প্রথম আলোরা যে কি ধরণের সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করে....তা জাতির কাছে পরিষ্কার। তবুও পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রথম আলোর কিছু নমুনা তুলে ধরছি।
উদাহরণ দিতে গেলে দুটো জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ দেব, যা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের নিকট মিডিয়া মেকানিজম অথবা হলুদ সাংবাদিকতার নিকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে আছে।
একটি হচ্ছে বিচারপতি ফায়জুর রহমান চৌধুরীকে নিয়ে। জোট সরকারের সময় হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হওয়ার পর প্রথম আলো একদিন বেশ ফলাও করে লাল কালি দিয়ে ছেপে দেয় তার সার্টিফিকেট নাকি জাল। চট্রগ্রাম ব্যুরোর সংবাদদাতার বরাত দিয়ে তারা আরো অনেকগুলো সংবাদ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে। আর এতে স্বয়ং তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্ট দেয় যে তার সার্টিফিকেট জাল। একজন ভদ্রলোককে যে কিভাবে মিডিয়া উলঙ্গ করে ছাড়তে পারে তা বিচারপতি ফায়জুর রহমান চৌধুরীর ঘটনায় প্রথম আলো বুঝিয়ে দিল। অনেকটা বিব্রত হয়ে এই ভদ্রলোক পদত্যাগ করলেন, কিন্তু দমে যাননি। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রথম আলোর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ঠুকে দেয়। বহু তর্ক যুক্তির পর আদালত রায় দেয় যে তার সার্টিফিকেট জাল নয়। বিশ্ববিদ্যালয় তাকে একলক্ষ টাকা মুচলেকা দিতে বাধ্য হয় এবং প্রথম আলোর ক্ষমা প্রার্থনা। কিন্তু এই ঘটনায় ফায়জুর রহমান চৌধুরীর হৃদয়ে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে তাতে কি এতটুকু মলম দিতে পেরেছে আদালতের এই রায়???
অন্যটি হচ্ছে, হচ্ছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন শিবির সভাপতি মাহবুব আলম সালেহীকে নিয়ে সিন্ডিকেটেড নিউজ এবং অন্যটি হচ্ছে হাইকোর্টের বিচারপতি ফায়জুর রহমান চৌধুরীকে নিয়ে প্রথম আলোর আজগুবি তথ্য। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. এস তাহের হত্যার পর টানা তিন দিন মাহবুব আলম সালেহী শিবিরের উদ্যোগে, শিক্ষকদের উদ্যোগে এবং ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে আয়োজিত সকল মিছিল, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভায় অংশ গ্রহণ করলেও হঠাৎ ক্যাম্পাসে দায়িত্বশীল একদল নীতিহীন সাংবাদিকের কলমের খোঁচায় পরিণত হলেন। তারা সিন্ডিকেটেড নিউজ করে প্রায় সবগুলো পত্রিকায় মাহবুব আলম সালেহীকে ড. এস তাহের হত্যা মামলার প্রধান আসামী বানিয়ে দিল। ব্যস, আর যায় কই। সরকারও উঠে পড়ে লাগল এ ঘটনার তথ্য উদঘাটনের জন্য। তদন্ত করে উদঘাটিত তথ্য বস্তুনিষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ হলে তা অবশ্যই সবাই মেনে নিতে বাধ্য। কিন্তু বিবেকবর্জিত সেই সকল সাংবাদিকের বিরামহীন লেখালেখিতে যে প্রশাসনও তার রুটিন কাজ থেকে সরে আসে তা এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠল। অবশেষে দীর্ঘ দুই বছর শুনানী শেষে আদালত রায় দিল সালেহী নির্দোষ। কিন্তু এরই মাঝে হারিয়ে গেল সালেহীর জীবন থেকে দু-দুটি মূল্যবান বছর। কিন্তু অবাক হওয়ার বিষয় হচ্ছে আদালত কর্র্তৃক নির্দোষ ঘোষিত হওয়ার পরও যে সকল পত্রিকা এ ধরণের বাস্তবতা বিবর্জিত নিউজ করেছিল তারা তার বেকসুর খালাসের নিউজ করেনি। বরং উল্টো আরো আদালত কর্তৃক ঘোষিত রায়ের উপর সন্দেহ করেছে। যার জ্বলন্ত উদাহরন ১৮ ই ফেব্র“য়ারী প্রথম আলো কর্তৃক বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির উপর প্রকাশিত বিশেষ সাপ্লিমেন্ট। সেখানে তারা উল্লেখ করে, “শিক্ষক হত্যায় ঘুরে ফিরে এসেছে শিবির নেতা সালেহীর নাম”। একে আপনি কি বলবেন? অথচ তারাই কিনা স্লোগান দেয়-সবার আগে নিজেকে বদলাতে হবে। আমি অন্তত তাদের সাথে একমত। কারণ তাদের চরিত্রই তো বদলানো দরকার!!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


