somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দাঁড়ি পাল্লাকে একদম

২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি সেই মধ্যবত্তি সুবধিাবাদীদরে একজন যারা ঘরে বসে স্বপ্ন দেখে তাদরে হয়ে একজন বিপ্লব এনে দেবে, তারা বাসায় সোফায় বসে টিভিতে লাইভ প্রোগ্রাম দেখবে। এ ব্লগে যা বলছি তা আমার নিজের প্রতি নিজের ধিক্বার এরই একটা অংশ।কেউ ভুল বুঝবনে না যেন। (জামাতীরা ভুল বুঝলে আমি ব্যাপক খুশী:-)

নানা শংকা, অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বহুল প্রতিক্ষীত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যদিও একে একে সব বড় অপরাধীর ছাড়া পাওয়া এবং নির্বাচনে অংশ গ্রহণ বৈধ বলে হাইকোর্টের রায় দেয়া এই আনন্দের মাঝে আমাদের প্রায়শঃই আবার আশংকিত করে তুলছে যারপরনাই। কাজের ধরনের কারণেই বহু বিচিত্র মানুষের সাথে আমার মোলাকাত হয় থেকে থেকেই। শিক্ষিত, উচ্চশিক্ষিত, একদমই শিক্ষার আলো বঞ্চিত এমন মানুষের সাথে আমার সংযোগ ঘটে। ঘটে নারী, পুরুষ সবার সাথে কথা বলার সুযোগ। একটুকরো বাংলাদেশ, হোক তা শহুরে বাংলাদেশ তা আমার কাজের টেবিলের সামনে এভাবেই ধরা দেয়। ফরিদা যখন আমাকে বলে উঠে ”এখানে চিন্তা করার কি আছে? ভোট দিমু লাঙ্গলে!” নির্বাচনের প্রসঙ্গ উঠতেই। আমি চমকাই না। ফরিদার ডিপিএসের ফরম পূরণ করতে করতে বলি, আপনার ভোটার আইডি তে যে ঠিকানা দেয়া আপা, সেখান থেকে ভোট দিলে কিন্তু লাঙ্গলে ভোট না দেয়াই ভালো। ফরিদা আমাকে বলে, ’কেন লাঙ্গলে ভোট দিমু না?আমি সারাজীবন লাঙ্গলেই ভোট দিয়া আসতাছি।’ আমি নিজের মনোভাব চেপে জিজ্ঞেস করি কেন লাঙ্গলরে ভোট দিবেন আপা?
- কেন দিমু না? এরশাদরে আমার ভালো লাগে। কত রাস্তাঘাট করছে। হ্যার তো আমি খারাপ কিছু এ পর্যন্ত পাই নাই। খালেদার পোলায় আঙ্গো এলাকার অর্ধেক দখল কইরা ফালাইছে, চুরি কইরা দেশটার কিছু রাখে নাই। আর হাসিনার কথা আমার কেমন রুঠা রুঠা (রুক্ষ্ম) লাগে।
খুব শান্তভাবে বলি, এবার এরশাদ আর হাসিনা এক পার্টি। এরশাদ দাঁড়িয়েছে মহাখালী থেকে, আপনি তো সেখানে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না। আপনার এলাকার নৌকা বা ধানের শীষে আপনাকে ভোটটা দিতে হবে। আপনার এলাকায় একজন মহিলা দাঁড়িয়েছে নৌকা থেকে আর ধানের শীষ থেকে একজন পুরুষ। ফরিদা আমাকে জিজ্ঞেস করেন নৌকার মহিলার নাম। নাম বলতেই তিনি বলেন, আমি এই আপারে চিনি। ভালো মানুষ, সৎ। দিমু নৌকারেই দিমু তাইলে।

