জামায়াতের চোখে বাংলাদেশ নদী নয়, চৌবাচ্চা
সাম্প্রতিক নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও নরসিংদীর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সমর্থিত কোনো প্রার্থীকে আমজনতা পছন্দ করেনি। তারা চেষ্টা করেছে অপেক্ষাকৃত সৎ প্রার্থীকে ভোট দিতে। চেষ্টা অনেকটা সফল হয়েছে। আসল ক্ষমতার মালিক আমজনতা, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই অচল সূত্রটি অন্তত সাম্প্রতিক তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সচল হয়েছে। কালো টাকা-পেশিশক্তি-দলীয় সমর্থন-ঢাকা থেকে যাওয়া রাজনীতিবিদদের শোডাউন_কোনো কিছুই কাজে আসেনি। ছোট ছোট শহরের চায়ের দোকানগুলো অ্যারিস্টটলের পাঠশালা হয়ে উঠেছে। আইভী-সাক্কু-কামরুজ্জামান কোনো দলীয় সমর্থন ছাড়াই বরং দলীয় অনেক বাধা-বিপত্তি ঠেলে গণতন্ত্রের বিজয় সূচিত করেছেন। গণতন্ত্রের সুফল সুদাসলে তুলে এনেছেন তিনটি ছোট শহরের আমজনতা।
খুব অবাক লেগেছে, বাংলাদেশ যখন সুগণতন্ত্র উদ্ধারের পথে প্রতিদিন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আবার কিছু ধর্মান্ধ সেনা কর্মকর্তা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমজনতার ভোটে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৎ ও গণতন্ত্রমনা সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মকর্তা এই কালো চেষ্টা রুখে দিয়েছেন। অতীতের মতো ঢাকঢাক গুড়গুড় না করে আন্তবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর সংবাদ সম্মেলন করে ধর্মান্ধ সেনা কর্মকর্তাদের এই জঙ্গিচেষ্টার খবর আমজনতাকে জানিয়ে দিয়েছে। কারণ পেশাদার এই সেনা কর্মকর্তারা জানেন আমজনতার শ্রমে ও ঘামে তাঁদের বেতন হয়। সুতরাং সেনাবাহিনীর ভেতরের কোনো দেশ বা আমজনতাবিরোধী খবর জানার অধিকার তো আমজনতার রয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গণতন্ত্র, আমজনতা আর বাংলাদেশের প্রতি শ্রদ্ধার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল তা তাদেরও শ্রদ্ধার পাত্র করেছে। একটি অশুভ চেষ্টা প্রতিহত করে সেনাবাহিনী আমজনতার খুব কাছে চলে এলো। এটা খুব জরুরি ছিল রাষ্ট্রিক ঐক্যের জন্য।
আমাদের এই রাষ্ট্রিক ঐক্যের পথে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বাধা ধর্মান্ধ গোষ্ঠী। সাম্প্রতিক সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টায় সেটা আরেকবার প্রমাণ হয়ে গেল। এই অভ্যুত্থানচেষ্টার হোতা পলাতক মেজর জিয়া একজন ধর্মান্ধ ব্যক্তি। সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কে মেজর জিয়া জিহাদের উসকানি দিয়েছেন। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহ্রীর মেজর জিয়ার ফেসবুকে ব্লগে ছেড়ে দেওয়া গুজব লিফলেট আকারে প্রকাশ করে আমজনতার মধ্যে বিতরণ করেছে।
বাংলাদেশের কয়েকটি টিভি-চ্যানেল ও অনলাইন পত্রিকা শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের সাক্ষাৎকার প্রচারের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ করে দেওয়ার পর সাদা দাড়ি-টুপি পরা ৮৯ বছর বয়সী বকধার্মিক লোকটি আমজনতার হৃদয় জয় করে নিয়েছেন_এ রকম একটি ইলিউশন তৈরি হয় যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থক শিবিরে। কিন্তু একাত্তরে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের দাগ যাঁর হাতে তাঁকে পরহেজগার নেকবান্দা ভাবার মতো নির্বোধের সংখ্যা হাতেগোনা। মেজর জিয়া সেই হাতেগোনা কয়েকজনের একজন।
তাই তিনি গোলাম আযমকে গ্রেপ্তারের আগেই সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে শরিয়াহ আইন প্রচলনের মনস্থির করেছিলেন। কিছু অনাবাসী ধর্মান্ধ টাকাওয়ালা বাংলাদেশি মেজর জিয়া অ্যান্ড গংকে কথিত অভ্যুত্থানের প্রণোদনা জুগিয়েছিলেন আরেক পঁচাত্তরের কালো বিপ্লবের হাতছানিতে।
