থাৎ আমি যদি বলি আমার হাতে একটি একটি কলম আছে, আপনি যদি না মানেন তাহলে আপনাকে বলতে হবে কেন নেই, যদি না পারেন তাহলে আপনাকে মানতে হবে আমার হাতে কলম আছে।
উত্তরাধিকার আইন বিভিন্ন সমাজ ব্যবস্থায় অচল হয়ে নতুন নতুন আইন প্রণীত হচ্ছে,কারন দশ বিশ বছর পর প্রমানিত হয় সেগুলো ভালো না, এখন ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় পর্যায় পৃথিবীর নানা দেশে এখনো ইসলামি উত্তরাধীকার আইন সফলতার সাথে চালু আছে, এটাকে আপনি অচল বলতে পারেন না, যদি বলতে চান তাহলে এর চেয়ে ভালো দীর্ঘস্থায়ী কোন আইনের উদাহরণ আপনাকে দিতে হবে, আপনাকে জানিয়ে রাখি পুজিঁবাদী বা সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার উত্তরাধীকার আইন দুর্বল প্রমাণিত হয়েছে, যদি উদাহরণ না দিতে পারেন তাহলে আপনাকে মানতেই হবে এটাই বেস্ট।

৭. ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৩২
হুমায়ুন কবির হাকিম বলেছেন: ব্যাপক তথ্যসমৃদ্ধ ও পরিশ্রম সাপেক্ষ......দারুন লিখেছেন.....আমার কথা হল উলূবনে মুক্তা ছড়ানোর দরকার কি!!!!!!! ইসলাম এখন আর প্রচারের জিনিষ নয়.....মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি অনেক বেড়েছে এবং অনেক ধর্ম আছে, যার যেটা ইচ্ছা সেটা বেছে নেবে.....লেট দেম চুজ বাই দেমসেল্ভস্‌......আর ধর্ম না গ্রহণ করলেও এটা তাদের ব্যাপার.....
২১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:৩০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, তবে এখানে আমি কোন ধর্ম প্রচার করছি না, ধর্ম সম্পর্কে ভুল ধারণা নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করছি, যা যেকোন ধর্মানুসারীর( এমনকি নাস্তিকতা ধর্মানুসারী ) জন্যই যা জানা প্রয়োজন।

৮. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৫
রুকনুজ্জামান বলেছেন: অসাধারন পোষ্ট।ধন্যবাদ।আমার একটা বিষয় একটু ক্লিয়ার করে দিবেন?

৬.কন্যা
(ক) ১/২, (একজন হলে) পুত্র নেই
(খ)২/৩, (একাধিক হলে) পুত্র নেই
(গ) পুত্র থাকলে ১:২=কন্যা:পুত্র


(গ) পুত্র থাকলে ১:২=কন্যা:পুত্র, এইখানে একটা জিনিস বুঝতে কষ্ট হচ্ছে।

ধরুন কালাম সাহেব স্ত্রী,৫ পুত্র ও তিন কন্যা রেখে গেছেন।তাহলে প্রতিটি কন্যা কত ভাগ পাবে আর ছেলে কত ভাগ পাবে?উত্তরটা পেলেই আমার কনফিউশন টা দূর হয়ে যাবে।

ধন্যবাদ।
১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:৩৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। তবে বিষয়টা বেশ সহজই,পাটি গণিতের জ্ঞান দিয়েই করা যায়...
এখানে কামাল সাহেবের স্ত্রী পাবেন সম্পত্তির ১/৮ অংশ( যেহেতু সন্তান আছে)
বাকি রইল ১-১/৮=৭/৮ অংশ
কন্যা: পুত্র= ৩: ৫ জন
কন্যা :পুত্র=১:২ অনুপাতে পাবে
অনুপাত সমতা করে পাই কন্যা:পুত্র=৩:১০
মোট অংশ ৩+১০=১৩ , সুতারাং বাকি ৭/৮ অংশকে ১৩ ভাগ করে ৩ ভাগ পাবে ৩কন্যা (প্রত্যেকে ১ভাগ করে) বাকি ১০ অংশ ৫ পুত্র পাবে(প্রত্যেকে ২ ভাগ করে)
আরও ডিটেইলস ভাবে ,
স্ত্রী পায় ১/৮, বাকি থাকে ৭/৮ তাকে ১৩ দিয়ে ভাগ করে ১ ভাগ হয় (৭/৮ ভাগ ১৩ = ৭/১০৪)
স্ত্রী পায়= ১/৮=১৩/১০৪( হরকে ১০৪ এ আনা)
৩ কন্যা পায়=৩ গুন ৭/১০৪=২১/১০৪
৫ পুত্র পায়=১০গুন ৭/১০৪=৭০/১০৪

মোট ১৩/১০৪+২১/১০৪+৭০/১০৪=১০৪/১০৪=১

ধরি, কামাল সাহেব রেখে যান ১০০০০০ টাকার সম্পত্তি, তাহলে
স্ত্রী পাবে=১০০০০০এর ১/৮=১২,৫০০
১ পুত্র পায়=১৩৪৬১
১ কন্যা পায়=৬৭৩০.৭৬৬৬

৯. ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৫২
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
নীচের সমস্যাটির সমাধান কি হবে?

যদি মৃত ব্যক্তির ২ কন্যা, ১ স্ত্রী, পিতা এবং মাতা বর্তমান থাকেন- তবে কে কত অংশ পাবে?

দু'ধরণের সমাধান দেখেছি:
১। ২ কন্যা= ২/৩
১ স্ত্রী= ১/৮
বাবা= ১/৬
মা= ১/৬
মোট= ২/৩+১/৮+১/৬+১/৬= ২৭/২৪

আউল প্রয়োগ করে:
২ কন্যা= ১৬/২৭
১ স্ত্রী= ৩/২৭
বাবা= ৪/২৭
মা= ৪/২৭

২। ২ কন্যা= ২/৩
বাকি থাকে= ১/৩
এই ১/৩ অংশ ১/৮:১/৬:১/৬=৩:৪:৪ অনুপাতে বিভক্ত হবে।
ফলে- ১ স্ত্রী= ৩/৩৩
বাবা= ৪/৩৩
মা= ৪/৩৩

কোন সমাধানটি সঠিক?
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:১৩

লেখক বলেছেন: প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ ।
উত্তরাধীকার আইন নিয়ে আমার পড়া বই ও বিভিন্ন প্রবন্ধে আউল নীতি কে সর্বদা সাপোর্ট করা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় নিয়মটা যেটা উল্লেখ করলেন সেটা কয়েকটা সাইটে আমি দেখেছি, তবে এ সংক্রান্ত বিশ্বস্ত সূত্র দেখিনি। প্রশ্ন করতে পারেন আউল নীতিও তো ইজমা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত তবে দ্বিতীয় নিয়মটা কেন গ্রহন করবো না।গ্রহন করবো কি করবো না সে প্রশ্ন পরে আসবে ।আগে দেখি এ প্রশ্ন কখন আসবে, আউল নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হয় উমর রা. এর সময়, তারমানে এটা প্রাথমিক । পরে যদি কোন নিয়ম জারি হতে হয় তাহলে প্রমাণ হতে হবে আগের নিয়মে কোন সমস্যা আছে । যেহেতু আউল নিয়ম কুরআনিক লয়ের সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ন সুতরাং তা পরিবর্তনের কোন প্রশ্ন স্বভাবতই আসে না। হতে পারে আউল নিয়ম জটিল এবং সাধারণ ভাবে বিভ্রান্তকর মনে হয় বলে ২য় নিয়ম জারি করা যায়, সেটা গ্রহনযোগ্য হবে না, কোন কিছুর তথাকথিত জটিলতা তার অগ্রহনযোগ্যতার সূচক হতে পারে না। তারপরও বলি ২য় নিয়ম নিয়ে আপনার কাছে বিশ্বস্ত তথ্যপ্রমাণ থাকলে জানাতে পারেন- বাধিত হব।

ইসলামিক উত্তরাধিকার আইন নিয়েআপনার একটা পোষ্ট অনেক আগে পড়েছিলাম, সাধারণত আমি কারও পোষ্টে অযথা কমেন্ট করি না, তাই আপনার পোষ্টের সাথে ভিন্নমত থাকা সত্বেও কোন মন্তব্য করিনি। যেহেতু আপনি আমার পোষ্টে স্বপ্রণোদিত হয়ে কমেন্ট করে আমাকে বাধিত করেছেন তাই আমার উপর দায়িত্ব বর্তায় সে পোষ্ট নিয়ে কিছু আলোচনা করার। আপনার দৃষ্টিভঙ্গি ও ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি যথাক্রমে দেয়া হল-



নাস্তিকের ধর্মকথার কমেন্ট:

আপনি এখানে যেটি উল্লেখ করেছেন- সেটির প্রথম প্যারাটি হলো কোরআনের বহুল আলোচিত ভুল- কেননা- মোট সম্পদ=২৭/২৪ হতে পারে না।

এবং এরপরে এ সমস্যাটির সমাধান হিসাবে পরের প্যারায় যেটি দিয়েছেন- সেটি আলী কৃত সমাধান- যাকে আমরা বলি ফরায়েজী আইন, এবং এখন এটাই প্রচলিত।



ইসলামের দৃষ্টিকোন:
তারমানে বলতে চেয়েছেন আউল নিয়ম প্রবর্তনের কারন কুরআনের গাণিতিক ভুল,এর জবাব আমার উপরের লেখাতে রয়েছে, সুবিধার জন্য আবার বলি, আল কুরআনের ডিস্ট্রিবিউশন নিম্ন মাধ্যমিক গণিতের মত সরল না হওয়ায় ব্যাপার বুঝতে একটু সমস্যা হয়, আসলে কুরআনে বন্টন রেশিও বা অনুপাত ভিত্তিক, তাই অংশ গুলো যোগ করলে কখনো যোগফল ১ এর বেশি বা কম হতে পারে। যে উপায়ে যোগফল ১ এ আনা হয় এবং পরস্পরের অনুপাত ঠিক রাখা হয় সেটাই আউল নিয়ম। যেমন আপনি যে উদাহরণ দিয়েছেন-যদি মৃত ব্যক্তির ২ কন্যা, ১ স্ত্রী, পিতাএবং মাতা বর্তমান থাকলে, তাহলে
২ কন্যা= ২/৩
১ স্ত্রী= ১/৮
বাবা= ১/৬
মা= ১/৬
মোট= ২/৩+১/৮+১/৬+১/৬= ২৭/২৪