সুমি পঞ্চগড়ের এক প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আমাদের ডিপার্টমেন্টে এসে ভর্তি হয়েছিলো। ভদ্র নম্র এই মেয়েটিকে আমরা পছন্দ করে এসেছি বরাবর। এখন একটা এনজিওতে চাকুরী করে। ঢাকা ইউনিভার্সিটির মাস্টার্স যোগ্যতার নিরিখে উচ্চশিক্ষা। সুমি আমার কাছে এসেছে একটা পার্সোনাল লোনের জন্যে। আমি ওর লোনের তথ্যাদি সব বসাতে থাকি। ভোটার আইডির ফটোকপি নেই । কি রে দোস্ত তুই দেখি পঞ্চগড় থেকে ভোটার হয়েছিস! যাবি না কি বাড়ীতে ভোট দিতে? সুমি আমাকে জানায় ও নির্বাচনের দশদিন আগেই বাড়ী চলে যাবে। ওর মালিকের নির্দেশ। দলের হয়ে প্রচারণার কাজে সামিল হতে হবে। আমার সামনে আবার ভেসে ওঠে সুমির স্টুডেন্ট লাইফ, ছাত্রদলের মিছিলের সামনে সুমি। ধানের শীষ না কি ওদের হতদরিদ্র পরিবারের চেহারা পরিবর্তন করে দিয়েছে। ওর ভাই চাকুরী পেয়েছে ওর ছাত্রী নেত্রীর পরিচয় কাজে লাগিয়ে।
আমি হেসে বলে উঠি, দোস্ত এসব কাজ এখনো ছাড়িস নাই?
- না। ছাড়ার কি কথা ছিল?
আমার কানে ভাসে সেই ৯বছর আগের সুমির ডায়ালগ, কেন ও ধানের শীষ করে সেই ব্যাখ্যা - আমি সুন্দরের পূজারী, ম্যাডাম দেখতে কি সুন্দর! তার কথাও সুন্দর। ম্যাডামকে ভালো লাগে তাই ছাত্রদল করি।

ফরিদা আপার কাছে প্রতীক বড়। সুমির কাছে বড় সৌন্দর্য (!), আদতে ব্যক্তির পরিচয়। আমি সুমিকে বলতে পারিনি এবার নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষের চাইতে চৌদ্দলাখ বেশি। একটু চোখ কান খুলে তারপর ভোট দিস। বলিনি কারণ আমি সুমিকে বিশ্বাস করাতে পারব না, তারেক জিয়া দেশের কি অবস্থা করেছে, নিজামীরা আমাদের কত অসম্মাান করেছে। যারা জেনে শুনে বুঝতে চায় না তাদের মনোভাব পরিবর্তন করা যায় না। কয়জন ফরিদা আপাকে বুঝাব এরশাদ আসলে কিভাবে দেশের ক্ষতি করেছে। নূর হোসেন, ডাক্তার মিলনের ঘটনা কি আমি ফরিদা আপাকে বুঝাতে পারব??

সুমির মতো উচ্চশিক্ষিত (!) নারীও যখন এমন কথা বলে তখন নারীদের ভোট নিয়ে আমার আর কোন আশা থাকে না। সেখানে আমাদের তথাকথিত সুশীল সমাজ ’না’ ভোটের প্রচারণা চালায়, আমার পেট ফেটে হাসি ছাড়া আর কিছুই আসে না। অধিকাংশ নারী ভোট দিবে স্বামীর প্রভাবে। স্বামী যে দল করে সে দলে গিয়ে ভোটটা দিয়ে আসবে। তার চাইতে আমার বাসার বুয়া শিরিনের মা’কে অনেক বেশি সচেতন মনে হয়। তার সাফ হিসাব সে কম দামে যার কাছ থেকে চাল ডাল পাবে, হারামজাদা মৌলভীদের তাফাল্লিং যে ঠেকাতে পারবে সে সেখানে ভোট দিবে।

অল্প কয়েকটা দিন বাকী। নিজের মূল্যবান ভোটটা নষ্ট করবেন না। ধানের শীষ, নৌকা, লাঙ্গল এসব দেখার আগে যে দাঁড়িয়েছে সেই মানুষটাকেও একটু দেখুন। দাঁড়িপাল্লাকে একদম ”না” বলুন।

লিখা খান একখান পতিকার লাইগা লিখছিলাম, তারা ডরাইছে। তাই ব্লগই ভরসা

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২০
১৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×