জাতীয় সঙ্গীতেরও মুসলমানী দিতে হবে?
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ৮:৪২
বন্ধু শোহেইল মতাহিরের অনুরোধে এই বস্নগে আসা, এসে মনে হলো, এ আমি কোথায় এলাম? শোহেইল আমাকে বলেছিল, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা কী ভাবছে সেটা এখানে এলে খানিকটা অাঁচ করা যায়, কিন্তু মাত্র একবার কি দু'বার এখানে এসে যে অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে তা রীতিমতো ভীতিকর। বিশেষ করে এখানে কারো কারো লেখা পড়ে মনে হচ্ছে, তারা একটি ধর্মভিত্তিক উগ্র রাজনৈতিক দলের শুধু সমর্থকই নয়, কিংবা মাইক ভাড়া করে তাবিজ-বেঁচা মাওলানারা শুধু ওয়াজ নসিহত করেই তাদের দায়িত্ব শেষ করেনি, বরং তারা এদেরকে এমন প্রশিৰণ দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে যে, সেই সব শোনা-কথা এখন তাদের মুখের বুলি হয়ে গেছে। দুঃখজনক সত্যি হচ্ছে, তারা সেই সব বুলি এই বস্নগে ছেড়ে কী জানি কী করে ফেলার আনন্দে নাচছে।
দয়াকরে বস্নগের সবাই তাদের কাঁধে এই অভিযোগটি নেবেন না, যারা এসব করছে তারা ঠিকই বুঝে নেবে এবং নিশ্চিত তারা কঠোর সব মনত্দব্যে তাদের বক্তব্যের প্রতিবাদকারীদের ঘায়েলও করে থাকে। যেমন জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে বিতর্ক। গোলাম আজম থেমে আজকের মইত্যা রাজাকার ওরফে নিজামী, তাবিজ-বেঁচা ময়লানা সাঈদী থেকে রাজাকার-তনয় সাকা চেনধুরী _ সবার মুখেই আমরা জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের কথাটি শুনে আসছি। কিন্তু কম্পিউটার ব্যবহার করতে জানা, এমনকি দেশের বাইরে বেরম্ননো তরম্নণের শ্বাস-প্রশ্বাসেও যদি এই পুরোনো কাসুন্দির গন্ধ পাওয়া যায় তাহলে তা শুধু দুঃশ্চিনত্দারই শুধু নয়, বরং আমাদের এই ভেবে শঙ্কিত হওয়া উচিত যে, এই ''চাবি মাইরা দিছে ছাইড়া''-ওয়ালাদের হাতেই রয়েছে বাংলাদেশের ভবিষ্যতে 'বাংলাসত্দান'-এ পরিণত হওয়া কিংবা অন্যকথায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরিণতি।
নইলে আজকের বিশ্বে এমন কোনও দেশ কি খুঁজে পাওয়া যাবে যে দেশটির জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের জন্য সেই দেশেরই নাগরিক এরকম মুখে রক্ত তুলে ফেলে? সবচেয়ে বড় কথা হলো, রাষ্ট্রের পরিচয় বহনকারী (যেমন জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা, মুদ্রা ইত্যাদি) কিছু সম্পর্কে বিরূপ মনত্দব্যকারী কিংবা এসবের প্রতি অবহেলা প্রদর্শনকারীদের রাষ্ট্রদ্রোহীর শাসত্দির বিধান রয়েছে বহু দেশে। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানী ইত্যাদি দেশগুলি এখন নতুন নাগরিত্ব গ্রহণে ইচ্ছুকদের নাগরিকত্বের প্রশিৰণ দিচ্ছে এবং রাষ্ট্রের সকল প্রতীকের প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থাশীল হওয়ার জন্য শপথ করিয়ে নিচ্ছে। এটা এ কারণেই যে, রাষ্ট্রের এইসব মীমাংসিত বিষয়াদি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে সেটা গোটা রাষ্ট্র ব্যবস্থাকেই নড়বড়ে করে তোলে এবং এর ফলে প্রতিক্রিয়াশীল চক্র শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ লাভ করে। এমন যে হিটলার, যে ৰমতায় বসে জার্মানীর বহু কিছু পরিবর্তন করেছিল কিন্তু জাতীয় সঙ্গীতটিকে অৰত রেখেছিল কারণ সেটা বদলালে তার আর ৰমতায় যাওয়া হতো কিনা সন্দেহ, যে কোনও জাতির কাছে রাষ্ট্রেও এই প্রতীক সমূহ এতোটাই মূল্যবান যে, যখনই এর ওপর আঘাত এসেছে তখনই তারা অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধ করেছে। মধ্যযুগের জাতিতে জাতিতে যুদ্ধের মূল কারণ ছিল এই স্বাতন্ত্রবোধ, পদানত জাতিসমূহের সকল পরিচিতিমূলক চিহ্নাদি মুছে ফেলে বিজয়ী জাতির উলস্নাস প্রকাশ ছিল তখনকার নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা।
এই বস্নগে যে সব অতি-মুসলমান রয়েছে তাদেরকে সালাহদিন-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছি একটু। সিরিয়া থেকে জেরম্নজালেম পর্যনত্দ দীর্ঘ পথের যুদ্ধে তিনি অনেক ছোট ছোট জাতিকে জয় করেছিলেন এবং তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে জেরম্নজালেম দখলের জন্য ক্রুসেডে অংশ নিয়েছিলেন। সমপ্রতি 'কিংডম অব হেভেন' নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে এই ক্রসেডের ওপর, তাতে দেখা গেছে সালাহদিনের সৈন্যদলের একেকটি ভাগের পতাকার রঙ একের রকম, একটি মূল পতাকার সঙ্গে প্রত্যেক জাতির স্বকীয় পতাকা। ইসলামের শুরম্নতে যা সালাহদিন পেরেছেন, একালের অতি-মুসলমানরা তা কেন পারছে না সেটা ভেবে দুঃখ পাওয়া ছাড়া আর তো কোনও পথ দেখছি না।
আজকে জাতীয় সঙ্গীত বদলের কথা বলে নানাজনে নানা যুক্তি দেখাচ্ছেন। একজন খুনীও তার করা হত্যাকাণ্ডের স্বপৰে যুক্তি দিয়ে থাকে কিন্তু বিজ্ঞ বিচারক সেসব যুক্তিকে খন্ডানোর চেষ্টা না করে প্রমাণ দাখিল করে হত্যাকারীর শাসত্দি দিয়ে থাকেন। তেমনই আমার ধারণা এদের এসব যুক্তির সামনে নতুন কোনও যুক্তি খাড়া করা বৃথা, কারণ ''চোরা না শোনে ধর্মেরও কথা'', আগেই বলেছি এদেরকে চাবি মেরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যাও বাবা চরে খাও এবার, তোমাদের শেখনো হয়েছে প্রথমেই বলবে,
ইসলাম গেলো, তাকে বাঁচাও; তারপর
বাঙালিত্ব বলে কিছুই নেই, সবকিছুর ওপরই একটা ধর্মের প্রলেপ দিতে হবে, আরবের বালিতে যা টেকেনি বাংলাদেশের মাটিতেই তা বসাতে হবে এবং কাফের না মারলে বেহেশতে যাওয়া যাবে না অতএব কাফের মারো, জাতীয় সঙ্গীত বদলাও; তারপরও না মানলে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণকারী হও _ এবং এইসব শুনে-মোসলমানরা সেটাই করছে। অথচ এরা জানে না যে, ইরান একটি মুসলিম রাষ্ট্র হলেও সেখানকার ভাষা আরবি নয়, ফারসি, কারণ সেটাই তাদের মাতৃভাষা; তাদের জাতীয় সঙ্গীত কোনও ইসলামি গান নয়, বরং সে দেশের অমিয় সুন্দর প্রকৃতিকে নিয়ে রচিত একটি সঙ্গীত; পারসিক জাতিসমূহের আত্মসম্মানজ্ঞান যে কতোটা প্রবল তা বোঝা যায় যখন তারা আরবিকে ভাষা হিসেবে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়, তারা ধর্মকে নিয়েছে কিন্তু আরবি ভাষা গ্রহণ করেনি, করেনি কারণ তারা উজবুক নয়, তারা প্রথমে পারসিক কিংবা ইরানি তারপর মুসলমান।
