আল্লাহ বলেনঃ
হে ঈমানদারগণ তোমরা হালাল্ জিনিস খাও। যা আমি তোমাদের রিযিক হিসেবে দিয়েছি।
ঈমান্দারদেরকে আল্লাহর নিষিদ্ব কাজ অবশ্যই বর্জন করতে হবে। অত্যন্ত গুনাহর একটি কাজ হচ্ছে সুদ।
আল্লাহ বলেনঃ আমি ব্যবসাকে হালাল করেছি আর সুদকে হারাম করেছি।
আমাদের মাঝে কেউ কেউ সুদকে ব্যবসা হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। ব্যবসা এবং সুদ আলাদা বিষয়। তেল আর পানির মতো আলাদা। আল্লাহ বলেন---
"যারা সুদ খায়, তাদের অবস্থা সেই ব্যক্তির মত, যাকে শয়তান তার স্পর্শ দ্বারা পাগল ও জ্ঞানশুন্য করে দিয়েছে। তাদের এরুপ অবস্থা হওয়ার কারন এই যে তারা বলেঃ সুদ তো ব্যবসার মতই।
অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন আর সুদকে হারাম করেছেন। কাজেই যার কাছে তার প্রভুর পক্ষ থেকে উপদেশ আসার পর সে সুদখোরী থেকে বিরত থাকে, সে পুর্বে যা কিছু করেছে তাতে তার দোষ হবে না।
আর তার ব্যাপারটি আল্লাহর হাতে সোপর্দ। আর যারা এ নির্দেশ পাওয়ার পরও সুদের পূনরাবৃত্তি করবে, তারা নিশ্চিতরুপে জাহান্নামী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
আল্লাহ সুদকে নির্মুল করে দেন আর দান-খয়রাতকে ক্রমবৃদ্ধি দান করেন। আল্লাহ কোন অকৃতজ্ঞ পাপীকে পছন্দ করেননা।
যারা ঈমান আনবে, সৎ কাজ করবে, নামাজ কায়েম করবে, যাকাত দেবে, তাদের প্রতিদান তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে। তাদের জন্য কোন ভয় ও চিন্তার কারন নেই।
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর আর তোমাদের যে সুদ লোকের কাছে পাওনা রয়েছে, তা ছেড়ে দাও যদি তোমরা প্রকৃতই ঈমানদার হয়ে থাক।
যদি তা না কর, তাহলে তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষনা কর।
এখনো যদি তওবা করে সুদ পরিত্যাগ কর, তবে তোমরা মূলধন ফেরত পাবে। না তোমরা যুলুম করবে না তোমাদের প্রতি যুলুম ক রা হবে।" (সূরা আল-বাকারাঃ ২৭৫-২৭৯)।
কুরআনে এভাবে সাত এর অধিক আয়াত ও চলিস্নশটির বেশি সহীহ হাদীসে সুদকে স্পষ্ট হারাম হিসাবে আখ্যায়িত করা সুদ কেবল ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ তাই নয়। অন্যান্য ধর্মেও সুদকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেমন খৃষ্টধর্মে সুদ সম্পর্কে বলা হয়েছে- যে ব্যক্তি সুদ ও সুদের বৃদ্ধি নিয়ে ধন বাড়ায় তার সকল প্রার্থনা ঘৃণার সাথে প্রত্যাখ্যাত । অন্য জায়গায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি ধার্মিক হয়, সুদের লোভে ঋণ না দেয়, তবে সে ব্যক্তি ধার্মিক, সে অবশ্যই বাঁচবে। আরো বলা হয়েছে, ঋণ দাও, বিনিময়ে কিছু প্রত্যাশা করো না।
দার্শনিক এ্যারিস্টোটল তার পলিটিক্স গ্রন্থের মধ্যে উলেস্নখ করেছেন, সুদ হলো মানুষের সাথে এক ধরনের জালিয়াতি করা, অন্য আর একজন দার্শনিক পেস্নটো তার ল’স নামক গ্রন্থের মধ্যে উলেস্নখ করেছেন, সুদ হলো সমাজের সবচেয়ে নিন্দনীয় কাজ। থমাস বলেন, সুদ হলো এক প্রকার অবিচার।
হিন্দু ধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থ পুরাণে বলা হয়েছে চিকিৎষস্য ভিড়্গোশ্চ তথা বার্ধুষিকস্য চ, পাষন্ডস্য নৈবান্নং ভুঞ্জিত নাস্তিôকস্য চ’ অর্থাৎ চিকিৎসক, ভিক্ষুক, সুদখোর, পাষন্ড ও নাস্তিকের অন্ন ভক্ষণ করবে না। এখানে উলেস্নখ্য যে, সুদকে হিন্দু শাস্ত্রে এতটাই ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে যে, তার বাড়িতে ভক্ষণ করতেও নিষেধ করা হয়েছে।
সমাজতন্ত্রের প্রবক্তা কার্লমার্কসও সুদ ও সুদখোরদের তীব্র সমালোচনা ও ঘৃণার চোখে দেখেছেন এবং বলেছেন, সুদখোরদের শাস্তিô প্রদান ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার।
