somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ আবার কি চিকিৎসা বুঝলাম না.........

১২ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আড়াই মাসের যমজ শিশু দীপা-নীপার জ্বর হয়েছে। মা পুষ্পরানী তাদের নিয়ে এসেছেন এলাকায় হঠাৎ আবির্ভূত আমজাদ ফকিরের কাছে। আমজাদ দেখেই বললেন, শিশু দুটিকে ভূত-পেত্নিতে একসঙ্গে ধরেছে। ততক্ষণে পুষ্পরানী দেখলেন অন্য কয়েকটি শিশুকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। শিশুদের বুকফাটা কান্না দেখে পুষ্পরানী যমজ দুই মেয়েকে নিয়ে ফকিরের আস্তানা ছেড়ে যেতে বাইরে পা বাড়ান। সঙ্গে সঙ্গে আমজাদের দুই সহযোগী মনজিল ও সুরত আলী তাঁর কোল থেকে শিশু দুটিকে ছিনিয়ে নেন। এরপর আমজাদ এগিয়ে এসে প্রথমে শিশু দুটির পা কাপড় দিয়ে বেঁধে খুঁটিতে ঝুলিয়ে দেন। শিশুরা বুকফাটা কান্না শুরু করে। আমজাদের সহযোগীরা শিশুদের মাকে সরিয়ে নিয়ে যান। আধা ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখার পর পায়ের বাঁধন খুলে তাদের নামানো হয়। এরপর আমজাদ দুই হাতে দুই শিশুর পা ধরে চারদিকে চরকার মতো ঘোরাতে থাকেন। ঘোরানো শেষ হলে শিশু দুটিকে মাটিতে ফেলে প্রথমে লাথি মারতে মারতে উঠানের এ-মাথা থেকে ও-মাথা পর্যন্ত নেন আমজাদ। আতঙ্কে ও ব্যথায় চিৎকার করতে করতে প্রস্রাব করে দেয় শিশুরা। আতঙ্কিত এক শিশু আমজাদের লুঙ্গি খামচে ধরে। সবশেষে আমজাদ আড়াই মাসের শিশু দুটির পেটের ওপর উঠে দাঁড়ান। শিশুদের তখন কান্নারও শক্তি নেই। শিশুরা আবার প্রস্রাব করে দিলে ছেড়ে দেন আমজাদ। গত মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) এই প্রতিবেদকের সামনে ঘটে এই বর্বর ঘটনা।
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার খাসনগর গ্রামে দেড় মাস ধরে চলছে এই বিকৃত চিকিৎসা। রোগীদের বেশির ভাগ নারী ও শিশু। কথিত এই পীরের নাম আমজাদ হোসেন বেপারি। গ্রামের লোকজন বলে ফকির। আমজাদ দুই মাস আগেও ভ্যানে করে গ্রামে সবজি বিক্রি করতেন।
গত বৃহস্পতিবার শিশু দীপা-নীপার মা পুষ্পরানী প্রথম আলোকে বলেন, শিশুদের জ্বর ও কাশি হয়েছিল। ফকিরের কাছে আনার পর জ্বর আরও বেড়েছে। তিনি জানান, অনেকের কাছে খোঁজ নিয়েছি, ফকিরের চিকিৎসার পর কেউই ভালো হয়নি।
চিকিৎসার নামে আমজাদ চরম নির্যাতন করেন ছোট্ট শিশুদের। সব অসুখ তাঁর কাছে জিন-ভূতের আছর। তরুণী থেকে বয়স্ক নারী—সবাইকে তিনি মোটা বেত দিয়ে পেটান। মাটিতে ফেলে লাথি মারতে থাকেন। পুরুষদের চিকিৎসা চড়-থাপড়-লাথি।
গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত আমজাদের আস্তানা ও এলাকা ঘুরে তিন দিনে প্রায় ৪০০ জনকে এমন নির্মম নির্যাতনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে লাঠিপেটা শুরু হয়, চলে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। বেলা তিনটায় শুরু হয়ে সন্ধ্যায় খানিক বিরতির পর মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এই বর্বরতা। দেড় মাস ধরে এ রকম চললেও বিষয়টি প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির নজরে আসেনি।
