৩১ মে : বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সি.আর. দত্ত বলেছেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি। তিনি বলেন, ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করার মাধ্যমে হিন্দুদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক বানানো হয়েছে। তিনি ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করার ঘোষণা বাতিলের দাবি করেছেন। সি.আর. দত্তের এ ধরনের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ সর্বস্তরের জনগণ। তারা বলছেন, এ ধরনের মন্তব্য- ইসলামকে অবমাননা করার শামিল।
সি.আর. দত্ত ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনর্বহালেরও দাবি করেছেন। এর আগেও সি.আর. দত্ত ইসলামকে অবমাননা করে বিভিন্ন সময় অনেক বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও সি.আর. দত্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করার দাবি কি করে করতে পারে এ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন । তারা বলছেন, আসলে সি.আর. দত্ত কাদের ইঙ্গিতে এই ধরনের মন্তব্য করছেন তা খতিয়ে দেখা উচিত।
সি.আর. দত্তের এই ধরনের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক বিচারপতি আব্দুর রউফ। তিনি বলেন, সি.আর. দত্তরা চাইছে এ ধরনের মন্তব্য করে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমাননদের উত্তেজিত করে তুলতে। তিনি বলেন,মুক্তিযুদ্ধের দোহাই দিয়ে তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধারা দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে কটাক্ষ করে কোন মন্তব্য করতে পারে না। বিচারপতি রউফ বলেন, সি.আর. দত্তদের মতো এই নাস্তিক লোকেরা কি করে আমাদের রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে কথা বলার সাহস পায়, তা ভেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার যখন জনগণের বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তখন তারা তো দেশের সংবিধানকে নিয়ে নাড়াচাড়া করতেই পারে। আসলে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীদের একেক সময়ে দেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্যের কারণেই সি.আর. দত্তের মতো লোকেরা অন্য ধর্মের লোক হয়েও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করার দাবি করতে পারে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কি সি.আর. দত্তরাই করেছিলো ? বিচারপতি রউফ আরো বলেন, নিউইয়র্কে বসে সি.আর. দত্তরা কি করেছিলো সে কথা দেশের মানুষ কখন ভুলবে না। কাজেই দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানে এমন মন্তব্য করলে দেশের জনগণ সি.আর. দত্তদের ক্ষমা করবে না।
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন সি.আর. দত্তের ইসলাম বিরোধী মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করেছিলো তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। সেই এরশাদই সম্প্রতি বলেছেন, যারা সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বাতিল করার দাবি করছে তাদের জবাব দেশের জনগণই দেবে। তিনি বলেন, যে দেশের শতকরা ৯০ ভাগ লোক মুসলমান, সে দেশে অন্য ধর্মের একজন লোক কি করে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বাতিল করার দাবি করতে পারে তা আমাদের বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, অতীতেও সি.আর. দত্তের মতো লোকেরা আমাদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করে বিভিন্ন মন্তব্য করেছিলো। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়েও যদি তারা এ ধরনের মন্তব্য করে যায় তাহলে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, সি.আর. দত্তের এই ধরনের মন্তব্যের পরও সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রতিবাদ করা হচ্ছে না। এর মানে দাঁড়াচ্ছে সরকারের ইশারায় সি.আর. দত্তরা এ সব কথাবার্তা বলে বেড়াচ্ছে। সাংবাদিক আলমগীর মহিউদ্দিন বলেন, বিশ্বের অন্য কোন দেশে যদি রাষ্ট্রধর্মের ব্যাপারে কেউ কোন বিরোধী মন্তব্য করতো তাহলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা করা হতো। তাকে দেশ থেকে বের করে দেয়া হতো । অথচ আমরা দেখছি সি.আর. দত্তরা মুসলমানদের বিষদগার করে বিভিন্ন মন্তব্য করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, সরকার যখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে তখন একের পর এক বিতর্কিত বিষয়ে নিজেদেরকে জড়িয়ে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরিয়ে নিতে চাইছে। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকেই যখন বলা হচ্ছে, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ঘোষণা করা হবে তখন সি.আর. দত্তদের দোষ দিয়ে লাভ কি ? তিনি বলেন, এই স্পর্শকাতর বিষয়ে সরকারকে অনেক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিষ্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন সি.আর. দত্তের মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, আসলে সরকার সি.আর. দত্তদের মাধ্যমে এ ধরনের কথা বলিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র করার চিন্তা-ভাবনা করছে। তিনি বলেন, সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায় নিয়ে সরকার যে ভূমিকা পালন করছে তাতেই পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, সরকার আসলে সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বাতিল করার পক্ষে। সরকার এই মামলা থেকে নিজেদের সরিয়ে আনার মাধ্যমে সেটাই প্রমাণ করছে। তিনি বলেন, আসলে সি.আর. দত্তের এই ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে কি থাকবে না এ ব্যাপারে দেশের জনগণ এবং সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে। অন্য ধর্মের লোকেরা যদি রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বাতিল ঘোষণা করার পক্ষে মন্তব্য করে তা সরকারের দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। তারা বলছেন, দেশের ৯০ ভাগ মুসলমানকে উত্তেজিত করলে তা দেশের জন্য কখনই শুভ ফল বয়ে আনবে না। দেশের আলেম সমাজ ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কোন ধরনের অবমাননাকর বক্তব্য মেনে নেবে না। তাই সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। #
লিংকঃ
Click This Link
কথা হচ্ছেঃ
১. কিভাবে সে একথা বলার সাহস পেল ?
২. কারা তাকে সাহস যোগাল ?
৩. ১৯৭২ সালের সংবিধান কেন জরুরি ?
৪. ৯০% মুসলিম প্রধান দেশে কিভাবে এ দাবি উঠে ?
৫. মুক্তিযুদ্ধের সাথে ইসলামের সম্পর্কটা কোথায় ?
৬. সরকার নিজেই কি এ ধরনের কথা তাদেরকে দিয়ে বলাচ্ছে ?
৭. আঃলীগ কি মুসলিম নয় নাকি অতি খাটি মুসলিম ?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