এমনিভাবে বৌদ্ধ ধর্মে ও ইহুদী ধর্মসহ সকল ধর্ম এবং ধর্ম বিশেষজ্ঞদের অভিব্যক্তির মাধ্যমে সুদ নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উচ্চারিত হয়েছে।
আমাদের প্রিয় নবীজী (সঃ) যিনি আমাদের আদর্শ। তিনি আমাদের জন্য এ বিষয়ে কি বাস্তব নিদর্শন রেখে গিয়েছেন। একদিন মহানবী (সঃ)-এর সমীপে হযরত বেলাল (রাঃ) কিছু উন্নতমানের খেজুর নিয়ে হাজির হলেন, রাসুল (সঃ) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কোথা হতে এ খেজুর আনলে? বেলাল উত্তর দিলেন, আমাদের খেজুর নিকৃষ্টমানের ছিল। তাই আমি দ্বিগুণ পরিমাণ খারাপ খেজুরের পরিবর্তে একগুণ ভাল খেজুর বদলিয়ে নিয়েছি। রাসুল (সঃ) বললেন, এতো নির্ভেজাল সুদ (সহীহ বুখারী)।
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আলস্নাহর নবী (সঃ) বলেছেন মিরাজের যে রাত্রে আমাকে যখন জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন আমি কিছু লোককে দেখলাম, যাদের পেট ঘটের মত এবং বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছিল তাদের পেটগুলো সাপে পরিপূর্ণ। আমি জিব্রাইল (সঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, এরা কারা? জিব্রাইল (আঃ) আমাকে বললেন, এরা ঐ সকল লোক, যারা দুনিয়ায় সুদ খেত (ইবনে মাজাহ)।
অপর হাদীসে বলা হয়েছে সুদের সত্তর প্রকার গোনাহ আছে তার মধ্যে ছোট গোনাহ হলো নিজের আপন মায়ের সাথে ব্যভিচার করা (ইবনে মাজাহ, বায়হাকী)।
হযরত আবদুলস্না ইবনে হানজালা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুলস্নাহ (সঃ) বলেছেন, কোন ব্যক্তি যদি এক দিরহাম সুদ জ্ঞাতসারে গ্রহণ করে তাহলে তা ছত্রিশবার ব্যভিচার করার চেয়েও কঠিন গোনাহ তার নামে লেখা হবে। (মুসনাদে আহমাদ, মেশকাত)।
রাসুল (সঃ) বলেছেন, চার প্রকার লোককে আল্লাহর জান্নাতে যাওয়ার জন্য কোন প্রকার অনুমতি নেই।
১। যারা অতিরিক্ত মদ পান করে
২। যারা অন্যায়ভাবে ইয়াতিমের মাল গ্রহণ করে।
৩। যারা মাতা-পিতার অবাধ্য।
৪। যারা সুদখোর বা সুদী কারবারে জড়িত।
হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, যদি তুমি কোন লোককে ঋণ দাও এবং সে তোমাকে একবেলা খাওয়ার জন্য অনুরোধ করে, তবে তার বাড়ীতে খাবে না, কারণ এটি সুদ। কিন্তু যদি সে তোমাকে ঋণ নেওয়ার আগে খাওয়ার আমন্ত্রণ জানায় তাহলে খেতে পার (বায়হাকী)।
রাসুলুলস্নাহ (সঃ) বলেছেন, কোন ব্যক্তি যদি কারো ধার বা কর্য প্রদান করে সেই ধার গ্রহণকারীর নিকট হতে কোন প্রকার উপহার সামগ্রী গ্রহণ করা যাবে না। (সহীহ বুখারী)।
হযরত আবু উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত মহানবী (সঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আপন ভাইয়ের জন্য সুপারিশ করে এবং তার বিনিময়ে কোন উপহার গ্রহণ করে, সে যেন কোন এক বড় দরজা দিয়ে সুদের মধ্যে প্রবেশ করল (আবু দাউদ, মেশকাত)।
রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, যদি কেহ বেশি বেশি সুদে লেনদেন করে তবে তার পরিণতি লাঞ্ছনা ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। তাছাড়া বিদায় হজ্বের ভাষণের সময় মহানবী (সঃ) বলেছিলেন।
আজকের দিবসে সকল প্রকার সুদ রহিত করা হলো। সর্বপ্রথম আমার চাচা আব্দুলস্নাহ ইবনে আব্বাস এর সুদ রহিত করা হলো। রাসুলুলস্নাহর (সঃ) এই ঘোষণার পর উমাইয়া ও আব্বাসীয় খেলাফতের পরও প্রায় নয়শত বছর পর্যন্তô অর্ধ পৃথিবীতে সুদের কোন অস্তিত্ব ছিল না। তারপর ধীরে ধীরে এই সুদের বিষবাষ্প দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। সুদখোরদের বোঝা উচিত যেহেতু সুদ হারাম। এর মাধ্যমে উপার্জিত অর্থও হারাম। আর তা খেয়ে যতই তারা ইবাদত বন্দেগী করম্নক না কেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


