অমর একুশকে ঘিরে বাঙালি জাতির প্রাণের বই মেলা
একুশকে ঘিরে বৈচিত্র্যময় বই মেলার সুবৃহৎ আয়োজন বাঙালি জাতির প্রাণের কথা বলে চলেছে। এ আয়োজন বাঙালির প্রাণের একান্ত আবেদন। বায়ান্নতে বাঙালি জাতির সেই রক্তঝরা মহান একুশ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রুপে স্বীকৃতি পায়। এটা বাঙালি জাতির জন্য অতি গর্বের বিষয়। বাঙালি জাতির আকাঙ্ক্ষা, মায়ের মুখের মাতৃভাষা প্রকৃতই হয় যেনো বাঙালি জাতির প্রাণের চেতনা এবং হয় যেনো জাতি গঠনে বাঙালির প্রাণের সাধনা।
বাংলাদেশের বইপ্রেমী মানুষ লেখক-লেখিকা ও সাংবাদিকদের এ মেলার আয়োজনে কতই না প্রাণের আনন্দ দেখেছি, তা বর্ণনা করে শেষ করা যায় না। বাঁশ, কাঠ, তারপিন, হাতুড়ি, বাটাল, কাপড়, রশি-দড়ি, আঠা, নানা রঙের কাগজ নিয়ে দেখলাম যার যার মনে সবাই স্টল সাজাতে ব্যস্ত। শুনতে পেয়েছি ঠুকঠুকানি হাতুরের শব্দ। নব নব সাজ সাজ রবে মেলা চত্ত্বর যেনো মেতে উঠছে স্বগৌরবে।
শহীদ সালাম, বরকত, জব্বার, রফিক এবং শফিউর এঁরা সবাই জাতির অনন্য বীর সৈনিক। বইমেলা লাখো মানুষের পদচারণাতে মুখরিত। জ্ঞান বিকাশে মেলার আয়োজন প্রশংসিত। বইমেলা একুশকে করে মহিমান্বিত ও প্রশংসিত। মাতৃভাষা রক্ষার তরে যাঁরা অকাতরে দিয়ে যায় প্রাণ; আমরা কোনোদিনই তাঁদের মহান অবদানের কথা ভুলতে পারিনা। বীর তরুণদের আত্মোৎসর্গের শক্তিতে একুশ জাগায় জাতিসত্ত্বার মহান চেতনাকে। একুশ অন্তরে করে থাকে শক্তি সঞ্চয় এবং একুশ ভাষা আন্দোলনের সুস্পষ্ট পথ দেখায়।
একুশ জাগায় প্রাণে একতার অনুভূতি, একুশ দেখায় শহীদদের ত্যাগের খ্যাতি; একুশ বেদনা মাখা আনন্দ সুরের ঝংকারে জাগায় বাঙালি জাতিকে এবং একুশ ভাষার ক্ষেত্রে আনে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি। একুশে মায়ের মুখের বাংলাভাষা কেড়ে নিতে পাকিস্তানি বর্বর এসেছিলো ভয়াবহ রুপে! মরণ পণ করে ভাষার তরে বীর তরুণ বাঙালি পিচঢালা রাজপথে ওঁরা বুলেটের আঘাতে তাজা লাল রক্ত ঢেলে পথ করুণ বেদনার রঙে রাঙ্গায়!
মৃত্যুকে ওঁরা তুচ্ছ মনে করে থাকে মাতৃভাষা রক্ষার তরে। তাঁদের মহান ত্যাগের অবদান ম্লান হতে আমরা দেবনা, গ্রন্থমেলা এ ব্রত নিতে শিখায়! একুশ আসে প্রতি বছর বছর জাতির ঘুম ভাঙ্গাতে। একুশ আসে জাতিকে লাল রক্তের চিত্র উঁচিয়ে ধরতে। একুশ আসে জানান দিতে যে, মাতৃভাষা মোদের মায়ের মুখের বুলি; একুশ আসে জানান দিতে যে, কী অভিনবভাবে সাহসী তরুণগণ জীবন দেন! বায়ান্নই একুশ করে দেয় পৃথিবীকে আকস্মিকভাবে স্তম্ভিত ও রুপান্তরিত করে এক অবসনগরীতে! অবশ করে দেয় সবুজ বাংলার গ্রাম-গঞ্জ-নগর ও বন্দর। চলবে......

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


