somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাতীয় সঙ্গীতেরও মুসলমানী দিতে হবে?

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ৮:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বন্ধু শোহেইল মতাহিরের অনুরোধে এই বস্নগে আসা, এসে মনে হলো, এ আমি কোথায় এলাম? শোহেইল আমাকে বলেছিল, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা কী ভাবছে সেটা এখানে এলে খানিকটা অাঁচ করা যায়, কিন্তু মাত্র একবার কি দু'বার এখানে এসে যে অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে তা রীতিমতো ভীতিকর। বিশেষ করে এখানে কারো কারো লেখা পড়ে মনে হচ্ছে, তারা একটি ধর্মভিত্তিক উগ্র রাজনৈতিক দলের শুধু সমর্থকই নয়, কিংবা মাইক ভাড়া করে তাবিজ-বেঁচা মাওলানারা শুধু ওয়াজ নসিহত করেই তাদের দায়িত্ব শেষ করেনি, বরং তারা এদেরকে এমন প্রশিৰণ দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে যে, সেই সব শোনা-কথা এখন তাদের মুখের বুলি হয়ে গেছে। দুঃখজনক সত্যি হচ্ছে, তারা সেই সব বুলি এই বস্নগে ছেড়ে কী জানি কী করে ফেলার আনন্দে নাচছে।
দয়াকরে বস্নগের সবাই তাদের কাঁধে এই অভিযোগটি নেবেন না, যারা এসব করছে তারা ঠিকই বুঝে নেবে এবং নিশ্চিত তারা কঠোর সব মনত্দব্যে তাদের বক্তব্যের প্রতিবাদকারীদের ঘায়েলও করে থাকে। যেমন জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে বিতর্ক। গোলাম আজম থেমে আজকের মইত্যা রাজাকার ওরফে নিজামী, তাবিজ-বেঁচা ময়লানা সাঈদী থেকে রাজাকার-তনয় সাকা চেনধুরী _ সবার মুখেই আমরা জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের কথাটি শুনে আসছি। কিন্তু কম্পিউটার ব্যবহার করতে জানা, এমনকি দেশের বাইরে বেরম্ননো তরম্নণের শ্বাস-প্রশ্বাসেও যদি এই পুরোনো কাসুন্দির গন্ধ পাওয়া যায় তাহলে তা শুধু দুঃশ্চিনত্দারই শুধু নয়, বরং আমাদের এই ভেবে শঙ্কিত হওয়া উচিত যে, এই ''চাবি মাইরা দিছে ছাইড়া''-ওয়ালাদের হাতেই রয়েছে বাংলাদেশের ভবিষ্যতে 'বাংলাসত্দান'-এ পরিণত হওয়া কিংবা অন্যকথায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরিণতি।
নইলে আজকের বিশ্বে এমন কোনও দেশ কি খুঁজে পাওয়া যাবে যে দেশটির জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের জন্য সেই দেশেরই নাগরিক এরকম মুখে রক্ত তুলে ফেলে? সবচেয়ে বড় কথা হলো, রাষ্ট্রের পরিচয় বহনকারী (যেমন জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা, মুদ্রা ইত্যাদি) কিছু সম্পর্কে বিরূপ মনত্দব্যকারী কিংবা এসবের প্রতি অবহেলা প্রদর্শনকারীদের রাষ্ট্রদ্রোহীর শাসত্দির বিধান রয়েছে বহু দেশে। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানী ইত্যাদি দেশগুলি এখন নতুন নাগরিত্ব গ্রহণে ইচ্ছুকদের নাগরিকত্বের প্রশিৰণ দিচ্ছে এবং রাষ্ট্রের সকল প্রতীকের প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থাশীল হওয়ার জন্য শপথ করিয়ে নিচ্ছে। এটা এ কারণেই যে, রাষ্ট্রের এইসব মীমাংসিত বিষয়াদি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে সেটা গোটা রাষ্ট্র ব্যবস্থাকেই নড়বড়ে করে তোলে এবং এর ফলে প্রতিক্রিয়াশীল চক্র শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ লাভ করে। এমন যে হিটলার, যে ৰমতায় বসে জার্মানীর বহু কিছু পরিবর্তন করেছিল কিন্তু জাতীয় সঙ্গীতটিকে অৰত রেখেছিল কারণ সেটা বদলালে তার আর ৰমতায় যাওয়া হতো কিনা সন্দেহ, যে কোনও জাতির কাছে রাষ্ট্রেও এই প্রতীক সমূহ এতোটাই মূল্যবান যে, যখনই এর ওপর আঘাত এসেছে তখনই তারা অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধ করেছে। মধ্যযুগের জাতিতে জাতিতে যুদ্ধের মূল কারণ ছিল এই স্বাতন্ত্রবোধ, পদানত জাতিসমূহের সকল পরিচিতিমূলক চিহ্নাদি মুছে ফেলে বিজয়ী জাতির উলস্নাস প্রকাশ ছিল তখনকার নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা।