আমজাদের ‘অমানবিক চিকিৎসায়’ যেকোনো রোগ ভালো হয়—লোকমুখে এমন প্রচার শুনে লোকজন সেখানে ভিড় করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো রোগী সুস্থ হয়েছে, এমন খোঁজ কেউ দিতে পারেননি এই প্রতিবেদককে।
সিরাজদিখানের রাজনগর স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলী আশরাফ বলেন, এটা কোনো চিকিৎসা নয়, অমানবিক নির্যাতন। মানুষকে ধোঁকা দিয়ে টাকা কামানোর ফন্দি। রোগীরা সবাই দরিদ্র ও নিরক্ষর। প্রশাসনের এটা বন্ধ করা দরকার।
চিকিৎসা নিয়েছেন যাঁরা: নতুন বাকতারচর গ্রাম থেকে এনামুল হক এসেছেন মানসিক ভারসাম্যহীন মা জরিনাকে নিয়ে। আমজাদ দেখেই বললেন, ‘ভূত ও জিন দুটোতেই ধরেছে।’ তাঁকে আমজাদের আস্তানায় রাখা হয়। সকাল-বিকেল দুই বেলা অচেতন না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে লাঠিপেটা করেন আমজাদ। সাত দিন এই প্রহার চলবে জানিয়ে এনামুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাকে শুধুই পেটাচ্ছে। অবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।’
মধ্যরাতে ভূতের চিকিৎসা: রাতে ভূতের চিকিৎসার জন্য বাড়ির উঠানে আসর সাজিয়েছেন ধূর্ত আমজাদ। ঢোল, খোল, হারমোনিয়ামসহ আছে বাদক দল। বাদ্যযন্ত্রের উচ্চ শব্দের মধ্যে সব বয়সের নারী রোগীদের এনে মেঝেতে আছড়ে ফেলা হয়। এরপর চলে উপর্যুপরি লাথি, লাঠিপেটা ও চড়-থাপড়। মারধর শেষে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে আমজাদ নিজে নাচেন এবং রোগীদেরও নাচতে বাধ্য করেন।
গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টা। এক নারী এই আসরে আসতে চাইছিলেন না। তাঁকে আমজাদের সহযোগীরা টেনেহিঁচড়ে নিয়ে আসেন। পাঁচটি ঢোল, দু-তিনটি খোল, তিনটি হারমোনিয়ামসহ নানা বাদ্যযন্ত্রের উচ্চ শব্দের মাঝে নারীর চিৎকারের শব্দ হারিয়ে যায়। তাঁকে ফকিরের সামনে এনে আছড়ে ফেলা হয়। এরপর লাথি আর মোটা বেত দিয়ে পেটানো হয়।
এরপর যে মেয়েকে আনা হলো, তিনি অবস্থা দেখে নিজেই এলোপাতাড়ি নাচতে শুরু করলেন। নাচ শেষে রোগীর কাছে আমজাদের প্রশ্ন, ‘তুই কী চাস?’ কিছুক্ষণ পর নিজেই জবাব দেন, জিন আরও নাচ দেখতে চায়। এরপর মেয়েটিকে নিয়ে নাচতে শুরু করেন আমজাদ।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে রাত তিনটা পর্যন্ত ৭১ জন রোগীকে লাথি, বেত্রাঘাত ও আছাড় চিকিৎসা দেওয়া হয়। এঁদের কয়েকজন ওসমান মোল্লার স্ত্রী বৃদ্ধ নূরজাহান, প্রতিবেশী আয়েশা বেগম, চরকুন্দলার মোহাম্মদ লিয়াকতের ছেলে নাজমুল সাত দিন ধরে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁরা কেউই সুস্থ হননি বলে জানিয়েছেন।
চিকিৎসার দৃশ্য দেখতে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে কয়েক শ মানুষ ভিড় করে আমজাদের বাড়িতে। ভিড় বাড়তে থাকলে টাকা সংগ্রহ করতে নেমে পড়েন আমজাদের খাদেম মনজিল, সুরত আলীসহ অনেকে। তাঁরা খরচের জন্য ১০ টাকা, ৫০ টাকা ও ১০০ টাকা করে দিতে বলেন। কেউ বেশি দিলে দিতে পারেন কিন্তু ১০ টাকার কম দেওয়া যাবে না।