আউল প্রয়োগ কর:ে
২ কন্যা= ১৬/২৭
১ স্ত্রী= ৩/২৭
বাবা= ৪/২৭
মা= ৪/২৭
এখানে দেখুন আউল প্রয়োগের আগে ২ কন্যা ও স্ত্রী এর অনুপাত=(২/৩)/(১/৮)=১৬/৩
আউল প্রয়োগের পরে ২ কন্যা ও স্ত্রী এর অনুপাত=(১৬/২৭)/(৩/২৭)= ১৬/৩
তাই আপনি যখন উপলব্ধি করবেন কুরআনের এ সব নির্দেশনা অনুপাত ভিত্তিক তখন আউল নিয়ম আর কুরআনিক নিয়মকে ভিন্ন মনে হবে না।
আর আলী রা. কুরআনের মর্ম পরিবর্তন করার চেষ্টা করবেন এমন অন্যায় দাবি করা কখনোই যৌক্তিক হবে না কারন ইসলামে বেদআত ( ধর্মে নতুন নিয়ম) নিষিদ্ধ আর আলী রা. সহ অন্যান্য সাহাবীরা সব সময় সে সম্পর্কে শতর্কতা জারি করে গেছেন,যেমন-
Volumn 008, Book 080, Hadith Number 747(Bukhari).
Narated By 'Ali : We have no Book to recite except the Book of Allah (Qur'an) and this paper. Then 'Ali took out the paper, and behold ! There was written in it, legal verdicts about the retaliation for wounds, the ages of the camels (to be paid as Zakat or as blood money). In it was also written: 'Medina is a sanctuary from Air (mountain) to Thaur (mountain). So whoever innovates in it an heresy (something new in religion) or commits a crime in it or gives shelter to such an innovator, will incur the curse of Allah, the angels and all the people, and none of his compulsory or optional good deeds will be accepted on the Day of Resurrection...

বলেছেন ফরায়েজী আইন আলী রা. তৈরি করেছেন, কথাটা ভিত্তিহীন, ফরায়েজী আইন তো নবী সা. এর আমলেই প্রবর্তন হয়েছে, দেখুন-
These rules of Inheritance in Islam are fundamental and mandatory part of Islamic Shariah law and Elm (Knowledge) that are part of Elm-Faraid, the means “Science of Inheritance Shares”. The word al-Faraid () is plural form of al-Faridah, which means something made obligatory by Allah (swt).( Islamic Inheritance Law ,General Rules & Shares -Mohammad Razi
Sep-2008, Toronto, Canada)

Abu Hurairah reported that the Prophet (pbuh) said: “O Abu Hurairah, learn Fara‟id (the shares of the inheritance that are prescribed in the Quran) and teach it to them. Indeed it is half of the knowledge.” [Sunnan Ibn Majjah]

আসলে খলিফা শাসনামলের পুরোটা জুড়েই অর্থাৎ চার খলিফাদের সময় উত্তরাধীকার আইনের নানা অ্যাপ্লিকেশন আলোচিত হয়, উমর রা. এর আমলেই অধিকাংশ আলোচিত হয়,তবে আলী রা. শরীয়তের জ্ঞানে অত্যন্ত ঋদ্ধ ছিলেন বিধায় তিনি এ ধরনের আইনের উপযুক্ত ব্যাখ্যা প্রদানে সিদ্ধহস্ত ছিলেন।




নাস্তিকের ধর্মকথার কমেন্ট:

এটি কেন বুঝতে পারছেন না, কোরআনেই যদি ঐ আয়াতে এমন থাকতো যে, দুই মেয়ের উর্ধে হলে- মেয়েরা পাবে সাতাশ ভাগের ষোল ভাগ, পিতামাতা প্রত্যেকে পাবে সাতাশ ভাগের চারভাগ করে, স্ত্রী পাবেন সাতাশ ভাগের তিন ভাগ- তাহলে কি এই প্রশ্ন উঠতো, বা আলী রা. এর কষ্ট করে সেটাকে সংশোধন করার প্রয়োজন পড়তো??"

ইসলামের দৃষ্টিকোন:
মন্তব্যটায় কিছুটা অবিমৃষ্যকারীতা হয়ে গেছে , হরে ২৪ থাকায় এ ক্ষেত্রে ২৭ হর আনা হয়েছে, তারমানে কি এই সবসময়ই ২৭ হবে,কেরাআনে সবগুলি ক্ষেত্রই সেক্ষেত্রে উল্লেখ করতে হত। আউল নিয়ম হয় যখন হর ৬, ১২ বা ২৪ হয়। তারপরও আপনি প্রশ্ন করতে পারেন কুরআনে কেন আরও সহজ ভাষায়, আরও ডিটেইলস ভাবে, অনেক উদাহরণ সহ কেন বলা হয়নি। ফিকহ শাস্ত্রবিদরা বলেন এটা কোরআন শরীফের টেক্সট বইয়ের মত আচরণ,এখান থেকে মূলনীতি নিয়ে যাতে আইন তৈরি করা যায়, সোজা কথায় হিউম্যান ইন্টিলিজেন্স ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি। তাতে কুরআনের সুষম সাহিত্যগুনও অক্ষুন্ন রয়েছে। হতে পারে একথাও আপনি মানলেন না। তাহলে বলি, আপনি বলতেই পারেন ডিটেইলস ভাবে হযতো কুরআনে সব শর্ত আলোচিত হয়নি , ফলে উত্তরাধীকারি আইনের ব্যাপারটা হয়তো জটিল হয়েছে তারমানে এই নয় যে আপনি বলবেন আয়াতে ভুল আছে।

যাইহোক, আউল নিয়ম নিয়ে আশা করি আপনার ভ্রান্তি দূর হয়েছে, আসলে আমি আগেও এক কমেন্টে বলেছিলাম আউল নিয়ম অনেক পুরনো আলোচনার বিষয়,যেহেতু আপনি যথেষ্ট অনুসন্ধিৎসু তাই উত্তরাধীকার আইন নিয়ে আপনার আরও কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন-যাদের নিয়ে হয়তো আপনি পরে আবার জিজ্ঞাসু হয়ে উঠবেন। আপনার সুবিধার জন্য তার কিছু হিন্টস দিয়ে দিচ্ছি
১. উত্তরাধীকার আইনে একই মর্যাদার নারী:পুরুষের সম্পদের অনুপাত ১:২ কেন?
২. উপমহাদেশে ১৯৬১ সালে ইসলামিক উত্তরাধীকারি আইনে একটি অধ্যাদেশ আনা হয় (সম্ভবত ৮ম অধ্যাদেশ) , কেন এবং সেটা যথাযথ কিনা?
৩. ল অব রিপ্রেসেন্টেটিভ কি এবং কতটা যথাযথ?
৪. তাছাড়া আত্মীয় স্বজনের পারমুটেশন কম্বিনেশন করে কয়েকটা জটিলতা তৈরি হয়, খলিফা উমর রা. এর সময় এধরনের কয়েকটা পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হয়,দেখতে পারেন।
এছাড়াও উত্তরাধিকার নিয়ে কি কি ধরনের প্রশ্ন হতে পারে তার সম্ভাব্য একটি তালিকা যথাযথ উত্তরসহ তৈরি করছি,আশা করি সব ধরনের প্রশ্নই তাতে ইনক্লুডেড রয়েছে,প্রয়োজন অনুসারে প্রকাশ করা হবে। আসলে যদি আপনি ফ্রি মাইন্ড নিয়ে অনুসন্ধানী হয়ে উঠেন তাহলে নিজেই সব উত্তর পেয়ে যাবেন,এজন্য শুধু নেটের উপর ভরসা না করে আপনি আইন বিষয়ক কিছু বইয়ের সাহায্য নিতে পারেন, আইনজীবীদের সাথে আলোচনা করতে পারেন, (আমি এ বিষয়ে এক আইনবিদের সাথে আলোচনা করেছি), বাংলায়ও কিছু বই আছে- মনে হয় রাজশাহী ভার্সিটির এক আইনের শিক্ষকের একটা বই আছে,তাছাড়া ‘উত্তরাধীকার আইন ’ নামে আরেক জনের একটা ভালো বই আছে এই মুহুর্তে মনে আসছে না লেখকের নাম।

বলে শেষ করি, এটা আমার উত্তরাধিকার আইন নিয়ে ১ নং পোষ্ট, পরবর্তীতে অন্যান্য পোষ্টে বিষয়গুলি
বিস্তারিত আলোচনার ইচ্ছা আছে। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন।

১০. ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৭
বিপ্লব০০৭ বলেছেন: প্রিয় মাসুদুল হক, চালিয়ে যান। আগ্রহ বাড়ছে।
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনার কমেন্ট অনেক আগে আশা করেছিলাম!

১১. ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০০
বিপ্লব০০৭ বলেছেন: অতিরিক্ত জটিল মনে হচ্ছে। পড়ছি।
১২. ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:২৪
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
১। ২য় সমাধানটি আসলে আওলাদ আর ওয়ালিদ- এর যুক্তি নিয়ে এসে করা হয়েছে। আমার সেই পোস্টে জ্বিনের বাদশার আলোচনা দ্রষ্টব্য, তার বাইরে নিচের এই লিংকটি দেখতে পারেন:
Click This Link
নেটে আরো কিছু ইসলামী সাইটে এরকম জবাব পেয়েছি। তাদের মূল কথা-
কন্যা সন্তান একাধিক হলেই তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ২/৩ ভাগ। ফলে- প্রথমেই এই ২/৩ ভাগ দিতে হবে।
এর পরে- পিতামাতার ব্যাপারে ও স্ত্রীর ব্যাপারে কোরআনে বলা হয়েছে- ১জন সন্তান থাকলে পিতা=মাতা= ১/৬ ভাগ পাবে, এবং ১জন সন্তান থাকলে স্ত্রী পাবে ১/৮ ভাগ।
একাধিক সন্তান থাকলে- পিতামাতা-স্ত্রীর ভাগ কতখানি হবে- তা কোরআনে উল্লেখ নেই।
সেকারণেই আলোচ্য সমস্যাটিতে যেটা উল্লেখ আছে- সেই কন্যাদের প্রথমেই ২/৩ ভাগ দিতে হবে- তারপরে অবশিষ্ট অংশ মানে ১/৩ ভাগ সম্পত্তি বাবা-মা ও স্ত্রীর মাঝে ১/৩:১/৮ অনুপাতে ভাগ করে দিতে হবে।

সে অনুযায়ি হয়:
২ কন্যা= ২/৩
১ স্ত্রী= ৩/৩৩
বাবা-মা= ৮/৩৩
১৩. ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:০৯
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
২। আউল যদি মেনে নেয়া হয়, তবে প্রশ্ন চলে আসে-
আউল কার প্রবর্তিত?
মানুষের না আল্লাহর?
আল্লাহ তথা মুহম্মদ সা কেন এ বিষয়ে কোন কিছু ইরশাদ করেন নি?
ওমর/আলী কে কেন নতুন করে এ পদ্ধতি প্রবর্তন করতে হলো?

