somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

করিডা ডি টোরস কাকে বলে?

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ৯:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

করিডা ডি টোরস' কথাটির অর্থ ষাঁড়ের লড়াই। প্রাচীন ফরাসিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত অপরাধীকে অতিকায় একটি ষাঁড়ের সামনে ছেড়ে দেয়া হতো। প্রাচীর ঘেরা একটি স্বল্প পরিসর স্থানে চলত ষাঁড় ও মানুষের লড়াই। ষাঁড়টি লম্বা ও খাড়া দুটো শিং বাগিয়ে তেড়ে যেত হতভাগ্য মানুষটির দিকে। মানুষটিকে বাঁচার জন্য মরিয়া হলে লড়াই করতে হত। ষাঁড়টাও এমন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যে, যতক্ষণ পর্যন্ত তার প্রতিদ্বন্দ্বীর দেহটি নিঃসার হয়ে না পড়ত ততক্ষণ নিবৃত্ত হতো না। শুধু কি তাই? শত শত দর্শক জড়ো হতো এ মরণ যুদ্ধ স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করে আনন্দ উপভোগ করার জন্য। ফ্রান্স ছাড়া পর্তুগাল এবং স্পেনেও এক সময় এ খেলা খুব জনপ্রিয় ছিল। এর মধ্য দিয়েই বীরত্বের পরিচয় দেওয়ার নৃশংসতার পন্থা আজও সেসব দেশে প্রচলিত রয়েছে। মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী জেনেও মানুষ মরণদূত ষাঁড়ের সঙ্গে লড়াইয়ে লিপ্ত হতো। হাজার হাজার দর্শকের সামনে চলত মানুষের বীরত্ব প্রদর্শনের প্রয়াস। তবে প্রতি ক্ষেত্রে যে মানুষই মৃত্যুর শিকার হতো এমন ছিল না। গায়ের জোর ও বুদ্ধির কৌশল প্রয়োগ করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুর্ধর্ষ ষাঁড়টিকেও প্রতিদ্বন্দ্বী মানুষটি কব্জা করে ফেলত। তার শিং ভেঙে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটাত। প্রাণনাশ করে লাভ করত শ্রেষ্ঠ বীরের সম্মান। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যেত যোদ্ধা ষাঁড়টির মেজাজ মর্জি ভালো না থাকলে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হতে উৎসাহ প্রকাশ করছে না। তখন তাকে উত্তেজিত করার জন্য তার সামনে এক টুকরো লাল কাপড় নাড়াতে হতো। ব্যাস, ক্রোধে ফোঁস ফোঁস করতে করতে ঝাঁপিয়ে পড়ত প্রতিদ্বন্দ্বীর ওপর। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ষাঁড়টির মধ্যে উত্তেজনার সঞ্চার করতে কেবলমাত্র লাল কাপড় ব্যবহার হতো কেন? লাল রং ছাড়া অন্য কোনো রং কি ষাঁড়কে ক্ষুব্ধ করে তুলতে সক্ষম নয়? অবশ্যই সক্ষম। জীববিজ্ঞানীদের মতে ষাঁড় বর্ণান্ধ। অতএব তার কাছে লাল, নীল, কালো বা সাদা সবই সমান। তারা রংয়ের পার্থক্য বোঝে না বলেই তাদের সামনে যে কোনো কাপড় নাচালেই তারা রেগে একেবারে অগি্নশর্মা হয়ে যায়। ষাঁড়ের প্রতিদ্বন্দ্বী যোদ্ধা 'মাটাডোর' নামে পরিচিত।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×