আমার প্রিয় পোস্ট

আজি হতে শতবর্ষ পরে কে তুমি পড়িছো বসি আমার ব্লগখানি কৌতুহল ভরে

মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সিনেমা :: হতাশা , ক্ষোভ আর কষ্টের উপাখ্যান

০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:০৪

শেয়ারঃ
0 15 0

ঘুরে ফিরে সেই একই ছবি ....

১....
কাঁচা-পাকা রাস্তা ধরে এগিয়ে আসে পাকিস্তানী সৈন্য ভর্তি আর্মি ট্রাকের একটি বহর । তবে বহরে ২/৩ টির বেশি ট্রাক থাকে না কখনও । খানিক আড়ালে রাস্তার ঢালে অ্যামবুশ করার জন্য রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা কিছু তরুণ মুক্তিযোদ্ধার ।আর্মি লড়িগুলো কাছে এলে গ্রেনেড ছুঁড়ে দেয় মুক্তিযোদ্ধারা
,তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাকে আগুন লেগে যায় । পরের সিকোয়েন্সে অবধারিত ভাবেই , আগুন লেগে যাওয়া ইউনিফর্ম নিয়ে পাকি সৈন্যদের ট্রাক থেকে
ঝাঁপিয়ে পড়া । ঝাঁপিয়ে পড়া সৈন্যদের আড়াল থেকে গুলি করা হয় ।

যুদ্ধের আরেকটি পরিচিত দৃশ্যে পাকিস্তানী সৈন্যরা কোন ঢালের আড়ালে
অবস্থান নেয় । বিপরীতে গাছপালা বা জংগলে বা অন্য কোন ঢালে
অবস্থান নেয় মুক্তিযোদ্ধা গেরিলারা । গোলাগুলি শুরু হওয়ার পরেই ঢালের আড়ালে অবস্থান নেয়া পাকী সৈন্যদের , খুব আনাড়ি ভাবে মাথা তুলে
উঠে দাঁড়িয়ে গিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে আসতে দেখা যায় ।আকস্মিকভাবে পাকিদের শ্যুটিং রেঞ্জের মধ্যে পেয়ে , আড়ালে থেকে
মুক্তিযোদ্ধারা গুলি করলে ,পাখির মত একের পর এক পাকিস্তানী সৈন্য নিহত হয়ে ঢাল বেয়ে গড়িয়ে পড়তে থাকে । একের পর এক সঙ্গী মারা
যাচ্ছে দেখেও পাকিস্তানী সৈন্যদের হাস্যকর ভঙ্গীতে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের দিকে দৌড়ে আসতে দেখা যায় ।ফলাফলে ঝাঁকে ঝাঁকে
হানাদার সৈন্য প্রাণ হারায় ।


২...
মুক্তিযোদ্ধাদের গুলিতে আঘাত প্রাপ্ত পাকিস্তানী সৈন্যরা দু'হাত উপরে তুলে
ধনুকের মত পেছন দিকে বেঁকে খুব দ্রুত পেছনে পড়ে যেতে থাকে । গত চল্লিশ বছর ধরে বাংলাদেশের প্রায় সব চলচ্চিত্রে মৃত সব পাকী সৈন্য একই স্টাইলে মৃতুবরণ করে গেছে ।

বিপরীতে মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুটাও গতবাঁধা নিয়ম মেনেই চলে । গুলিতে
আহত হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা কখনোই সাথে সাথে মৃত্যুবরণ করে না , কিছুটা
সময় নিয়ে , খুব কষ্টে কিছু কথা বার্তা বলে তারপর মৃত্যুর কোলে ঢলে
পড়ে ।


৩...
যুদ্ধে যাবার প্রাক্কালে মায়ের কাছে বিদায় নেবার দৃশ্যটাও স্টেরিওটাইপিং
থেকে চারদশকেও বেরিয়ে আসতে পারেনা । বিদায়ের দৃশ্যে চোখ বেয়ে
নেমে আসা পানি বা কান্নার শব্দ শুনিয়ে অনেক জোর করেই আবেগ সঞ্চারের চেষ্টা করা হয় ।

হানাদার পাকিস্তানী সৈন্যদের বীভৎসতা দেখাতে বেশির ভাগ সময় বড় বড় গোঁফ ব্যবহৃত হয় , কথা বলার ফাঁকে বিকট শব্দে তাদেরকে হাসতে
দেখা যায় ।

