বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে এক রোগীকে যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ অভিযোগের কারণে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ ডা. সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। গতকাল সকালে ঘটনাটি ঘটে। এদিকে ডা. সাইফুল ইসলাম জোট সরকারের আমলে বিএসএমএমইউতে চাকরি পেলেও স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের (স্বাচিপ) সদস্য বলে জানা গেছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাকে বিএনপি সমর্থিত ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সদস্য বলে প্রচার করা হচ্ছে।
বিএসএমএমইউ সূত্র জানায়, গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় বিএসএমএমইউর চক্ষু বহির্বিভাগে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী তার কাছে চোখ দেখাতে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিত্সক ছিলেন ডা. সাইফুল ইসলাম। অভিযোগ পাওয়া গেছে, ডা. সাইফুল চোখ দেখার এক পর্যায়ে ওই রোগীর ওপর যৌন নিপীড়ন চালায়। ওই ছাত্রী কোনো রকম সেখান থেকে বের হয়ে যান। পরে তার বড় বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রীকে ঘটনাটি জানান। বোন ঘটনাটি বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীদের কাছে জানালে শিক্ষার্থীরা সঙ্গে সঙ্গে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে গিয়ে ওই চিকিত্সকের কক্ষ অবরোধ করে।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় এক ঘণ্টা বহির্বিভাগে রোগী দেখা বন্ধ থাকে। পরে কর্তৃপক্ষ চক্ষু বহির্বিভাগে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ তাত্ক্ষণিক আলোচনায় বসেন। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. সাইফুল ইসলামকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এ ব্যাপারে ডা. সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। তিনি রোগীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেননি।
বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল মজিদ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, মৌখিকভাবে ঘটনা জানার পর অভিযুক্ত ডাক্তার সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে ঘটনা উদ্দেশ্যমূলক কিনা তদন্ত করে দেখা হবে। এ লক্ষ্যে হাইকোর্টের নির্ধারিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন আইনের আওতায় বিএসএমএমইউ’র পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ডা. নূরজাহান বেগমকে প্রধান করে এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. জাকারিয়া স্বপনকে সদস্য সচিব করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ছাত্রদের কোনো প্রকার অপ্রীতিকর কাজ করতে দেইনি। আর যে ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তা প্রমাণিত হলে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ডা. সাইফুল ইসলাম ড্যাবের সদস্য কিনা বিএসএমএমইউ শাখা ড্যাবের সভাপতি ডা. সাইফুল ইসলাম সেলিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের সময় চাকরি পেলেও তিনি ড্যাবের কোনো সদস্য নয়। ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্যই কেউ কেউ তাকে ড্যাবের সদস্য বলে প্রচার করছে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সমর্থক বিএসএমএমইউ শাখার স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের (স্বাচিব) প্রভাবশালী নেতা ও চর্ম যৌন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আগা মাসুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে গত বছর মে মাসে তারই চিকিত্সক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। হাসপাতালের অনারারি চিকিত্সক ওই ছাত্রী অভিযোগ করেন, অধ্যাপক আগা মাসুদ চৌধুরী তাকে কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ পাওয়ার পর এ বিষয়ে অধ্যাপক নূরজাহান বেগমকে প্রধান করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর কয়েক দিন পরে ৪ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি বাদ দিয়ে নতুন কমিটি করার কথা জানান কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিত্সকরা বলেন, তদন্ত এতই নিরপেক্ষ হচ্ছে যে এ ব্যাপারে আর কিছুই হয়নি। কারণ তিনি স্বাচিপের লোক।
Click This Link
Akber RAbby
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