৩। আপনি আমার আগের পোস্টের ব্যাপারে কিছু আলোচনা/প্রশ্ন তুলেছেন:
ক) আপনি জানিয়েছেন- ফরায়েজী আইন আলীর তৈরী নয়- আরো আগের মুহম্মদ সা এর আমল থেকেই এটা চলে এসেছে।
হুম, ফরায়েজী আইন- তথা মুসলিম উত্তরাধিকার আইনটি মুহম্মদ সা এর আমল থেকেই চলে এসেছে- এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এটাও ঠিক যে- মুহম্মদ সা এই বিষয়ে যেসমস্ত নিয়ম প্রচলন করেন- পরবর্তী খলীফার আমলে তার কিছুটা পরিবর্তন ঘটে, আউল নিয়মের প্রবর্তন ঘটে। বিশেষ করে খলীফা ওমরের আমলে এ সংক্রান্ত বেশ কিছু সমস্যার সমাধান দেয়া হয় আউল এর মাধ্যমে।
কিন্তু খলীফা আলীর আমলেই এই উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইনকে আলাদা একটা শাখা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়- যেটি ফরায়েজী আইন নামে পরিচিত। এবং সেখানে তিনি কোরআনকেই শুধু প্রামান্য না ধরে- আউল, রদ্দ কেও গ্রহন করে নেন। সে কারণেই ফরায়েজী আইনের সাথে আলীর নামটি চলে আসে।

তবে, আমার বলার ধরণটি ঠিক ছিল না- এতে মনে হতে পারে- সংশোধিত রূপটি আলীরই প্রবর্তিত। যা প্রকৃতপক্ষে না।

তবে, মূল যে প্রশ্ন- ওমর/আলী সময়কার ফরায়েজী আইন আর মুহম্মদ সা এর সময়কার ফরায়েজী আইন কি এক ছিল? এটা কিন্তু এখনো ভ্যালিড।

৪। আপনি জানিয়েছেন- কোরআনের নির্দেশনাগুলোকে লিটের‌্যালি নেয়া যাবে না। কেন?
সুরা নিসায় পরিষ্কার বলা হয়েছে: একাধিক কন্যা সন্তান থাকলে (পুত্র সন্তান না থাকলে) তারা সম্পত্তির ২/৩ ভাগ পাবে। এখন প্রদত্ত সমস্যাটিতে আউল প্রয়োগ করে- আপনি কন্যাদের দিচ্ছেন: ১৬/২৭।

২/৩=১৮/২৭, মানে ২/৩-১৬/২৭=২/২৭; অর্থাৎ কন্যা সন্তানেরা কোরআন অনুসারে ২/৩ না পেয়ে ২/২৭ ভাগ কম পাচ্ছে। এটাকে বলা যাবে না যে- কোরআনের সুরা নিসার ১১-১২ নং আয়াত মানা হচ্ছে না??????

৫। আপনি দেখালেন- কোরআনে যে অনুপাত দেখানো হয়েছে- সেই অনুপাত ঠিকই মেইনটেইন করা হয়েছে।

কোরআনের কোন আয়াতে কি প্রত্যেকের ভাগের পারষ্পরিক অনুপাতের ভিত্তিতে সম্পত্তি বন্টন করা কথা বলা হয়েছে? নাকি- মোট সম্প্ত্তির কত ভাগ পাওয়া যাবে- সে ব্যাপারেই জানান দেয়া হয়েছে?

উদাহরণ দেই;
আপনি বলেছেন:
"এখানে দেখুন আউল প্রয়োগের আগে ২ কন্যা ও স্ত্রী এর অনুপাত=(২/৩)/(১/৮)=১৬/৩
আউল প্রয়োগের পরে ২ কন্যা ও স্ত্রী এর অনুপাত=(১৬/২৭)/(৩/২৭)= ১৬/৩"

সেরকম তো যেকেউই দাবি করতে পারে- ১৬/২৯: ১৬/২৯ এর অনুপাতও কিন্তু একই থাকে। বা প্রদত্ত সমস্যাটিতে
২ কন্যা: স্ত্রী: পিতা-মাতা=১৬:২৯: ৩/২৯:৮:২৯ ও যদি দেয়া হয়- তারপরেও কিন্তু কন্যা-স্ত্রী-বাবামা'র প্রাপ্ত ভাগের অনুপাত একই থাকে। বাকি ২/২৯ আপনি সহজেই দিতে পারেন- অবশিষ্টাংশভোগীদের, বা বায়তুল মালে বা যাকাত হিসাবে। সেক্ষেত্রে- এই ভাগেরও বড় আপত্তির জায়গাটি কি হবে? হবে এটিই যে- কোরআন অনুযায়ি কন্যাদের দেয়ার কথা ২/৩ ভাগ, কিন্তু ১৬/২৯ কোনভাবেই ১৬/২৯ এর সমান নয়।

৬। পরিশেষে একটি কথা বলি:
একলোক তার সঞ্চিত ৯০,০০০ টাকা তার তিন বন্ধুকে(ক, খ, গ) দেয়ার জন্য একটা উইল করে বিদেশে চলে গেল। উইলটি করলো এরকম:
ক পাবে= ২০,০০০টাকা
খ পাবে=৩০,০০০ টাকা
গ পাবে= ৫০,০০০ টাকা
পরে টাকা ভাগ বাটোয়ারা করতে দেখা গেলো- ১০,০০০ টাকা কম পড়েছে।
এক্ষেত্রে কি বলা যাবে না যে- লোকটি ভুল হিসাব করেছেন?

এটা ঠিক যে- এক্ষেত্রে টাকা বন্টনের যৌক্তিক উপায় হচ্ছে মোট টাকা ক:খ:গ অনুপাতে মানে ২:৩:৫ অনপাতে ভাগ করে দেয়া, সে অনুযায়ি ক, খ ও গ কে যথাক্রমে ১৮,০০০টা, ২৭,০০০ টা এবং ৪৫,০০০টা দেয়াটাই সবচেয়ে ভালো সমাধান। কিন্তু এই সমাধানে আসার পরেও কি এটা বলা হবে না যে- উইলকারী ভুল করেছিলেন। এটা কি বলা যাবে না যে- উইল অনুযায়ি ক ২০ হাজার টাকা পায়নি- খ ৩০ হাজার টাকা পায়নি, গ ৫০ হাজার টাকা পায়নি!!!!!

মানুষের এরকম উইলে ছোট খাট ভুল থাকতেই পারে, অনিচ্ছাকৃত ভুল- হিসাবে ভুল এমন বিভিন্ন ভুল বিভিন্ন সময়ে বিখ্যাত মানুষ করেওছে। কিন্তু এই হিসাবটা যখন আল্লাহ করেছেন বলে দাবি করা হয়- দাবি করা হয় যে- কোরআনের সমস্ত নির্দেশ-উপদেশ পরামর্শ শিরোধার্য; তখন এই প্রশ্ন গুলো কি আসাটা স্বাভাবিক নয়?
২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:১০

লেখক বলেছেন: আপনার বক্তব্য পড়লাম, আপনি যে প্রশ্ন তুলেছেন তা উপরের পোষ্ট মনোযোগ দিয়ে পড়লেই যে কেউ উত্তর পেয়ে যাবে। যাই হোক, আবার দেখুন

১. এ সর্ম্পকে আপনার প্রথম প্রশ্নের জবাবে যা বলেছি তাই যথেষ্ট

২. বলেছেন, আউল কার প্রবর্তিত, আল্লাহর না মানুষের। সেই পুরনো প্রশ্ন। এ প্রশ্নের মাধ্যমে আপনার একটা চারিত্রিক দিক বোঝা যায়। একটা টপিক নিয়ে যতই আলোচনা হোক ভাঙা রেকর্ডের মত আপনার প্রশ্নে আবার ফিরে আসে। শুধুমাত্র এই প্রশ্নের জন্য আমার পোষ্টের ১ নং প্রশ্নটা উত্থাপন করেছিলাম। সোজা কথায় শরীয়তের আইনে ইজমা,কিয়াসের মাধ্যমে বিধান তৈরি হতে পারে।

৩. প্রথমত নিজের ভুল ঢাকতে আপনার বলার স্টাইলকে দোষ দিয়েছেন। পরে তাকে কাউন্টার দেয়ার আলী রা. এর শাসনামল নিয়ে এসেছেন।আপনার অবগতির জন্য জানাই ওমর রা. এর সময় যখন তিনি খুৎবা দিচ্ছিলেন তখন একজন প্রথম আউল জনিত সমস্যা জানতে চায়। সে সময় সমাবেশে উপস্থিত আলী রা. দাড়িয়ে এই সমাধান দেন,প্রথমে তার সমাধান পুরো সঠিক ছিল না,পরে সবাই আলোচনা করে আউল আইন ঠিক করা হয়।এই ঘটনাকে মিম্বরিয়া বলে।( মুসলিম আইন,প্রথম খন্ড, এম হাবিবুর রহমান,সহযোগী অধ্যাপক ও সভাপতি,আইন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়) তারপর সেসময়ই এ সমাধান পর্যালোচনা করে একে আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যা কিয়াসের অন্তর্ভুক্ত।