৪...
যুদ্ধ সিকোয়েন্সগুলো খুব স্বল্প সময়ের মাঝে শেষ হয়ে যায় । সবচেয়ে
বেশি দেখানো হয় মেশিনগান থেকে ছিটকে যাওয়া গুলির খোসা , সবচেয়ে বেশি শোনানো হয় ব্রাশফায়ারের শব্দ ।এর বাইরে যুদ্ধের ডিটেইলস দেখানো হয় খুবই কম । মেশিনগানের শব্দের মাঝে মাঝে
জোরে জোরে বোমা বিস্ফোরণের বুমবুম শব্দটাকেই হাইলাইট করা হয় ।গ্রেনেড ছুঁড়ে দিলে বড় জায়গা জুড়ে ধুলোবালি উড়তে দেখা যায় । একের পর এক গ্রেনেড ছোঁড়ার দৃশ্যগুলো যুদ্ধের চেয়ে ধুলিঝড়ের কথা বেশি
মনে করিয়ে দেয় ।

৫...
কোন নির্দিষ্ট যুদ্ধ , অপারেশন বা ব্যক্তির বীরত্বকে হাইলাইট করা হয়না
কখনও। সিনেমাগুলোতে মোটামুটি জেনারালাইজড কিছু দৃশ্য থাকে , যার শুরু হয় ৭ মার্চের ভাষণ দিয়ে , মাঝের অংশে মায়ের কাছে বিদায় , ঝাপসাভাবে দেখানো হয় কিছু অপারেশন , দু'একজন সঙ্গীর মৃত্যু হয় , সবশেষে নায়ক ফিরে আসে পাগল হয়ে যাওয়া মায়ের কোলে ।

৬...
কোন ক্ষয় ক্ষতি ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ জয় করে নেয় , বিপুল ক্ষয়-ক্ষতির শিকার হয় পাকিস্তানী সৈন্যরা ।

৭...
আবেগঘন দৃশ্য দেখাতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে তেমন কোন বৈচিত্র থাকে না।যেকোন পরিস্থিতিতেই অবশ্যাম্ভাবী হিসেবে একই টাইপের দু'তিনটা মিউজিক ব্যবহৃত হয় ।


কেন আমরা পারি না ?

(১)
নির্মাতাদের অনেকের অজুহাত , বাংলাদেশে যুদ্ধ দেখানোর মত প্রয়োজনীয় কারিগরী সামর্থ নেই। তাদের এই দাবীটিকে পুরোপুরি
অযৌক্তিক বলে মনে হয় । যুদ্ধ দেখানো মানেই ধুন্দুমার কিছু দেখাতে হবে
, এমন কথা বোধ করি কেউই স্বীকার করবেন না । বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে গেরিলা পদ্ধতিতে । নদীমাতৃক দেশে ট্যাংক মিসাইল , অত্যাধুনিক রকেট নিয়ে যুদ্ধ হয়েছে , সেসব কেউ দেখতেও চাইছে না । তাই বলে
বারবার একই ট্রাকে আগুন লাগানোর দৃশ্য থেকে বেরিয়ে এসে সত্যিকার ভাবে যে যুদ্ধ হয়েছে , সেটা সেভাবেই ফুটিয়ে তুলতে দোষ কোথায় ? শুরুর দিকের খানিকটা অংশ ছাড়া যুদ্ধের দামামা বিহীন Enemy At The Gates মুভিতে সোভিয়েত স্নাইপার শ্যুটার ভ্যাসিলির শ্যেন দৃষ্টি আর জার্মান অফিসারের সাথে তাঁর ডুয়েল কি সিনেমাটিকে অসাধারণত্বের মর্যাদা এনে দেয়নি ?

(২)
শত্রুসেনাদের অদ্ভূত স্টাইলে মৃত্যুবরণ দেখানোটাও নির্মাতাদের সৃষ্টিশীলতার দৈন্যতা হিসেবেই বিবেচিত হয় । বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ নিয়ে
যেসব সিনেমা হয় , সেগুলোর মাঝে শত্রুসেনাদের এমন অদ্ভূতভাবে কই মাছের মত একটা ঝাঁকি দিয়ে চিৎপটাং হয়ে মৃত্যুবরণের দৃশ্য খুঁজে
পাওয়া যাবে না।

