দেশের জন্য সম্মান এনে তিনি পেলেন অসম্মান
ড. মুহাম্মদ ইউনূস একদিনে গড়ে ওঠেননি। তার গ্রামীণ ব্যাংকও প্রতিষ্ঠিত হয়নি হঠাত্।
এজন্য অনেক সংগ্রাম ও শ্রম ব্যয় করতে হয়েছে। ছেলেবেলা থেকে বেড়ে ওঠা পর্যন্ত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জীবন এবং তার কাজ সম্পর্কে জানলেই জানা যাবে সেই কাহিনী।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাবার নাম হাজী দুলা মিয়া সওদাগর, মা সুফিয়া খাতুন। তার বাবা বেশি পড়াশোনা করেননি। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছেন। এর পরই দাদা তাকে ব্যবসায় ঢুকিয়ে দেন। তার দাদার নাম হাজী নজু মিয়া সওদাগর। মা সুফিয়া খাতুন পড়েছেন চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত। মায়ের বিয়ে হয়েছিল ১৩ বছর বয়সে। ১৯৪০ সালের ২৮ জুন ড. ইউনূসের জন্ম। এর পর মা-বাবা তাকে নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে আসেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৪ সালে চট্টগ্রাম শহরে জাপানি বোমা পড়লে একটি দালানের কিছু অংশ ভেঙে পড়ে। এরপর তার মা-বাবা ভয় পেয়ে আবার চলে যান গ্রামে, ১৯৪৫ সালে। গ্রামের প্রাইমারি স্কুলেই শুরু হয় তার লেখাপড়া। স্কুলের নাম মহাজন ফকিরের স্কুল। বাড়ির পাশেই ছিল স্কুল। দু’বছর এ স্কুলে পড়ার পর তার বাবা আবার তাদের নিয়ে চট্টগ্রাম চলে যান। তাকে ভর্তি করা হয় চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের লামার বাজার প্রাইমারি স্কুলে। স্কুলটি ছিল চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত। প্রাইমারি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালের মধ্যে তিনি প্রথম হয়ে গেলেন। এরপর ভর্তি হলেন চট্টগ্রাম এমই স্কুলে। সেখানে ফাইভ ও সিক্স ক্লাসে পড়েছেন। বৃত্তি পরীক্ষা দিয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জে প্রথম হলেন। বাবা চট্টগ্রাম মুসলিম হাইস্কুলে ভর্তি করাতে চাইলেও শিক্ষকদের পরামর্শে তাকে ভর্তি করা হয় চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে। এরই মধ্যে দেশ ভাগ হওয়ার পাকিস্তান আন্দোলন চলছে। সেই স্মৃতিও মনে আছে তার। তিনি বললেন— ‘১৯৪৭ সালে পাকিস্তান হয়েছে। পাকিস্তান হওয়ার আগে পাকিস্তান জিন্দাবাদ, লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান ইত্যাদি স্লোগান হচ্ছে। এর মধ্যে আমরাও ছিলাম। সারা উপমহাদেশেই তখন স্বাধীনতা আন্দোলন চলছে।’
কলেজিয়েট স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময়ই ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্কাউটিংয়ে যোগ দিলেন। স্কাউটিং তার ভালো লাগত। অষ্টম শ্রেণীর পরীক্ষা শেষের দিকে পরীক্ষা দিয়ে ১৯৫২ সালে তিনি করাচিতে গেলেন পাকিস্তান জাম্বুরিতে যোগ দিতে। এটাই প্রথম তার বিদেশ ভ্রমণ। স্পেশাল ট্রেনে করে ২৭০ জনের দলে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। এ ট্রেনে করেই সারা পাকিস্তান তাদের দেখানো হলো। তারা দেখলেন ইতিহাসখ্যাত বিখ্যাত হরপ্পা-মহেঞ্জদারোসহ নানা জায়গা। