আমার প্রিয় পোস্ট

"বাঙ্গালী জাতির গৌরবময় ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় সংস্কৃতির জন্য অপমানজনক কোনকিছু এই ব্লগে লেখা যাবে না। "শিহরণে সত্তায় তুমি, হে আমার জন্মভূমি"

একটি অফলপ্রসূ মিটিং এ অশ্বডিম্ব প্রসব এবং পরবর্তী খরানুভূতি

২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:০৫

শেয়ার করুন:                   Facebook

৯-১০ ঘণ্টা অফিসের পর মিটিং হয়, মেয়েদের মাসিকের মতো মান্থলি মিটিং; কোনমাসে রক্তপাত বেশি কোন মাসে কমের মতো কোন মিটিং এর সময়কাল বেশি আর কোনদিন প্রলম্বন একটু কম ঘটে। মাঝে মাঝে আবার প্রধান কার্যালয় থেকে পাল্লুদের আগমন ঘটে। ৫বছর ধরে একই কথা শুনছি - আমাদের গ্রাহক সংখ্যা বাড়াতে হবে, আমানত বৃদ্ধি করতে হবে, সেবার মান বাড়াতে হবে। ঢাকা শহরে মানুষ কয়জন? কয়জনকে ব্যাংকের ছাতার নিচে আনা যায়? বিরক্ত লাগে। এক ছাগলের বাচ্চা বলে আমরা না কি রেলী (বানানটা লিখতে পারছি না, য ফলা নিচ্ছে না) বের করব, আমাদের ব্যাংককে পরিচিত করতে! অফিস আওয়ারের পর এক দু ঘণ্টা রাস্তায় রাস্তায় হাঁটব গ্রাহক বাড়াতে। বাসায় আসি ছটারও পরে। আর অফিসের লোকদের সাথে শুয়ে গেলে পারি অথবা গ্রাহকদের সাথে; ঐটাই ফ্যামিলি কি না! একটা মোজা কিনতে গেলেও না কি ভোলা যাবে না আমি ব্যাংকার, দোকানদারদের সাথে সখ্য করতে হবে। চাকুরীই জীবন চাকুরীই মরণ। অনেকে শুক্রবারেও মার্কেটিং এ বের হয়। হিসাব। সাপ্তাহিক শোয়ার হিসাবও এক্সেলে শিট্‌ বানিয়ে করতে হবে। কোন এক ব্যাংকে একই ডিপার্টমেন্টের দুজন মেয়ে প্রায় কাছাকাছি সময়ে প্রেগনেন্ট হওয়াতে এক শাখা ব্যবস্থাপক তাদের ডেকে নিয়ে বলেছে আমার যাতে ব্রাঞ্চ চালাতে সমস্যায় পড়তে হয় তাই তোমরা প্ল্যান করে এই কাজ করেছো! কে কখন লাগাব বা প্রেগন্যান্ট হব তার রোস্টারও ব্যাংককে বছরের শুরুতে জমা দিয়ে দেবার বিধান করলেই হয়। টার্গেট টার্গেট শুনতে শুনতে বিবমিষা লাগে।
১৫কোটি মানুষের মধ্যে ৫কোটি মানুষও ব্যাংকিং করে না। আমরা বেশিরভাগ মানুষকে ব্যাংকিং করার যোগ্য বলেই বিবেচনা করি না। সেবা সেবা, কিসের সেবা! ফালতু চার্জ কাটা, লোনের উচ্চ মাত্রায় সুদ, তেলা মাথায় তেল দেয়া, এসব করে এখানে ব্যাংকগুলো বেঁচে আছে। এরা (আমিও) যখন সেবার কথা বলে তখন আমার ভীষণ হাসি পায়। একটা চাকরীই তো করে এক একজন। এর বাইরে আর কোন পরিচয় নাই। সেই কবে মাস্টার্স পাস করছে তারপরে আর পড়াশুনা নাই। এখনকার পোলাপান আবার অনেক স্মার্ট। অধিকাংশ প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি প্রোডাক্ট বিবিএ এমবিএ করা-এমবিএ তে কি হয় বলতে পারে না। কিছু প্রোডাক্ট অবশ্য আসলেই ভালো।
আমার মনটা আজকে অনেক বিক্ষিপ্ত। এই পেশাটা আমার সব কেড়ে নিলো, শান্তিপূর্ণ ঘুম, প্রেমের সময়, ভাবার সময় সব। কোন বিকল্প ও খুঁজে পাই না। গত ২বছরে একটা ছোট গল্প লিখতে পারিনি। কত প্লট মাথায় বাসায় ফিরে এত শ্রান্ত থাকি আর হয়ে উঠে না। আমার আর শিল্পী হওয়া হলো না। গান ভুলে গেলাম। লিখতে ও ভুলে যাচ্ছি।
আমি তাহলে নরমাল হয়ে যাচ্ছি, হাহ হাহ...আমিও অফিস যাব, বাসায় ফিরব, সঙ্গম করব, বাচ্চা বিয়াবো, বাচ্চার স্কুল - জামাই চক্রে বন্দী হব।
আমি সবকিছুর মুখে পিসাব করি।:(