আসলে এতো কিছু যে লিখছি, লিখে কী হবে? কথা বলতে তো অনেক কিছুই বলা যায়, কিন্তু ''কইতে কথা বাঁধে''। ধরা যাক এই বস্নগের একজন জাতীয় সঙ্গীত বদল করে, ''আমার মনের বেদনা বন্ধু ছাড়া জানে না''-কে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে চাইছে, এরপর যদি অন্য কেউ 'হুলার লাডু, হুলার লাডু, হুলার লাডু হু''-কে জাতীয় সঙ্গীত বানাতে চায়, তখন? ক'বার পরিবর্তন করা হবে জাতীয় সঙ্গীত তবে? আসলে জাতি হিসেবে যে, আমরা শুধু শংকরই নয়, নানা বর্ণ-রক্ত-ধর্ম মিশে আমাদের চিনত্দা-চেতনাও যে নড়বড়ে হয়ে গেছে একেবারেই তার প্রমাণ হচ্ছে এটাই। নইলে জাতীয় সঙ্গীত সহ সকল রাষ্ট্রীয় প্রতীকের জন্যই অঢেল রক্তপাতের পরেও একদল মানুষ এখন আবার এসবকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে চাইছে , অবশ্য যারা চাইছে তাদের কেউইতো তো রক্ত দেয়নি, বরং বাঙালির রক্ত ঝরিয়েছে, হত্যা-ধর্ষণসহ সকল প্রকার নোংরাতেই তো তাদের শুধু হাত নয়, অসত্দিত্বই মাখামাখি, এদের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি আর কি আশা করা যায়?
দুঃখ এটাই, ভাবা গিয়েছিল এরা দুনিয়া থেকে বিদায় নিলে বুঝি এদের সঙ্গে সঙ্গে তাদের অসত্দিত্বও বিলীন হয়ে যাবে, বাঙালি মুক্তি পাবে, কিন্তু ও বাপ, এরা যে নপুংশক নয় তা বোধহয় বাঙালি ভুলে গিয়েছিল, এদের ঔরষে জন্ম নেয়া কালসাপ এখন শুধু বাংলাদেশে নয়, ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের বাইরেও, এরাই এখন ফণা তুলছে, আর তর্জন-গর্জন করছে। একটা প্রবাদ শুনেছিলাম, ''এতো দেখেছো ভালো, আরো ক'জন আসছে তেড়ে দাড়িতে জড়িয়ে পলো''..........
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
পাইন মারা বলেছেন:
মুসলমানী না দিলে যে এইডস হবার আশংকা আছে।
আসিফ বলেছেন:
আপনার সুনদর বক্তব্যের জন্য অসংখ্যা ধন্যবাদ............
নীতু বলেছেন:
মাসুদা আপা,চমৎকার লেখার জন্য ধন্যবাদ। নরঘাতক রাজাকার-জামাতীরা আর তাদের পোনারা নতুন করে রাজাকারী দেশপ্রেম শেখানোর শুরু করেছে। ভাবটা এরকম, মুক্তিযুদ্ধ ভুল ছিল। রাজাকারী দুর্মুখেদের বিও-বৈভব বেড়েছে সত্যি, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে তারা কখনোই নির্বাসন করতে পারবে না আমাদের চিন্তা ও কর্মের পরিধি থেকে।
অতিথি বলেছেন:
আপনার লেখার হাত দারুন... কিন্তু অন্যের লেখা না পড়ে কল্পিত ধারনা নিয়ে কিছু লেখা আপনাকে ঠিক মানাচ্ছে না। ময়ুর সেজেছেন...লেজটা কিন্তু ঠিকই মেকি দেখাচ্ছে...আপনি কি পুনরায় দেশের জন্য রক্ত/ইজ্জত দিতে প্রস্তুত আছেন... !!! ভালোইতো গান পারেন, যাত্রা দলে থাকেন নাকি?
ধর্মের অনেক কঙ্কি ছেড়েছেন ফু দিয়ে দিয়ে... আমার লেখাটায় ধর্ম নিয়ে কখনোই ছিল না... আপনি এ গলি, ও গলি ঘুরে ফিরে ঠিকই ডাঙ্গুলি ধর্ম গলিতে নিয়ে ফেলেছেন... আপনার উদ্দেশ্য কি ছিল? আপনার চৌদ্দ গোষ্ঠির ফর্মা নিয়ে দেখবেন... আপনাদেরই জ্ঞাতি আত্মীয় ছিল কেউ কেউ মুক্তিযোদ্ধা, কেউ কেউ রাজাকার... আর আজকে হয়েছেন আপনারা সেসব সোনালী ইতিহাসের রক্ষা বাহক...
