somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুক অব রেকর্ডস!

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমেরিকার পাবলিক লাইব্রেরিগুলো থেকে যে বইটি সবচেয়ে বেশি চুরি হয়, তার নাম 'গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস'। সারা বিশ্বে কপিরাইট যেকোনো বইয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রীত বইটিই হলো গিনেস বুক। অদ্ভুত এই সংকলন বছরে বিক্রি হয় ৩০ লাখ কপি। তথ্যভিত্তিক এই সংকলনে থাকে মানুষ ও প্রাণীর গড়া নানা রকম রেকর্ড। বেশির ভাগই বিচিত্র। ২৮টি ভাষায় লিখিত এবং ভিডিও ফরম্যাটে গিনেস বুক প্রকাশিত হয় ব্রিটেন থেকে।

বন্ধুদের সঙ্গে শিকার পার্টিতে গেছেন স্যার হিউ বিভার। আয়ারল্যান্ডের একটি কাউন্টিতে বসেছে তাঁদের এই পার্টি। নানা রকম আলোচনা হলো বন্ধুমহলে। তবে কথা বলতে বলতেই একসময় স্যার হিউ বন্ধুদের সঙ্গে তর্কযুদ্ধে নেমে গেলেন। যুদ্ধের বিষয় ইউরোপের সেরা গেম বার্ড কোনটি_গোল্ডেন প্লোভার, নাকি গ্রস। কারো মতামতই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ইংল্যান্ডের মদ বানানোর প্রতিষ্ঠান আর্থার গিনেস, সন অ্যান্ড কম্পানির স্বত্বাধিকারী বিভার। কোনো সমাধানে আসতে না পারায় অবশেষে বই-পুস্তকের খোঁজে নামলেন তিনি। তবে কোনো বইতেই তথ্যটি পেলেন না। ১৯৫১ সালের ৪ মে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনাই হিউ বিভারের মাথায় আইডিয়াটির জন্ম দিল_'এমন একটি বই প্রকাশ করলে কেমন হয়, যেখানে সংকলিত হবে শুধুই নানা বিষয়ের রেকর্ড।'

হাঁটি হাঁটি পা পা
১০৭ ফ্লিট স্ট্রিট। লন্ডনের এ অফিস থেকেই ১৯৫৫ সালের ২৭ আগস্ট প্রকাশিত হয় গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রথম সংখ্যা। পৃষ্ঠাসংখ্যা ছিল ১৯৮। টানা ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত যৌথভাবে এটি সম্পাদনা করেন যমজ ভাই রস ও নোরিশ ম্যাকওয়েরটার। প্রকাশের দিনই বইটি কেনার জন্য হামলে পড়ে উৎসাহী পাঠকরা। ত্রমবর্ধমান চাহিদায় ১৯৭৫ সালে গিনেস বুক প্রকাশিত হয় আমেরিকা থেকে। বিক্রির হারও অবিশ্বাস্য_৭০ হাজার কপি! ওই বছর বড়দিন উপলক্ষে কেনাকাটার সঙ্গে এ বইটিও উপহার ও কালেকশনের জন্য ছিল সাধারণ মানুষের প্রথম পছন্দ। এই অসামান্য সাফল্যে মুগ্ধ হয়ে প্রকাশক হিউ বিভার মন্তব্য করেন, 'অর্থ উপার্জনের জন্য প্রকাশিত হয় না গিনেস বুক, বরং এর প্রধান লক্ষ্য রেকর্ডকে সারা বিশ্বের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া।' এই দারুণ জনপ্রিয়তার কারণে সংকলনটি ঘিরে শুরু হয় মাতামাতি। তৈরি হয় অনেকগুলো টিভি অনুষ্ঠানও।

এখন যেমন
শুরুর মালিকানা বদলে গেছে কয়েকবার। স্যার হিউ বিভারের হাত থেকে গিনেসের মালিকানা ছুটে গেছে সেই কবেই। এখন গিনেস বুকের মালিকানা জিম পেটিসন গ্রুপের হাতে। রিপ্লে এন্টারটেইনমেন্ট গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড নামে গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গিনেসের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারাই এখান থেকে প্রকাশ করছে নানা রকম রেকর্ড। একদল উদ্যমী কর্মী কাজ করছেন প্রতিষ্ঠানটিতে, যাঁদের দায়িত্ব কোথাও কোনো রেকর্ডের খোঁজ পেলে সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে সেখানে হাজির হওয়া এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিশ্বরেকর্ড হিসেবে তাকে স্বীকৃতি দেওয়া। দারুণ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেন তাঁরা। তাই কোনো রেকর্ড নিয়েই বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে না গিনেস কর্তৃপক্ষ।