৪. আবার দেখুন-
আউল নীতি: আউল শব্দের আভিধানিক অর্থ বৃদ্ধি হওয়া। শরীয়তের নিয়মানুযায়ী যাবিল ফুরুজ বা অংশীদারদের অংশ প্রদানের পর তাদের অংশাবলীর যোগফল যদি মূল সম্পদ হতে বেড়ে যায় বা ১ এর চেয়ে বেশি হয় তাহলে যে নিয়মে তা সমাধান করা হয় সেটাই আউল। কোরআন শরীফে অংশীদারদের যে তালিকা রয়েছে তাদের বিভিন্ন বিন্যাস ও সমাবেশে কখনো কখনো তা ১ এর চেয়ে বেশি হওয়াটা গাণিতিক ভাবে ও অনুপাত ভিত্তিক বন্টনে যদিও সেটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার কিন্তু এ বিন্যাস খুব সহজলভ্য নয়, তাই হাদীসে এ পরিস্থিতির উদাহরণ নেই,তবে চার খলিফা আমলে এটি আলোচিত হয় ও পরবর্তীতে শরীয়তের ৩য় উৎস কিয়াসের মাধ্যমে ইসলামী আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

রদ্দ নীতি: রদ্দ এর আভিধানিক অর্থ প্রত্যাবর্তন করা । এটি আউলের বিপরীত নিয়ম। শরীয়তের নিয়মানুযায়ী যাবিল ফুরুজ বা অংশীদারদের অংশ প্রদানের পর তাদের অংশাবলীর যোগফল যদি ১ এর চেয়ে কম হয় এবং মৃত ব্যক্তির কোন আসাবা না থাকে তাহলে অবশিষ্ট সম্পত্তি স্বামী স্ত্রী ব্যতিত অন্যান্য অংশীদারদের কাছে পুনরায় প্রত্যাবর্তন করা হয়।
তিনটি উদাহরণ :
ক. জলিল সাহেব মৃত্যুকালে পিতা ও এক কন্যা রেখে গেল
প্রথমত, কন্যা পাবে ১/২ অংশ
পিতা পাবে ১/৬
এখানে ,১/২+১/৬=৪/৬ , সুতারাং আসাবা বা অবশিষ্টাংশ = ১-৪/৬= ২/৬
দ্বিতীয়ত, ১(খ) অনুযায়ী, পিতা এই আসাবা পাবে। তাহলে মোট পিতার অংশ=১/৬+২/৬ =৩/৬ =১/২ ও কন্যার অংশ=১/২
খ.কামাল সাহেব ১ কন্যা ও মা রেখে মারা গেলেন।
প্রথমত, কন্যা পাবে ১/২
মা পাবে ১/৬
মোট ১/২+১/৬=৩/৬+১/৬=৪/৬
দ্বিতীয়ত, রদ্দনীতি প্রয়োগ করে পাই-৩/৪+১/৪=৪/৪=১
তাহলে, কন্যা ৩/৪ ও মা ১/৪ অংশ পাবে।

গ.আনিস সাহেব মৃত্যুকালে স্ত্রী, ২ সহোদর বোন ও ২ জন মায়ের পরে সৎ বোন রেখে গেল।
প্রথমত, এখানে স্ত্রী পায় ১/৪
সহোদর বোনদ্বয় ২/৩
সৎ বোনদ্বয় ১/৩
মোট= ১/৪+২/৩+১/৩ =৩/১২+৮/১২+৪/১২=১৫/১২
দ্বিতীয়ত, ১এর বেশি হওয়ায় আউল অবলম্বন করে হরকে ১৫ করে পাই,
৩/১৫+৮/১৫+৪/১৫=১৫/১৫=১
তাহলে স্ত্রী ৩/১৫,বোনদ্বয় ৮/১৫ ও সৎ বোনদ্বয় ৪/১৫ অংশ পাবে।
উদাহরণ তিনটিতে দেখা যায় প্রথম ২টি উদাহরনে অংশ বৃদ্ধি পায়, দ্বিতীয়টিতে অংশ কিছুটা হ্রাস পায়। এখন ১ম নিয়মটি সাধারন ভাবে আসাবা বা অবশিষ্টাংশভোগী নিয়মে করা হয়েছে ,২য় টি রদ্দ ও ৩য়টিতে আউল নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে।
দেখা যাচ্ছে কুরআনে বর্ণিত অংশ প্রাপ্ত হবার পর সে অংশ দ্বিতীয় ধাপে বাড়তে বা কমতে পারে, আর সেটা মোটেও কোরআনের পরিপন্থি নয় । কোরআনে এ সংক্রান্ত আয়াতগুলোতে দেখা যায় কয়েকজনের অনুপাত উল্লেখ করা হয় নি, যেমন পুত্র,ভাই,চাচা ইত্যাদি। এখন কেউ যদি বলে এদের উল্লেখ নেই, তাহলে এদের ভাগ দেয়া হলে কুরআনের বিরুদ্ধে যাবে, তাহলে তা অবান্তর মন্তব্য হবে। আসলে কোরআনে উল্লেখিত অংশ দেবার পর যা বাকি থাকবে সেখান থেকে তাদের অংশ নির্ধারিত হয়। আবার কখনো নিদির্ষ্ট অংশভোগীরাও তা পেতে পারে (যেমন- উদা ১), রদ্দ নীতিতেও বেশি পেয়ে থাকে। তাই নির্ধারিত অংশের বেশি পাওয়া ইসলামী আইনের পরিপন্থি নয়।
অধিকাংশ প্রশ্নে আমি দেখেছি আউল নীতি নিয়ে যত প্রশ্ন অথচ বেশি পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন প্রশ্ন নেই । কিন্তু গণিতের দৃষ্টিতে বলা যায়, বৃদ্ধি ধনাত্মক বা ঋণাত্মক দুইই হতে পারে আর আউল নীতিতে এই বেশি পাওয়া নীতি বা রদ্দ নীতির বিপরীত হয়, খুব স্বাভাবিক ভাবেই তা হয়।
ইসলামে উত্তরাধীকারি আইনে আউল ও রদ্দ নীতিতে পরস্পরের সম্পদের অনুপাত ঠিক রাখা হয়, তাই এভাবে বন্টন গাণিতিক ভাবে অত্যন্ত গ্রহনযোগ্য ও বৈজ্ঞানিক। যেমন ২ নং উদাহরণে প্রথমত অনুপাত থাকে, কন্যা:মা=৩/৬:১/৬=৩:১
রদ্দ নীতি প্রয়োগের পর এ অনুপাত, কন্যা:মা=৩/৪:১/৪=৩:১
৩নং উদাহরণের আউল নীতিতেও ৩:৮:৪ অনুপাত ঠিক থাকে।
(পোষ্টের অংশই আবার তুলে দিলাম, যেহেতু ঘুরে ফিরে একই প্রশ্ন করছেন তাই আমি একই উত্তর দিলাম)

৫. বলেছেন-সেরকম তো যেকেউই দাবি করতে পারে- ১৬/২৯: ১৬/২৯ এর অনুপাতও কিন্তু একই থাকে।
ভালো কথা , কিন্তু এতক্ষন কি বললাম, আর আপনি কি বললেন। আউল ,রদ্দ আইন তো কন্ডিশনাল নিয়ম, আইনে যেমন অধ্যাদেশ থাকে। সবক্ষেত্রে তা হবে কেন?
আর এই সমাধান যে কতটা যৌক্তিক তা ফ্রি মাইন্ড িনয়ে একটু দেখলেই বুঝবেন। ধরুন আমার কোন সম্পত্তির ১/৩ ভাগ পাওয়ার কথা ,২য় জনের পাওয়ার কথা ২/৩ এবং তৃতীয় জনের পাওয়ার কথা ১/৩। এখন দেখা যাবে মোট সম্পত্তির চে তা বেশি হয়ে যাচ্ছে,সেক্ষেত্রে সহজেই আউলের মত নিয়ম দিয়ে তা সমাধান করে দেয়া যায়। সেক্ষেত্রে যে দুজনের ১/৩ করে পাওয়ার কথা তারা সমান অংশই পাচ্ছে, তাই আপত্তির জায়গা থাকছে না,যার ২/৩ পাওয়ার কথা সেও নির্দিষ্ট অনুপাতে বেশি পাওয়ায় তারও আপত্তি থাকছে না। প্রশ্নকরতে পারেন, এরকম অনুপাত হবে কেন যা কথনো একর চেেয় বেশি হয়। আসলে ক্লাস এইটের ভাগ বাটোয়ারা টাইপ হিসাব চিন্তা করলে তা মনে হতেই পারে। আসলে প্রাপক যখন নিদির্ষ্ট সংখ্যক থাকে তখন তা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। কিন্তু ইসলামী আইনে প্রাপক নির্দিষ্ট সংখ্যক থাকে না, পারমুটেশন,কম্বিনেশন করে তা অনেক বাড়তে পারে,তখন খুব সাধারণ ভাবেই ১ এর চেয়ে তা বেড়ে যায়।

৬. উদাহরণ দিয়েছেণ-
একলোক তার সঞ্চিত ৯০,০০০ টাকা তার তিন বন্ধুকে(ক, খ, গ) দেয়ার জন্য একটা উইল করে বিদেশে চলে গেল। উইলটি করলো এরকম:
ক পাবে= ২০,০০০টাকা
খ পাবে=৩০,০০০ টাকা
গ পাবে= ৫০,০০০ টাকা
পরে টাকা ভাগ বাটোয়ারা করতে দেখা গেলো- ১০,০০০ টাকা কম পড়েছে।
এক্ষেত্রে কি বলা যাবে না যে- লোকটি ভুল হিসাব করেছেন?

এর উত্তর আগের পয়েন্টে কিছুটা দিয়েছি,আবার একটু বলি। আপনার উদাহরনের সাথে ইসলামি আইনের সর্ম্পক নেই। প্রথমত,আপনি বলেছেন ক পাবে একটা নিদির্ষ্ট অ্যামাউন্ট, এরকম নির্দিষ্ট অ্যামাউন্টের উদাহরণ দেয়া হলে তা শুধু অন্যদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা। কারন ইসলামী আইনে শুধুই অনুপাত নিয়ে আলোচনা করে।
দ্বিতীয়ত, এখানে নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রাপক আছে,ইসলামী আইনে নিদির্ষ্ট সংখ্যক প্রাপকের বিবেচনায় প্রণীত হয়নি।এটা সার্বজনিন।

১৪. ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:১৩
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
আপনার আগাম ৪ প্রশ্ন দেখলাম- জানিয়েছেন পরের পোস্টে আলোচনা করবেন। ১ম তিনটি আগে থেকেই আমার প্রশ্ন, এখানে বা অন্য পোস্টগুলোতে তুলিনি- কারণ পোস্টের সাথে সংগতিপূর্ণ ছিল না। আপনার ঐ পোস্টগুলোতে আপনার যুক্তিগুলো দেখার ইচ্ছা থাকলো। সম্ভব হলে কিছু আলোচনাও করবো।

আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।
২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:১২

লেখক বলেছেন: আপনাকে ম্যালা ধন্যবাদ।

১৫. ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৯:২০
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
১৩ নং কমেন্টের একটা সংশোধনী:
কিন্তু ১৬/২৯ কোনভাবেই ১৬/২৯ এর সমান নয়।
==========>>>>>>>>>
কিন্তু ১৬/২৯ কোনভাবেই ২/৩ এর সমান নয়।
১৬. ০৫ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১২:৫৫
অন্তু বলেছেন: দারুন! চালিয়ে যান।
০৭ ই মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ!

