মিডিয়া জনমানুষের মুক্তির লড়াইয়ে সহগামী। নব্বুইয়ের গণ আন্দোলনে,জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কিংবা ১/১১ সরকারকে নির্বাচনের অঙ্গীকারে ফিরিয়ে আনতে মিডিয়া অবিসংবাদিত ভূমিকা রেখেছে বাধার পাহাড়-প্রাচীর ঠেলে।
তবে প্রাইভেট রেডিও-টেলিভিশনের বুমের যুগে টিকে থাকার লড়াইয়ে মিডিয়া বাংলাছবির উত্তেজনা অনুসরণ করে চলেছে বলা বাহুল্য। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে শিশুদের সামনে অবিরাম পুড়ে যাওয়া বা রক্তমাখা মৃতদেহ আর টেন্ডার সন্ত্রাসীদের ক্যানিবালিজম দেখিয়ে চলেছে।
আমজনতার গুজব আর বিনোদন প্রিয়তাই আজকের সংবাদ উপস্থাপনাকে নাটকীয় এবং চলচ্চিত্রায়িত করতে বসেছে।মানুষকে তথ্যবিনোদন দিতে গিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে সংবাদের সততা। এংলিং,চমক আর টি আর পির লোভে দিশেহারা মিডিয়া এখন প্যানিক উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছে। ভয় ছড়ানো ভ্যাম্পায়ার মুভি বা মার্ডার মিস্ট্রির ব্যকরণ এখন সংবাদের ভেতরে বাইরে। কী করলে আমজনতাকে তার চ্যানেলে পেভিকল দিয়ে আটকে রাখা যায়। অন্যদিকে বিজ্ঞাপন নির্মাতারা দশ-তিরিশ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনে তাক লাগিয়ে দিয়ে শিশুদের মনোযোগ নিম্নতম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ফলে মিডিয়া রোগীদর্শক ধরে রাখতে গুজব-ভয়-ভীতি স্পেকুলেশনের ঐন্দ্রজাল তৈরী করতে ব্যর্থ হয়ে ব্যবসায় ফেল মেরেছে।ফলে মরিয়া হয়ে প্যানিক উদ্যোক্তার কাজটি করে চলেছে।
এই কাজটি গ্লোবাল মিডিয়ায় অনাদিকাল ধরে চলছে। সিএনএন-বিবিসি কাজটি দক্ষতার সঙ্গে করে।আমাদের দক্ষতা আমাদের পর্যায়ে ফলে ব্যবসা হয়,ব্যবসা টেকে না দুর্নীতি ছাড়া।
তবে বাংলাদেশ মিডিয়া এই মুহূর্তে সত্য প্রকাশে ঋজু,কিন্তু ফুটেজ প্রদর্শনে কৌশলী নয়।বাস্তব পরিস্থিতি যদি সংবাদ ব্যকরণের বাইরে ফুটেজ প্রচারে বাধ্য করে তাহলে শিশু ও অসুস্থ বয়েসীদের জন্য ফুটেজ এলার্ট থাকা জরুরী। নইলে সেটা মাংসের কারবার হয়,দর্শক শিশুমননে ক্যানিবালিজমের চিহ্ন গেথে দেবার অপরাধ,কুরবানী ঈদের সময় আমরা আমাদের বাচ্চাদের পশুহত্যার নারকীয় দৃশ্য দেখিয়ে ইসলামে হিংস্রতার প্রতীক গেথে দিই আমাদের পরের প্রজন্মের মনে। হিন্দুধর্মেও পশুবলির সময় শিশুর চোখ ঢেকে রাখার বা ওদের অকুস্থলে না আনার সচেতনতা কজন অভিভাবক দেখান জানিনা।
মিডিয়ার কাজ কি তবে প্যানিকের সঙ্গে প্যানিক জোড়া লাগানো। পাবনা,নাটোর,সিরাজগঞ্জ,দ্য মেন্টাল হসপিটাল,দ্য কিলিং অন ক্যমেরা,দ্য বার্ণিং ট্রেনের তিনটি বীভতস ছবির মালমশলা দিয়েছে,এর মধ্যে দি কমেডিয়ানদের এক এগারো ভূমিকা নিয়ে ডেটলাইন কলতলা ক্যাচালের ফলো আপ ঝাঝর বনাম ঝাঝর।
