প্যাভলভ তার পরীক্ষায় দেখিয়েছেন কিভাবে একটি সারমেয়কে ঘণ্টা বাজিয়ে খাবার দিলে একসময় খাবার না দিয়ে ঘণ্টা বাজালেই সারমেয়র খাবারের লোভে লালা নিসরণ শুরু হয়।এই প্রবণতা আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির প্রতিশোধের লালার সঙ্গে অনায়াসে তুলনীয়।
অর্থাৎ বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে শেখ হাসিনাকে পৃথিবীছাড়া করতে চেষ্টা করে,আওয়ামী লীগ ক্ষমতা দেখিয়ে খালেদাকে বাড়ি ছাড়া করে দেখিয়ে দিল, ক্ষমতার ঘণ্টার শব্দে প্রতিহিংসার লালানিসরণ কাকে বলে,কত প্রকার ও কী কী।
খালেদা জিয়াই বা একজন রাজনীতিবিদ কিভাবে এতোদিন ক্যান্টনমেন্টে বসবাস করলেন। জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যথেষ্ট সম্মান পেয়েছেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে সংসদ ভবনের পাশে সমাধি পেয়েছেন। উনি সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হলে, খালেদা জিয়া একটার পর একটা বাড়ি নিতে থাকলেন রাষ্ট্রের কাছ থেকে। উনি নিজে কিছুই করলেন না, হাজব্যান্ডের ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী হলেন,রাজনীতিতে জড়িয়ে তারেক-কোকোর পড়ালেখার দিকে নজর দিলেন না, শুধু ক্ষমতা,বাড়ী আর মিডিয়াজেনিক মেক আপ। দক্ষিণ এশিয়ার নারীদের বাবার বা হাজব্যান্ডের সম্পদে পোদ্দারী করার যে প্রবণতা তা ইন্দিরা গান্ধী,শেখ হাসিনা,বেনজীর ভুট্টো,মানেকা গান্ধী,খালেদা জিয়া সবার মধ্যেই দেখা গেছে।
উল্লিখিত নারীদের মধ্যে শেখ হাসিনা বাবার লিগ্যাসী আর হাজব্যান্ডের সুধাসদন দুটোই করায়ত্ত করেছেন। ইতালীর মেয়ে সোনিয়া গান্ধীর কোন পোদ্দারী দেখিনি। মিশেল ওবামা হোয়াইট হাউজের বাগানে নিজ হাতে সবজি চাষ করে রিসেশন পাড়ি দিলেন। গরীব ওবামার পাতে একটু সবজি তুলে দিতে মিশেলের এই উদ্যোগ বাংলা ছবির শাবানার মতো পতিব্রতী।
অন্যদিকে খালেদা জিয়া বাড়ির ব্যথা ভুলতে পারছেননা।এতো মেটেরিয়ালিস্টিক হলে কি চলে,শেষ পর্যন্ত আমাদের আমজনতার জন্য তিন হাত কবর,খালেদা জিয়ার জন্য তিন বিঘা মাজার,তাই কী হবে এই ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি দিয়ে।
আওয়ামী লীগের অন্যের ভিটায় ঘুঘু চরানো ভিলেজ পলিটিক্স শুরু থেকেই। বিএনপি অন্যের ভিটায় গ্রেণেড ও বাংলা ভাই চরিয়েছে। সেটি বিএনপির তালিবান পলিটিক্সের শিক্ষা। দুই দলের মামুদের দড়ি টানাটানি চেয়ারে বসে দেখেন দুই আফা আর হাততালি দেন। এই দড়ি টানাটানি একসময় নরমুন্ডু নিয়ে ফুটবল করে আয়োজন।
আজ ঢাকার মাঠে সেই ফুটবল খেলা। অনেক দিন পর আবার মাংসের গন্ধ পাই। মফিজ-বাচ্চু-মোখলেচ যত সব আমের বাচ্চা যেকোন দুটো ঝরে যেতে পারে, টিভি ফুটেজে বিএনপিকর্মী নাকে তুলা দেয়া মৃতদেহ দেখার অপেক্ষায় মওদুদ মামুরা। এরা বাবু কালচারের লোক, অন দ্য রকস শিভাস খেতে খেতে উদবাস্তু ম্যাডামের শোকে ডুকরে কেঁদে উঠছেন। এরশাদের জন্য কেদেছেন মওদুদ। বিরোধী দলে থাকলে কাঁদতে হয়,সরকারী দলে থাকলে কাঁদাতে হয়। বাংলাদেশ রাজনীতির কান্নাদেব মেরিল প্রথম আলো অভিনেতা পুরষ্কার নিশ্চিত করেছেন কয়েকঘন্টা কেঁদে
রাজনীতি মামুর কাজকর্ম কিছু নেই, বেশ কিছু রিটায়ার্ড প্রবীণের বিবর্ণ জীবনে একটু কৃত্রিম উত্তেজনা তৈরীর ওল্ড ক্যাফে আজকের রাজনীতি। এখানে রাজনীতির প্রাসাদে আমজনতা আসে হরতাল মৃগয়ায় নিহত নাকে তুলা দেয়া ইনসেটে বাচ্চুর ছবি হয়ে।
কোরবানী ঈদের আগে খালেদা কিছু বিএনপি ক্যাডার কোরবানি দিতে চাইছেন ভালো কথা। কিন্তু এই ফরজ পালন করতে গিয়ে গৃহমুখী মানুষকে কষ্ট দেয়ার এই পরিকল্পনা যার মাথা থেকে এসেছে তিনি বিএনপির শত্রু। অবশ্য আত্মকেন্দ্রিক বোকারা নিজেই নিজের সবচেয়ে বড় শত্রু।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বিএনপির বাচ্চু টোপ গিলে ফেলবে,বাচ্চুর লাশ বিএনপির বেশী প্রয়োজন। আওয়ামী লীগের মামুরা ম্যাডামকে উদবাস্তু হতে দেখে ভাবছে যাক বাবা ।একদল একদেশ আওয়ামী লীগের বাংলাদেশ ডিলিরিয়ামে টেন্ডারের ঢেঁকুর তুলছে আর হরতাল প্রতিহত নাটকের জন্য কাচ্চি বিরিয়ানী অর্ডার দিচ্ছে।
বিএনপির তরুণ নেতারা মাথা ফাটানোর হায় খালেদা হায় বাড়ি কারবালা থিয়েটারে ম্যডামের নজরে আসার চেষ্টা করবেন, হাসপাতালে আহত দুলু বা কুলুর পাশে খালেদা জিয়া,এই একটা ক্যাপশন কুলুকে বানাতে পারে খাম্বামন্ত্রী। ম্যাডাম ব্যারিস্টারদের নিয়ে বসে ম্যাটাডোরের ষাঁড়ের লড়াই দেখবেন। ম্যাডামের জন্য থাই হাউজ থেকে খাবার আসবে। চপস্টিক্স বনাম পুলিশের স্টিকস, মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে বেধড়ক মার, তরুণ বিএনপি সাংসদের ধোপদুরস্ত সাদা পাঞ্জাবী সালভাদার দালির চিত্র কলা হলে ম্যাডামের চোখে পড়বে সরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এই ছেলে ভালো হবে।
আর ইনসেটে বাচ্চুর ছবি। বাচ্চুর বাবা মা ভেবেছিল বাচ্চু সানগ্লাস চোখে সাফারী পরে বিএনপির নেতা হয়ে ফিরবে। কিন্তু এই হরতালে বাচ্চু কেবলি ইনসেটে ছবি হতে যাচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১০ রাত ৯:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



