পদ্য, চরণ, গীতিকবিতা, কবিতা, আধুনিক গদ্য কবিতা কত তার নাম তাই না! হালে আবার অণু কবিতা। ছড়া তো আছেই। কেউ ১৪ লাইনের কবিতায় একটা গল্প বলে ফেলেন কেউ বা ১৪শ পৃষ্ঠার উপন্যাসে তা প্রকাশ করেন। সাহিত্য আছে, ইতিহাস আছে সব জড়াজড়ি করে বিভিন্ন মাধ্যমে ভিন্ন ধারার মানুষরা কাজ করে যাচ্ছেন।
উপন্যাস বা ছোটগল্পের পঠন পাঠক বিশেষে এক বা দু'রকম হতে পারে। একই কবিতার পাঠক ভেদে পাঠ যেমন ভিন্নতা পাবেই তেমনি পাল্টে যাবে অর্থ। তাই বলে কথায় কথায় মানুষ যখন বলে আমি কবিতা বুঝি না ভাই, কবিতা পড়ি না ভাই তখন সেইসব মানুষের প্রকৃত শিক্ষা নিয়ে আমার ভেতর সংশয় বাসা বাঁধে। প্রকৃত শিক্ষিত ব্যক্তি সত্যিকারার্থে সাহিত্যিক বিচারে যে পদ্য কবিতা হয়েছে তা পাঠের পর বুঝবেন না এ আমার কাছে এক গোলক ধাঁধাঁর জন্ম দেয়। খুব কাছ থেকে আমি মানুষের দিনযাপন দূরবীন চোখে দেখি। এরা কবে লিখাপড়া শেষ করেছে তার হিসেব করে। একটা মানুষ একটি মাস্টার্স ডিগ্রী হাসিল করলে কিভাবে তার পড়ালেখা সমাপ্ত হয় তা আমার বোধগম্য হয় না। যে যে পেশায় নিযুক্ত সেই পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ও তারা তেমনভাবে ছুঁয়ে দেখে না। পত্রিকা মনোযোগ দিয়ে ক্বচিৎ পড়ে। খুব অল্পসংখ্যক মানুষ বই পড়ে। শেষ কবে একটি বই পড়েছে বলতে পারে না। গান বলতে হালে চালু হওয়া রেডিও গুলোর জগাখিচুড়ি প্লে লিস্ট। সবকিছু কেমন ভাসা ভাসা...দেখি ভাবি। আবার ভাবনা ছেড়ে দেই। নিশ্চয়ই সব মানুষ এমন হয়ে যায়নি সেটাও আমি জানি। কিন্তু গড়পড়তা গভীরতা বলতে তেমন কিছুই যেন কারো মাঝে নেই। কি অম্লানবদনে বলে ফেলে আমি কবিতা বুঝি না। কবিতা না বুঝলে আপনি আপনার ভাষা বুঝেন না, নিজের ভাষা না জানলে অন্য কোন দেশের ভাষাও আপনি ঠিকভাবে জানেন না। আপনার প্রাপ্ত শিক্ষাতে ঘাটতি রয়েছে বা আপনি ফাঁকিবাজি করে পড়াশোনা করে জাস্ট সার্টিফিকেট বগলদাবা করেছেন- যদি একথাগুলো বলি কেমন হয়??
"সমস্ত কিছুই ভাঙছে নদীতীর নির্জন কোমল কাঁচ, হীরের শরীর
ভেঙে যাচ্ছে মাটির কলস গাছ ভাঙছে
গাছের শরীরে কারো কুঠারের শব্দ শুনে আঁতকে উঠছে কান
এইভাবে বহুকিছু ভেঙে যাচ্ছে," (আবুল হাসান)
এই কবিতার চরণ ক'টির অর্থ আমার কাছে একরকম আপনার কাছে আরেকরকম হতে পারে। তাই বলে কি বলা সাজে 'কবিতা বুঝি না"??

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


