র্যাবের মুখপাত্র বলেছেন দশটা ভালো কাজ করতে গিয়ে একটা ভুল হতে পারে। তবে আওয়ামী লীগ জেনারেল তারেকের বক্তব্যকে ওন করেছে।সুতরাং ‘সন্ত্রাসী বাবার সন্ত্রাসী ছেলে’ লিমনের পায়ে র্যাবের লুতফরের গুলি করাটা নয়টা ভালো কাজের মধ্যে পড়ে গেছে। এখন লিমনের পুরো পরিবার বিষ খেয়ে হারিকিরির আকুতি জানিয়েছে।কিন্তু বিষ এতো সস্তা নয়। তিনটা রিপোর্ট লিমনকে সন্ত্রাসী হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। আর একটা রিপোর্ট এলেই র্যাবের ভালো কাজটি প্রমাণিত হবে। তখন পিঁপড়ের মতো পিষে মারা হবে এই ‘সন্ত্রাসী’ পরিবারটিকে।
র্যাবের মুখপাত্র বলেছেন র্যাবের মহাপরিচালকের বক্তব্য একটি সংবাদ পত্র বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে। র্যাবের মহাপরিচালক বলেছিলেন লিমন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী নয়। পত্রিকা লিখেছে লিমন সন্ত্রাসী নয়। যাই হোক দুর্ধর্ষ না হলেও র্যাবের গুলিতে লিমন পা হারিয়েছে। র্যাবের গুলিতে কুখ্যাত জঙ্গী বাংলাভাই প্রাণ হারায়নি। আইনী পথে তার ফাঁসি হয়েছে। লিমনের পা আইনী সুরক্ষা পায়নি। কারণ সে দুর্ধর্ষ নয়।
জেনারেল তারেক একটি পত্রিকার সম্পাদক লিমনকে ইস্যু বানানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন।ঐ সম্পাদকের বিরুদ্ধে জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।জেনারেল তারেক চাইলে তাকে গ্রেফতার করতে পারেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী চাইছেন না বলেই সেটা সম্ভব হচ্ছেনা।
তারেক নামটির প্রতি মিডিয়াভীতি গত বিএনপি-জামাত সরকার আমলে বহাল ছিল।আওয়ামী লীগের তারেক তার একটি প্রেস কনফারেন্সেই নতুন মিডিয়াভীতি মিশ্রিত সম্মান জাগ্রত করলেন।
তার মানে সম্পাদক বা সাংবাদিক হিসেবে জন্ম নিলে সারাজীবন নানারকম তারেকের ভয়ে জবুথবু হয়ে বাঁচতে হবে।আর বর্গাচাষী বা ফলদোকানীর ঘরে জন্মালে ‘সন্ত্রাসী’লিমন হয়ে পা হারিয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বিষ চাইতে হবে।জয় বাংলা বাংলার জয়।
একটি পত্রিকার সম্পাদকরাজ শক্তিশালী মানুষ। রাণীমাতা তাকে সহজে ঘাঁটাবেন না। কিন্তু লিমন যেহেতু বর্গাচাষীর বাচ্চা, তার পা কেটে ফেলা বা তার পরিবারকে পিঁপড়ের মতো পিষে ফেলতে র্যাবের একজন লুতফর বা ইনফরমার একজন মানিক সমাদ্দারের মতো দেশপ্রেমিকই যথেষ্ট।
সরকার কী ভয় পেয়েছে লিমন ইস্যুটিকে। ভেবেছে শুধু প্রথম আলোর রিপোর্টে আরব দুনিয়ার মতো আগুণ জলে উঠবে বাংলাদেশে। এটা প্যারানয়া।আড়াই বছর ক্ষমতায় থেকে দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেবার পর ফলদোকানের কর্মচারীর বাচ্চা ‘সন্ত্রাসী’ লিমনের কাটা পাটিকে ভয় পাবার কিছু নেই। লিমন যদি সত্যিই সন্ত্রাসী হয় জনগণ তা জানতে পারবে।কারণ সত্য অপ্রতিরোধ্য।আর লিমন যদি সন্ত্রাসী না হয়ে থাকে তাতে আপাতত কিছু হবে না। তবে এক সময় উলুখাগড়ার মায়েরা ব্যালট বাক্সে দুফোটা চোখের জল ফেলে আসবে। যে জলে আগুণ জলে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০১১ বিকাল ৩:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