অতিথি বলেছেন:
আমি ও হীরক লস্করের মন্তব্যের সাথে একমত। মাসুদা আপা, আপনাকে স্বাগত। বাংলাদেশে মৌলবাদী ও ধর্মান্ধ শক্তির পাশাপাশি জামাতী রাজাকারদের সাময়িক তোষন-পোষন ও উথথানের বিপরীতে সচেতন নতুন প্রজন্মের জন্য আপনার লেখা অনেক অনেক অনুপ্রেরণা ও শক্তির উৎস হবে। ধন্যবাদ।
অতিথি বলেছেন:
তেলাপোকা, তর্ক করতে না পারলে চেপে যান । ব্যক্তিগত আক্রমন করলে তাতে আপনর দূর্বলতাই প্রকাশ পায়।
ভূত বলেছেন:
আরে... ভাট্টি ...! এ তো পুরান পাপী। তা ভাট্টিকে যারা চেনেন না তাদেরকে একটা ইনট্রোডাকশন দেই।এনাকে কেউ চেনতোনা। বিলেতে থাকতেন, সাংবাদিকতা করতেন, তারপরও তার নামটা পর্যন্ত লোকেরা জানতোনা। একদিন হলো কি তিনি চোখে সর্ষে ফুল দেখলেন। কেন জানেন? তিনি হঠাৎ আবিষ্কার করলেন যে বিলেতে বাংলাদেশের যেসব ছেলেরা ব্যারিস্টারি পড়ছে তাদের অধিকাংশই নাকি শিবিরের সাথে যুক্ত। কি সাংঘাতিক একটা ইনফর্মেশন। এটা বিক্রি করলে তো লাখ টাকা তার পাওয়া উচিৎ! না কি ভুল বললাম? যাই হোক বাংলাদেশের পত্রিকাগুলো তাকে কয় টাকা দিয়েছিলো সেটা জানিনা তবে আওয়ামী ভক্ত এবং "মুক্তমান"দের ভেতর অতঙ্ক তৈরীর জন্য তারা ভাট্টির লেখাটি ছেপেছিলো। ওই লেখায় এই লেখিকা দাবী করেছিলেন যে ওই ছেলেগুলো যদি ব্যারিস্টারি পাশ করে বের হয় তবে বাংলাদেশের কোর্ট-কাচারীগুলো শিবিরে ভরে যাবে। লীগ বা বিএনপির কোন জায়গা থাকবেনা। ওই লেখা কাজ করেছিলো এই অর্থে যে ভাট্টি নিজেকে পরিচিত করতে পেরেছিলেন। কিন্তু কাজ করেনি এই অর্থে যে এরপর আরো অনেক এবং আগের চেয়ে বেশী শিবির বিলেতে গিয়েছে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য। তিনি যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন সেটা মূলত কাউন্টার-প্রোডাক্টিভ হয়েছে।
তার ব্লগেও তিনি আতঙ্ক ছড়ানোর কাজেই ব্যস্ত। কেউ কিন্তু জাতীয় সংগীতের মুসলমানির কথা বলেনি। কথাটা প্রথমে উঠেছিলো তেলাপোকার ব্লগে। সেখানে তেলাপোকা পরিষ্কারভাবে বলেছেন যে রবি ঠাকুর হিন্দু বলে যে তিনি এটা পরিবর্তন করতে চান বিষয়টা তা নয়। অন্যান্য মন্তব্যকারীরা বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে। কিন্তু কেউ বলেননি যে বর্তমান জাতীয় সঙ্গীত হিন্দু এটাকে একটা মুসলমান জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে রিপ্লেস করতে হবে। এই কনসেপ্টটা এসেছে ভাট্টির উর্বর মস্তিষ্ক থেকে। কারণ নতুন প্রজন্মের ব্লগ দেখে তার ধারনা হয়েছে এখানে প্রচুর "অতি" মুসলমান আছে আর বয়স্কদের ব্লগ দেখে তার ধারনা হয়েছে যে এখানে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার, তাড়াতাড়ি (বা রাতারাতি) পরিচিত হবার একমাত্র উপায় হচ্ছে এই মুসলমানদের আঁতে ঘাঁ লাগে এমন কিছু বলা। আর সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করতে গিয়েই এই বিশাল পোস্ট।
ধৈর্য ধরুন। অচিরেই মাসুদা ভাট্টি জামাত-শিবিরের নতুন প্রজন্মের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আরো কুরুচীপূর্ণ লেখা লিখবেন। সেই দিনের প্রতীক্ষায় ...