 

 

  • ২৯ টি মন্তব্য
  • ৮৯৬ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৮ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:১৩
comment by: মেহরাব বলেছেন: বেশী জোস। থ্যাকংস মেঘ। আরো লেখা চাই অন্তত লাগালাগির সময়টা বাচিঁয়ে হলেও।
২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:২৩

লেখক বলেছেন: আর লিখা! দোয়া করেন যেন ফাঁকিবাজিটা শিখতে পারি।

২. ২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:১৩
comment by: শফিকুল বলেছেন: আপনি এত লেখার সময় পাইলেন কই।
২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:২৪

লেখক বলেছেন: কত কষ্ট করতে হয় একটু লিখার সময় বের করতে আমাকে সে যদি ভাই আপনি জানতেন, আমার দু:খে আপনিও বিশ্বাস করেন কাঁদতেন।

৩. ২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:১৪
comment by: কৌশিক বলেছেন: হাহ। গতকার ব্রাক ব্যাংকে পেশাব করে দিয়ে এসেছি। ভাল অফার ছিল। কিন্তু কাহিনী শুইনা মনে হইলো আমার বর্তমান চাকুরীই ভাল। হালারা কয় রাইত আটটা পর্যন্ত থাকতে হবে। রেমিটেন্স ডেপট, শুরু হয় নাকি রাইতে। এক একটা পশু, স্রেফ পশু হইয়া যায়।
২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:২৬

লেখক বলেছেন: পশু অনেক ভালো জিনিস। খিদা শেষ আর মুখ বাড়ায় না। মানুষের শেষ নাই ক্ষুধার- এবছর তো ত্রিশ তো পরের বছর টার্গট ষাট কোটি। এ এক অদ্ভূত অবস্থা।

৪. ২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:১৬
comment by: তানজু রাহমান বলেছেন: লোপুগো...ভাল্লাগেনা!
২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:২৯

লেখক বলেছেন: চল আমরা পালিয়ে যাই।

৫. ২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:২৫
comment by: সারাদিন বলেছেন: আপনি গল্প লেখেন? মেঘ নামেই? লেখাটা ভাল লাগল।
২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:২৮

লেখক বলেছেন: নাহ্‌। মেঘ নামে না। পুরানো ব্লগাররা আমার নাম জানে। লিখি - বেশ কয়েকটা বইও আছে। নয়টা। আগামীতে মনে হয় আর পারব না। ধন্যবাদ।

৬. ২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:২৯
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: তোমার প্রেসার ঠিক আছেতো! এমন চিন্তা যার মাথার মধ্যে গিজগিজ করে সে সুস্থ থাকে কেমনে(?) সেটাই অবাক কান্ড! যে কোন দিন তোমার অফিসে হানা দিতে পারি। তবে ক্লায়েন্ট হিসেবে না, ব্যাংকটা দেখতে- সাথে বোনাস হিসেবে তোমাকে দেখা। তবে মুড ভাল থাকলে যাওয়াটাই নিরাপদ ভাবছি।
২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:৩৩

লেখক বলেছেন: আপনার ঐসব এসে পড়ব টাইপ গপ্পো বাদ দেন। বহুত শুনছি। আমি অন্য যে কারও থেকে নরমাল ব্লাড প্রেসার নিয়া চলি কারণ আমি আসলে মনে মনে সব ব্লাডি ব্যাংকারের গায়েই পেসাব করি। কি ভাব নিয়া টাই পিন্দে এক একজন, স্যুট পিন্দে, মাইয়ারা সাজ মারে, বিয়া বাড়ি স্টাইলে! গাধার দল। (আমি নিজেও)

৭. ২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:৩৮
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: হাহাহাহাহাহা...... সত্যি এসে পড়বো। যদি না শুনি তুমি আবার চাকরি বদলিয়েছো। তবে এবার বদলানোর আগেই এসে পড়বো। এবার গপ্পো না সত্যিই। পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য আমার এখনো দেখা হয়নি, তবে অষ্টম আশ্চর্যটা অগ্রীম দেখে রাখাই ভাল। বলাতো যায়না কখন কী হয়!
২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:৪৪