গ্রিক চিন্তাবিদ হেরাক্লাইটাস বলেছেন, মানুষ একই স্রোতে দুইবার অবগাহন করতে পারে না। কিন্তু ধর্মান্ধ গোষ্ঠী বাংলাদেশকে হয়তো নদী না ভেবে চৌবাচ্চা ভাবে। চাইলেই যেন আবার পঁচাত্তরের স্রোতে আরেকবার গোসল করা যায়। এখানেই গণতন্ত্রমনা বুদ্ধিমান হেরাক্লাইটাসের সঙ্গে ধর্মান্ধ নির্বোধ মেজর জিয়ার মূল পার্থক্য।
দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী বাংলাদেশকে অন্ধকারের পথ থেকে আলোয় ফিরিয়ে এনেছে একটি ছোটখাটো কেমোথেরাপির মাধ্যমে। কিন্তু ধর্মান্ধতার যে ক্যান্সার তা তো রয়ে গেছে বাংলা মায়ের শরীরে। নরম ইসলামের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে ধর্ম ব্যবসার ও ধর্মান্ধ ক্যান্সারটির নাম জামায়াতে ইসলামী। ১৯৭১-এর আলবদর বহুদলীয় গণতন্ত্রের আলখাল্লা পরে জামায়াতে ইসলামী নামে ২০১১-এর ধর্মান্ধ মেজর জিয়ার মনে কট্টর ইসলামী বিপ্লবের জোশ জারিত করেছে।
এর আগে জামায়াতের রাজশাহীর এক পাতি নেতা 'পঁচাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠবে আরেকবার' এ ধরনের সদম্ভ উক্তির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এখন জেলহাজতে। বিএনপির রোডমার্চে এরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের এক দফা এক দাবি নিয়ে সক্রিয়। চট্টগ্রামের পলো গ্রাউন্ডে এরা রাষ্ট্রবিরোধী লিফলেটও বিতরণ করেছে। এর মানে ৪০ বছর বয়সী বাংলাদেশে প্রতিদিন এরা সক্রিয় গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। এর পেছনে রয়েছে বিপুল আর্থিক শক্তি। জামায়াতের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক মুনাফাই যেখানে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।
নব্বুইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মূল স্পিরিট ছিল বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং এর গুণগত মান অর্জনের পথটি দুর্গম অথচ আলোকসম্ভবা। কিন্তু জামায়াতের জঙ্গি তৎপরতা আল-কায়েদার মতোই বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে একটি প্রাত্যহিক হুমকির মধ্যে রেখেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা জেনেশুনে কেন এই কালসাপ পুষব? বাংলাদেশের আমজনতা কেন ভয়ে ভয়ে রাতে ঘুমাতে যাবে যে এই বুঝি সকালে উঠে রেডিওতে শুনবে আমি মেজর জিয়া বলছি, 'বাংলাদেশে শরিয়াহ বিপ্লব সফল হয়েছে।'
দেশের মানুষ এমনিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপে হাঁসফাঁস করছে, তার ওপর ধর্মান্ধ জঙ্গিদের উটকো ঝামেলা। এ থেকে আমরা মুক্তি চাই। জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সময় এসেছে। বাংলাদেশের শরীর থেকে জামায়াতের এই ক্যান্সার উৎপাটন করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালে জামায়াত তার সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। বিএনপি তার রাজনৈতিক ফায়দার জন্য জামায়াতের ক্রীড়নক হয়ে কাজ করছে। কিন্তু এখন আর বিষয়টা কেবল রাজনৈতিক নয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি জামায়াত বিষয়টা আওয়ামী লীগের দলীয়ভাবে মোকাবিলার নয়। বাংলাদেশের দলনিরপেক্ষ আমজনতার জীবন-মরণের লড়াই এই জামায়াত-ক্যান্সারের সঙ্গে। ক্ষমতাসীন সরকারকে বাংলাদেশের নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও গণতন্ত্রের সুস্থ বিকাশ অব্যাহত রাখতে এই জঙ্গি সংগঠনটিকে নির্মূল করতে হবে। দেশের মানুষ একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যেতে চায় উদয়াস্ত পরিশ্রমের পরে।
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই
আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।
তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৃঙ্খল মুক্তি আমার
শৃঙ্খল মুক্তি আমার

ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।