দাদা বলেছেন:
"এই লেখাটি কি নিয়ে ঃ বাঙ্গালিত্ব বনাম মুসলমানিত্ব"-- আপনি ইরানের উদাহরন দিলেন, ওরা কিন্তু মুসলমানিত্বকে বরন করে নিয়েছে, কিন্তু সেটা কি ইরানিত্বকে বাদ দিয়ে ? আমাদেরকে কেনো বাঙ্গালিত্ব এবং মুসলমানিত্ব কে মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে ? কে কখন কোন বাংলাদেশী বলেছে যে আমাদের ভাষা আরবী হতে হবে বাংলা হতে পারবে না ? যেই গোলাম আজম কে নিয়ে আপনার এতো ক্ষোভ, উনিও কিন্তু বায়ান্নর একজন প্রখ্যাত ভাষা সৈনিক ছিলেন ।তেলাপোকা সাহেব কখন চেয়েছেন যেনো কোনো ইসলামী সঙ্গীতকে জাতীয় সঙ্গীত বানানো হয় ? দয়া করে তার লেখাটুকু পুনরায় পড়বেন । আমি কোথাও ধর্মান্ধতার দেখা পাইনি ।
কে বলেছে কম্পিউটার ব্যবহার করতে জানলেই জাতীয় সঙ্গীতের পরিবর্তন চাওয়া যাবে না ? আর কে বলেছে আপনাকে জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন করলেই এদেশ বাংলাস্তান হয়ে যাবে ? ইরানেরই তো জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তিত হয়েছে 3 বার । শেষ বার 1990 সালে । এরকম আরো অনেক দেশই আছে যাদের জাতীয় সঙ্গীত এক বা একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে ।
তবে আপনার লেখার হাত আছে শিকার করছি । এটাকে গঠনমূলক কিছুতে ব্যবহার করবেন বলে আশা করি ।
দাদা বলেছেন:
শিকার==স্বীকার । দুঃখিত ।
অতিথি বলেছেন:
ভূত ভাইয়া ! মাসদা ভাট্টিকে ব্যক্তিগত আক্রমন করে আপনি কি প্রমাণ করতে চান ? রবীন্দ্রনাথের বাউলাঙ্গের গানকে জাতীয় সঙ্গীত রার উদ্দেশ্য বাংগালীর এথনিসিটিকে ধমর্ীয় পরিচয়ের ঊর্ধে তুলে ধরা , যেটা ছিল মুক্তিযুদ্ধের স্পিরিট এবং পাকিস্থান রাষ্ট্রের ডিসইন্টিগ্রেশানের কারন । শেখ মুজিবর রহমান কি চেয়েছিলেন বা চাননি সেটা ইতহাসের তুলনামূলকভাবে অগুরুত্বপূর্ণ তথ্য , গুরুত্বপুণ হচ্ছে পাকিস্তান রাষ্ট্রের খতম তারাবী। সুতরাং বাংলাদেশ রাষ্ট্র পাকিস্তান বিরোধী দশণ ধারণ করবে সেটাই স্বাভাবিক । আর মুক্তিযুদ্ধের পর আওয়ামী সরকার কি করেছেন না করেছেন সেটা কন্তু আপনাদৈর কৃতকর্মকে জাস্টিফাই করেনা।
ভূত বলেছেন:
চৌধুরী, ভাট্টিকে ব্যক্তিগত আক্রমন আমার উদ্দেশ্য ছিলো না। তবে আমি তার উপর রাগান্বিত ছিলাম শিবিরকে নিয়ে ওই রিপোর্টটার কারনে। আমাকে আরো রাগিয়ে দিয়েছে তার অসংলগ্ন কথাবার্তা। তেলাপোকার কি কথার কি অর্থই না তিনি করলেন! আজব মহিলা!