চলচ্চিত্র নির্মাতারা যদি মনে করেন , এমন দৃশ্যগুলো বীরত্বের প্রতিচ্ছবি , তবে তারা খুব বড় ভুলের মাঝে আছেন।একটা ব্যাপার খেয়াল রাখা
জরুরী , সবসময় সবকিছু স্পষ্ট করে দেখানোর কিছু নেই , সেটা যদি
দেখিয়েই দিতে হয় , তাহলে মানুষের অনুভব করার ক্ষমতার কি প্রয়োজন ছিল ? সাঈদের চোখে আটকে যাওয়া "Paradise Lost" সিনেমার শেষ দৃশ্যটা কি মানুষকে অবারিত সম্ভাবনা দিয়ে ভাবতে
শেখায়নি ?

(৩)
চলচ্চিত্রকারদের বেলাতেও খুব কঠিন কাজগুলোর অন্যতম হল , দর্শকেদের কোন দৃশ্যে আবেগে বিহ্বল করে দেয়া । বহু বছর ধরে একই বিদায় দৃশ্য দেখতে থাকলে দর্শকদের মনে আলাদা করে কোন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় না । চমৎকর নৈপুণ্যের সাথে ফুটিয়ে তুলতে পারলে ,
নায়ক নায়িকার চোখে জল ছাড়াই , দর্শকরা অঝোরে কাঁদতে পারে । আর আনাড়ি ভাবে জোর করে কাঁদানোর চেষ্টা করে গেলে মুভি সিকোয়েন্সে
শত কান্নাও দর্শকদের মাঝে প্রভাবে ফেলে না । "Ballad Of A Soldier" মুভিতে আলিয়েশো মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিল হাসিমুখেই ,কিন্তু সে হাসিমুখ দেখে চোখের জল ফেলেনি , এমন কারও কি সন্ধান মিলবে ?

[৪]
মুক্তিযুদ্ধের সিনেমাগুলো হতে পারত , বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে
উপস্থাপনের অনন্য একটি উপায় । বিংশ শতাব্দীর শেষে এসে এত গৌরবময় যুদ্ধের ইতিহাস খুব বেশি জাতির নেই , অথচ পরিতাপের বিষয় হল , আজ পর্যন্ত বিশ্বকে আমরা কোন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আমাদের ইতিহাস উপহার দিতে ব্যর্থ হয়েছি । মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রে যুদ্ধের দৃশ্যগুলো ঘুরে ফিরে ২/১ রকমের মাঝেই ঘোরা-ফেরা করে , যার কোনটির মাঝেই নৈপুণ্যের সামান্যতম ছাপ নেই ।নির্মম কথাটি সম্ভবত
স্বীকার করে নেয়া ভাল ,জহির রায়হান কে হারানোর ক্ষতিটা সম্ভবত ৪০ বছর পরেও বাংলাদেশেকে বয়ে চলতে হচ্ছে । আপাত মেধাবী চলচ্চিত্র নির্মাতারা আসলেই কতটা বাংলাদেশকে দিতে পেরেছেন , সেটা বিরাট প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে আছে ।

(৫)
মুক্তিযুদ্ধের বেশ কিছু খন্ড যুদ্ধ , শুধু বাংলাদেশ নয় , সমগ্র বিশ্বের গেরিলা যুদ্ধের ইতিহাসেই অন্যরকম গুরুত্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
।বিপরীতে নির্মম সত্যিই হল , বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পরিচালকরা সম্ভবত একটা বারের মতও সেসব যুদ্ধের কোন একটিকেও পূর্ণাঙ্গভাবে
সেলুলয়েডের ফিতায় আলাদা কোন বিশেষত্ব নিয়ে তুলে আনতে
পারেননি । ঘুরে ফিরে যুদ্ধগুলোর বৈচিত্রহীনভাবে একইরকম হয় । চলচ্চিত্র শুধুই বিনোদনের মাধ্যম না , ইতিহাসেরও দলিলও বটে । প্রশ্ন উঠতেই পারে ঢাকা অপারেশন ,আখাউড়া বা চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধারা যেসব
বিখ্যাত অপারেশনগুলো পরিচালনা করেছিলেন ,সেগুলোকে আলাদা করে
হাইলাইট করে কেন কোন সিনেমা বা নাটক নির্মিত হয়নি ?