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকেই মেট্রিক পাস করলেন তিনি। ম্যাট্রিকে স্ট্যান্ড করেছিলেন। তখন ৩৯ হাজার ছেলেমেয়ের মধ্যে তিনি ১৬তম স্থান অধিকার করেছিলেন। মজার ব্যাপার হলো ম্যাট্রিক পরীক্ষার ফল বের হওয়ার আগেই বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরিতে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যান তিনি। এবার জাম্বুরিতে গিয়ে দেখবেন কানাডার নায়াগ্রা জলপ্রপাত। কারণ জলপ্রপাতের কাছেই জাম্বুরির স্থান। বাবাকে তিনি বললেন এই সুযোগ তিনি হাতছাড়া করবেন না, বাবাও রাজি হলেন। পাকিস্তান দলে ২৭ জন ছিল। এর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান থেকে তিনজনের মধ্যে ড. ইউনূস একজন। করাচিতে একত্র হয়ে সেখান থেকে বিমানে করে ইংল্যান্ড। এরপর জাহাজে করে নিউইয়র্ক। তখন তার বয়স ১৫ বছর। জাহাজে ১৫ দিন লাগল। নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রথম পৃষ্ঠায় তাদের ছবি ছাপা হয়েছিল। কানাডায় গিয়ে নায়াগ্রা জলপ্রপাতই শুধু দেখেননি ড. ইউনূস, সেখান থেকে লন্ডনে ফেরার সময় জার্মানির ফক্সওয়াগন গাড়ির কারখানা দেখলেন। এ ভ্রমণে ড. ইউনূস যুগোস্লাভিয়া, হল্যান্ড, জার্মানি, পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, তুরস্ক, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ইত্যাদি দেশ দেখলেন। এ ভ্রমণ করাচিতে এসে শেষ হয়। এরপর ড. ইউনূস বাংলাদেশের তিন সহযোগীকে নিয়ে ভারত ঘুরতে বের হলেন। দিল্লি, আগ্রা ও কলকাতায় কাটালেন কয়েকদিন।
ম্যাট্রিক পাসের পর ড. ইউনূস ভর্তি হলেন চিটাগাং কলেজে। জড়িয়ে গেলেন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডে। একদিন নাটকের প্রধান চরিত্রে অভিনয়ও করলেন। কলেজে “দু’পাতা” নামে সাহিত্য পত্রিকাও বের করলেন। ‘কোহিনূর’ ছদ্মনামে এক সাপ্তাহিক পত্রিকায় তিনি লিখতেও শুরু করেন।
ইন্টারমিডিয়েট পাসের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হলেন অধ্যাপক আবদুল করিমের সহযোগিতায়। অধ্যাপক করিমের বাড়ি ছিল চট্টগ্রামে। তিনি এসএম হলের হাউস টিউটর ছিলেন। ১৯৫৭ সালে অর্থনীতিতে তখন তার সহপাঠী ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমদ, মির্জা আজিজ, সাবেক কেবিনেট সচিব সৈয়দ আহমদ, সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমান, হাফিজউদ্দিন খান। কলেজে যে রাজনীতি করেছিলেন তিনি, বিশ্ববিদ্যালয়ে আর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে এনামুল হকের সঙ্গে বের করলেন সাহিত্যপত্র উত্তরণ। এর সহ-সম্পাদক হন তিনি। তখন আলোচিত পত্রিকা সমকাল-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা হলো উত্তরণের। অর্থনীতিতে ১৯৬১ সালে এমএ পাস করার পর কিছুদিন ব্যুরো অব ইকোনমিকসে কাজ করলেন, আরও কাজ করলেন প্রফেসর নূরুল ইসলাম ও প্রফেসর রেহমান সোবহানের গবেষণা সহকারী হিসেবে। এরই মধ্যে প্রভাষক হিসেবে সরকারি চাকরি পান এবং ওই বছরই চিটাগাং কলেজে যোগ দেন।