নাম লেখাতে চান যদি
বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে গিনেস বুকে নাম লেখাতে পারেন আপনিও। কোনো প্রতিযোগী যদি আগের কোনো রেকর্ড ভেঙে ফেলেন কিংবা নতুন কোনো রেকর্ড গড়েন, তাহলে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন গিনেস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। অথবা চিঠি লিখতে পারেন এই ঠিকানায় : গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস লিমিটেড, থার্ড ফ্লোর, ১৮৪-১৯২ ডায়মন্ড স্ট্রিট, লন্ডন। চিঠির সঙ্গে অবশ্যই
জমা দিতে হবে নিজের গড়া রেকর্ড সম্পর্কে ফটোগ্রাফ ও ভিডিও। পাশাপাশি উল্লেখ করতে হবে প্রয়োজনীয় তথ্যাবলিও। এত বিপুলসংখ্যক আবেদনপত্র ঘেঁটে আগ্রহী ব্যক্তির কাছে সিদ্ধান্ত জানাতে গিনেস কর্তৃপক্ষ সময় নেয় চার থেকে ছয় সপ্তাহ। তবে কর্তৃপক্ষ কখনোই নিজ উদ্যোগে কোনো প্রতিযোগীকে বেছে নেয় না। আবেদন করা রেকর্ডগুলো থেকেই তারা বেছে নেয় প্রতিযোগী বা বিষয়বস্তু।

করতে মানা
জীবনকে আশঙ্কার মুখে ঠেলে দেয় এমন (যেমন_তলোয়ারবাজি, ব্যস্ত রাস্তায় দ্রুতগতিতে সাইকেল চালানো ইত্যাদি) ভয়ংকর রেকর্ড গড়তে উৎসাহ দেয় না কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া যেসব বিষয়ের রেকর্ড করতে গিয়ে বিতর্ক হতে পারে, সেগুলোও (যেমন_চুলের জটা) গ্রহণ করে না গিনেস বুক। এ ছাড়া সামাজিক ও ধর্মীয় বাধা আসতে পারে এমন রেকর্ডও নেওয়া হয় না। যদিও ২০০৮ সাল থেকে বিয়ার পান বিষয়ে বিধিনিষেধ ওঠানো হয়। তা ছাড়া বড় কোনো খাবার খাওয়ার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গেলে সম্পূর্ণ খাবার খেতে হবে_এমন শর্ত জুড়ে দেয় গিনেস, যাতে খাবার নষ্ট না হয়।

রেকর্ডপাগল তিন লাখ
প্রতিবছরের মতো এবারও ১৭ নভেম্বর পালন করা হয় গিনেস রেকর্ড ডে। বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত এই উৎসবে অংশ নিয়েছেন প্রায় তিন লাখ মানুষ। ধর্মীয় উৎসব ছাড়া কোনো বিশেষ উৎসবে অংশ নেওয়ার হিসাবে এটাও ছিল বিশ্বরেকর্ড। এবারও আগ্রহী ব্যক্তিরা রেকর্ড গড়ার নেশায় ছিলেন মাতোয়ারা। ফলে যেসব রেকর্ডের জন্ম হয়েছে এবার, সেগুলোর অন্যতম হলো_
* লন্ডনের ক্যানারি ওয়ার্ফে একটি বিশাল উজ্জ্বল গোলাপি রঙের অন্তর্বাস একসঙ্গে পরেছিলেন ৫৭ জন মানুষ। তাঁরা গড়েছেন একটি অন্তর্বাস একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি মানুষের পরার রেকর্ড। এখানেই আয়োজন করা হয় ক্ষুদ্রতম কার এবং দ্রুততম স্কুটারের মধ্যে রেসের।
* একসঙ্গে এক হাজার ৫৪১ জন গণনাচে অংশ নিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন নেদারল্যান্ডসে।
* আমেরিকার ফ্লোরিডায় সবচেয়ে বেশি বয়সী যোগ ব্যায়ামের শিক্ষক হয়েছেন ৯১ বছর বয়সী বার্নিস মেরি বেটস।
* ৩৩৪ জনের অংশগ্রহণে ইংল্যান্ডের অ্যাশেজে আয়াজন করা হয়েছিল দুধের সর দিয়ে পরিবেশন করা বিশ্বের সবচেয়ে বড় চা চক্রের।
সূত্র
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×