১৮. ০৭ ই মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৩
বৈকুনঠ বলেছেন: একটা বিশেষ মামলা, আপনের কাছে জবাব আশা করতাছি।

কোনো বিবাহিতা মহিলা যিনি একটা কন্যা সন্তানের মা, তো সেই মহিলা কিছু স্থাবর সম্পত্তির একক মালিক। খোঁজ নিয়া জানা গেল যে ঐ মহিলার অবর্তমানে এই সম্পত্তির উত্তরাধীকারি শুধুমাত্র তার মেয়ে নয়। স্বামীর ভাইয়ের সন্তানদের নাকি অগ্রাধিকার এই ক্ষেত্রে ( ইসলামি আইন নাকি এটাই বলে)।

এটা কতটুকু সত্য সেটা একটু জানাবেন অনুগ্রহ পূর্বক। ধন্যবাদ
০৯ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:১৭

লেখক বলেছেন: আসেন দেখি উপরের ছক থেকে সমাধানের চেষ্টা করি,
এখানে সম্পত্তির অধিকারীনির সম্পর্ক গুলো হল: কন্যা,স্বামী,স্বামীর ভাইয়ের ছেলে

ছক থেকে পাই,
কন্যা:
(ক) ১/২, (একজন হলে) পুত্র নেই
(খ)২/৩, (একাধিক হলে) পুত্র নেই
(গ) পুত্র থাকলে ১:২=কন্যা:পুত্র

স্বামী:

(ক) ১/২, মৃত স্ত্রীর কোন অধস্তন না থাকলে
(খ)১/৪, মৃত স্ত্রীর কোন অধস্তন থাকলে

এরা কোরানিক অংশীদার । এদের পরেই যাদের স্থান তারা হলেন

২য় উত্তরাধীকারি. আসাবাগণ (যাবিল ফুরুজদের মধ্যে বন্টিত হবার পর যারা অবশিষ্টাংশ পায়)
১. পুত্র,পৌত্র,প্রপৌত্র, পিতা,দাদা,পরদাদা, ভাই,ভাতিজা,ভাতিজা পুত্র, চাচা,চাচাত ভাই চাচাত ভাইয়ের পুত্র ক্রম অনুসারে আসাবা হবে
২.কন্যা,পৌত্রী,সহোদর ও পিতার পক্ষের সৎ বোন: তাদের ভাই থাকলে আসাবা হবে এবং ১:২ অনুপাতে অংশীদার হবে
৩.যথাক্রমে সহোদর বোন ও পিতার পক্ষের সৎ বোন: মৃত ব্যক্তির এক বা একাধিক কন্যা থাকলে ক্রম অনুসারে আসাবা হবে
*ক্রম অনুসারে হলে বোঝায় ১ম জন আসাবা হলে পরের আর কেউ হবে না, ১ম জন না থাকলে ২য় জন হবে ইত্যাদি

৩য় উত্তরাধীকারি. যাবিল আরহাম: দুর সম্পর্কের আত্মীয়স্বজন,উপরের দুই শ্রেনীর অনুপস্থিতে যারা অংশীদার হয়,যেমন -দৌহিত্র,দৌহিত্রী,ভাগিনা,ভাগিনী,খালা,ফুফু ইত্যাদি।

তাহলে দেখা যাচ্ছে এখানে স্বামীর ভাই বা ভাইয়ের ছেলের কোন অংশ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে স্ত্রী এর মৃতু্র পর স্বামী এখানে ১/৪ অংশ পাবে। এখন তিনিও (স্বামী) যদি মারা যান সেক্ষেত্রে এই ১/৪ অংশ যখন ইসলামিক নিয়মে বন্টিত হবে তখন আবার কন্যা সেখান থেকে ১/২ অংশ পাবার পর যদি অবশিষ্টাংশভোগীদের ক্রমে আর কেউ না থাকে তখন ভাইয়ের ছেলেরা আসাবা হবার কারনে তারা একটা অংশ পায়। লক্ষনীয় এ অংশ কিন্তু পাচ্ছে স্বামীর সম্পত্তি থেকে, মোটেও স্ত্রীর স্বামীর ভাইয়ের ছেলে হিসেবে নয়।
আর লক্ষনীয় হল আত্মীয়তার কোন কম্বিনেশনের ক্ষেত্রেই কন্যা কখনো বঞ্চিত হয় না,এমনকি দেখুন ভাই কখনো কোরানিক অংশীদার নয়,তাদের অনুপাত বোনদের দ্বারা নির্দিষ্ট( ১:২) অনুপাতে। ফলে যেটা হয়, কখনো ভাইরা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হতেও পারে কিন্তু বোনরা হয় না। আর এই বিষয়টা ইসলামিক উত্তরাধিকার আইনের খুবই অনন্য বৈশিষ্ট্য, অন্য কোন উত্তরাধিকার আইনে এ রকম দেখা যায়না।

প্রশ্ন করার জন্য ধন্যবাদ।

(allah knows best)

১৯. ১৮ ই মে, ২০০৯ রাত ১:০০
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন:
বৈকুনঠের জবাবটি খুব পেচিয়ে দিলেন যে!!!
এবং শেষে উপসংহার টানলেন- ভাইরা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হতেও পারে কিন্তু বোনরা হয় না!!!!

এরকম ভুলভাল বুঝানো কি আপনাদের মজ্জাগত হয়ে গেছে???

আপনার ৩ নং জবাবের পোস্টের অপেক্ষায় অনেকদিন ধরে বসে আছি- কিন্তু কোনরকম সাড়া না পেয়ে এবং এইরকম জবাব দেখে- ভাবছি- আমার পোস্টখানিই আগে দিয়ে দিব- আশা করি- সেখানে আপনার আলোচনা পাবো....


বৈকুন্ঠের প্রশ্নের সরাসরি জবাবটি হচ্ছে:
ঐ মহিলার কেবল এক কন্যা থাকলে (স্বামি-সন্তান না থেকে)- সেই কন্যা সন্তান সর্বোচ্চ ১/২ ভাগই পাবে। বাকি ১/২ ভাগ যাবে অবশিষ্টভোগীর কাছে (পুত্র- স্বামি এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে পিতাও আসাবা বা অবশিষ্টভোগী- কিন্তু পুত্র না থাকলে কন্যা কখনো আসাবা নয়)- সেই সম্পত্তি দূর সম্পর্কীয় আত্মীয় এমনকি সেটা না থাকলে বায়তুল মাল বা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হবে- তবু ঐ কন্যা পাবে না, কোরান-সুন্নাহ অনুযায়ি।

আর, উল্টা দিকে- ঐ মহিলার যদি (কোন পুরুষের) এক সন্তান থাকে তবে- (কোন কোরানিক অংশীদার না থাকলে)- আসাবার কল্যানে সম্পূর্ণ সম্পত্তিই পেতে পারে।

পুত্র সন্তান (মানে ভাই) কোরানিক অংশীদার নয়- কিন্তু তারা আসাবা, অন্যদিকে কন্যা সন্তান কোরানিক অংশীদার পায়। এখান থেকে কোনভাবেই এই সিদ্ধান্ত টানা যাবে না যে- ভাইরা (পুত্র সন্তান) সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারে- কিন্তু বোনদের (কন্যা সন্তানের) অনুপাত যেহেতু নির্দিষ্ট- সেহেতু তারা বঞ্চিত হয় না!!! এমন কথা বলার উদ্দেশ্য মানুষকে বিভ্রান্ত করা। কোরানিক অংশীদার পিতা- মাতা- স্ত্রী- স্বামিও, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা পুত্রের অংশের চেয়ে বেশী পায়!

কন্যা থাকলে- পুত্র ও কন্যা ২:১ অনুপাতে সম্পত্তি পাবে- কোরানিক অংশীদারদের সম্পত্তি বন্টনের পরে (এক্ষেত্রে পুত্র ও কন্যা উভয়েই আসাবা)। এখানে স্পষ্টই পুত্র কন্যার দ্বিগুন পাচ্ছে- ভাই বঞ্চিত হলেও বোন হবে না- এমন কোন ঘটনার কোন স্কোপই নেই। আবার- শুধু পুত্র থাকলে- পুত্র আসাবা পায়- পিতা-মাতা কোরানিক অংশীদার পাওয়ার পরে বাকি সবটুকু পায় পুত্র- তা মোটেও ১/২ ভাগের কম নয়- বরং বেশীই। আর পিতা-মাতাও যদি না থাকে- তবে তো পুরো সম্পত্তিই পুত্রের ভাগে চলে আসছে। সুতরাং- পুত্রের জন্য আসাবা, কোরানিক অংশীদার হওয়ার চেয়ে লাভজনক। উল্টাদিকে- কন্যা কোরানিক অংশীদার হওয়ার- সেই ১/২ ভাগ নির্দিষ্ট। এভাবেই কন্যা লুজার।

আশা করি- বুঝাতে পেরেছি....