বাবার ব্যবসা দেখে ওই সময় ড. ইউনূস ভাবলেন এবার শিল্প-কারখানা করা উচিত এবং বাবাকে তিনি একটা শিল্প স্থাপনের কথাও বললেন। ঋণ নিয়ে ছিলেন প্যাকেজেস ইন্ডাস্ট্রি। এরই মধ্যে ফুলব্রাইট স্কলারশিপের বিজ্ঞাপন দেখে তিনি দরখাস্ত করেন। পরীক্ষা দেয়ার পর স্কলারশিপ পেয়ে গেলেন। ফলে ১৯৬৫ সালে চিটাগাং কলেজের শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে ব্যবসার দায়িত্ব বড় ভাইয়ের ওপর দিয়ে তিনি চলে গেলেন আমেরিকার ভেন্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে। পিএইচডি শেষ করে ড. ইউনূস ১৯৭০ সালে আমেরিকার টেনিসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা শুরু করেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আমেরিকায় ড. ইউনূস প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়ে বাংলাদেশ সিটিজেন্স কমিটি করলেন এবং বাংলাদেশের পক্ষে জনমত সৃষ্টির কাজে লাগলেন। বিশ্বখ্যাত স্থপতি ড. এফআর খান শিকাগোতে তখন গঠন করলেন বাংলাদেশ ডিফেন্স লীগ। এর মাধ্যমে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রশস্ত্র যোগান দেয়ার চেষ্টা চালান। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে ১৯৭২ সালে চলে আসেন বাংলাদেশে।
এই শিক্ষা জীবনে ড. ইউনূস কাউকে অনুসরণ না করলেও বলেন, ‘আমার শিক্ষকদের মধ্যে অনেকের প্রভাবই আমার ওপর পড়েছিল। এর মধ্যে চিটাগাং কলেজিয়েট স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক কাজী সিরাজুল হক। তিনি তার স্কাউট মাস্টারও ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ভেন্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জর্সেস্কু রোগেন। জীবনে তার মায়ের প্রভাবই বেশি বলে ড. ইউনূস বলেন। বাবা ছিলেন খুবই ধার্মিক মানুষ। ১৯৭২ সালে দেশে আসার পর প্রফেসর নূরুল ইসলাম তাকে জোর করে পরিকল্পনা কমিশনে ঢোকালেন। কিন্তু বেশিদিন এখানে তিনি থাকেননি। যোগ দিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে। এ বিভাগকে গড়ে তুললেন সুন্দরভাবে। ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষে তার মন খারাপ হয়ে যায়। পথে-ঘাটে লাশ আর লাশ। এটা দেখে তার ভালো লাগত না। উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক আবুল ফজল। তাকে বললেন একটা বিবৃতি দিতে। বিবৃতির খসড়া তিনিই তৈরি করলেন এবং উপাচার্য এটাতে সই করলেন। শিক্ষকরাও এটাতে সই করলেন। এটা পত্রিকায় পাঠানো হলে ব্যানার হেডিং হয়েছিল এবং এর মাধ্যমেই প্রথম দুর্ভিক্ষের কথা বলা হলো। এরপর তিনি ভাবলেন দুর্ভিক্ষ সহজে যাবে না, কিছু করা দরকার। ফলে ড. ইউনূস খাদ্য উত্পাদন বৃদ্ধিকে বড় ইস্যু হিসেব নিলেন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের জোবরা গ্রামে ‘নবযুগ তেভাগা খামার’ চালু করেন। তেভাগা খামার চালু হয়েছিল ৪০ একর জমিতে। বাড়তে বাড়তে ৬০ একর জমি চাষ হলো। ফসল ফলল। লাভ হলো জমিওয়ালার। এর মধ্যে জোবরা গ্রামে সুফিয়া বেগম নামে একজন মহিলার মোড়া বানানো দেখে তার ভাবনা নতুন মোড় নিল। টাকা নেই বলে সুফিয়া বাঁশ কিনতে পারছিলেন না, মোড়া বানাতে পারছিলেন না। যত মোড়া বানাবে পাইকারের কাছে নির্ধারিত দরে বিক্রি করতে হবে, অন্য কোথাও বিক্রি করা যাবে না। কারণ এ শর্তে পাইকারের কাছ থেকে ৫ টাকা ধার নিয়েছিলেন সুফিয়া। ফলে পাইকারদের মোড়া বানিয়ে দিত সুফিয়া এবং দিনে রোজগার হতো ১০ আনা। তখনই ড. ইউনূস ভাবলেন ৫ টাকা নেই বলে একটা মানুষ এত কষ্ট করে ১০ আনা পাবে মাত্র! সেখান থেকেই বিনা জামানতে ক্ষুদ্রঋণ দেয়ার বিষয়টা তার মাথায় আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জনতা ব্যাংকের শাখায় গিয়ে ম্যানেজারকে তিনি বললেন, ‘ওদের টাকা ঋণ দিন।’ ম্যানেজার তাকে বললেন— ‘এটা তো হয় না, ব্যাংক গরিব মানুষকে টাকা দিতে পারে না। জামানত না থাকলে টাকা ঋণ দেয়ার আইন নেই। অন্য এটি শাখায় গিয়েও একই কথা শুনলেন। এভাবে ৬ মাস ঘুরে নিজে গ্যারান্টার হয়ে জোবরা গ্রামে শুরু করলেন কাজ। টাকা ঋণ নিল জোবরা গ্রামের মানুষ, আবার পরিশোধ করল। ব্যাংক বলল, এক গ্রামে হয়েছে, দুই গ্রামে হবে না। অনেকে বললেন, পাঁচ গ্রামে হবে না। এই করতে করতে ড. ইউনূস এই ঋণ কার্যক্রম আশপাশের গ্রামে করে ফেরলেন। এরপর তিনি কৃষি ব্যাংকের তত্কালীন এমডি আনিসুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করে বিনা জামানতে ঋণ দেয়ার প্রস্তাব করলেন। কিন্তু সেখানেও নানা জটিলতা দেখলেন তিনি। অবশেষে একটা প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিতে বলেন তাকে। প্রস্তাব দেয়ার পর কৃষি ব্যাংকের একটা শাখা ড. ইউনূসকে করে দিলেন কিন্তু এর কর্তৃত্ব তাকে দিতে রাজি হলো না ব্যাংকের বোর্ড। এরপর এর নাম দেয়া হলো বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, পরীক্ষামূলক গ্রামীণ শাখা। সেখান থেকেই নানা বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থমন্ত্রী, সরকার, সবকিছুকেই বুঝিয়ে ১৯৮৩ সালের ১ অক্টোবর ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ একটি ব্যাংক হিসেবে জন্মলাভ করে যার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭৬ সালে জোবরা গ্রামে। প্রথমে ৬০ ভাগ এর মালিকানা ছিল সরকারি এবং ৪০ ভাগ গরিবের। ড. ইউনূস বলেছিলেন ১০০ ভাগই গরিবের মালিকানা হোক। কিন্তু তখন হয়নি। পরীক্ষামূলক গ্রামীণ শাখা থেকেই গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্প এবং পরে গ্রামীণ ব্যাংক। প্রথমে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে ৪২ জনের জন্য শুরু হয় কাজ। এরপর ১০০, ২০০, ৪০০ করে ধীরে ধীরে জোবরা গ্রামের ভেতর গ্রামীণ ব্যাংক অগ্রসর হতে থাকে। সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ঋণ গ্রহিতার ৫০ জন নারী হতে হবে। এখানেও বাধা আসে এবং বাধা দূর করা হয়।
৬ বছর লেগেছে শুধু সদস্য সংখ্যা পঞ্চাশ করতে। ১৯৮২ সালে টাঙ্গাইলে গ্রামীণ ব্যাংক পুরুষ ও মহিলার ঋণ নেয়া পঞ্চাশ পঞ্চাশে পৌঁছল। মহিলা ঋণ নিয়ে সঠিক সময়ে ঋণ পরিশোধ করার ক্ষেত্রেও তাক লাগিয়ে দিলেন ড. ইউনূস। আস্তে আস্তে মহিলার সংখ্যা বাড়তে লাগল এবং গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহিতা মহিলা সদস্যের সংখ্যা ৯৫ শতাংশে পৌঁছল। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। ঋণ পরিশোধের হার ৯৯ শতাংশ। ঋণগ্রহিতাদের সঞ্চয় আমানতের পরিমাণও দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের শাখাও প্রায় দেড় হাজার এখন। ব্যাংকের ৯৩ শতাংশ মালিকানা সদস্যদের। আর ৭ শতাংশ সরকারের। গ্রামীণ ব্যাংক প্রতি বছর সদস্যদের ৫ হাজারের বেশি ছেলেমেয়েকে বৃত্তি দিচ্ছে। এরা ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেলেও পড়ছে।