দ্য মেন্টাল হস্পিটালের ডিসি কেষ্টা বেটাই চোর হয়ে শাস্তিমূলক পদায়নে বা পলায়নে,রাজনৈতিক মানসিক রোগীরা হাসিনা কে হাসির পাত্র করে চলেছে।
নাটোরের কিলিং অন ক্যামেরা বিএনপির হাতে একটি আওয়ামী সহিংসতার ফুটেজ দিয়েছে।ওটা নিয়ে তারা খোদার ঘরে বিচার দিয়েছে। খোদা বসে একুশে অগাস্টের ফুটেজ দেখছিলেন। তাই পাত্তা দিলেন না। বিএনপির মূল্যবোধ অবিসংবাদিত।
সুতরাং সিরাজগঞ্জের দ্য বার্ণিং ট্রেন। ম্যাডামের পায়ে ব্যথা তাই রানওয়ে,বাসস্ট্যান্ড,রেললাইন সংলগ্ন জায়গায় জনসভা করছেন। সুতরাং ট্রেনে কেটে মারা পড়লো কিছু বাংগীজনতা। দোষ হলো পেপে জনতার।বাংগী আর পেপেজনতার লাশের সওদা করেই আমরা তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুইও নয়নের জলে।
এই প্যানিকের ফুটেজগুলো জোড়া লাগে এডিটিং প্যানেলে। তরুণ রিপোর্টার রক্ত-অশ্রু-আগুণের মন্তাজে অনবদ্য প্যাকেজ বানিয়ে পরিচিত হয়,ইন্টারভিউ পার্টনারের কান্না হেড অব দ্য নিউজ পছন্দ করেন। এনএলই জানে কীভাবে শিহরণ জাগানো যায় দর্শক মনে।পুরোটাই ব্যবসার কৌশল।
আর সম্পাদকদের ফুটেজ লাগেনা। লাশ পড়লেই বিদেশী মিডিয়ার ফোন আসে। ক্রাইম রিপোর্টার ফাইভ ডব্লিউ ওয়ান এইচের মেডিজি ফরোয়ার্ড করে।সম্পাদক লাশ থেকে ভূরাজনীতি তিনমিনিটে কামিয়ে ফেলেন একশো ডলার। তারপর কফিতে চুমুক দিতে দিতে সম্পাদকীয় হয়ে যাওয়া।
আসলে তিনি প্যানিকের কারবারী।তিনি জানেন লাশ আর আগুনের পরে সাকা চোধুরী, আশরাফ বনাম মাহবুব,একএগারোর কবির লড়াই। সংবিধান সংশোধনীর প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে হতাশা তৈরী।৭২এর সংবিধানে ফিরে গেলেন মোল্লাদের ভয় পেয়ে বিসমিল্লাহ-রাষ্ট্রীয় ধর্মকে অক্ষুণ্ণ রেখে।ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহারে আপত্তি আমজনতার আছে কীনা একটা গণভোট করলেই জবাব পাওয়া যেত। বার্ধক্যজনিত মৃত্যুভয় ও মওলানাদের দেখানো দোজখ জুজুর ভয়ে হাসিনা প্রজন্ম পিছিয়ে গেলেন তাদের সেক্যুলার ঋজুতা থেকে। সুতরাং মিডিয়া কাজ পেয়ে গেলো।
আরেক চমক আইনজ্ঞ রফিকুল। উনি টিরেসিয়াসের মতো কথা বলেন।সুতরাং টিভি লোগোগুলো অপেক্ষা করে আইনের দাদাভাইয়ের বেফাঁস মন্তব্যের দিকে।
এই অন্তহীন মিডিয়া প্যানিকের ল্যাবিরিন্থে ঘুরপাক খাচ্ছে সম্ভাবনাময় প্রজন্ম। মিডিয়া মুঘলেরা রাজনীতির পাত্রপাত্রীদের পেছনে ভয়্যার ক্যামেরা তাক করে প্যানিকের কারবার চালাচ্ছে।
আর সেই প্যানিকে কোন চ্যানেল কত গুলো মাছ ধরেছে তার কাল্পনিক পরীসংখ্যান হাতে নিয়ে মিডিয়ার মার্কেটিং ম্যানেজার মাধুকরীর বন্দোবস্ত করছেন।
তাই নিউজহোলিক না হয়ে মাথাটাকে ঠান্ডারাখার বুদ্ধিটা সবাই যে যার মতো রপ্ত করছে।শিশুদেরকে তাদের মনের জন্য ক্ষতিকর ফুটেজ থেকে দূরে রাখাটা এই মুহূর্তে বাবামা-অভিভাবকদের বড় কাজ আমাদের সুস্থ আগামী তৈরির প্রয়োজনে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