চেষ্টা করবো আলাদা পোস্ট দু-একদিনের মধ্যেই তৈরি করতে পারবো...।


২০ শে মে, ২০০৯ রাত ৮:৩৮

লেখক বলেছেন:
লেখক বলেছেন: প্রিয় নাস্তিকের ধর্মকথা, আপনার কমেন্ট বহুদিন পর পেয়ে খুবই ভালো লাগলো, আপনার মত জ্ঞানী মানুষের সাথে কথা বলতে কার না ভালো লাগে বলুন, আমরা গো মূর্খ, লিঙ্কে আপনার মত কোরআন,হাদীস-তাফসিরও নাই, কতই বা বিদ্যা থাকবে বলুন।

বৈকুন্ঠের প্রশ্নের জবাব আমার ধারনা ছিল খুব সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেছিলাম, তাঁর প্রশ্নের জবাবটা হয়তো খুব শর্টকাটে দেয়া যেত হয়তো এভাবে-" স্বামীর ভাইয়ের ছেলেরা মোটেও কোন অংশ পাবে না"- তা না বলে একটু হয়তো বাড়িয়ে বলে ফেলেছি,ব্যাখ্যা জানানোর জন্য আসাবাদের নাম কোট করেছি। কিন্তু পেঁচিয়ে উত্তর দিয়েছি এমন না হক কথা বলবেন না জনাব,মনে খুব লাগে।অবশ্য হতে পারে আপনার কথা বুঝতে পারি নি,আপনার জ্ঞানগর্ভ সব কথা বুঝতে পারব সে আশা করা অপরাধ জানি, তবে কি জানেন,আমার মনে হয় বৈকুন্ঠ আর আমরা বাকিরা অনেকে যারা আছি ,অর্থাৎ যারা জ্ঞান গরিমায় অতটা গুনান্বিত নই, তাদের কাছে বিষয়টা সহজই মনে হয়েছে বলে আমি জেনেছি,ব্যক্তিগত ভাবে অন্যান্যরা আমাকে যা বলেছে তাতে বুঝেছি।

যাই হোক বিষয়টা আবার একটু বলি, বুঝাতে পারব কিনা জানি না,খুব কঠিন করে লিখলে হয়তো বুঝতে পারতেন, কিন্তু এই স্বল্প বুদ্ধি দিয়ে চেষ্টা করেও কঠিন লেখা হয়তো সম্ভব হবে না,ক্ষমা দিয়েন।

বৈকুন্ঠের প্রশ্নের সোজা সাপটা জবাব

আসাবাগন কে কে বিষয়টা যদি আমরা প্রথমে জানি তাহলে সমস্যার সমাধান বোঝাটা অনেক সহজ হয়ে যায়, আসাবা গণের লিস্ট দেখলে বুঝবেন তাদের মধ্যে মৃত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী এর ভাই বা ভাইয়ের পুত্ররা কখনোই আসতে পারে না।
আর যদি মৃত ব্যক্তির কন্যা ব্যতীত আর কোন উত্তরাধিকারী না থাকে সেেেত্র পুরো সম্পত্তি কন্যার উপর রদ হয় অর্থাৎ পুরোটাই কন্যা পেয়ে থাকে। ( ইসলামী উত্তরাধীকার আইনে নারীর অধিকার ও ফারায়েজ,মাওলানা মো ফজলুর রহমান আশরাফী,পৃ ৩৮)

আমার উপসংহার

বৈকুন্ঠের প্রশ্নের জবাবে আমার উপসংহার নিয়ে দেখলাম আপনার ব্যাপক আপত্তি,একেবারে মজ্জাগত সমস্যা তুলে আনছেন, তা ভাই আমরা তো সাধারন মানুষ, ভুল ভ্রান্তি কিছুতো থাকতেই পারে, কিন্তু আজ পর্যন্ত কি এমন কইলাম যে মজ্জা নিয়া টানাটানি করলেন, যাই হোক, আসল কথায় আসি, আপনার আপত্তির জায়গা হল ভাই বঞ্চিত হতেও পারে , বোন নয়। বিষয়টা আপনার গিলতে কষ্ট হচ্ছে, কারন আপনি ভেবেছেন আমি সাময়িক উত্তেজনা বশত বিষয়টা বলেছি। কিন্তু শুধু গানিতিক ভাবেই নয়,ঐতিহাসিক ভাবেও তার প্রমাণ দিচ্ছি।
উদাহরণটা খলিফা ওমর রা. এর সময়কালীন, মৃত ব্যক্তির স্বামী,মাতা , ২ বৈপিত্রেয় ভাই ও ২ জন আপন ভাই ছিল, সুতারাং হিসাবটা হয় এরকম
স্বামী ১/২,মাতা ১/৬, ২ বৈপিত্রেয় ভাই ১/৩ ও দুই আপন ভাই কিছু পায় না। কারন তারা আসাবা। এই ঘটনার পর ওমর রা. আপন ভাইদের একটা অংশ দিতে বলেন,এই ঘটনাকে বলা হয় আল হিমারিয়া ।
এখানে বৈপিত্রেয় ভাই হল যারা একই মায়ের গর্ভজাত সন্তান, তারা কোরানিক অংশীদার। এই উদাহরনে যদি কোন বোন থাকত তবে তারা কখনো বঞ্চিত হতো না।
তিন প্রকার বোনই কোরানিক অংশীদার, তারা তখনই বঞ্চিত হয় যখন মূল যে নিয়ম উপরে উল্লেখ করেছি (পোষ্টে ৮,৯ ও ১০ নং শর্তে )সে নিয়মে আসে, কিন্তু ভাইদের মত কোন কম্বিনেশনের জন্য তারা বঞ্চিত হবে না।
বৈকুন্ঠের পোষ্টে ভাই বলতে মৃত ব্যক্তির ভাইবোনদের বোঝানো হয়েছে ,তার পুত্র বোঝানো হয় নি,আপনি ভাই লিখে ব্রাকেটে পুত্র লিখছেন এজন্যই ভজঘট পাকিয়েছেন, হয়তো আমি শর্টকাটে লিখতে গিয়ে চট করে প্রসংঙ্গ বদলেছি এবং অসর্তকতায় দাড়ির জায়গায় কমা দিয়ে ফেলেছি এজন্য হয়তো আপনার এত জ্ঞান সত্বেও ব্যাপারটা উপলব্ধি করতে পারে নি, তারপরও যদি উকিলের মত তর্কাতর্কি করি তাহলেও আমিই জয়ী,কারন আমি ভাইই লিখেছি, পুত্র নয়।
তারপরও যদি ধরেন পুত্র কন্যা , তাহলে ও পুত্র কম্বিনেশনের কারনে যে কম পেতে পারে তা দেখুন
(ক) ধরি মৃত ব্যক্তির আছে স্বামী, পিতা , মাতা ও এক পুত্র
এখানে স্বামী ১/৪, পিতা ১/৬,মাতা ১/৬ । সুতারাং পুত্র আসাবা হিসেবে পায় : ১-(১/৪+১/৬+১/৬)=৫/১২
(খ) এখন উপরোক্ত জায়গায় যদি পুত্রের জায়গায় কন্যা থাকে , তাহলে
স্বামী ১/৪, পিতা ১/৬,মাতা ১/৬ ও কন্যা ১/২। আউল করে কন্যার অংশ হয় ৬/১৩।
সুতারাং এখানে কন্যা একই আত্মীয়তার কম্বিনেশনে পুত্রের চেয়ে বেশি পাচ্ছে। তারমানে পুত্র অর্ধেকের চেয়ে কম পেতে পারে কিন্তু এক কন্যা সবসময় অন্তত অর্ধেক পায়। (আউল বা রদে সামান্য বাড়তে বা কমতে পারে)
তবে আপনি এমন ভাবে কথা গুলো লিখলেন যেন ২:১, পুত্র: কন্যা অনুপাত সেটাই নতুন করে সবাইকে শিখাচ্ছেন,আর কে লুজার কে লাভবান সেটা আলাদা টপিক । এই টপিক তো আগে শেষ হোক!

বায়তুল মাল:
বায়তুল মালের কথা উলেখ করেছেন একেবারে না খোঁজ নিয়েই। দূর-সম্পর্কের আত্মীয়রা কখনো আসাবা হওয়ার মাধ্যমে সম্পত্তি পেতে পারে। কিন্তু শুধুমাত্র মালিকি স্কুলের েেত্র মত হল কোরানিক অংশীদার বা আসাবা না থাকলে তখন সম্পত্তি বায়তুল মালে জমা দেয়াই কর্তব্য। তাদের মতে সম্পত্তি রদ হয় না, তা বায়তুল মালে জমা হতে হয়। কিন্তু বাকি সবাই শাফি, হাম্বলি মতাদর্শে অবশিষ্ট সম্পত্তি রদ হয় ( মুসলিম আইন,এম হাবিবুর রহমান পৃ ১২০)


আসেন সোজা কথায় আসি:

আপনি বলেছেন আপনার কোন প্রশ্নের জবাবের অপেক্ষায় থেকে এতদিন কোন কমেন্ট কি পোষ্ট দেন নি,কি সর্বনাশের কথা। একবারও তো বললেন না আগে সে কথা, শুধুমাত্র এই অপরাধের কারনে আপনি আপনার অগণিত ভক্তদের নিরাশ করলেন। সবার সামনে এইভাবে এই অধমকে দোষ দিতেছেন, আমার জবাবের জন্য একটা পোষ্টই দিলেন না জানলে তো সবাই আমারে ব্লগ থেকেই বের কইরা দিবো। তবে আমার কথা হল আপনার পোষ্টে যখন আমি কমেন্ট করেছিলাম, তখন এ কথা না বলে এখানে বলছেন যে বড়! আপনার সেই উপাদেয় পোষ্টে আমার কমেন্টের পরে লিখেছিলেন ‌'আমার উত্তরে পরে আসছেন' আর তো আসলেন না তো । আর এতদিন পর আবার অভিযোগ করলেন। আসলেই আপনাকে চেনা কঠিন।
তারচেয়ে আসেন সোজা পথে আসি, উত্তরাধিকার বা অন্যান্য ধর্মীয় ব্যাপার স্যাপার নিয়ে আরও আলোচনা করা যাবে,কিন্তু প্রথমে আমার পোষ্টের টপিকের সাথে ঐক্যমতে আসি। আমি এ পোষ্টে ইসলাম ধর্মের উত্তরাধিকার আইনের মানবিক প্রশংসা করতে আসিনি। এর
নিন্দা বা প্রশংসা সার্চ মারলেই প্রচুর মেলে। আমার উদ্দেশ্য আউল নিয়মকে যে গাণিতিক ভুল বলে অভিযোগ করতেন সেটার নিষ্পত্তি ঘটানো।
উত্তরাধিকার আইন ভালো না খারাপ, তা নারীবাদি না পুরুষবাদী সেসব পরে, আগে স্বীকার করেন যে আউল নিয়ম নিয়ে আপনার মনে আর কোন আউল লাগে নাই। এর আগে অন্য কোন টপিকে যেতে আমি নারাজ। ধর্মীয় ব্যাপারে আমার মোটেও কোন তাড়াহুড়া নেই,কারন আমার আর আপনার কথায় কেউ বিরাট ঈমানদার বা নাস্তিক হয়ে যাবে এটা আমি বিশ্বাস করি না। সব জেনে দুসিয়ায় যেমন বহু আস্তিকও আছে, তেমনি সব জেনে দুনিয়ায় বহু নাস্তিকও আছে। তাই এই আউল টপিক শেষ না করে অন্য কোন টপিকে মুভ করার প্রয়োজনও দেখছি না।


যাই হোক, ভালো আছেন তো? ( কুশল বিনিময়ে আপত্তি নেই তো !)