শুধু বিখ্যাত খন্ডযুদ্ধই না , সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে , ছোট ছোট কোন দল , বা ব্যক্তির বীরত্বগাঁথা । সেগুলো নিয়ে অসাধারণ চলচ্চিত্র হতে পারত , প্রায় ৪০ বছর পরে আজ যখন সেসব আমরা
ভুলতে বসেছি , কৌতুহল হয় , কেন সেসব ঘটনাকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়নি ?

(৬)
ইতিহাস বলে যুদ্ধটা এত সহজে জেতা যায়নি । কিছুটা ক্ষয়ক্ষতির পর মুক্তিযোদ্ধাদের বিপুল বিক্রমে ফিরে আসার ঘটনাগুলো যদি দেখানো যেত
, গল্পগুলো অনেক বেশি দর্শকদের মনে দাগ কাটত ।

বিপক্ষের সৈন্যদের অট্টহাসি হাসিয়ে আর বড় গোঁফ দেখিয়ে যদি তাদের নৃশংসতা প্রমাণ করতে হয় , সেটা আমাদের চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং
অভিনয় কলাকুশলীদের আরেকটি বিপর্যয়কর ব্যর্থতা হিসেবেই চিহ্নিত হবে। নির্বিকার চিত্তে হত্যাযজ্ঞ চালাতে দেখানো বরঞ্চ অনেক বেশি দাগ কেটে যায় । ভিলেন মানেই বীভৎস হাসি , এটা কোন কোন পরিস্থিতেতে
চলচ্চিত্রেকারের চিন্তার পরিধিকেই প্রশ্নবিদধ করে ।বিখ্যাত চলচ্চিত্রগুলোতে নেগেটিভ চরিত্রগুলোও বেশির ভাগ সময় পজেটিভ ইমেজের কোন অভিনেতাকে দিয়ে করানো হয় , মেকিং আর অভিনয়ের অভিনবত্বে তারা তাদের ক্রুড়তা ফুটিয়ে তোলেন ।

(৭)
সংগীতের অসামান্য ব্যবহার দিয়েও একটা সিনেমা বদলে যেতে পারে । "No Man's Land" চলচ্চিত্রটির শেষ দৃশ্যটি যারা দেখেছেন , তারা এটার সবচেয়ে বড় স্বাক্ষী হয়ে আছেন । সিকোয়েন্সের সাথে সংগতি
রেখে নতুন সংগীত ব্যবহারের ব্যর্থতার দায়টা কি আমাদের সংগীত পরিচালকদের সীমাবদ্ধতারই ফসল ?




যা বলতেই হল : {স্বল্প বাজেটে নির্মিত প্যারাডাইস লস্ট , নোম্যানস ল্যান্ড , বা ব্যালাড অফ অ্যা সোলজার দেখার পর বারবার প্রশ্নটা মাথায় ঘুরে ... আমাদের কেন বিশ্বকে দেয়ার মত কোন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নেই ? বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বাদ দিলেও হাতে গোনা ১ টি বা ২ টি চলচ্চিত্র পাওয়া যাবে , যেগুলো দেশের মাঝে সত্যিকার অর্থে সাড়া জাগিয়েছিল। লেখাটার মাঝে ক্ষোভের চাইতে কষ্টটা বেশি , আশা করি সে দৃষ্টিকোণ থেকেই সবাই দেখার চেষ্টা করবেন}

 

প্রকাশ করা হয়েছে: গৌরবের মুক্তিযুদ্ধ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:০৯
দন্ডিত বলেছেন: বিশাল একটা মন্তব্য লিখলাম যেটা সামু বাগে খেয়ে দিল। ধন্যবাদ মেহরাব ভাই।
০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:২৬

লেখক বলেছেন: তুহিন , কষ্ট হলেও কমেন্টটা আবার করে যেও । তোমার মতামতটা জরুরি

২. ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:১৪
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: আমার মন্তব্যটাও বাগে খাইলো :(

আসলেই মুক্তিযুদ্ধের উপর সেরকম একটা কালজয়ী পিস আশা করছি

ঢাকার আরবান গেরিলাদের নিয়ে একটা ভালো মুভি করা যায় বলে মনে হচ্ছে
০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩১

লেখক বলেছেন: বস , আজ মনে হয় আমি নিজেই বাগ ।

কি কি করে পোস্ট উধাও করে দিয়েছি দুই বার :(

ঢাকার গেরিলাদের নিয়ে সিনেমার কথা ভাবলে রীতিমত থ্রিলিং লাগে , বেশ কয়েকবার মনে হয়েছে যত্ন করে করলে ভাল কিছু করা সম্ভব । যারা এসব নিয়ে কাজ করছেন , তারা কখনও ভেবেছেন কিনা জানি না ।


