somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নড়াইল, ছোট্ট সুন্দর এক শহর

০৭ ই জুলাই, ২০১১ দুপুর ১২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাবা সরকারি চাকুরি করতেন এবং সেই সুবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বড় হয়েছি। বেশ কয়েকটা শহর, মফস্বল শহর, ছোট /অতিছোট শহরে কেটেছে আমার ছেলেবেলা আর ছাত্র জীবন। যে শহর গুলোর অন্তত কিছু স্মৃতি মনে আছে সেগুলো: বরিশালের কলসকাঠী, নড়াইল, গোপালগন্জ, নারায়নগন্জ, মতলব, পটুয়াখালী, মেহেরপুর ও ঢাকা। নিজের চাকরির সুবাদে থেকেছি নারায়নগন্জ, মুন্সিগন্জ, খুলনা এবং ঢাকা। আমার দেশের বাড়ী সাতক্ষীরা শহর, যদিও সেখানে ছেলেবেলা, চাকরি জীবন বা অবসর জীবনে কখনই স্থায়ী ভাবে থাকা হয়ে ওঠেনি। প্রায় ৬০ বছরের এই জীবনে ৩৬৫ x ২ = ৭৩০ দিন থেকেছি কিনা সন্দেহ। এছাড়া বিভিন্ন কারনে বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটা শহরে গিয়েছি। ছেলেবেলায় নড়াইলে থেকেছি দুই বার। ক্লাস ওয়ার থেকে ফোর পর্যন্ত পড়েছি দিলরুবা গার্লস স্কুলে (বর্তমানে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়) এবং বি কম পাশ করেছি নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে। দুই বার থাকার কারনে বা জীবনের সবথেকে সোনালী সময়ের অনেকটা কাটানোর কারনে অথবা অন্য যে কোন কারনে নড়াইল আমার সবথেকে প্রিয় শহর। শুধু আবেগ নয় নড়াইল আসলেই খুব সুন্দর একটা শহর। চিত্রা নদী শহরের পাশদিয়ে একে বেকে বয়ে চলে গিয়েছে। নদীটা এতই সুন্দর না দেখলে বিশ্বাস হবে না। নড়াইল শহর দুই ভাগে বিভক্ত নড়াইল ও রূপগন্জ। আগে নড়াইল ও রূপগন্জ আলাদা দুইটা অংশ ছিল এখন শহর বড় হয়ে দুই অংশ এক হয়ে গিয়েছে। নড়াইলের প্রধান সড়কটিও খুব সুন্দর। জেলা প্রধানের বাসা থেকে গোরস্থান পর্যন্ত রাস্তার পাশে ছিল বিশাল বিশাল দেবদারু গাছের সারি। এখনোও কিছু গাছের অস্তিত্ব রয়ে গিয়েছে। ২০০৯এর কোরবানী ঈদের পরদিন সাতক্ষীরা থেকে নড়াইল বেড়াতে গিয়েছিলাম সাথে ছিল আমার দুই ভাই আর আমাদের পিচ্চিরা মোট ১০ – ১১ জন। নড়াইলের এক সময়ের তুখোড় শিল্পী ও সঙ্গীত গুরু বাবু শুভাশিষ বাগচী আমাদের জন্য সুন্দর এক নৌভ্রমনের ব্যাবস্থা করেছিলেন আর বৌদির কল্যানে নৌকায় খাবার জন্য ছিল বৈকালিক নাস্তার আয়োজন। বিকালে নৌকায় চিত্রা নদীতে বেড়ানো এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা, সুযোগ থাকা সত্বেও যদি নৌকায় করে চিত্রায় না বেড়ান তবে বঞ্চিত হবেন রোমাঞ্চক এক অনুভুতি থেকে। চিত্রা নদীতে পেতে পারেন আর এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা, ভোদড় দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য দেখা। এই নদীতে এখনো জেলেরা ভোদড় দিয়ে মাছ ধরে, যদি ভাগ্য ভাল থাকে তবে সে দৃশ্যও দেখতে পারেন। এখন চিত্রার পাড়ে ভ্রমন বিলাসীদের জন্য একটা resortও হয়েছে যেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে যাওয়া যায়। নড়াইলের জমিদার বাড়ীও খুব নাম করা। যদিও এখন কিছুই নেই। অনেক বড় আর সুন্দর ছিল, আমাদের যে স্বভাব নিজেদের ঐতিহ্য নিজেরাই রক্ষা করতে পারিনি। এখন দেখলে শুধু দুঃখ বাড়ে। কেবল মাত্র একটা মন্দির আর চিত্রা নদীর ঘাটটা অবশিষ্ট আছে। যারা নড়াইলে যাননি তারা যদি কোন দিন নড়াইলে বেড়াতে যান তবে বুঝবেন নড়াইল কেন আমার প্রিয় শহর।

অনেক দিন আগে সানন্দায় মানষ সরোবরের উপর একটা ভ্রমন গাইড পড়েছিলাম, লেখাটা এত প্রানবন্ত ছিল যে মনে হচ্ছিল চোখের সামনে মানষ সরোবর দেখছি এবং এখনও ভাবি ইশ্.. যদি মানষ সরোবরে বেড়াতে যেতে পারতাম। আমি একেবারেই ভাল লিখতে পারিনা তাই আমার লেখা পড়ে কারো মনে নড়াইল বেড়াতে যাবার সাধ জাগবে সে আশা একেবারেই করিনা। তবুও আমার লেখা পড়ে কারও মনে যদি নড়াইল সন্বন্ধে সামান্য আগ্রহ জন্মে তবে নিজেকে ধন্য মনে করব।

ভোদড় দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্যের একটা YouTube link http://www.youtube.com/watch?v=lqcMYMuMmQY

গোগল ম্যাপে চিত্রা নদী
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০১২ সকাল ১০:১৮
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×