( and allah knows d best .....)

২০. ১৮ ই মে, ২০০৯ রাত ১:২৩
মেঘ বলেছেন: এতকিছু বুঝি না। ইউনিফায়েড পারিবারিক আইন চাই, সম অধিকার মানে সব মান। আমার বাবা-মা মরলে আমরা তিনভাইবোন সমানভাগে সম্পত্তির ভাগীদার হতে চাই। জেন্ডার দিয়া মাপনের কাজ নাই।
আপনার লেকা ভালো লাগছে।
ধন্যবাদ
২০ শে মে, ২০০৯ রাত ৮:২৬

লেখক বলেছেন: আপনি আপনার ব্যক্তিগত ভালোলাগা না লাগা বলেছেন,সেজন্য ধন্যবাদ। আসলে আমরা যদি কোন সম্রাট বা রাজার শাসনাধীনে থাকি তাহলে হয়তো তার ইচ্ছেমত এমন অনেক কিছু করতে রাজি হই যা হয়তো আমার কাছে খুব ভালো লাগছে না।
মুসলমানরা মনে করে আল্লাহ তাদের সেই সম্রাট,লালনকর্তা। যে মুসলমান দৃঢ়ভাবে তা বিশ্বাস করে সে তার ব্যক্তিগত পছন্দ রেখে হুকুম হিসেবে তা পালন করবে।
এ আইন সমাজের জন্য ভালো না খারাপ তা নিয়ে দীর্ঘ কথা হতে পারে, কিন্তু এ পোষ্টে আপাতত এই উত্তরই যথেষ্ট মনে করছি।

২২. ১৮ ই মে, ২০০৯ রাত ১:৩৯
সোজা কথা বলেছেন: নি:সন্দেহে বিষয়টি জটিল।

কেউ কি জানেন ইসলামী এই জটিল নিয়ম ছাড়া, সম্পত্তি উত্তরাধীকারে বৈজ্ঞানিক ভাবে আরও সুবিধাজনক কোন পদ্ধতি আবিস্কৃত হয়েছে কিনা যেখানে নারী পুরুষের সুষম বন্টন নিশ্চিত হবে? (অন্যান্য ধর্মগুলো কি এই আনুপাতিক বন্টন নীতি থাকে? না শুধু উইল জাতীয় পদ্ধতি সেখানে প্রযোজ্য?) । হয়তো একাধিক বিস্তৃত প্রশ্ন করে ফেলেছি! পৃথক কোন ব্লগে তুলনামূলক আলোচনা হলে ধন্যবাদ রইলো আগাম।

আলোচনা টি চলুক। তাতে অনেক সন্দেহের এবং দ্বিমতের অবসান হবে।

২৩. ২১ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৩
নাস্তিকের ধর্মকথা বলেছেন: আপনার পোস্টের শেষ প্যারা দ্রষ্টব্য:
পরবর্তীতে আলোচনার ইচ্ছা রইল-
প্রশ্ন ৩. ইসলামিক আইনে সম্পদের অংশে পুরুষ নারীর প্রাপ্য অংশের দ্বিগুন পায়,এতে কি নারীর অধিকার খর্বিত হচ্ছে না?
প্রশ্ন ৪. ইসলামে উত্তরাধীকারি আইনে পরিবর্তন করার দাবি কতটা যৌক্তিক ?

=======>>>>>>>>

৩ নং প্রশ্নটির ব্যাপারে আপনি কি জবাব দেন- তা দেখার আগ্রহ ছিল। অপেক্ষাও ছিল- অপেক্ষার কারণেই উত্তরাধিকার আইন নিয়ে এত আলোচনার পরেও ঐ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন কথা বলিনি। এটাই বলতে চেয়েছি।

আমার পোস্টে আপনার কমেন্টের কোন জবাব দেইনি দুটি কারণে:
এক: ইদানিং খুব সময়ের অভাব,
দুই: আমার - আপনার আলোচনায় একই জিনিস বারেবারে আসছিল তাই একই কথা আবার বলতে ইচ্ছাও করছিল না।


আমার আগের কমেন্টের মধ্যকার এগ্রেসিভ অংশের জন্য আমি দুঃখিত। বিষয়গুলো নিয়ে পরে কথা বলার ইচ্ছা থাকলো।
২৪. ২৩ শে মে, ২০০৯ রাত ৯:৩৩
মাসুদুল হক বলেছেন: @নাস্তিকের ধর্মকথা ,
কমেন্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ। আসলে এর আগের কমেন্টের জবাবে আমিও বেশ ইনফরমাল জবাব দিয়েছি।আশা থাকল মনক্ষুন্ন হন নি।
আমিও নিজেও সময়ের খুব কাঙাল।সপ্তাহে ব্লগে দু তিন ঘন্টা সময় দেয়াটাই আমার জন্য অনেক কঠিন হয়ে যাচ্ছে ইদানিং। তবে প্রয়োজনে সময় বের করার চেষ্টা নিশ্চয়ই করব।

তাহলে ধরে নিচ্ছি আউল বা রদ নিয়ে যে বহুল প্রচলিত ভুল ধারনা সেটা আপনার দূর হয়েছে,মৌনতাকে সম্মতি ধরে নিয়ে ( এ ব্যাপারে আপত্তি থাকলে প্লিজ জানান) তাহলে পরবর্তী টপিকে যেতে আমার আপত্তি নেই, তবে সেই পোষ্টের আগে আর একটা সংশ্লিষ্ট বিশেষ পোষ্ট দেবার ইচ্ছা আছে, তবে বুঝতে পারছি না কবে দিতে পারব। এছাড়া আরও অনেক বিষয় নিয়ে আপনার সাথে কথা বলার জন্য দারুন ইচ্ছা আছে। আর আপনার নতুন পোষ্টের অপেক্ষায় রইলাম।

আবারও ধন্যবাদ আপনাকে।

২৫. ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:০১
তরু বলেছেন: আলোচনা ভালো লাগছে।
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫২

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ তরু ।

২৬. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪০
পদ্মাচরের লাঠিয়াল বলেছেন: কেউ মৃত্যুর আগে উইল করে তার সম্পত্তি স্ত্রী, ছেলে, মেয়ের মাঝে সমান ভাবে ভাগ করে দিতে চাইলে(অন্যান্য আত্মীয়েরা সবাই স্বচ্ছল) ইসলাম তা সমর্থন করে কি??
১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৪৪

লেখক বলেছেন: ইসলামে উইলের ধারনা একটু ভিন্ন ধরনের, সাধারণত যারা উত্তরাধীকারী তাদের নামে উইল করা বৈধ নয়। আর মোট সম্পত্তির কেবল এক তৃতীয়াশের জন্য উইল করা যায়।


আর বাকীরা স্বচ্ছল হলে যিনি বা যারা অস্বচ্ছল তাকে বাকীরা নিজ অংশ দিয়ে দিতে পারেন সম্পত্তি বন্টনের পর।


অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

২৭. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৮
হট্টেগাল বলেছেন: সাবাস মাসুদুল, চালায়া যান। ভালো হচ্ছে। :)
১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১২

লেখক বলেছেন: আরে হট্টগোল যে, ব্লগে দেখে ভালো লাগলো। :)

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

০৫ ই আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১২:০২

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে!

৩০. ০৫ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:৩৩
অভয়ারণ্য বলেছেন: মারাত্মক কাজের পোস্ট। +
০৫ ই আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১২:০৪

লেখক বলেছেন: আপনার সামান্য কাজে লাগলেও আমার পোষ্ট সার্থক নিশ্চয়ই , ধন্যবাদ।

০৫ ই আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১২:০৫

লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

৩২. ২০ শে অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৫
আ শী ষ বলেছেন: সম্পত্তির সুষম বণ্টন চাই। সেটা যেভাবেই হোক।
৩৩. ১৩ ই মার্চ, ২০১১ বিকাল ৫:৩০
সোজা সাপটা বলেছেন: বিয়াপক ইনফরমেটিভ ।অনেক খানি পড়ে মনে হলো ইসলাম সমপর্কে অনেক জানার আছে।
আপনি চালিয়ে যান।
৩৪. ১৬ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৫৪
Abdullah Arif Muslim বলেছেন: ভাই অসংখ্য ধন্যবাদ। নাস্তিকদের লিডারকে যেই ধোলাই দিলেন, আপনাকে এর বিনিময়ে আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আমীন।
৩৫. ২৩ শে মে, ২০১১ দুপুর ২:১৯
কাকপাখি ২ বলেছেন: +++++++++++++++

আল্লাহ তায়ালা আপনার এলেম আরো বৃদ্ধি করে দিন।

যাযাকাল্লাহ।
৩৬. ০২ রা জুলাই, ২০১১ সকাল ১১:৩৪
SAlamrocks বলেছেন: আমি খুব বেশি বুঝি না তবে আমার কথা হল আল্লাহ আমাকে কুরান যে সম্পত্তি দিয়েছে তার চেয়ে কম নেব কেন। কুরান আমাকে ১/৬ অংশ দিলে হাদিস বা অন্য কোন আইন দ্বারা আমি কম নেব কেন। আর যদি কুরানের আইন রদ করে কম নিতে হয় তা হলে আর একটু পরিবর্তন করে নারি পুরুষ সমান অধিকার দিলে ক্ষতি কি। পরিবর্তন করতে হলে ভাল ভাবে করে আধুনিক সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে করতে হবে। কন্যা সন্তান রেখে মারা গেলে পিতার সম্পত্তিতে চাচাতো ভাই অংশ পাবে এটার জন্য বাবা মৃত্যুর আগে সম্পত্তি লিখে দেয় মেয়ের নামে যা পরবর্তিতে সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করে যা কোন অবস্থায় মেনে নেওয়া যায় না। ইজমা কিয়াস দ্বারা পরিবর্তন করতে হলে ন্যায়ের ভিত্তিতে করুন নাম মাত্র করে লাভ নেই। বলতে পারেন সরকার করছেনা কেন সেটা তো পরিস্কার কারন ভোট যা কোন দল নষ্ট করতে চাই না। সব ভন্ড।
৩৭. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:৫৬
কখঅআ বলেছেন: মাসুদুল হক ভাই, আপনার পরিশ্রমের উত্তম প্রতিদানের জন্য দোয়া করছি-