অতিথি বলেছেন:
তেলাপোকা ভাই, মাছুদা আপা দেশের জন্য রক্ত/ইজ্জত দিতে প্রস্তুত আছে কিনা জেনে আপনার কি লাভ ? নাকি 71 র মত আবার রক্ত/ইজ্জত নেয়ার প্ল্যান করছেন ?মাছুদা আপাকে বলছি, এমন সুন্দর লেখা প্রতিদিন অন্তত একটি চাই ।
অতিথি বলেছেন:
ভুত ভাই, মনে কিছু নিবেন না । এই ব্লগে লেখার যোগ্যতা আপনার নেই । ব্যক্তিগত আক্রমন করতে চাইলে নিজে একটা সাইট ওপেন করেন । যাকে খুশি সাইজ করবেন, কেউ কিছু বলবেনা । জামায়াত শিবির'কে সাইজ করেছে সে প্রসংগে না গিয়ে পরলেন তার অতীত ইতিহাস নিয়ে । তবে ভাই আর যাইহোক আপনি যে সবার হাড়ির খবরও রাখেন এটা প্রমান হয়ে গেল । মেয়েরাই নাকি ওটা বেশি পছন্দ করে । তেলাপোকাকে বলছি, জামায়াত আর রাজাকারদের সম্পর্কে কিছু বললেই আপনারা এত খেপে ওঠেন কেন বুঝিনা । 71 কে আপনারা ভুলিয়ে দিতে চাইলেও স্বপ্নে কিন্তু 71 আপনাদের পিছু ছারবে না ।
আর দাদা, গোলাম আজম 71 এর ভাষা সেনিক ছিলেন কিন্তু 71 এ এসে হলেন বাংলাদেশ বিরোধী । তাইত ? রক্ততো গোলাম আজম দেয়নি, দিয়েছে সালাম বরকত । আর নিয়েছে, গোলাম আজম অথবা যারা চায়নি বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম হোক আর একটি দেশ যার নাম " বাংলাদেশ" । বড় বড় বুলি কপচানোর আগে জামায়াতের লেবাস ছেরে সাধারন মানুষের কাতারে মিসে দেখুন সেখানে আপনার অবস্থান কোথায় ।
দাদা বলেছেন:
তীর্থক হাসালেন মোরে, আমি সাধারন মানুষের ভীড়েই ঘুরি তাও মস্তক উচু করেই, কারন আপনাদের মত আমি ভন্ডামি করি না, টেবিলের নিচে আমার কোন কাজও নেই, দেশের প্রতি ভালোবাসারও কোন ঘাটতি নেই বলেই জানি, নাহলে অনেক আগেই দেশ ছাড়তাম । আর আমার গায়ে জামাতের লেবাসও নেই। প্রলাপ বকবেন না দয়া করে । আপনি বলেন জামাত অখন্ড পাকিস্তান চেয়েছিলো বা বাংলাদেশ সৃষ্টির বিরোধিতা করেছিলো তাতে আমার আপত্তি নেই, কিন্তু যদি বলেন জামাত হত্যা, খুন, ধর্ষন ইত্যাদির সাথে জড়িত ছিলো তাহলে আমি বলবো প্রমান দ্যান ।
না দিতে পারলে প্যাচাল কম পারেন ।
ভূত বলেছেন:
তীর্থক, ভাট্টির অসংলগ্ন কথাবার্তার ফিরিস্তি দিলেননা যে! আমার রাগটাতো ওইখানেই।ভাট্টির অতীত ইতিহাস উল্লেখ করেছি তার মনস্তাতি্বক গঠনের একটা ধরণা দেয়ার জন্যেই। তাকে হেয় করার জন্যে নয়।
কোথায় আমার লেখার যোগ্যতা আছে আর কোথায় নেই সেটা বিচার করবো আমি। আর এটা একটা ওপেন ফোরাম। সামহোয়্যার ইনের কর্ণধারদের জিজ্ঞেস করে দেখুন এখানে লিখতে বা মন্তব্য করতে কোন যোগ্যতার প্রয়োজন আছে কি না।
অতিথি বলেছেন:
