আমাদের মনে রাখতে হবে, অযত্নে-অবহেলায় ও নির্যাতনে বেড়ে ওঠা শিশু অদূরভবিষ্যতে শিশু নির্যাতক এমনকি সন্ত্রাসীও হতে পারে। হজরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, প্রত্যেক শিশু তার স্বভাব (ইসলাম গ্রহণের যোগ্যতা) নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার মা-বাবা তাকে ইহুদি ধর্মে দীক্ষিত করে বা খ্রিস্টান বানায় বা নক্ষত্রপূজারি করে গড়ে তোলে। ছহিহ ইবনে হিব্বান।
অর্থাৎ প্রতিটি শিশুই তার ফিতরাত অনুযায়ী মুসলিম হিসেবে জন্ম নেয়। পরবর্তীতে পিতা-মাতার লালন-পালন ও পরিবেশ তাকে ইহুদি, নাছারা, নক্ষত্রপূজারি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। অনুরূপ ভালো পরিবেশ শিশুকে ভালো মানুষ হতে শেখায় আর খারাপ পরিবেশ শিশুকে বিকৃত মানসিকতায় গড়ে তোলে।
শিশুদের নির্যাতনের অন্যতম একটি দিক হলো যৌন নির্যাতন। ভাবলে সত্যিই অবাক হতে হয় কত নীচ, হীন ও ঘৃণ্য মানসিকতার অধিকারী হলে শিশুদের যৌন নির্যাতনে বাধ্য করতে পারে।
শিশুরা বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ কর্তৃক যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। যেমন_ পরিবারের সদস্য, নিকট আত্মীয়-স্বজন, গৃহশিক্ষক, সহপাঠী, শ্রেণী শিক্ষক, এলাকার বখাটে ছেলে ও বিকৃত চরিত্রের বন্ধু-বান্ধব কর্তৃক যৌন নির্যাতনের শিকার হতে দেখা যায়। এসব নির্যাতনের বিষয় শিশুরা কারও কাছে ব্যক্ত করতে পারে না। আবার অনেকে সহ্য করতে পারে না বিধায় এ পাপের গ্লানি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আত্মহননের পথকে যুক্তিযুক্ত মনে করে। এভাবে অকালে ঝরে যায় অসংখ্য কিশোরীর প্রাণ। হয়ে যায় অসংখ্য স্বপ্নের সমাধি। আর এ নির্যাতনের হোতারা বীরদর্পে সমাজে ঘুরে বেড়ায় যেন তাদের শাস্তি প্রদান তো দূরের কথা তাদের প্রতি চোখ তুলে তাকানোর সৎ সাহস কারও নেই।
জিনা, ব্যভিচার ও যৌনাচার ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যেমন বড় পাপ তদ্রুপ সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও মারাত্মক অন্যায়। যাকে সমাজের পরিভাষায় সাধারণত অসামাজিক কাজ বলে ব্যক্ত করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক লোকদের ব্যভিচার যেমন বর্জনীয় তেমনিই অপ্রাপ্ত বয়স্ক তথা শিশুদের সঙ্গে ব্যভিচার ও যৌন নির্যাতন কঠিনভাবে দমন করতে হবে। যৌনাচার একটি ইসলাম নিষিদ্ধ কাজ। এ ব্যাপারে আল্লাহ্তাআলা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন, 'তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।' সূরা বনি ইসরাইল-৩২
অত্র আয়াতের মাধ্যমে ব্যভিচারের সুযোগ ও সূত্রপাত ঘটানোর সব পথকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ আয়াতে পরোক্ষভাবে যৌন উদ্দীপক বাক্যালাপ, অশ্লীল ভিডিও ফিল্ম দর্শন, যৌন উস্কানিমূলক পোশাক পরিধান, অশ্লীল উপন্যাস পাঠ ও ইসলামে যাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ তাদের সঙ্গে খোশালাপে রত হওয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমরা যদি একটু গভীরভাবে চিন্তা করি তাহলে দেখতে পাই ব্যভিচার ও যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে এর কোনো একটি অবশ্যই দায়ী। তাই আমাদেরকে যৌন নির্যাতন বন্ধ করতে হলে উপরোক্ত বিষয়গুলোকে সুপরিকল্পিতভাবে কৌশলে বন্ধ করতে হবে। এ হীন কর্মের কুফলগুলো সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। তাহলে আশা করা যায় যৌন নির্যাতন ধীরে ধীরে লোপ পাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

