
তুমি
---------------------
বলবনা তোমায় আকাশের চাদ
তোমায় পেলে জীবনে,আর সবকিছু বাদ।
বলবনা তোমায় জোছনা
নাই বা দিলাম সদ্য ফোটা পদ্মের সাথে তুলনা
করবনা তোমায় বনলতা বলে অপমান
অপ্সরা বলে দেব নাকো মিথ্যে সম্মান।
বলবনা তুমি রাতের আকাশে শুকতারা,
তুমি শীতের রাতে শিউলীর গন্ধ পাগল করা।
নও তুমি হেমন্তের বাতাসে ধানের শীষের প্রথম কাপন
নওকো তুমি বসন্তে কোকিলের গীত উচাটন।
নও তুমি শরতের নীলাকাশ
নও তুমি হাওড়ের জলে খেলা করা উন্মত্ত বাতাস।
নও তুমি শিল্পীর অমর সৃষ্টি মোনালিসা
নও তুমি কবির অমর্ত্য লেখনী,স্বপ্ন,উচ্চাশা।
বলবনা তোমার চোখ পাখির বাসা,
নয়গো তোমার চুল অমানিসা।
নও তুমি পথের ক্লান্তি শেষে,শ্রান্তি পথিকের
নও তুমি ছেড়া পালে,ভাঙ্গা মাস্তুলে তীরে ফেরা,নাবিকের।
নও তুমি বিনীদ্র রজনী জাগ্রত প্রহরীর
নও তুমি আনমনে স্বপ্ন বোনা অবুঝ স্বপ্নচারীর।
নওকো তুমি ফিনকি দিয়ে ঝলকে পরা আলোক,নিহারীর
নও তুমি নও কুল কুল ধ্বনি,অশান্ত বারিধীর।
নও তুমি নক্ষত্র,তারকারাজি
নও তুমি কোন বীরের প্রানপণ বাজী।
নও তুমি মুক্তিযোদ্ধার হাতে প্রথম স্বাধীন পতাকা
না তুমি গহীন আধারে আলোকবর্তিকা।
বলবনা তোমায় হিমালয়ের চূড়ায় জমে থাকা শ্বেত-শুভ্র তুষার
বলবনা তুমি সমুদ্রতীরে সূর্যাস্ত,তুমি আলো নব-ঊষা'র।
নওকো তুমি নবজাতকের সদ্য-ফোটা বুলি
নও তুমি ঐ হাস-ছানা’র প্রথম জলকেলি।
তুমি নও আরব্য রজনী’র কল্পিত কাহিনী
নও কোন রুপকথা’র রাজকন্যা,অনেকের অতি-কাঙ্খিত রমনী।
নও তুমি প্রকৃতির রং,রুপ,সাজ
নওগো রাজার রাজ্য,সিংহাসন,প্রদীপ্ত রাজ।
নও তুমি প্রমত্ত সুর-ঝংকার বাশরীর
নও তুমি প্রথম যৌবন-শিহরণ,কিশোরীর।
বলবনা তোমায় ঝড়-ঝড় ধারা প্রথম বর্ষার
নও তুমি অকুন্ঠ প্রেম পায়রী ও পায়রার।
নও তুমি নও হিত-হিন্দোল মনে হিতৈষী’র
নওকো তুমি বিনয়ী বিদ্যা প্রত্যয়ী বিদূষী’র।
বলবনা তোমায় বর্ষায় ফোটা প্রথম কদম ফুল
নওগো তুমি ষোড়ষী’র সেই প্রথম বেপরোয়া ভুল।
নও তুমি নও নিশীথ নীশিতে নিদ্রা নিমগ্ন নিকুঞ্জ
নওগো তুমি ঝিলের পাড়ে শুভ্র সাড়স-পুঞ্জ।
দেবনা তোমায় কোন মিথ্যে উপমা
বলব কেবল তুমি শুধু আমার,আমার প্রিয়তমা।
তুমি আমার নিত্যদিনের নিত্যকরনীয় কর্ম
তুমি মোর জীবনযুদ্ধে অভেদ্য সুখ-বর্ম।
তুমি মোর অনিরাময়যোগ্য বদভ্যাস
সব জেনেও মিথ্যে বলা,সত্য বলা বেফাস।
তুমি মোর রাত-জাগা,গান শোনা নির্ঘূম
ভোড়ের প্রগাঢ় অলস ঘুম।
তুমি আমার আয়না দেখা,চিরন্তন ফার্স্ট লুক
সন্ধ্যেবেলা চায়ের কাপে প্রথম সে চুমুক।
তুমি আমার বেয়ারা মনের সুপ্ত বাসনা
বন্য মনের অশ্লীল কামনা।
তুমি মোর অলস দুপুরে নির্লিপ্ত শুয়ে থাকা
নির্মীলিণ চোখে বিশ্বকাপের ফুটবল খেলা দেখা।
তুমি আমার চাহিদা মৌলিক
ছোট ছোট ভুল শুধরে গড়ে তোলা সদগুণ চারিত্রিক।
তুমি মোর হেরে গলায় গাওয়া,বেসুরো গান
তুমি আমার ড্রইং-এর খাতা,অবোধ্য আকিঝুকি সব খাল আর ময়দান।
তুমি আমার ছন্দপাতী নিরর্থক কবিতা
তুমি আমার শান্ত মনের সুপ্ত বৈরিতা।
হই যদি আমি ঋণী,তুমি আমার অপরিশোধ্য ঋণ
হইতাম যদি সাপুরে,তুমি হইতেই মোর বীণ।
হই যদি আমি বীর সৈনিক,তুমি মোর দেশপ্রেম
হইতাম যদি চিত্রকল্প,তুমিই হইতে ফ্রেম।
হই যদি আমি অপরাধী তবে তুমি মোর অপরাধ
হই যদি দিগন্তরেখা,তুমি তার বিস্তৃতি অবাধ।
তোমার জন্য প্রান হয়তো দিতে পারব না বটে,
কিন্তু তোমায় ছাড়া বেচে থাকা,সেও হবে না মোটে।
কি আর বলব?গুছিয়ে কথা বলতে পারি না বেশি
শুধু এটুকুই বলি......
ওগো!তোমায় বড্ড বেশি ভালোবাসি।
যৌবনে তুমি তারুন্য হয়ো,বার্ধ্যক্যে হাতের লাঠি
মৃত্যুর পরেও জড়িয়ে থেকো,হয়ে কবরের ভেজা মাটি।
এইটুকু শুধু চাই......
এর চেয়ে বেশি চাইবার আমার আর কিছুই যে নাই।
হতে পারে,এ আমার অহেতুক উচ্চাশা তবু পার যদি,দিও নাহয় এইটুকু ভালোবাসা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





