নিজের মাকে সবাই ভালবাসে তাই নিজের মায়ের গুণগান আমি করবো না। আমার বন্ধুর মায়েদের কথা বলি। শৈশব স্মৃতি হাতড়ে আমার প্রত্যেক বন্ধু বান্ধবীর মাকে আমি দেবীর আসনে দেখতে পাই। মা ছিল মা-ই; আমার মা আর বন্ধুর মা সব মিলেমিশে একাকার। মায়ের পায়ের তলেই আমাদের বেহেশত বা হেভেন,আহারে জগত সংসার বিশশতকের মহা প্রয়ানে স্মরণযোগ্য মা আর খুঁজে পাবে না, এই বেদনায় ধরিত্রী আজ কারবালার প্রান্তর বা বিজ্ঞাপন ইলিউশনের কুরুক্ষেত্র।
আজকের পোস্ট মডার্ণ মায়েরা খুব ব্যস্ত। তাই বিজ্ঞাপন দেখে বড় হচ্ছে একবিংশের দেব শিশুরা। কথা শিখতে দেরী হচ্ছে, যা শিখছে তাও বাংলিশ কিচির মিচির। উত্তরাধুনিক মা বলছেন, বেঙ্গলি ইজ টাফ এন্ড হেকটিক, সবাইকে ব্র্যাডপিট অথবা এঞ্জেলিনা জোলির মত ইংরেজী বলতে হবে। ঢাকা ইজ আ বস্তি। সো ক্যানাডা এমিরিকায় গিয়ে ইংরেজী বলতে হবে। লেটস গো টু স্কলাসটিকা, মাস্টার মাইন্ড, আমাদের সমবয়েসী যারা ইংলিশ মিডিয়াম সিদ্দিকীজে পড়েছিল তারা এখন সব নাসায় রকেট চালাচ্ছে, মোস্ট সাকসেসফুল ড্রপ আউট অফ হার্ভার্ড বিল গেটসের চেয়েও সফল হয়েছে।সুতরাং বাদ দ্যাও খ্যাত ল্যাঙ্গুয়েজ বেঙ্গলি, লেটস লার্ণ আর্ণ এন্ড রক উইদ ইংলিশ।
ইংলিশ মিডিয়ামে ইংলিশ পড়াচ্ছেন যারা তারা ঢাবির ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের রদ্দি মাল। নইলে তাদের হাতে তৈরী এতো অগণিত অপদার্থ রিসেশনে ধরা খেয়ে ঢাকায় এসে হাসিনা মা-খালেদা আম্মির দরজায় ধর্ণা দেবেন কেন। এইখানে ড্যাড আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছিলেন। সেই কলাগাছ খেয়ে বড় হওয়া বার্গার হাতি বা হট ডগেরা এখন চেইঞ্জ চেইঞ্জ বলে মাতোয়ারা করছেন ঢাকা ওরফে ধাক্কার শহর।
আমাদের মায়েরা সব খ্যাত, ছেলে-মেয়ে-নাতি নাতকুরের জন্য চোখের পানি ফেলে অন্ধ হয়ে গেলেন, আর আজকের মাম্মিরা ছয় মাসের মেটার্নিটি লিভ পেয়ে ফেসবুকে ইউনাইটেড হসপিটালের পশ আতুড় ঘরের ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন করছেন, দ্যাট ওয়াজ দ্য বেস্ট মোমেন্টস অব মাই লাইফ। তারপর বাচ্চা মানুষ করার দায় নানুর ওরফে গ্র্যানির। দিদাকে ধারে কাছে ভিড়তে দেয়া যাবে না যদি বাংলা শিখে ফেলে, যদি বাপ-দাদার মত ইমোশনাল ফুল হয়। এমনকি অনেস্ট বা সৎ নানার লেজেন্ড নিয়ে এত বাড়াবাড়ির দরকার নাই, টুডেজ বেবি শুড বি আ বেবি মেড ফর ক্যাপিটালিজম।
এখন ভুরুঙ্গামারির সফল মফিজের বাচ্চা ঢাকার বইপুস্তক বর্জিত শোপিস যাদুঘর বা লিভিং রুমে বিজ্ঞাপন দেখে দেখে বাংলিশ শিখতে ব্যর্থ হলে বাচ্চার পরের ধনে পোদ্দারী খালা তাকে অটিস্টিক বলে চিহ্নিত করে। গোলকের বিশাল একটি বৃত্ত ফেসবুকের কল্যাণে তাকে পাগল বলে চিহ্নিত করে। আর ব্লগের তুলসীলিক্সের কইয়াদিমুরা সেই স্টোরী ব্রেক করে। অর্থাৎ দশ চক্রে ভগবান ভূত।
এরকম দুএকজন ডিফেমড বাচ্চাকে ঢাকার অসুস্থ কোলাহল থেকে সরিয়ে ব্যস্ত ঘড়ির কাঁটা থেমে যাওয়া ভুরুঙ্গামারীর সুস্থ কুঁড়ে ঘরে রাখার পর একবছরে যদি তাকে স্পষ্ট বাংলা-ইংরেজী আর ছবি আঁকা-গান বা বিতর্ক শিখিয়ে ফেলা যায় তখন পোদ্দারী খালা আর ব্লগের কইয়া দিমুরা কোথায় দাঁড়ান মানবাধিকার লংঘন ও কুতসা রচনার দায় এড়াতে।আইন কে নিজের হাতে তুলে নেবেন না, বাংলা ছবির রংধনু পুলিশ বৃষ্টি শেষে যখন বাণী চিরন্তণী নিয়ে হাজির, সুতরাং পোদ্দারী খালা বা তুলসী লিক্সের কইয়া দিমু ত্রয়কে আপাতত সুপারী দেয়া যাচ্ছেনা। তবে ধরিত্রী তাদের সুপারী দেবে, পোদ্দারী খালা কুতসার জননী নিজের সন্তানের কাছে প্রত্যাখাত হয়ে আজ একাকী, ব্লগের কইয়া দিমু রা বিদেশের চাকরী হারিয়ে ঢাকার ট্যাফিকে খাবি খাচ্ছে বা খাবে বা নুইয়র্কে ভিক্ষা করবে।
আর মাম্মি তখন অনেক দেরীতে হলেও বুঝবেন রবীন্দ্র সঙ্গীত বা লালন শুধু মাথা দুলানোর শোপিস নয়। খরগোস সমাজে কচ্ছপ ধর্ম প্রচারের পয়গম্বর ঐসব আলোর মানুষ। জননী জন্মভূমিশ্চ সর্গাদপী গরীয়সী না হতে পারলে ষোল আনাই মিছে, মাম্মি। প্লিজ ট্রাই টু রিড বিটুইন দ্য লাইন্স।
পুণশ্চঃ বাংলিশ ভাষায় পোস্ট রচনার দায় লেখকের নয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