দাদা, নিজেই স্বিকার করলেন জামাত বাংলাদেশ সৃষ্টির বিরোধীতা করেছিল, তোবুও বলবেন সেটা অন্যায় ছিলনা ? আর জামাত খুন, ধর্ষন এগুলোর সাথে জড়িত ছিল এটাকি কোথাও বলেছি ? চোরের মন খিড়াই খেতে । তাইনা......?আর ভুত ভাই, এত খেপেন কেন ? কর্ণধারদের জিগ্গেস করার আগে আপনি নিজেই একবার ওদের নোটিশ বোর্ডটা পড়ে নিলে ভাল হয়না । আমিতো বরং আপনাকে বেটার সাজেসান দিলাম, নিজে একটা সাইট ওপেন করে যাকে খুশি সাইজ করেন । পাবলিক সাইটে আশালিন মন্তব্য করে ইমেজ নষ্ট করেন কেন ? নাকি খেয়াল থাকেনা যে এটা পাবলিক সাইট ? আপনি যদি প্রকৃ ত সমালোচক হন তাহলেতো ভাই আশালিন মন্তব্য'র জন্য আপনার লেখিকার কাছে খমা চাওয়া উচিৎ ।
অতিথি বলেছেন:
দাদা, আমি বলেছি গোলাম আযম বা অন্যরা । গোলাম আযম কিন্তু বলিনি । যদুবা মধু মানে কিন্তু হয় যদু নয়ত মধু । আর যদি যদু প্রতিবাদ করে তবে কিন্তু ধরে নেয়া হয় যদুই । তবে কি....? ন্যায় অন্যায়ের ব্যাপারে আপনার যুক্তি আমি খন্ডাতে যাচ্ছিনা । তবে 71 এ যেটা ন্যায় ছিল এখন তা অন্যায় হয়েছে আর এখন যা ন্যায় তা দুদিন পরে বলবেন অন্যায় তাহলে তো ভাই সমস্যা । কি বলেন ?
দাদা বলেছেন:
তীর্থক, আপনার এর আগের কমেন্টটা পড়ে দেখেন, ওখানে বলা আছে, রক্ত নিয়েছে গোলাম আজম বা অন্যরা যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায় নি । আমি একথার প্রতিবাদ করেছি । আর ন্যায় অন্যায় অনেকটা আপেক্ষিকতার কাছে দায়বদ্ধ, যাকে আমি আমার দৃষ্টিতে ন্যায় মনে করি বা করেছি, তাকে আপনি অন্যায় বললেই সেটাকে অন্যায় হিসেবে আমার মানতে হবে তা আমি বিশ্বাস করি না ।
অতিথি বলেছেন:
পুরানা মন্তব্য দেখা যায় না ক্যান ?
অতিথি বলেছেন:
খুব খিয়াল কইরা ...
অতিথি বলেছেন:
জম্পেশ পোস্ট 2
সুমন চৌধুরী বলেছেন:
এইখানে আরো মন্তব্য ছিল
সুমন চৌধুরী বলেছেন:
ঠেলা
অ রণ্য বলেছেন:
আমার প্রিয় লেখিকার একজন আপনি কি করে সেটা পুরোটা মনে নেই তবে
সমকালে একটা লেখা পড়ে মনে হয়েছিল না মেয়েরাও আজকাল কেবল লেখক হয়েই লিখতে পারে..যেটা পড়ে মনে হবে যে এটা কোন মেয়ে লিখেছে......রেখা পড়বার সময় আমার প্রকরণ সহ্য হয়না, পড়বার আনন্দে পড়ব..এই তো চাই কেবল
লেখাটি আমার এত ভাল লেগেছিল যে সেই থেকে আমি আপনার লেখা পেলেই পড়ি
এইখানে যে আপনি আছেন জানতাম না
আজ পেলাম
দেখি একে একে সবগুলো পড়ে
ভাল থাকুন এবং আবার লিখুন দয়া করে (এইখানে)
প্রশ্নোত্তর বলেছেন:
+
নাভদ বলেছেন:
+
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















মোক্ষম শেল ছুঁড়েছেন আপনি। এরকম কয়েকটি লেখাই যথেষ্ট। সেগুলো বারংবার উদ্ধৃত করেই অন্যান্যরা নব্য রাজাকারদের ঘায়েল করবে।
আবারো ধন্যবাদ।