somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের মা বনাম পোস্টমডার্ণ মাম্মি

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের মায়েদের গুণগান করা ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ পোস্টমডার্ণ মাম্মিরা তাতে অসম্ভব বিরক্তি বোধ করেন। আমাদের মায়েরা অতিরিক্ত আদর দিয়ে আমাদের স্পয়েল করেছেন। তাই উত্তরাধুনিক মাম্মি বা বিজ্ঞাপনের আধুনিক মায়েরা এই লেখা পড়ে আমার ফেসবুক পুত্তলিকা দাহ করবেন নিশ্চিত। তবুও আজ লিখতেই হবে, কারণ আজকের বাচ্চাকাচ্চাদের হাল দেখে আমি বড়ই শংকিত। বাচ্চা মানুষ না হলে মুখে কুলুপ এঁটে নিজেকে ঢাকা সমাজে নিনকম্পুক ভদ্র লোক প্রমাণ করে কী লাভ। তাই ধরে নিন আমি খ্যাত তাই পোস্টমডার্ণ মাম্মিদের দুচোখে দেখতে পারিনা।

নিজের মাকে সবাই ভালবাসে তাই নিজের মায়ের গুণগান আমি করবো না। আমার বন্ধুর মায়েদের কথা বলি। শৈশব স্মৃতি হাতড়ে আমার প্রত্যেক বন্ধু বান্ধবীর মাকে আমি দেবীর আসনে দেখতে পাই। মা ছিল মা-ই; আমার মা আর বন্ধুর মা সব মিলেমিশে একাকার। মায়ের পায়ের তলেই আমাদের বেহেশত বা হেভেন,আহারে জগত সংসার বিশশতকের মহা প্রয়ানে স্মরণযোগ্য মা আর খুঁজে পাবে না, এই বেদনায় ধরিত্রী আজ কারবালার প্রান্তর বা বিজ্ঞাপন ইলিউশনের কুরুক্ষেত্র।

আজকের পোস্ট মডার্ণ মায়েরা খুব ব্যস্ত। তাই বিজ্ঞাপন দেখে বড় হচ্ছে একবিংশের দেব শিশুরা। কথা শিখতে দেরী হচ্ছে, যা শিখছে তাও বাংলিশ কিচির মিচির। উত্তরাধুনিক মা বলছেন, বেঙ্গলি ইজ টাফ এন্ড হেকটিক, সবাইকে ব্র্যাডপিট অথবা এঞ্জেলিনা জোলির মত ইংরেজী বলতে হবে। ঢাকা ইজ আ বস্তি। সো ক্যানাডা এমিরিকায় গিয়ে ইংরেজী বলতে হবে। লেটস গো টু স্কলাসটিকা, মাস্টার মাইন্ড, আমাদের সমবয়েসী যারা ইংলিশ মিডিয়াম সিদ্দিকীজে পড়েছিল তারা এখন সব নাসায় রকেট চালাচ্ছে, মোস্ট সাকসেসফুল ড্রপ আউট অফ হার্ভার্ড বিল গেটসের চেয়েও সফল হয়েছে।সুতরাং বাদ দ্যাও খ্যাত ল্যাঙ্গুয়েজ বেঙ্গলি, লেটস লার্ণ আর্ণ এন্ড রক উইদ ইংলিশ।

ইংলিশ মিডিয়ামে ইংলিশ পড়াচ্ছেন যারা তারা ঢাবির ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের রদ্দি মাল। নইলে তাদের হাতে তৈরী এতো অগণিত অপদার্থ রিসেশনে ধরা খেয়ে ঢাকায় এসে হাসিনা মা-খালেদা আম্মির দরজায় ধর্ণা দেবেন কেন। এইখানে ড্যাড আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছিলেন। সেই কলাগাছ খেয়ে বড় হওয়া বার্গার হাতি বা হট ডগেরা এখন চেইঞ্জ চেইঞ্জ বলে মাতোয়ারা করছেন ঢাকা ওরফে ধাক্কার শহর।

