পরম করুণাময় ও অশেষ মেহেরবান আল্লাহর নামে শুরু করছি।
কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান সংগতিপূর্ণ না সংগতিহীন
মূল : ডাঃ জাকির নায়েক
অনুবাদ: মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম মল্লিক
ভূমিকা:
পৃথিবী নামক এ গ্রহে মানব অস্তিত্বের ঊষালগ্ন হতে মানুষ সর্বদাই বিশ্বপ্রকৃতিকে জানতে অনুসন্ধান চালিয়েছে , বুঝতে চেয়েছে সৃষ্টি পরিকল্পনায় তার পদমর্যাদা এবং জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য । সত্য -অনুসন্ধানের এ ধারাবাহিকতায় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নানা সভ্যতার মধ্যদিয়ে সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমায় সুসংগঠিত ধর্মই মানব জীবনকে করেছে সুবিন্যস্ত , বহুলাংশে নিরুপণ করেছে ইতিহাসের গতিধারাকে। কিছু ধর্ম আছে বই আকারে বিদ্যামান । এগুলো ঐশী প্রত্যাদেশ বলে এদের অনুগামীগণ দাবী করেন । আর কিছু ধর্ম রয়েছে যা কেবলমাত্র মনুষ্য অভি্জ্ঞতা প্রসূত।
ইসলামী বিশ্বাসের বুনিয়াদী উৎস হলো আল কুরআন। মুসলমানগণ বিশ্বাস করে যে, এটাও পুরোটাই আল্লাহর প্রত্যাদেশ ; সকল মানুষের জন্য সঠিক পথের দিশা। যেহেতু কুরআনের বাণী সকল কালের জন্য উপযোগী বলে বিশ্বাস করা হয় , তাই প্রত্যেক কালের জন্য এটা হবে প্রাসঈকি ও সামন্জস্যপূর্ন। কুরআন কি এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ? প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের আলোকে কুরআন যে আল্লাহর প্রত্যদেশ মুসলমানদের এই বিশ্বাসের বস্তুনিষ্ঠ ব্যাখ্যা প্রদানের আমি ইচ্ছা পোষন করি এই পুস্তিকাটিতে ।
বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে এমন এক সময় ছিলো যখন আলৌকিক ঘটনা বা এমন কিছু যাকে আলৌকিক বলে মনে করা হতো ( ধারণাকৃত আলৌকিক ঘটনা) এসব কিছুই মানবিক যুক্তি ও বিচার বুদ্ধির উপরে অগ্রগণ্যতা লাভ করতো । কিন্তু আমরা এই অলৌকিক শব্দটিকে কিভাবে সজ্ঞায়াতি করব?
অলৌকিক ঘটনা হল এমন কিছু যা জীবনের স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে ঘটে এবং যার কোনো ব্যাখ্যা নেই মানুষের কাছে । যা হোক আমাদের অবশ্যই সতর্ক হতে হবে কোনো কিছুকে 'অলৌকিক' হিসেবে গ্রহণ করার পূর্বে। ১৯৯৩ সনে মুম্বাই এর টাইমস অব ইন্ডিয়া (The Times of India, Mumbai) প্রকাশ করে, বাবা পাইলট নামে এক সাধু পরপর তিন দিন ও রাত এক জলধারের মধ্যে তার নিমজ্জিত অবস্হায় থাকার দাবী করে । যে জলধারে সে এই কৃতিত্বপূর্ণ অলৌকিক কাজটি সমাধা করেছে বলে দাবী করে , তার তলদেশ সাংবাদিকগণ পরীক্ষা করতে চাইলে সে ব্যক্তি তাদেরকে এ কাজের অনুমতি দিতে অস্বীকার করে । সে যুক্তি প্রদর্শন করে এ প্রশ্ন করে যে, "মায়ের যে গর্ভ সন্তান প্রসব করে সে গর্ভকে কিভাবে একজন পরীক্ষা করতে পারে ?...স্পটত প্রতীয়মাণ হয় যে , সাধুটি কোনো কিছু লুকানোর চেষ্টা করছে। আসলে তার এটা ছিলো শুধুমাত্র জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য প্রচার লাভের কৌশল। এটা তো সুনিশ্চিত যে, কোনো আধুনিক মানুষ যার নূন্যতম যৌক্তিক চিন্তাবাভনার অস্পষ্ট ধারণাও আছে তিনি কখনও এটাকে একটি অলৌকিক ঘটনা বলে গ্রহণ করবেন না।
যদি এরুপ মিথ্যা অলৌ্কিকতা দেবত্বের প্রমাণ হয় তাহলে পিসি সরকার যিনি তার নিপুণ যাদুকরী কৌশল , মোহময়তা -ঐন্দ্রজালিকতার জন্য বিশ্বিখ্যাত যাদুকর হিসেবে পরিচিত , তাকেই আমাদেরকে সর্বশেষ্ঠ দেবতুল্য মানুষ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
ঐশী উৎসের দাবীদারই পারতপক্ষে সে তার নিজেরই অলোকিকতার দাবী করে। যে কোনো যুগে এ দাবীর যথার্থতা সে যুগের মানদন্ডের বিচারে সহজেই প্রতিপাদন যোগ্য হাওয়া উচিত । মুসলমানগণ বিশ্বাস করে কুরআনই হলো আল্লাহর সর্বশেষ্ঠ ও চূড়ান্ত প্রত্যাদেশ- সকল আলৌকিক ঘটনার মধ্যে কুরআন হলো সর্বশ্রেষ্ঠ অলৌকিক কিতাব যা অবতীর্ণ হয়েছে মানব জাতীর প্রতি করুণারুপে। অতএব আসুন আমরা এ বিশ্বাসের যথার্থতা অনুসন্ধান করে দেখি।
মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নয় । ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে বল্গে লেখাটি পোষ্ট করার ব্যাপারে সংগতিপূর্ণ মন্তব্য করলে আশা করি উৎসাহিত হব।
এই লেখাটি পর্ব হিসেবে প্রকাশ করা হবে এবং প্রতি শক্রবার ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