অনুহ্রহকরে উত্তর দিলে আমার কিছু কন্ফিউশন দূর হবে এবং খুশি হব-

একজন তালাক প্রাপ্ত নিঃসন্তান মহিলার আপন ভাই ১ জন, (একজন পিতা, ভিন্ন মাতা এবং পিতা-মাতা সবাই মৃত) সৎ ভাই ২ জন এবং সৎ বোন ৩ জন। তার পৈত্রিকভাবে প্রাপ্ত সম্পদ ২,০০,০০০ টাকা এবং নিজের (চাকুরী করে) অর্জিত সম্পদ ৪,০০,০০০ টাকা হলে, তার মৃত্যুর পর সেই সম্পদ কিভাবে বন্টিত হবে?
তার নিজস্ব অর্জিত সম্পদ কি তিনি নিজের ইচ্ছেমত বন্টন বা দান করতে পারবেন?
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১০:২৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে, এই মুহূর্তে এ সংক্রান্ত বই-পত্র গুলো আমার হাতের কাছে নেই। তাই আমার দেয়া সমাধানটা অনুরোধ করবো, বিশেষজ্ঞ কারো সাথে যদি সম্ভব হয় মিলিয়ে নেবেন বন্টন করার আগে।

> এখানে যেহেতু একজন সহোদর আপন ভাই আছে, সেহেতু সৎ বোনেরা কোন অংশ পায় না, তার মানে সৎ ভাইরাও কোন অংশ পায় না। আপন ভাই শুধুমাত্র ইচ্ছা করলে সৎ বোনদের কিছু অংশ দিতে পারেন। তারমানে দাঁড়াচ্ছে আপন ভাই মহিলার সমস্ত সম্পত্তি পাবেন।

> বলেছেন, নিজস্ব অর্জিত সম্পদ কি তিনি নিজের ইচ্ছেমত বন্টন বা দান করতে পারবেন?
জীবিত থাকাকালীন তিনি কোথায় কার জন্য খরচ করবেন এটা তাঁর নিজস্ব ব্যাপার। এর সাথে এই হিসাবের কোন মিল নেই। তবে তিনি যদি উইল করতে চান কারো নামে, সেক্ষেত্রে তার মোট সম্পত্তি এক-তৃতীয়াংশ সর্ব্বোচ্চ উইল করতে পারবেন।

এ ধরনের হিসাবের জন্য এখন অবশ্য সফটঅয়্যারই আছে, যেহেতু ইনহেরিটেন্স এর পুরো হিসাবটা নিখুঁত গাণিতিক ব্যাপার তাই ম্যাথমেটিক্যাল রুলসের ভিতরেই হিসাবটা করা যায়, এই সফটঅয়্যারটা দেখতে পারেন - ভবিষ্যতে যেকোন এ ধরনের হিসাব করার জন্য http://www.islamicsoftware.org/irth/irth.html

৩৮. ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৫৭
কখঅআ বলেছেন: জীবিত থাকাকালীন তিনি কোথায় কার জন্য খরচ করবেন এটা তাঁর নিজস্ব ব্যাপার। এর সাথে এই হিসাবের কোন মিল নেই। তবে তিনি যদি উইল করতে চান কারো নামে, সেক্ষেত্রে তার মোট সম্পত্তি এক-তৃতীয়াংশ সর্ব্বোচ্চ উইল করতে পারবেন।

তার মানে কি জীবিত থাকাকালীন তিনি ইচ্ছেমত খরচ বা দান করতে পারবেন?
কিন্তু তিনি উইল না করেই যদি পুরো টাকাটা দুস্থ- পিড়ীত মানুষের সাহায্যার্থে খরচ বা দান করতে চান, তাহলে কি পারবেন?

ভাই আরেকটু বিরক্ত করব। আপনার সাথে আলোচনা করলে অনেক কিছু জানতে পারব। তাই যদি কিছু মনে না করেন-

সূরা আন নিসা ( মদীনায় অবতীর্ণ )
(০৪:১১) আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আদেশ করেনঃ একজন পুরুষের অংশ দু'জন নারীর অংশের সমান। অতঃপর যদি শুধু নারীই হয় দু' এর অধিক, তবে তাদের জন্যে ঐ মালের তিন ভাগের দুই ভাগ যা ত্যাগ করে মরে এবং যদি একজনই হয়, তবে তার জন্যে অর্ধেক। মৃতের পিতা-মাতার মধ্য থেকে প্রত্যেকের জন্যে ত্যাজ্য সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ, যদি মৃতের ( وَلَدٌ ) পুত্র থাকে। যদি ( وَلَدٌ ) পুত্র না থাকে এবং তবে মাতা পাবে তিন ভাগের এক ভাগ। অতঃপর যদি মৃতের কয়েকজন ভাই থাকে, তবে তার মাতা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ ওছিয়্যতের পর, যা করে মরেছে কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে তোমাদের জন্যে অধিক উপকারী তোমরা জান না। এটা আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত অংশ নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, রহস্যবিদ।

(০৪;১১) নং আয়াতে আন্ডারলাইনকৃত স্থানে 'পুত্রের' স্থলে অন্যান্য অনুবাদে 'সন্তান' লেখা আছে- কেন?

(০৪:১২) আর, তোমাদের হবে অর্ধেক সম্পত্তি, যা ছেড়ে যায় তোমাদের স্ত্রীরা যদি তাদের কোন ( وَلَدٌ ) সন্তান না থাকে। যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তোমাদের হবে এক-চতুর্থাংশ ঐ সম্পত্তির, যা তারা ছেড়ে যায়; ওছিয়্যতের পর, যা তারা করে এবং ঋণ পরিশোধের পর। স্ত্রীদের জন্যে এক-চতুর্থাংশ হবে ঐ সম্পত্তির, যা তোমরা ছেড়ে যাও যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের জন্যে হবে ঐ সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ, যা তোমরা ছেড়ে যাও ওছিয়্যতের পর, যা তোমরা কর এবং ঋণ পরিশোধের পর। ( যে পুরুষের, ত্যাজ্য সম্পত্তি, তার যদি পিতা-পুত্র কিংবা স্ত্রী না থাকে এবং এই মৃতের এক ভাই কিংবা এক বোন থাকে, তবে উভয়ের প্রত্যেকে ছয়-ভাগের এক পাবে। আর যদি ততোধিক থাকে, তবে তারা এক তৃতীয়াংশ অংশীদার হবে ওছিয়্যতের পর, যা করা হয় অথবা ঋণের পর এমতাবস্থায় যে, অপরের ক্ষতি না করে। এ বিধান আল্লাহর। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।)

সুতরাং এ থেকে কি এটাই বোঝা যায় না যে, দুই কন্যা থাকলে কন্যারা পাবে ২/৩ ভাগ, মা পাবেন ১/৩ ভাগ (মৃতের যদি ভাই না থাকে),
তাহলে স্ত্রী কেমন করে ১/৪ বা ১/৮ ভাগ পাবেন?
তাছাড়া এর মানে কি এই বোঝায় না যে, পুত্র না থাকলে তার পিতা তার জন্য নির্দিষ্ট ১/৬ ভাগ নয়, বরং কম বা বেশি বা নাও পেতে পারেন?

(০৪:১৭৬) মানুষ আপনার নিকট ফতোয়া জানতে চায় অতএব, আপনি বলে দিন, আল্লাহ তোমাদিগকে কালালাহ এর মীরাস সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নির্দেশ বাতলে দিচ্ছেন, যদি কোন পুরুষ মারা যায় এবং তার কোন ( وَلَدٌ ) সন্তানাদি না থাকে এবং এক বোন থাকে, তবে সে পাবে তার পরিত্যাক্ত সম্পত্তির অর্ধেক অংশ এবং সে যদি নিঃসন্তান হয়, তবে তার ভাই তার উত্তরাধিকারী হবে। তা দুই বোন থাকলে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই তৃতীয়াংশ। পক্ষান্তরে যদি ভাই ও বোন উভয়ই থাকে, তবে একজন পুরুষের অংশ দুজন নারীর সমান। তোমরা বিভ্রান্ত হবে আল্লাহ তোমাদিগকে সুস্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন। আর আল্লাহ হচ্ছেন সর্ব বিষয়ে পরিজ্ঞাত।

( وَلَدٌ ) শব্দটির অর্থ বিভিন্ন অভিধানে পেলাম- ছেলে, পুত্র
তাহলে (০৪:১২) ও (০৪:১৭৬) নং আয়াতে ( وَلَدٌ ) এর অর্থ 'সন্তান' (পুত্র ও কন্যা) করা হলো কেন?

(০৪:১২) নং আয়াতের ব্রাকেটের মধ্যকার শেষের অংশ এবং (০৪:১৭৬) নং আয়াতের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্যটা একটু বুঝিয়ে দেবেন কি?

কারো মৃত্যুর পর তার নাবলক সন্তান কি তার পৈত্রিক সম্পত্তির অংশের উত্তরাধিকারী হতে পারবে? না পরলে কেন?
কারো মৃত্যুর পর তার নাবলক সন্তান কি তার নিজস্ব অর্জিত সম্পত্তির অংশের উত্তরাধিকারী হতে পারবে? না পরলে কেন?
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১:২৫

লেখক বলেছেন: আপনার প্রশ্নগুলোর জন্য ধন্যবাদ ভাই।
আমার সাথে আলোচনায় অনেক কিছু জানতে পারবেন-এমন মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ, তবে একটু ডিসক্লেইমার দিয়ে রাখি- আসলে আমি মোটেও এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নই। তবে অনেকদিন মীরাস সংক্রান্ত বই-পত্র পড়েছি, যার অনেক ডিটেইলস এই মুহূর্তে আমার মনে নেই এবং বই পত্রগুলো আমি ছুটিতে থাকায় আমার সাথে নেই।
আমি আপনার প্রশ্নগুলো উত্তরগুলো একটু শিওর হয়ে কয়েকদিন পর দিচ্ছি।

ভালো থাকুন।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০২৭২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ফেসবুক: www.facebook.com/masshood

অনুমতি ব্যতীত এই ব্লগের কোন লেখা অন্যকোথাও দেয়া যাবে না (c)

shondhitsu@জিমেইল.কম
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