somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুড়ি মাখানি

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ইফতারী! আহ্, সামনে সব উপাদেয় খাবার নিয়ে রোজা পাকা করার মহড়া দেয়া! কি যে ভালো লাগে! আমার বেশি ভালো লাগে কারণ অন্য মাসগুলোতে বিকেলের নাশতা হিসেবে একটার বেশি দু'টা আইটেম পাওয়া যায় না। কিন্তু রোজার মাসে শুধু আইটেম আর আইটেম। গলা পর্যন্ত খেলেও আইটেম আর শেষ হয় না। সে যেখানেই ইফতারী খেতে যাই, নিজের বাসায়, অন্য কারও বাসায় কিংবা ইফতার পার্টিতে।
বাসায় ইফতার খেতে বসলে আমরা সবাই ছোলা, পেঁয়াজু,বেগুনি, হালিম এসব সামনে নিয়ে বসে থাকতাম এই গতবছরও আমাদের বাসার সর্বকনিষ্ঠ সদস্যের ঠিক আগেরজনের অপেক্ষায়। শরবত, খেজুর, কাস্টার্ড এসব চক্ষের নিমিষে শেষ হয়ে গেলেও অন্যান্য আইটেমগুলো আমরা আগলে বসে থাকতাম। বাসার সেই সদস্য দেখা যেত প্রায়দিনই ইফতারের টাইমটা রাস্তায় বসে আছে। বেচারার অফিস থেকে বাসায় টাইমলি পৌঁছানো এককথায় দুষ্কর। তবু আমরা তার প্রতীক্ষায় থাকতাম। কারণ রেসিপি জানা থাকলেও তার হাতের যশটা আমাদের কারও নেই। মুড়ি মাখানো যে এত দুর্দান্ত হতে পারে, ইয়াম্মী!! এটা পারে একমাত্র সুজন, আমার ছোট ভাই। রেসিপিটা কিন্তু খুবই সহজ - আন্দাজমতো ছোলা, পরিমাণমতো মুড়ি নিন। টমেটো কুচি, শসা কুচি, পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ কুচি,ধনে পাতা,লেবুর রস,কয়েক ফোঁটা সরিষার তেল,সামান্য লবণ একসাথে দিয়ে মেখে ফেলুন। ছোলা, মুড়ি, পিঁয়াজু, বেগুনি ঐ মাখা জিনিসগুলোর সাথে মেশান। হালিম থাকলে এক বা দু চামচ হালিমও মেখে নিন। হালিম না থাকলে গরুর মাংসের ঝোল। এই এক আইটেম না খেলে কোনভাবেই সেই গত বছরও আমাদের ইফতার পূর্ণাঙ্গ হতো না। এ বছর আমরা কেউ মুড়ি মাখানি খাই ই নি। সুজন নেই যে! সুজন এখন প্রবাসী।
দিনের শেষে একসাথে ইফতারির টেবিলে বসা, কথার আদান প্রদান, মুড়ি মাখানিতে আমাদের পুরো পরিবারটা আসলে আদর স্নেহ এসবও ভাগাভাগি করে নিত। এবারের রোজায় কেউ আর দৌঁড় ঝাঁপ করে সুজনের মুড়ি মাখানির আইটেমগুলো তৈরী করেনি। আলাদা করে রাখেনি নিজের নিজের ভাগের পিঁয়াজু, বেগুনি। নিজের মতো করে যে যার ইফতার খেয়েছে আর বলেছে ইস্, সুজনটা নেই!
পালা বদল তো এভাবেই ঘটে যায়। বিচ্ছিন্নতার দিনগুলো স্মৃতির ঘরে উঁকি দিয়ে দীর্ঘশ্বাস গোপন করে বয়েই চলে। জীবিকার টান যে বড় টান।
১১টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×