somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কলিম শরাফীর সফল ইনিংস

০৩ রা নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলিম শরাফীর মৃত্যুসংবাদ প্রথমেই মনখারাপের,আমাদের সবার জন্য। কিন্তু কলিম শরাফী নিজে একটি সফল ইনিংস খেলে গ্রীণরুমে গেলেন। তাকে তো হাসিমুখ মনে হল।তার ভক্তেরা সারা গোলকে ছড়িয়ে। আমাদের গুরুদের গুরু কলিম শরাফী।সুতরাং এই শোকে ষাট বছরের সত্তর বছরের মানুষদের অনেকের জীবন থমকে গিয়েছিল।

কলিমভাইয়ের গেট ট্রাভেলিং শুরু হল। উনি ওইপাশে এখন আড্ডা জমাবেন শামসুর রাহমানদের সাথে।কারণ কলিম ভাইদের মতো মানুষেরা জীবনের অর্থটা যে ময়লা নোট নয় সেটা বুঝে গিয়েছিলেন শুরুতেই।

তাই সংগীত,প্রেম,দেশ,বাম ভাবনা আর মানুষের মধ্যে নিজেকে বিলীন করে,পার্থিব ভাবনায় নিজের অহমকে ম্লান না করে দার্শনিক রাজার জীবন কাটালেন কলিম শরাফী।

পাঞ্জাবী পাজামা আর চশমার অমল মানুষ তার সারাটি জীবন সত্য সুন্দরের মুক্তির যুদ্ধে কাটালেন।উনি রেডিওতে গান গাইতে এলে বেতার ভবনে দৌড়া দৌড়ি পড়ে যেত। উনি মন্ত্রী ছিলেন না, তার চেয়ে অনেক বড় কিছু ছিলেন হয়তো।বাদ্যযন্ত্রী থেকে মূখ্যপ্রযোজক সবাই পুলকিত। জীবন্ত কিংবদন্তী হলে তখন আর তার প্রটোকল লাগেনা।সবাই উন্মুখ থাকতো রেকর্ডিংএর আশে পাশে তার সঙ্গীত নিয়ে শিল্পী নিয়ে মজার মজার সব গল্প, তারপর সেই গল্পের শাখা প্রশাখা, উনি কোথাও বসে একটু চা খাবেন কিনা,যারা তাকে চেনেনা তারা চিনে নিতো, কারণ কেন ওই সুদর্শন প্রবীণকে ঘিরে এতো লোকজন।

রেকর্ডিং পরবর্তী আড্ডায়, কলিম ভাই ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ভাই হয়ে যান, আঞ্চলিক পরিচালক সাজাহান ফারুক ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র হয়ে যান। ফলে গল্প চলে যায় ষাটের দশকে। গেট ট্রাভেলিং।
গোটা দুনিয়ার তথ্য সরস গল্পের মাঝ দিয়ে পরিবেশনের ক্ষমতা কলিম শরাফীর প্রজন্মের কপিরাইট।
আমরা খুশওয়ান্ত সিং এর জোকস পড়ে ফরোয়ার্ড করি। আর কলিম শরাফীরা নিজেরাই একএকজন রসের আধার। গম্ভীর মুখে রস বিনিময়ের এই ধ্রুপদী স্কুলকে আমরা মিস করবো। ব্যাপারটা ব্যক্তিগত পর্যায়ে অতো বড় নয়। আমরা বিস্মৃতি প্রবণ। কিন্তু দেশ বা সমাজের জন্য তা একটি নক্ষত্রের পতন। চারপাশের ধেয়ে আসা অন্ধকারে যেসব বাতিঘর আমাদের পথ দেখিয়েছেন কলিম শরাফী তাদের একজন।

