বুয়েটের ভর্তির সাথে সাথেই ৫ হাজার টাকা দামের টিউশনী পেয়ে গেলাম। এক পরিচিতজনের মাধ্যমে এক্টা মেয়ে টিউশনীর অফার আসলো।

আমি স্বাচ্ছা ঈমানে বলীয়ান উৎকৃষ্ট জাতের প্রাণী! তাই মেয়ে টিউশনীটা এক দোস্তের কাছে পাস করে দিলাম। টার্ম ফাইনাল পরীক্ষার পরে ছুটিতে ঐ দোস্ত আবার বাসায় গেল ১ মাসের জন্য। তো কি আর করার প্রক্সি টিউটরের দায়ীত্ব এড়াতে পারলাম না। গেলাম পড়াইতে। এক্টা মেয়ে আমার সামনে বসে আছে! সো মাচ ডিজগাস্টিং!!

এমনিতেই সংকোচবোধের ভিতর তার পরে আবার মেয়েটা মোটা। ধুররো। তয় চেহারাডা মাশাল্লাহ্ খারাপ না। কিন্তু আমি অতিশয় ভদ্র প্রজাতির ম্যামেলিয়া। ছাত্রীর প্রতি কু-দৃষ্টি আমি অত্যন্ত অপছন্দ করি। আমি মনে করি ছাত্রী হচ্ছে মেয়ের মত যদিও তার সাথে আমার বয়সের ডিফারেন্স ২ বছর হবে।

এভাবে চলতেছিলো বেশ।
একদিন পড়ানোর এক পর্যায়ে চিত্রাংক করার সময় ওর হাতে আমার হাত কিন্চিত স্পর্শ লাগলো
, অনিচ্ছাকৃত লাগতেই পারে। কিন্তু ওর এমন প্রতিক্রিয়া যে, মনে হলো ও ১২ হাজার ভোল্টের ইলেক্ট্রিক শকট্ পাইছে।
কিছুটা অপস্তুত হলাম। তৎক্ষনাত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসলাম বিষয়ডাকে ইগনোর করে। ওইদিন হলে ফিরে স্বহস্ত সম্মুখে তুলিয়া শপথবাক্য পাঠ করিলাম যে আর কুনোদিন মেয়ে টিউশনী করাবো না। তাছাড়া ছেলেদের পড়াইতে অনেক মজা। কারণ ছেলেকে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করা যায় আবার কখনও আদর করে থাপ্পর দেয়া যায়। কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্র ঐগুলো শরীয়াতি নাজায়েজ। যাহোক দোস্তের কাছে তার টিউশনী অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে পেরে নিজেকে দায়ীত্বমুক্ত করলাম। অনেকদিন পর দেখি একটা ফোন আসলো ওয়ারিদ নম্বর থেকে। ওর নাম্বার ডিলিট করে দিছিলাম মুঠোফোন থেকে কিন্তু আল্লাহ যে মস্তিস্কের মেমোরি দিছে সে হয়তো মনে রাখতে পেরেছিল। তাই চিনতে সময় লাগলো না যে কে ফোন করেছিল। কিন্তু না চেনার ভান করে আমার উত্তর-
-হ্যালো?
-ভাইয়া আমি লিরা(ছন্মনাম)।
-কোন লিরা?
-ভাইয়া ঐযে আমাকে ১ মাস পড়াইছিলেন!
-ও আচ্ছা! তা তুমি কেমন আছো? তোমার পড়াশোন ভাল চলছেতো?
-জ্বি ভাইয়া। কেমিস্ট্র বই খুলতেই আপনার লেখা বিক্রিয়াগুলোর পেজটা খুজে পেলাম।আপনাকে মনে পড়ে গেল। তাই কল করলাম।
-ঠিক আছে তুমি ভালভাবে পড়াশোনা করো আর ভাল থেকো। তোমার সামনে পরীক্ষা না? ভালকরে প্রিপারেশন নাও ।
এই বলে ব্যস্ততার ভাব দেখিয়ে ফোন রেখে দিলাম। অনেকদিন পর আমার টিউশনীবেলার ইতিহাস মনে করতে যেয়ে মনে পড়লো ঘটনাটা তাই আপ্নাদের সাথে শেয়ার করা আর কি।
..........
ধন্যবাদ।