ঢাকার গেরিলা অপারেশন নিয়ে মুভি তৈরির মডেল হতে পারে
ফরাসী মুভি "ব্যাটেল অব আলজিয়ার্স (La battaglia di Algeri )" । গেরিলা অপারেশন নিয়ে এত অসাধারণ মুভি হতে পারে , ব্যাটেল অব আলজিয়ার্স দেখেই প্রথম এমন বিশ্বাসটা জন্মেছিল ।

৩. ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:১৬
দন্ডিত বলেছেন: পোস্ট কি প্রথম পাতা থেকে সরে গেল নাকি? ঘটনা বুঝলাম না।
০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩২

লেখক বলেছেন: আমি হয়ত খেয়াল করতাম না ।

ধন্যবাদ তুহিন

৪. ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:২৪
হাজ্জাজ-বিন-ইউসুফ বলেছেন: পোষ্ট প্রথম পাতা থেকে কোথায় গেলো
০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩১

লেখক বলেছেন: টিক চিহ্নটা উঠে গিয়েছিল নিজে থেকেই , এখন আবার দিলাম

৫. ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৬
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: আসলেই জমজমাট থ্রিলিং আর ইমোশনাল একটা মুভি তৈরী করা যায়
১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:৪২

লেখক বলেছেন: এখনকার নির্মাতাদের উপর ভরসা নেই , যারা শুরুতেই অনন্য কিছু করতে গিয়ে শেষমেশ কিছুই করতে পারেন না , কিন্তু আত্মতৃপ্ত থাকেন

৬. ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৬
দন্ডিত বলেছেন: আমার ব্যাক্তিগত মত হচ্ছে ৭১ এর চেতনা নিয়ে সেরা ছবি "জীবন থেকে নেয়া" আর "আলোর মিছিল"। সমস্যা হচ্ছে এই ছবিগুলো যুদ্ধের আগে এবং পরের। যুদ্ধের সমকালীন নয়। তারপরও "ফর্মুলেটেড" ছবির চেয়ে "জীবন থেকে নেয়ার" মাঝে বাড়িতে স্বৈরাচারীর বিপক্ষে পোস্টার সাটানো, কিংবা ছাপোষা , আনোয়ার হোসেনের রাজনীতিকে অপছন্দ করা আমজাদ যখন মিছিলের মাঝখানে হঠাৎই সোচ্চার হয়ে উঠেন "বাচার মত বাচতে চাই" বলে , এই দৃশ্যগুলো অসংখ্য পাপেট গোফওয়ালা পাকিদের একই ভঙ্গিতে মৃত্যুর চেয়ে অনেক শক্তিশালী। জহির রায়হান অভাব যে আমাদের সিনেমার কতবড় ক্ষতি এই দৃশ্য গুলো দেখলে মনে পরে। এরকম সিম্বলিক শট নেবার মেধা চোখে পরে দেখে হতাশ হই।

বাজেটের অভাব একেবারেই ফালতু কথা। ইরানী একটা সিনেমা দেখেছিলাম , একজন প্রসুতি মা ভুমিকম্পের জন্যে আটকে গিয়েছেন একটা বদ্ধ রুমে। সিনেমার শেষে সদ্যজাতের উপর সূর্য রশ্মি আপতিত হয়। ঐ রুমটাকে ঘিরেই পুরা সিনেমা। অথচ অসংখ্য না বলা কথা, সামাজিক বিধিনিষেধ, মুক্তির আকাঙ্ক্ষা সবই প্রকাশ পেয়েছে।

যুদ্ধের সিনেমা মানে রণাঙ্গনেই থাকতে হবে এটা কোন কথা নয়। কারন ৭১ কেবল একটি বিচ্ছিন্ন গেরিলা যুদ্ধ নয়। এটি একটি দর্শনও বটে। সেজন্যেই একে সেলুলয়েডে ধারন করার জন্যে মেধাবী পরিচালক দরকার। যারা কেবল মুক্তিযুদ্ধের লিখিত ইতিহাসই তুলে আনবেন না, সেইসাথে মানুষের চিন্তার গভীরে পৌছাবেন। মানুষ কিভাবে এই মোটিভেশন পেয়েছে, দলে দলে দেশকে মুক্ত করতে এগিয়ে গেছে সেই অনুভুতিগুলোর প্রকাশ খুব জরুরী।