লেখক বলেছেন: নেমন্তন্ন রইলো

৮. ২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:৪৪
comment by: মনুমনু বলেছেন: আফা আমারে উদ্ধার করেন, বালিশের নীচে পয়সা থুইয়া ঘুমাইতে পারতেআচি না .....
২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:৪৯

লেখক বলেছেন: চলে আসুন। গ্রাহক সংখ্যা বাড়াই। (মনে মনে উস্টামু)

৯. ২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:৪৬
comment by: জেনারেল বলেছেন: বুঝা গেছে, মাথা আউলা হইছে
২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:৫১

লেখক বলেছেন: আউলা চুলে নাচি গো বাউলা গলায় গাই- না বস আমার সেই স্বাধীনতা নাই নিজের কাছে নিজের। আমি টাকার কাছে বিক্রিত। নিজেরে ঘেন্না করি। এর বেশি কিছু করার ক্ষমতা আমার নাই।

১০. ২৫ শে জুন, ২০০৮ ভোর ৪:০৫
comment by: আকাশচুরি বলেছেন: কি আর করা!!
১১. ২৫ শে জুন, ২০০৮ ভোর ৬:৫২
comment by: তানজু রাহমান বলেছেন: লোপু। আল্টিমেটলি আমি হয়তো সত্যি চম্পট দেয়ার চষ্টা করব, এখনো পুরোপুরি আটকে যাই নাই। তুমি কি আর পারবা? আটকায় গেসোতো। অবশ্য আমিও আটকায় যাব। পালানো আর হবে না।
১২. ২৫ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:৪০
comment by: মেঘ বলেছেন: কিসের আটকানো? আমি পালাব ঠিকই
১৩. ২৫ শে জুন, ২০০৮ রাত ১১:৪৩
comment by: কৌশিক বলেছেন: সিধা বাদ লেকিন সিধা নেহি। চারদিকে এ্যাংকর বসিয়ে পালানো... কোথায় নাই জাপটে ধরে আবার পেছনে হাতকড়া লাগিয়ে দেবার? এই শহরটা খুব ছোট, এই দেশটা আরো। বিশ্বটা এখন একদমই ক্ষুদ্রকায়। পালানোর জায়গা নাই।
১৪. ২৬ শে জুন, ২০০৮ রাত ১২:৪২
comment by: মেঘ বলেছেন: এমন জায়গায় যাব যে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
১৫. ২৬ শে জুন, ২০০৮ রাত ১২:৪৭
comment by: রাগ ইমন বলেছেন: কি লো? তুমিও কি শাখা (মৃগ) ব্যবস্থাপককে অসুবিধায় ফেলানোর কাজে ব্যস্ত? স্রেফ তোমাকে দেখিয়া হইলাম অনলাইন, বল সবুজ জলপাই এর জয় , বল ফাইন!

আছো কেমন হে ? নাকি সত্যি আছো ? !!!!
২৬ শে জুন, ২০০৮ রাত ১২:৫৬

লেখক বলেছেন: চলে যায় দিন,একেবারে অর্থহীন
কাউকে ফেলি না বিপদে
সত্য বলি এখানেই সখেদে

১৬. ২৬ শে জুন, ২০০৮ রাত ১২:৪৯
comment by: রাগ ইমন বলেছেন: এমন কোথা যাবো , যেখানে নিজেকে না পাবো
নিজ মন ধুয়ে ফেলে অন্ধ কারাগারে
কবে যাবো আলোর পারাবারে ?
এ মন, কোথা যাবো? কত দূর গেলে "কাছ"কে হারাবো !
২৬ শে জুন, ২০০৮ রাত ১২:৫৯

লেখক বলেছেন: যেথায় আমায় মানাইছে না, এক্বেবারে মানাইছে না
সেখান থেকে যাব চলে
দূর পাহাড়ের দেশেতে
ঝুম থাকব নেশাতে
হারাব না কাছে দূর
ত্যাগ করব নিজের মনে বাজে
যেই "অ-সুর"

১৭. ২৬ শে জুন, ২০০৮ রাত ১২:৫০
comment by: তানজু রাহমান বলেছেন: :-*
এইটা কি রাগ ইমন আপু রচনা করলেন মাত্র? বড়ই মনে ধরল!
১৮. ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:১৯
comment by: মেঘ বলেছেন: ইমন মনে ধরা জিনিসই বরাবর রচনা করে রে তানজু।

 

 


ভালোবাসা এত সহজ নয়, তা যদি অদৃশ্য কারো সাথে হয়.......
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