‘এটা আধ্যাত্মিক জগত্’: আমজাদ বেপারি বলেন, ‘রোগী আসার আগেই আমি আন্দাজ পাই, কার চিকিৎসা কীভাবে করতে হবে। ছোট বাচ্চাকে পারাইছি। ফুটবলের মতো শট দিছি। আবার দেখেন পাও বাইন্ধা ঝুলাইয়া রাখছি। পাও ধইরা ঘুরাইছি। এ সবই আল্লাহর ইশারা। উনি বলে দেন, কোন রোগীর জন্য কী করতে হবে। এটাই হলো আমাদের আধ্যাত্মিক জগত্।’
শিশুদের ঝুলিয়ে রাখার বিষয়ে আমজাদ বলেন, ‘বাচ্চাদের মধ্যে শয়তানের আছর থাকে। এ জন্য ঝুলিয়ে রাখতে হয়।’ কেউ কি ভালো হয়েছে—জানতে চাইলে আমজাদের জবাব, ‘রোগ সারানোর মালিক আল্লাহ। আল্লাহ আর আমার ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।’
আমজাদের খাদেম মনজিল জানান, এই চিকিৎসায় মারধরের পর সরষের তেলই প্রধান ওষুধ। তবে এখন তিনি ডাব, মুরগি ও ডিমপড়া দিতে শুরু করেছেন। সন্তান না হলে ডিমপড়া আর ক্যানসারের জন্য ডাবপড়া দেওয়া হচ্ছে।
সরষের তেলের সঙ্গে ডাব, ডিম দিচ্ছেন কেন—জানতে চাইলে আমজাদ অর্ধেক বাংলায় ও ভুল ইংরেজিতে বলেন, ‘আল্লাহ আমারে একটা জিনিস দিছে। জিনিসটা ভালা না মন্দ, তাই জাস্টিভিট (জাস্টিফাই) কইরা দেখতাছি।’
রোগীদের মারধরের পর আমজাদ সরিষার তেল খাইয়ে দেন। বাড়ির উঠানের এক কোণে সরষের তেলের দোকানও বসেছে। আমজাদের ছোট ভাই জিন্নাত হোসেন কিছুদিন আগেও অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন, এখন উঠানে সরষের তেল, মোম ও গোলাপজল বিক্রি করছেন।
রিকশাচালক থেকে ভণ্ড পীর: আমজাদ জানান, তাঁর বয়স ৩৫ বছর। অক্ষরজ্ঞান নেই। প্রায় ১০ বছর কুয়েতে ছিলেন। প্রতিবেশীরা জানান, কিছুদিন আগেও আমজাদ গ্রামে ঘুরে ঘুরে ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করতেন। জানতে চাইলে আমজাদ বলেন, ‘তখন কেউ আমাকে ইজ্জত দিত না। অহোন পীর মানে।’
আমজাদের বাবা নাজির আলী দুই বছর আগে আত্মহত্যা করেছেন। মা সানোয়ারা বাড়িতেই থাকেন। আমজাদ চার কন্যাসন্তানের জনক। এই ভয়াবহ চিকিৎসা প্রতিদিন আমজাদের মা, স্ত্রী এবং সন্তানেরাও দেখে।
নারী-শিশুদের ওপর ছেলের এই নির্মম নির্যাতনের বিষয়ে কিছু বলতে বললে আমজাদের মা বলেন, ‘বাড়িতে অনেক লোকের সমাগম হয়, হয়তো ছেলে কিছু পাইছে।’
তাঁর পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে তাদেরও কি এই একই চিকিৎসা করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আমজাদ বলেন, ‘হ্যাঁ’।
আমজাদের কমিটি: আমজাদের কেরামতি প্রচার করছে কয়েকজন ‘খাদেম’। এঁরা কমিটিও করেছেন। কমিটির সভাপতি আমজাদের চাচাতো ভাই আরব আলী, সাধারণ সম্পাদক একই বাড়ির পিয়ার আলী, কোষাধ্যক্ষ সাইদ হোসেন ও আবুল কালাম এবং সদস্য প্রতিবেশী মনজিল, সুরত আলী, মো. হান্নান প্রমুখ।
যোগাযোগ করা হলে সিরাজদিখান উপজেলার চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমি এ ঘটনা শুনিনি। খোঁজ নেব।’ সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। আর আমরা শুনিনিও।’
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×