somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মু. নূরনবী
কাছের মানুষদের উপর অভিমান অনেক বেশী...nব্লগে আসি মূলত: জানার আগ্রহে। মাঝে মাঝে চাইপাশ লিখার চেষ্টা করি।nপড়াশোনা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকট্রিক্যাল এ। এখনো ছাত্রত্ব শেষ হয়নি! ইএমবিএ করছি নর্থ সাউথে। একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে

প্রথম আলোর তথাকথিত বদলানোর কাহিনী এবং বাস্তবতা

২৪ শে জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম আলোরা যে কি ধরণের সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করে....তা জাতির কাছে পরিষ্কার। তবুও পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রথম আলোর কিছু নমুনা তুলে ধরছি।
উদাহরণ দিতে গেলে দুটো জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ দেব, যা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের নিকট মিডিয়া মেকানিজম অথবা হলুদ সাংবাদিকতার নিকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে আছে।
একটি হচ্ছে বিচারপতি ফায়জুর রহমান চৌধুরীকে নিয়ে। জোট সরকারের সময় হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হওয়ার পর প্রথম আলো একদিন বেশ ফলাও করে লাল কালি দিয়ে ছেপে দেয় তার সার্টিফিকেট নাকি জাল। চট্রগ্রাম ব্যুরোর সংবাদদাতার বরাত দিয়ে তারা আরো অনেকগুলো সংবাদ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে। আর এতে স্বয়ং তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্ট দেয় যে তার সার্টিফিকেট জাল। একজন ভদ্রলোককে যে কিভাবে মিডিয়া উলঙ্গ করে ছাড়তে পারে তা বিচারপতি ফায়জুর রহমান চৌধুরীর ঘটনায় প্রথম আলো বুঝিয়ে দিল। অনেকটা বিব্রত হয়ে এই ভদ্রলোক পদত্যাগ করলেন, কিন্তু দমে যাননি। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রথম আলোর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ঠুকে দেয়। বহু তর্ক যুক্তির পর আদালত রায় দেয় যে তার সার্টিফিকেট জাল নয়। বিশ্ববিদ্যালয় তাকে একলক্ষ টাকা মুচলেকা দিতে বাধ্য হয় এবং প্রথম আলোর ক্ষমা প্রার্থনা। কিন্তু এই ঘটনায় ফায়জুর রহমান চৌধুরীর হৃদয়ে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে তাতে কি এতটুকু মলম দিতে পেরেছে আদালতের এই রায়???
অন্যটি হচ্ছে, হচ্ছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন শিবির সভাপতি মাহবুব আলম সালেহীকে নিয়ে সিন্ডিকেটেড নিউজ এবং অন্যটি হচ্ছে হাইকোর্টের বিচারপতি ফায়জুর রহমান চৌধুরীকে নিয়ে প্রথম আলোর আজগুবি তথ্য। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. এস তাহের হত্যার পর টানা তিন দিন মাহবুব আলম সালেহী শিবিরের উদ্যোগে, শিক্ষকদের উদ্যোগে এবং ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে আয়োজিত সকল মিছিল, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভায় অংশ গ্রহণ করলেও হঠাৎ ক্যাম্পাসে দায়িত্বশীল একদল নীতিহীন সাংবাদিকের কলমের খোঁচায় পরিণত হলেন। তারা সিন্ডিকেটেড নিউজ করে প্রায় সবগুলো পত্রিকায় মাহবুব আলম সালেহীকে ড. এস তাহের হত্যা মামলার প্রধান আসামী বানিয়ে দিল। ব্যস, আর যায় কই। সরকারও উঠে পড়ে লাগল এ ঘটনার তথ্য উদঘাটনের জন্য। তদন্ত করে উদঘাটিত তথ্য বস্তুনিষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ হলে তা অবশ্যই সবাই মেনে নিতে বাধ্য। কিন্তু বিবেকবর্জিত সেই সকল সাংবাদিকের বিরামহীন লেখালেখিতে যে প্রশাসনও তার রুটিন কাজ থেকে সরে আসে তা এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠল। অবশেষে দীর্ঘ দুই বছর শুনানী শেষে আদালত রায় দিল সালেহী নির্দোষ। কিন্তু এরই মাঝে হারিয়ে গেল সালেহীর জীবন থেকে দু-দুটি মূল্যবান বছর। কিন্তু অবাক হওয়ার বিষয় হচ্ছে আদালত কর্র্তৃক নির্দোষ ঘোষিত হওয়ার পরও যে সকল পত্রিকা এ ধরণের বাস্তবতা বিবর্জিত নিউজ করেছিল তারা তার বেকসুর খালাসের নিউজ করেনি। বরং উল্টো আরো আদালত কর্তৃক ঘোষিত রায়ের উপর সন্দেহ করেছে। যার জ্বলন্ত উদাহরন ১৮ ই ফেব্র“য়ারী প্রথম আলো কর্তৃক বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির উপর প্রকাশিত বিশেষ সাপ্লিমেন্ট। সেখানে তারা উল্লেখ করে, “শিক্ষক হত্যায় ঘুরে ফিরে এসেছে শিবির নেতা সালেহীর নাম”। একে আপনি কি বলবেন? অথচ তারাই কিনা স্লোগান দেয়-সবার আগে নিজেকে বদলাতে হবে। আমি অন্তত তাদের সাথে একমত। কারণ তাদের চরিত্রই তো বদলানো দরকার!!!!

১৮টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×