এই বস্নগে যে সব অতি-মুসলমান রয়েছে তাদেরকে সালাহদিন-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছি একটু। সিরিয়া থেকে জেরম্নজালেম পর্যনত্দ দীর্ঘ পথের যুদ্ধে তিনি অনেক ছোট ছোট জাতিকে জয় করেছিলেন এবং তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে জেরম্নজালেম দখলের জন্য ক্রুসেডে অংশ নিয়েছিলেন। সমপ্রতি 'কিংডম অব হেভেন' নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে এই ক্রসেডের ওপর, তাতে দেখা গেছে সালাহদিনের সৈন্যদলের একেকটি ভাগের পতাকার রঙ একের রকম, একটি মূল পতাকার সঙ্গে প্রত্যেক জাতির স্বকীয় পতাকা। ইসলামের শুরম্নতে যা সালাহদিন পেরেছেন, একালের অতি-মুসলমানরা তা কেন পারছে না সেটা ভেবে দুঃখ পাওয়া ছাড়া আর তো কোনও পথ দেখছি না।
আজকে জাতীয় সঙ্গীত বদলের কথা বলে নানাজনে নানা যুক্তি দেখাচ্ছেন। একজন খুনীও তার করা হত্যাকাণ্ডের স্বপৰে যুক্তি দিয়ে থাকে কিন্তু বিজ্ঞ বিচারক সেসব যুক্তিকে খন্ডানোর চেষ্টা না করে প্রমাণ দাখিল করে হত্যাকারীর শাসত্দি দিয়ে থাকেন। তেমনই আমার ধারণা এদের এসব যুক্তির সামনে নতুন কোনও যুক্তি খাড়া করা বৃথা, কারণ ''চোরা না শোনে ধর্মেরও কথা'', আগেই বলেছি এদেরকে চাবি মেরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যাও বাবা চরে খাও এবার, তোমাদের শেখনো হয়েছে প্রথমেই বলবে,
ইসলাম গেলো, তাকে বাঁচাও; তারপর
বাঙালিত্ব বলে কিছুই নেই, সবকিছুর ওপরই একটা ধর্মের প্রলেপ দিতে হবে, আরবের বালিতে যা টেকেনি বাংলাদেশের মাটিতেই তা বসাতে হবে এবং কাফের না মারলে বেহেশতে যাওয়া যাবে না অতএব কাফের মারো, জাতীয় সঙ্গীত বদলাও; তারপরও না মানলে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণকারী হও _ এবং এইসব শুনে-মোসলমানরা সেটাই করছে। অথচ এরা জানে না যে, ইরান একটি মুসলিম রাষ্ট্র হলেও সেখানকার ভাষা আরবি নয়, ফারসি, কারণ সেটাই তাদের মাতৃভাষা; তাদের জাতীয় সঙ্গীত কোনও ইসলামি গান নয়, বরং সে দেশের অমিয় সুন্দর প্রকৃতিকে নিয়ে রচিত একটি সঙ্গীত; পারসিক জাতিসমূহের আত্মসম্মানজ্ঞান যে কতোটা প্রবল তা বোঝা যায় যখন তারা আরবিকে ভাষা হিসেবে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়, তারা ধর্মকে নিয়েছে কিন্তু আরবি ভাষা গ্রহণ করেনি, করেনি কারণ তারা উজবুক নয়, তারা প্রথমে পারসিক কিংবা ইরানি তারপর মুসলমান।
আসলে এতো কিছু যে লিখছি, লিখে কী হবে? কথা বলতে তো অনেক কিছুই বলা যায়, কিন্তু ''কইতে কথা বাঁধে''। ধরা যাক এই বস্নগের একজন জাতীয় সঙ্গীত বদল করে, ''আমার মনের বেদনা বন্ধু ছাড়া জানে না''-কে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে চাইছে, এরপর যদি অন্য কেউ 'হুলার লাডু, হুলার লাডু, হুলার লাডু হু''-কে জাতীয় সঙ্গীত বানাতে চায়, তখন? ক'বার পরিবর্তন করা হবে জাতীয় সঙ্গীত তবে? আসলে জাতি হিসেবে যে, আমরা শুধু শংকরই নয়, নানা বর্ণ-রক্ত-ধর্ম মিশে আমাদের চিনত্দা-চেতনাও যে নড়বড়ে হয়ে গেছে একেবারেই তার প্রমাণ হচ্ছে এটাই। নইলে জাতীয় সঙ্গীত সহ সকল রাষ্ট্রীয় প্রতীকের জন্যই অঢেল রক্তপাতের পরেও একদল মানুষ এখন আবার এসবকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে চাইছে , অবশ্য যারা চাইছে তাদের কেউইতো তো রক্ত দেয়নি, বরং বাঙালির রক্ত ঝরিয়েছে, হত্যা-ধর্ষণসহ সকল প্রকার নোংরাতেই তো তাদের শুধু হাত নয়, অসত্দিত্বই মাখামাখি, এদের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি আর কি আশা করা যায়?
দুঃখ এটাই, ভাবা গিয়েছিল এরা দুনিয়া থেকে বিদায় নিলে বুঝি এদের সঙ্গে সঙ্গে তাদের অসত্দিত্বও বিলীন হয়ে যাবে, বাঙালি মুক্তি পাবে, কিন্তু ও বাপ, এরা যে নপুংশক নয় তা বোধহয় বাঙালি ভুলে গিয়েছিল, এদের ঔরষে জন্ম নেয়া কালসাপ এখন শুধু বাংলাদেশে নয়, ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের বাইরেও, এরাই এখন ফণা তুলছে, আর তর্জন-গর্জন করছে। একটা প্রবাদ শুনেছিলাম, ''এতো দেখেছো ভালো, আরো ক'জন আসছে তেড়ে দাড়িতে জড়িয়ে পলো''..........
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×