somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তিযুদ্ধের অসাধারন ছবি 'গেরিলা' মিডিয়া ফায়ার ডাওনলোড লিংক সহ

১২ ই নভেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গেরিলা ছবির পোস্টার দেখতে দেখতেই ছবিটির উপর খুব আগ্রহ বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু দেখার সময় করতে পারি নাই। আজ ইন্টারনেট থেকে ডাওনলোড করে দেখে খুবই আবেগতাড়িত হয়ে এই পোস্ট লিখতে বসলাম। গেরিলা ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধের ঘটনার উপর নির্মিত। আমার মতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক যে কয়টি ছবি মুক্তি পেয়েছে গেরিলা তার মধ্যে সবচেয়ে ভাল ও দক্ষ হাতের নির্মান। আগুনের পরশমনি ছবির মত এটাও হৃদয় স্পর্শ করার মত। গেরিলা ছবিতে সেসময়কার রাজাকার, আল বদর আল শামসদের কুকর্মের দলিলও বলা যায় এই ছবি। বাংলাদেশি হয়েও পাকিস্তানের এজেন্ট হয়ে বাংলাদেশিদের জবাই করে হত্যা, নারীদের ধরে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার অসাধারন কিছু প্রামান্য দৃশ্য আছে এই ছবিতে। রাজাকারদের বিচার অবশ্যই বাংলাদেশের মাটিতে হওয়া চাই।

কাহিনীঃ
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী বীর বাঙালীর উপর অতর্কিত হামলার পর হাজার হাজার বাঙালী এক রাতে নিহত হয়। শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। স্বাধীনতার যুদ্ধ। যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকেই নিখোঁজ হন সাংবাদিক হাসান। বিলকিস (জয়া আহসান) যখন হাসানকে (ফেরদৌস) সেদিন ঘর থেকে বের হতে বাধা দেয় তখন দর্শক বুঝতে পারেণ হাসান আর ফিরে আসবে না। দায়িত্বশীল, সচেতন, দেশপ্রেমিক, সাহসী বিলকিস ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়া সকল নারীদের প্রতিনিধি। স্বামীকে হারিয়ে বিলকিস ব্যাকুল হয়ে যায়। হাসানকে খুঁজতে বিলকিস বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে। পরিচিত হয় অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে। প্রাথমিকভাবে বিলকিস মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সাহার্য করতে থাকে। এভাবেই বিলকিস জড়িয়ে যায় যুদ্ধে। বেশ কয়েকটি অপারেশনে বিলকিস সরাসরি অংশগ্রহন করে। উড়িয়ে দেয় পাক আর্মিদের ডিনার পার্টির ক্যাম্প। প্রকাশ করতে থাকেন একটি পত্রিকা যেখানে যুদ্ধের বিভিন্ন খবর প্রকাশিত হতে থাকে। পত্রিকাটির নাম গেরিলা।



মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করার জন্য নিজ স্ত্রী সন্তানদের সামনে থেকে আলতাফ মাহমুদকে (আহমেদ রুবেল) পাক সেনারা ধরে নিয়ে যায় তা দেখে মনে হয়েছে সত্যিই কি নির্মম সেই মূহূর্ত্বগুলো যা বছরের পর বছর আলতাফ মাহমুদের স্ত্রী, সন্তানেরা বয়ে বেড়িয়েছেন। এরকম আরও কত পরিবার সেই সৃতি বয়ে বেরাচ্ছে।

বিলকিস শহর ছেড়ে রংপুরের জলেশ্বর গ্রামের দিকে ছুটে যেতে থাকে ট্রেনে। মুক্তিযোদ্ধারা ট্রেন লাইন উড়িয়ে দেয়ায় বিলকিসকে সমস্যায় পরতে হয় এবং মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ তাকে সাহায্য করে ছোট ভাই খোকনকে খুঁজতে । খোকন মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার। বিলকিস নিজের চোখে দেখে গ্রামে গ্রামে পাক বাহিনী এবং শান্তি বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতনের চিহ্ন। জলেশ্বরে যুদ্ধের এক পর্যায়ে পাক বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে খোকন। এদিকে খোকন বাহিনীর হাতে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে পাকসেনারা ক্যাম্প হারায় ও অনেক সৈন মারা ও বন্ধী হয়। হিংসায় পাক হানাদারের ইচ্ছায় রাজাকাররা মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার খোকনকে জবাই করে হত্যা করে।