ড. ইউনূস প্রবর্তিত গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৭৬ সালে গ্রামীণ প্রকল্প শুরু করে ব্যক্তিগত টাকায়। এরপর প্রথম ৬ বছর সরকারি ব্যাংকের অর্থে এটা পরিচালিত হয়। ১৯৮২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত দাতা সংস্থাগুলো থেকে ঋণ ও অনুদান নেয়া হয়। ১৯৯৮ সালে সরকারের গ্যারান্টির মাধ্যমে বন্ড ইস্যু করে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে। এরপর আর ঋণ বা অনুদানের দরকার হয়নি। ভবিষ্যতেও আর দরকার হবে না। স্থানীয় ব্যাংকের ঋণও শোধ হয়ে গেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থে স্থানীয় গরিব মানুষের উন্নতি ঘটছে। ড. ইউনূসের এটাই এখন তৃপ্তি। গ্রামীণ ব্যাংকের এ ধারণাটি নানা ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত হয়েছে গ্রামীণ চেক, গ্রামীণ মত্স্য, গ্রামীণ ফোন, গ্রামীণ শক্তি, গ্রামীণ তথ্যপ্রযুক্তি ইত্যাদি নানাভাবে। গ্রামীণ ব্যাংকের আওতায় এখন প্রায় ৪০ লাখ পরিবার আছে। বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকের ধারণা নিয়ে আমেরিকাসহ ১০০টিরও বেশি দেশে এখন কাজ চলছে। ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকই সারাবিশ্বে ক্ষুদ্রঋণদান কর্মসূচি ছড়িয়ে দিয়েছে। ঋণ পাওয়ার অধিকার গরিব মানুষেরও যে আছে এটা আজ স্বীকৃত।
ড. ইউনূসের দুই মেয়ে। তার স্ত্রী ড. আফরোজী ইউনূস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। ছোট মেয়ের নাম দিনা। বড় মেয়ে মনিকা ইউনূস একজন গায়িকা। ২৬ বছর বয়সে মেট্রোপলিটন অপেরার সোপ্রাণো হওয়ার সুযোগ লাভ করেন মনিকা। ধ্রুপদী পশ্চিমা সঙ্গীতের ধারায় মনিকা যুক্ত হওয়ার ঘটনায় ড. ইউনূসকে খুব আনন্দ দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ড. ইউনূসের বন্ধু। বিল ক্লিনটন যখন যুক্তরাষ্ট্রের আরাকানসাস অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, তখনই তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের আদলে সেখানে ক্ষুদ্রঋণদান কর্মসূচি শুরু করেন। জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন তার শাসনামলে ড. ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে যান এবং তার সুপারিশ শোনেন। নোবেল পুরস্কার লাভ করার আগে তিনি বিশ্বের আরও নামি-দামি পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাগসেসে পুরস্কার, ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার এবং বাংলাদেশের জাতীয় পুরস্কার।
Click This Link
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই
আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।
তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৃঙ্খল মুক্তি আমার
শৃঙ্খল মুক্তি আমার

ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।