somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যখন নেট ছিল না তখন আমি কি করতাম??

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি কি নেট আসক্ত? অথবা somewhereinblog আসক্ত?? কখনো কি কিছুতে আসক্ত হয়েছি? তবু কেমন জানি লাগে।
পূর্বকথা
সাতানব্বই সালে সন্তানকে বখে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে নিরূপায় বাবা ভর্তি করেন NCC (IDCS) Diploma করতে। তখনকার সময়ে সেটা বেশ খরচান্ত পড়াশোনা, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য। ভর্তি তো হলাম। ভালো তো লাগে না। বাবা মায়ের কষ্টের টাকা। তাই ভেবে দাঁতে দাঁত চেপে কোর্সটা শেষ করি। ব্রিটিশ কাউন্সিলে ফাইনাল পরীক্ষা দিলাম। ভালোভাবে পাশও দিলাম। পড়ার প্রয়োজনেই একখানা পিসি দরকার। মা তার কর্মস্থল থেকে ঋণ নিয়ে দিলেন পিসি কিনে। কম্পিউটার মেলা থেকে সেই বছরই প্রশিকার লাইন নিলাম। তখন মিনিট মনে হয় ডায়ালআপ সিস্টেমে চারটাকা ছিল। সেই শুরু।
মধ্য
স্পেকট্রাম ফ্রি লাইন দিলো একবার। আমরা তিনভাইবোন ২৪ঘণ্টা অনলাইন। MIRC তে চ্যাট করি। আরো কি কি করি। বিরাট মজা। ঘুম নাই, খাওয়া নাই। এই ডাউনলোড সেই ডাউনলোড। কেউ মারা গেলেও সেই সংবাদ আমাদের বাসায় আসার উপায় নাই। কারণ ফোন তো আমাদের তিনভাইবোনের দখলে। এরপর নিলাম বিটিটিবির লাইন ৯৯ সালে। ভালোই চলে। চ্যাট করা আমার কয়েকদিন পরেই বিরক্ত লাগা শুরু করলো। মেইল চেক, মেইল পাঠানো, বিভিন্ন জায়গায় লিখা ই-েমইল করা, আর গান নামানোতে আমার ইন্টারনেট ব্যবহার সীমিত হলো। ভাইরা পিসি ব্যবহার করার মতো সময়ই বের করতে পারে না। হঠাত হঠাত শুধু মুভি দেখা আর গেইমস খেলাতে দু'ভাই এর সময় কাটে।
বর্তমান
বাসায় ডেস্কটপ ২টা। ছোটভাই এর ল্যাপটপ। সবার আলাদা আলাদা পিসি। আমার সময় কেটে যায় অফিস থেকে এসে ফেইসবুক, সামু তে। নানা জনের লিখা পড়ি।

ক্ষতি
অফিসের ১০ঘণ্টার পর বাসায় এসে ২ঘণ্টা পিসি। এক্বেবারে বস্তার মতো বসে থাকা। ঘাড়ে ব্যথা, মাথা টনটন, চোখ ঝাপসা। এত এত বই জমানো পড়া হয় না। এত এত লিখা হাতে জমা লিখতে ইচ্ছে করে না। টিভি দেখি না। বন্ধুদের সাথে দেখা হয় না। নেটই ভরসা। আত্মিক যোগাযোগ কমে যাচ্ছে।

লাভ
ঢাকা শহরের যে অবস্থা তাতে ওয়ার্কিং ডে তে এমনিতেও বন্ধুদের সাথে দেখা হবার কোন অবকাশ নেই। ছুটির দিনগুলো নিজস্ব কাজ করতেই কোথায় ফুরুত। নেটের কল্যাণে লিখার রেফারেন্স সহজেই পেয়ে যাই। এখন আর পাবলিক লাইব্রেরীতে গিয়ে বই পড়তে হয় না। ফেইসবুকে বন্ধুদের খোঁজ খবর পাই। হুটহাট বন্ধু আত্মীয় সবার সাথে নেট চ্যাট করতে পারি, ওয়েব ক্যামে দেখতে পারি।
এই যে ঈদ এলো, কত্তজনকে ভার্চুয়াল কার্ড পাঠিয়ে দিলাম।

সময় নিয়ে যাবে সবই সময়ের তালে, আমরা নিজেরাই বদলে যাই। ভালো মন্দ ভাবি না। তবে বই পড়া খুব মিস করি। মিস করি বন্ধুদের সাথে লাইভ আড্ডা। দোকান ঘুরে গানের সিডি কেনা। এলিফ্যান্ট রোডে কবীর ভাই এর দোকানে বসে ইংলিশ গানের ক্যাসেট করানো মিস করি। মিস করি আমার হারমোনিয়াম, আমার স্প‌্যানীশ গীটার।
নেট ছিল না যখন তখন বই পড়তাম, গান শুনতাম, ফোন করতাম, টিভি দেখতাম- এখন ঠায় বসে পোস্ট লিখি অতিকায়, পোস্ট পড়ি, মন্তব্য করি।
হারিয়ে যাচ্ছে বাস্তব ভার্চুয়ালের পেটে, আমি সেই প্রবাহে একজন.........ল্যাপটপের স্বপ্ন দেখি, লোভ সামলাই। পুরানো মোবাইলটা বদল করার কথা ভাবি - লোভ সামলাই। কতদিন সামলে রাখতে পারব এসব লোভ?
একটা পোস্ট মেরে কুকুর যেভাবে হাড্ডি পাহারা দেয় সেভাবে তাকিয়ে থাকি, মন্তব্য পড়লেই উত্তর দেবার অপেক্ষায় পিসির স্ক্রীন পাহারা দেই।
কারো বেদনা (যে আমাকে নেটের কারণে পাচ্ছে না) তেমন স্পর্শ করে না। ভার্চুয়াল সম্পর্কে এত দায় নেই। সব ভালো ভালো কথা বিনিময়। কেউ কষ্টরে কথা বললে দু চার লাইন লিখে দিলেই হয়।
পালাই মনে হয় এভাবেই নিজের কাছ থেকে নিজেই।:(
৫৫টি মন্তব্য ৪৩টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×