খোকনের খোজ ব্যাকুল বিলকিস লাশের স্তুপের মাঝে খোকনের লাশ খুজে পায়। কিন্তু ধরা পড়ে মুক্তিযোদ্ধা বিলকিস ও সিরাজে পাক বাহিনীর হাতে। পাকসেনা কমান্ডার (শতাব্দি ওয়াদুদ) বিলকিসকে ধর্ষন করতে চায় কিন্তু দেশমাতৃকার জন্য , স্বাধীনতার জন্য সাহসী বিলকিস গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জীবন দেয়।এই আত্বঘাতী গ্রেনেড হামলায় উড়ে যায় ঘোটা মিলিটারি ক্যাম্প। মনে পরে মুক্তিযোদ্ধে মাতৃভূমির জন্য জীবন বিলিয়ে দেওয়া লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার কথা। শ্রদ্ধায় মাতা নত হয়ে আসে তাদের প্রতি।

সবার অভিনয়ই খুব ভাল হয়েছে তবে জয়া আহসান আর শতাব্দী ওয়াদুদ এই দুইজনের অভিনয় এক কথায় আসধারন। জয়ার অভিনয় যতটা আবেগী করেছে, শতাব্দীর অভিনয় করেছে ঠিক ততটাই হিংস্র। রাজাকারদের জবাই করার দৃশ্যগুলো দূর্বল চিত্তের লোকজনের জন্য দেখা সহজে হবে বলে মনে হয়না। বিলকিস ও তার ভাই খোকনের ছোটবেলার কাল্পনিক দৃশ্যগুলো মনে বেদনার সৃষ্টি করে, অনুভব করি ভাই বোনের রক্তের সম্পর্কের। ভাই হারানোর বেদনায় বিলকিস যখন চিৎকার দিয়ে উঠে তখন চোখের পানি আটকে রাখা মুশকিল। অন্যদিকে হাসান ও বিলকিস এর দাম্পত্য সম্পর্কের দৃশ্যগুলো দেখলে একদিকে যেমন চোখে পানি আসে অন্যদিকে ভালবাসায় কানায় কানায় ভরে উঠে মন।


ছবিতে আরও আছেন; আজাদ আবুল কালাম, শম্পা রেজা, মাসুম আজিজ, মিরানা জামান, এটিএম সামসুজ্জামান সহ আরও অনেকে।

ছবিটি খুব পরিশ্রম করে নির্মাণ করেছেন পরিচালকঃ নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, প্রযোজনা করেছেনঃ এষা ইউসুফ এবং ফরিদুর রেজা সাগর।


নীচের ৪ টি লিংক থেকে ডাউনলোড করে উইনরার দিয়ে এক্সট্রাক্ট করে নিন।

পার্ট ১
পার্ট ২
পার্ট ৩
পার্ট ৪

এটা ইউ টিউব লিংক। ফুল মুভি সৌজন্যেঃ জিসান শা ইকরাম

পোষ্টের লেখার সুত্র ও ছবি: ইন্টারনেট, বিভিন্ন বাংলা ব্লগ
http://www.amarbornomala.com/details7607.html



সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:৪২
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পূর্বপুরুষের অপরাধের দায় বর্তমান জেনারেশনকে দেওয়া অন্যায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৩

"দোস্ত, ওরা আমাকে এক পাকিস্তানীর সাথে বন্ধুত্ব করতে বলছে যে কিনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উলাটা-পাল্টা কথা বলেছে। আমি সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে রুম থেকে বের হয়ে এসেছি।" রাতেরবেলা দেখা হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ ও আত্মহত্যা (তথ্য এআই দ্বারা যাচাইকৃত)

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:১৯

গত ১ বছরে বাংলাদেশে আত্মহত্যার সংখ্যা প্রায় ১৫,০০০ জনের মতো। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৪০–৪১ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি।

বাংলাদেশে আত্মহত্যার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান (২০২৫–২০২৬):
**মোট আত্মহত্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যত স্বপ্ন।

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭

পাঁচ বছর আগে এই গানটা লিখেছিলাম। আজ গানে 'পরিবর্তন' করলাম।
ঝগড়া করতে চাওয়া সব মানুষদের উৎসর্গ করছি। ;)



ভবিষ্যত সম্পূর্ণ একটা স্বপ্ন
যেখানে তুমি আমি বাধাহীন
আজকের দিনটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনে কিছু করা বলতে আসলে "প্রচুরস" টাকা কামানো বলে!

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৩ রা জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৯

স্কুলে যখন ছিলাম, তখন "প্রচুরস" শব্দটা আমরাই তৈরী করি। প্রচুর দিয়েও যখন যথেষ্ট বোঝানো যায় না, তখন "প্রচুরস" ব্যবহার করা হয়, প্রচুরের প্লুরাল আর কি।



আমার আব্বার বইয়ের দোকান ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পতনের অপেক্ষায়...

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০


(ছবিটার পুওর কোয়ালিটির জন্য দুঃখিত। নিজের তোলা এর চেয়ে ভালো কোন ছবি পেলে পরে এটা রিপ্লেস করে দিব)

আমরা এখন...
পাকাফল হয়ে হয়ে ঝুলে আছি,
ভূমিপানে নতমুখে,
পতনের অপেক্ষায়....... ...বাকিটুকু পড়ুন

×