আমাদের বাড়ির পেছনের মাঠে আরো কয়েক বন্ধুদের নিয়ে বিকেল বেলা খেলা করছিলাম। হঠাৎ বাড়ির ভেতর থেকে মায়ের ডাক শুলাম। বিকেলে যখন মাঠে খেলা করি তখন মা প্রায়ই ডাকা-ডাকি করতেন। প্রতিদিনের মতো সেদিনও মায়ের ডাকে বলি, আসছি, আসছি................।
অন্যান্য দিন, মা আমাকে দু-এক ডাক দিতেন, কিন্তু ওই দিন মা আমাকে একের পর এক ডাক দিয়ে যাচ্ছেন।
হঠাৎ আমার কানে মায়ের ডাকের অন্যরকম একটা আওয়াজ এলো?
শুনলাম ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় মা আমাকে ডাকছেন। কিচ্ছুক্ষণের মধ্যেই মা বাড়ির বাহিরে আসেন । তখন মায়ের কান্নাঝড়ানো মুখ দেখে আমি বলি, ‘মা কি হয়েছে’ মা বলেন, তোর বাবা কেমনজানি করছেন, তাড়াতাড়ি ডাক্তার নিয়ে আয়। সাথে সাথে বাড়িতে গিয়ে এক পলক বাবাকে দেখেই, লাল হিরো সাইকেলটি ( যে সাইকেলটি বাবা আমাকে দিয়েছিলেন স্কুলে যাওয়ার জন্য) নিয়ে আমি ডাক্তারের চেম্বারে যাই। আমাদের বাড়ি থানা সদরের খুব কাছেই। আর ডাক্তারের চেম্বার আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় ১০ মিনিটের রাস্তা। সাইকেলে যেতে কয়েক মিনিট লাগে মাত্র।
ডাক্তার সফিকুর রহমানের চেম্বারে যাওয়ার পর তিনি আমাকে দেখে বলেন, কি হয়েছে মেহেদী?
আমি তাকে বলি স্যার, বাবা কেমন যানি করছেন, আপনাকে নিতে এসেছি। (তিনি আমাদের বাড়িতে প্রায়েই স্বপরিবার নিয়ে বেড়াতে আসতেন, বিশেষ করে বিকেল বেলা। আমাদের বাড়িটি নদীর পারে, তাই মিসেস সফিকের কাছে আমাদের বাড়িটি খুব ভালো লাগতো।)
সাথে সাথে ডাক্তার সফিকুর রহমান তার মটরসাইকেল নিয়ে আমাদের বাড়িতে চলে আসেন। আর আমি আমার লাল হিরো সাইকেল চড়ে তার পেছনে পেছনে বাড়ির দিকে যাচ্ছি। ডাক্তার সাহেব আমার আগেই বাড়িতে চলে আসেন। আমি যখন আমাদের পুকুড় পাড়ে আসি তখন, ঘড়ের ভিতর থেকে উচ্চসূরে মায়ের কান্না শুনি। তখন সাথে সাথে সাইকেল থেকে নেমে দৌড়ে ঘরের ভিতর যাই, গিয়ে দেখি ডাক্তার সাহেব নিরব বসে আছেন। আমাকে দেখেই মা বলে উঠেন, ‘মেহেদী তোর বাবা আর নেই’। সাথে সাথে বুঝলাম পৃথিবীটা অন্ধকার হয়েগেছে। আমার বাবা নেই, আজ থেকে আমি এতিম হয়ে গেলাম................
বাবাকে চির বিদায় দেওয়ার কয়েকদিন পরে মা আমাকে বললেন, ‘মেহেদী তোর বাবা বারবার তোর নাম ধরে ডাকছিলেন, তোকে কি জানি বলতে চাইছিলেন,’
এখনও বাবার কথা মনে হলে, আমার ভিতরে একটিই প্রশ্ন............
‘বাবা তুমি কি বলতে চাইছিলে আমাকে?’

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

