somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন হিমু এবং কিছু পাগলামি

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি দাঁড়িয়ে আছি একটা চৌরাস্তার মাঝখানে। চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি। ভাবছি কোন দিকে যাবো- পূর্ব নাকি পশ্চিমে, উত্তরে নাকি দক্ষিণে ? রাতের বেলা। চাঁদ উঠেছে। আজকে বোধয় পূর্ণিমা। সবশেষে ঠিক করলাম পূর্ব দিকেই হাঁটা শুরু করবো। কারণ, চাঁদটা পূর্ব দিকে উঠেছে। চাঁদ দেখতে দেখতে হাঁটবো। মনে মনে একটা কবিতা বানানোর চেষ্টা করছি-

মাথার উপর কালচে আকাশের ছাদ,
পূর্বে অপূর্ব চাঁদ ।

কবিতা কি হলো ? কি জানি ! আজ-কালকার কবিতাগুলো কেমন যেন এলোমেলো। কবিতাকে ঠিক কবিতা বলে মনে হয় না। ছন্দহীন, গন্ধহীন এবং সবশেষে অর্থহীন । আচ্ছা, ছন্দহীন কথাটা ঠিক আছে, শেষের অর্থহীন কথাটাও ঠিক আছে, গিট্টুটা লাগছে মাঝখানে- মানে, গন্ধহীন বললাম কেন ? কবিতার আবার গন্ধ-টন্ধ থাকে নাকি ? কবিতার গন্ধ আছে কি নেই- এটা নিয়ে এখন আর ভাবতে ইচ্ছে করছে না। কারণ, আমি এখন কিছু একটার উৎকট গন্ধ পাচ্ছি। উৎকট গন্ধ ছড়ানোর উৎসটা খুঁজছি, আশপাশে তাকাচ্ছি কিন্তু গন্ধের উৎসটা চোখে পড়ছে না। ভাবলাম গন্ধটা অনুসরণ করে গেলে কেমন হয় ? গন্ধই দেখিয়ে দেবে তার উৎস। না, গন্ধ বেশিক্ষণ অনুসরণ করতে হলো না। সামনেই ডাস্টবিন। কয়েকটা কুকুর সেখানে যেন কী করছে। জনমানবশূন্য রাস্তা, আমি একা একা হাঁটছি। গন্ধটা এখন আর নাকে লাগছে না। ডাস্টবিন ছেড়ে অনেক দূর চলে এসেছি বোধয়। পকেটের মোবাইলটা বেজে উঠলো। অচেনা নম্বর, ফোনটা রিসিভ করলাম। ওপাশ থেকে সুরেলা কন্ঠে কে যেন হ্যালো বললো। কন্ঠ শুনে প্রথমে চমকে উঠেছিলাম। হুট করে মেয়ে মানুষের কন্ঠ শুনলেই কেন যেন আমি চমকে উঠি। আমার বোধয় এ ব্যাপারে চমকানোর রোগ আছে।
হ্যালো, কে বলছেন ?- আমি জিজ্ঞেস করলাম।
নাম জানাটা কি খুব দরকার ?
না, খুব দরকার না। নাম না জানা লোকের সাথে কথা বলতে আমার বরং ভালোই লাগে। একটা মানুষের সাথে কথা বলছি এবং সে মানুষটা আমার কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত, সব কথা বলা শেষে মানুষটা অপরিচিত থেকে গেলে আমার আরো বেশি ভালো লাগে। খুশিতে তিনটা লাফ দিতে ইচ্ছা করে।
অ্যাই, ফাইজলামি করবা না।
আচ্ছা, করবো না।
আমি ফারিয়া। চিনতে পারো নি ?
আমি নিজেকেই এখনো চিনি নি। মোবাইলে কন্ঠস্বর শুনেই তোমাকে চিনে ফেলবো ? এটা কীভাবে সম্ভব ?
দেখ, আমার সাথে ফিলোসফি কপচাবে না। ফিলোসফি আমার কাছে বাজে লাগে, একদম বাজে।
ঠিক আছে, আমি ফিলোসফি কপচাবো না। আচ্ছা, কপচানো কথার অর্থ কী ?
ওপাশে ফারিয়া নিশ্চুপ। মনে হয় রেগে যাচ্ছে। মানুষকে রাগাতে আমার ভালো লাগে। মেয়ে মানুষদের রাগাতে আমার একটু বেশি ভালো লাগে। আর এই ফারিয়া নামের মেয়েটিকে রাগাতে আমার আরো বেশি ভালো লাগে।
ও, কপচানো কথার অর্থ তুমি জানো না, সেটা তুমি আগে বলবে তো। আমি জিজ্ঞেস করতাম না।- আমি বললাম।
কি করছো তুমি ?- একটু রাগত স্বরে ফারিয়া জিজ্ঞেস করলো।
নাইট ওয়াক।
মানে ?
মানুষ মর্নিং ওয়াক করে। আমি নাইট ওয়াক করি। মাঝেমাঝে অবশ্য নুন ওয়াকেও বের হই।
আবার ফাইজলামি ?
ফাইজলামি কই করলাম ? আমি তো রাস্তা দিয়েই হাঁটছি। রাতের বেলা। তাই বলালাম নাইট ওয়াক।
ফারিয়া রাগ হয়ে ফোন রেখে দিল। আমার মিশন সাকসেসফুল হলো। প্রায় প্রতিদিনই এই মেয়েটা আমাকে ফোন দিবে এবং রাগ হয়ে একসময় ফোন রেখে দিবে। ফিলোসফি নাকি তার ভালো লাগে না, কিন্তু আমার ধারণা সে ফিলোসফি টাইপের কথা শোনার জন্যই আমাকে ফোন দেয়। প্রিয় পাঠক, একটা কবিতার লাইন মনে পড়ছে। কবিতাটা মনে হয় আমার নিজের। এর ছন্দ, গন্ধ, অর্থ সবই আছে বলে আমার ধারণা।

পৃথিবীটা বোঝা বড় দায়
কে জানে, কখন কে কী চায়!

নিজের ভিতরে এখন একটা রবীন্দ্র রবীন্দ্র অনুভূতি কাজ করছে। রবীন্দ্র নাথের অনুভূতি নিজের ভিতরে কাজ করলে তখন আমি তাকে রবীন্দ্র অনুভূতি বলি। রবীন্দ্র+অনুভূতি = রবীন্দ্রানুভূতি। বুঝলাম বাংলা ব্যাকরণেও আমার দক্ষতা বেশ ভালো। রাস্তা দিয়ে না হেঁটে বাংলা ব্যাকরণ বই লিখলেও একটা কাজ হতো। তাই তো বলি, আম্মা কেন আমাকে অকর্মার ঢেঁকি বলে ডাকে। কর্মহীন ঢেঁকিকে বলে অকর্মা ঢেঁকি, আর কর্মহীন মানুষের ঢেঁকিকে বলা হয়- অকর্মার ঢেঁকি । এই যেমন কোনো কাজ নেই দেখে এই অখাদ্য-কুখাদ্য টাইপের লেখাটা লিখে ফেললাম। প্রিয় পাঠক, সময় নষ্ট করে আমার এই উদ্ভট টাইপের লেখাটা পড়ার কোনো প্রয়োজন ছিল কি ?

৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×