
আওয়ামী লীগ এমন একটা ফাঁদ পাতছিল যে জেতা ও হারার দুই ফলাফলই তার পাতে জুটবে। মাঝখানে ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা হবে বিএনপি।
যদিও অঙ্কের হিসাব ধরে আমরা বলছিলাম, ‘নারায়ণগঞ্জে গত তিন বছরে যে নিপীড়ন, সন্ত্রাস ও লুটপাট হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট দুই প্রার্থীর তুলনায় ভোটারদের পছন্দের প্রার্থী হওয়ার কথা বিএনপি সমর্থিত এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের। একই সাথে যদি ধরে নেই আওয়ামী লীগের বেহেশতি শাসনের কারণে নারায়ণগঞ্জে এখনও আওয়ামী লীগের ভোট বেশি তা ৫৫% এর বেশি হবে না। তাদের চেয়ে বড় জোর বিএনপির ১০% কম তথা ৪৫% হওয়ার কথা। এখন লীগের ৫৫% দুই ভাগ হওয়া সত্ত্বেও দলটি সংশ্লিষ্ট প্রার্থী কিভাবে একাট্টা ৪৫% ভোটঅলাকে হারিয়ে মেয়রর হন? আর মতলবি প্রতিবেদনের কারণে কেউ তো স্বীকারই করতে চাচ্ছে না যে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিএনপি অধ্যুষিত এলকা ৭০% আর বাকিটা লীগ অধ্যুষিত। সব মিলিয়ে তৈমুর আলম খন্দকারের ১ লাখ ভোট বেশি পেয়ে পাশ করার কথা। তার জন্য অপেক্ষা করছি...’
কিন্তু আওয়ামী লীগের হিসাবে ছিল এক কেজি সোনা তারা একসেরি বাটখারা দিয়া মেপে নেবে। সবাই জানে কেজি আর সেরের মধ্যে ওজনের ফারাকটা বেশ। তো আজ রাতে বিএনপি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বর্জন করে সেরের ওপর সোয়া সেরের দায় চাপিয়ে দিল। এখন ঘটনা জমল বেশ। নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি বেশ তাৎপর্যপূর্ন বার্তা পাঠাল জনগণের কাছে। দলটি সত্যি সত্যি দলীয় সরকারের অধীনে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যোগ দিচ্ছে না। বরং ঈদের পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে কঠোরতম আন্দোলনে নামতে যাচ্ছে চারদলীয় জোট ও সমমনা দলগুলো।
সবাই খেয়াল করবেন নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগে নারায়ণগঞ্জে সেনা মোতায়েন না করার সিদ্ধান্ত জানানো হলো। যদিও কথা মতো একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনই হয়তো করত ইসি। কিন্তু নিরপেক্ষ নির্বাচনের একটি মতলবী মানদণ্ডও ইতোমধ্যে খাড়া করে ফেলেছে সুশীল সমাজের সংবাদপত্র ও ভাষ্যকারেরা। তা হলো নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমান হারবে। কিন্তু বিপুল ভোটে জেতবে দলের সুশীলা প্রার্থী আইভী রহমান। মাঝখান থেকে তিন নম্বর ছাগলে পরিণত হবেন এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার।
অথচ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও চারদলের পক্ষে জনগণের বিপুল সমর্থন করার সাম্প্রতিক যে প্রবণতা তাতে এমনটি হওয়ার কোন সুযোগই ছিল না। নারায়ণগঞ্জে বেশ হেসে খেলেই তৈমুর আলম পাশ করতেন। এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো শেয়ারবাজারে সর্বশান্ত হয়ে যাওয়া কমপক্ষে ৫০ হাজার প্রাপ্ত বয়স্ক নারী ও পুরুষই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনেরই ভোটার। তাদের ভোট, বিএনপি ভোট, জামায়াতের ভোট আর নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের ভোট আমলে নিলে কোনভাবেই তৈমুরের পাশ ঠেকানো সম্ভব ছিল না। কিন্তু গত এক মাস ধরেই এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে যে, চার দল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই আসতে পারছে না।
এখন কালকের নির্বাচনে যদি বিএনপি যেত তাহলে এক ঢিলে আওয়ামী লীগ বেশ কয়েকটি পাখি মেরে তার রোস্ট খাওয়ার সুযোগ পেত। পাখিগুলো হলো-
১. ইভিএমের মাধ্যমে সুষ্ঠু ভোট সম্ভব,
২. দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ সম্ভব,
৩. সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি রানারআপও হতে পারে না ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা হয়ে যায় এবং
৪. খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে যে আন্দোলন করছে তা অযৌক্তিক।
এ চারপাখির রোস্ট খেয়ে আওয়ামী লীগ যে জোর পেত তার বলে প্রচারণা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনকে আবেদনহীন করে দিতে পারত। আর সত্যি সত্যি ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে দলীয় সরকারের অধীনে ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ ২০২১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার টার্গেটের একদম কাছে চলে যেত। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পেয়ে যেত। আর বাকি তিন বছরকে ছুতে পারা দলটির জন্য খুব বেশি কষ্টকরও হতো না।
কিন্তু খালেদা জিয়া রোড মার্চে গিয়ে যে জনজোয়ার দেখছেন তারপর তিনি ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে যাওয়ার মতো ভুল করবেন এটা মনে করার সুযোগ থাকে না। তার নির্দেশে রাত সাড়ে ১২টায় আব্দুল্লাহ আল নোমান নাসিক নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে তার বার্তাই দিলেন। মাঝখান থেকে নস্যাত হয়ে আওয়ামী লীগ+সুশীল সমাজ+নির্বাচন কমিশনের নিপুণ পরিকল্পনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