আমাদের মায়েরা সব খ্যাত, ছেলে-মেয়ে-নাতি নাতকুরের জন্য চোখের পানি ফেলে অন্ধ হয়ে গেলেন, আর আজকের মাম্মিরা ছয় মাসের মেটার্নিটি লিভ পেয়ে ফেসবুকে ইউনাইটেড হসপিটালের পশ আতুড় ঘরের ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন করছেন, দ্যাট ওয়াজ দ্য বেস্ট মোমেন্টস অব মাই লাইফ। তারপর বাচ্চা মানুষ করার দায় নানুর ওরফে গ্র্যানির। দিদাকে ধারে কাছে ভিড়তে দেয়া যাবে না যদি বাংলা শিখে ফেলে, যদি বাপ-দাদার মত ইমোশনাল ফুল হয়। এমনকি অনেস্ট বা সৎ নানার লেজেন্ড নিয়ে এত বাড়াবাড়ির দরকার নাই, টুডেজ বেবি শুড বি আ বেবি মেড ফর ক্যাপিটালিজম।

এখন ভুরুঙ্গামারির সফল মফিজের বাচ্চা ঢাকার বইপুস্তক বর্জিত শোপিস যাদুঘর বা লিভিং রুমে বিজ্ঞাপন দেখে দেখে বাংলিশ শিখতে ব্যর্থ হলে বাচ্চার পরের ধনে পোদ্দারী খালা তাকে অটিস্টিক বলে চিহ্নিত করে। গোলকের বিশাল একটি বৃত্ত ফেসবুকের কল্যাণে তাকে পাগল বলে চিহ্নিত করে। আর ব্লগের তুলসীলিক্সের কইয়াদিমুরা সেই স্টোরী ব্রেক করে। অর্থাৎ দশ চক্রে ভগবান ভূত।

এরকম দুএকজন ডিফেমড বাচ্চাকে ঢাকার অসুস্থ কোলাহল থেকে সরিয়ে ব্যস্ত ঘড়ির কাঁটা থেমে যাওয়া ভুরুঙ্গামারীর সুস্থ কুঁড়ে ঘরে রাখার পর একবছরে যদি তাকে স্পষ্ট বাংলা-ইংরেজী আর ছবি আঁকা-গান বা বিতর্ক শিখিয়ে ফেলা যায় তখন পোদ্দারী খালা আর ব্লগের কইয়া দিমুরা কোথায় দাঁড়ান মানবাধিকার লংঘন ও কুতসা রচনার দায় এড়াতে।আইন কে নিজের হাতে তুলে নেবেন না, বাংলা ছবির রংধনু পুলিশ বৃষ্টি শেষে যখন বাণী চিরন্তণী নিয়ে হাজির, সুতরাং পোদ্দারী খালা বা তুলসী লিক্সের কইয়া দিমু ত্রয়কে আপাতত সুপারী দেয়া যাচ্ছেনা। তবে ধরিত্রী তাদের সুপারী দেবে, পোদ্দারী খালা কুতসার জননী নিজের সন্তানের কাছে প্রত্যাখাত হয়ে আজ একাকী, ব্লগের কইয়া দিমু রা বিদেশের চাকরী হারিয়ে ঢাকার ট্যাফিকে খাবি খাচ্ছে বা খাবে বা নুইয়র্কে ভিক্ষা করবে।

আর মাম্মি তখন অনেক দেরীতে হলেও বুঝবেন রবীন্দ্র সঙ্গীত বা লালন শুধু মাথা দুলানোর শোপিস নয়। খরগোস সমাজে কচ্ছপ ধর্ম প্রচারের পয়গম্বর ঐসব আলোর মানুষ। জননী জন্মভূমিশ্চ সর্গাদপী গরীয়সী না হতে পারলে ষোল আনাই মিছে, মাম্মি। প্লিজ ট্রাই টু রিড বিটুইন দ্য লাইন্স।


পুণশ্চঃ বাংলিশ ভাষায় পোস্ট রচনার দায় লেখকের নয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১১ দুপুর ২:১০
১৮টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×