তার মৃত্যুতে সাফল্যের সংগা নির্ধারণ বেশ সহজ হয়ে গেল। কলিম শরাফী মোহরের পিছে না ছুটে সুন্দরের পিছে ছুটেছিলেন,ক্ষমতার গজদন্ত মিনারে চড়েননি, বরং সততার ক্ষমতা পরখ করেছেন প্রতিনিয়ত। আমার চক্ষু নাই, কলিম শরাফীর গানের পরতে পরতে আবহমান বাঙ্গালীর বেদনার উপকথা আর কোন আশ্রয় না পেয়ে পথের কাছেই তার অভিযোগ জানায়। কলিম শরাফীরা ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ থেকে আজ অব্দি পথেই আছেন মুক্তির গণসংগীত নিয়ে।

আজকের ক্ষমতা নির্ভর সমাজে ব্যর্থ রাজনৈতিক নেতা,আমলা,সেনা কর্মকর্তা,ব্যবসায়ী মারা গেলে শোকের সুনামী বয়ে যায়। ধীরে ধীরে গোল্ড ফিসের মেমোরীর আমজনতা ভুলে যায়। দোষ তাদের নয়, হুজুরেরা এমন কিছু করেননি আখের গুছানো ছাড়া। নষ্ট লোকেরাও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পায়। যে লোক বিউগল বাজায় তার গলা শুকিয়ে যায় আখেরুদ্দীনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিউগলে বিহবল হতে।
আর কলিম শরাফী জন্য বিউগল বাজাতে গিয়ে তা বাংলাদেশের পথে পথে মুক্তির গান ছড়িয়ে দেবার আনন্দ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে গুণী মানুষদের রাষ্ট্র সম্মান জানায়।তালিবান পন্থী সরকার থাকলে সেক্যুলার বাতিঘরদের কাফের ভেবে বিউগল বাজানো হয়না।

অবশ্য রাষ্ট্র বিউগল বাজালো কিনা তাতে কলিম শরাফীদের কিছু এসে যায়না। প্যারাডাইস ক্লাবে তাদের বিউগল বাজাতে উন্মুখ থাকেন খান আতার ব্যান্ড গ্রুপ। এইসব নক্ষত্রেরা চেয়েছেন একটা মুক্ত মানচিত্র,সন্তানের দুধ ভাত,অঋণী-অপ্রবাসী জীবন। এটা কলিম শরাফী স্কুলের সুখের সংগা।
নিজের জন্য কলিম শরাফীরা বিউগল কেন কিছুই চান না। চান এই দেশটার জন্য।

উনারা চান জনমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক, এই লড়াইএ তারা নিরলস।এই জেনারেশন কে মন খারাপ করতে দেখিনি। হলেও প্রকাশ করতে দেখিনি। কারণ কলিম শারাফীরা প্রমিথিউসের মতো আগুণ ছড়িয়ে যান। তার মৃত্যু সংবাদে বাংলাভাষী গোলকে আগুণ জলে উঠেছে। কারণ উনি ঢাকা সহ সারাদেশের মঞ্চে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা জাগানিয়া শব্দ আর সুর ছড়িয়েছেন। সেটা ছিল উত্তর প্রজন্মের জন্য ড্রিম ইনসেপশন। দার্শনিক রাজারা হালের মন্ত্রী বা বিরোধী ফ্রাঙ্কেস্টাইনদের মতো সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে ঘোরেন না। এরা একা পথ চলতেই ভালোবাসেন। কারণ উনি জানেন কোথায় কোথায় চেতনার আগুণ পুঁতেছেন।আমরা সম্ভবত টের পাচ্ছি। যেভাবে রাষ্ট্রের বেসুরো গান বাজছে তাতে আর চলবে না। কলিম শরাফীর সুর চাই রাষ্ট্র যন্ত্রে। শুধু বিউগল বাজিয়ে বিরাট কিছু করেনি রাষ্ট্র। কলিম শরাফীর আগুণের উচ্চতা বুঝতে বরং আরেক বার স্কুলে ভর্তি হতে পারি আমরা।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×