আপাতত যুদ্ধকালীন সিনেমা হিসেবে মুক্তির গান ছাড়া আর কিছুকে তেমন গুরুত্বপূর্ন মনে হচ্ছে না। হাঙ্গর নদী গ্রেনেড/আগুনের পরশমনি বা এরকম ছবিগুলোতে অসম্পূর্নতাই চোখে পরে বেশী। আগুনের পরশমনি হুমায়নী ছাপে ছোট গন্ডীতে আটকে যায়। তিনি যেমন বিশাল প্রেক্ষাপট ধরার জন্যে প্রয়োজনীয় নৈর্বত্তিকতা অর্জনে অক্ষম, তার সিনেমা অনেক ভালো হলেও, যুদ্ধকালীন মানুষের সংকটের চেয়ে পাত্র/পাত্রীর মনের অভিনবত্ব ঘাটতেই বেশী আগ্রহী।
০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪১

লেখক বলেছেন: তোমার দৃষ্টিভঙ্গীটা ভাল লাগল , মনে হয় তোমার মত ভাবতে পেরেছি খানিকটা হলেও ।

"জীবন থেকে নেয়া" সিনেমাটা প্রথম দেখি ১৯৯৩ এ , তখন সিনেমার অন্তর্নিহিত্ অর্থ বুঝবার ক্ষমতা ছিল না , এরপর যখন বুঝেছি , অবাক হয়ে গেছি । পাকিস্তানী রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কি করে এত তীক্ষণ , ধারাল চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন , সেটা ভেবে আজও অবাক হই । "জীবন থেকে নেয়া" সম্ভবত আমার জীবনে দেখা শ্রেষ্ট চলচ্চিত্রগুলোর অন্যতম , অন্তত ১৫ বার সিনেমাটা দেখেছি , আজও আমি মুগ্ধ দর্শক ।

"আলোর মিছিল"ও এক কথায় অনন্য , সবচেয়ে বড় কথা আজকাল বিকল্প ধারার চলচ্চিত্র বলে মিডিয়া কাঁপিয়ে যেসব সিনেমা আসে , ৭ দিন পরেই সেসব মুভির কথা মনেও থাকে না , অথচ আলোর মিছিলের উপযোগিতা , সমাজ বাস্তবতা আজ ৩৫ বছর পরেও একটুও বিলীন হয়নি ।

তোমার কথাটা ঠিক , এ দু'টোকে ঠিক যুদ্ধের মুভি ক্যাটেগরীতে ফেলতে পারি না । খুব লুজলি এগুলো স্বাধীনতা এবং তার থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতির সাথে রিলেটেড ।

এর বাইরে হয়ত "মাটির ময়নার" কথা বলতে পারব খানিকটা , এটা ছাড়া আর কিছু বলার মতও খুঁজে পাই না । "মুক্তির গান" এর কৃতিত্ব এডিটিং য়ে হয়ত , কারণ ফুটেজ গুলো লাইভ ছিল । সেখানে চলচ্চিত্রকারের কৃতিত্বের লেভেল টা নির্ধারণ করার আগে ভাবব ।

বাজেটের অভাব , এটা যখন কেউ বলে , আমি শুনি "মেধার অভাব" । একটা প্রশ্ন জাগে মনে , আমাদের স্নোব বিকল্প ধারার চলচ্চিত্রকাররা কি ইরানি , জাপানি , বা ছোট ছোট দেশের অসাধারণ মুভিগুলোও কখনও দেখেন না ? ইন্ডিয়াকে এত নকল করার চেষ্টা করি , অথচ সেসব দেশের লো-বাজেটের মুভিগুলো থেকে কিছু শিখতে পারি না আমরা ? । চিন্তার গভীরতা আর ভাল কিছু করার ইচ্ছা না থাকলে কোটি কোটি টাকা দিয়েও ভাল কিছু করা সম্ভব না । আমার ধারণা , আত্মতৃপ্ত মানুষের অজুহাত হিসেবে বাজেট খুব ভাল হাতিয়ার । তবে , ঢালাওভাবে দোষও দেব না , যার ডেলিভার করার ক্ষমতা নেই , তাকে পিটিয়ে তো কিছু বের করতে পারব না ।

দর্শন নিয়ে যেটা বলেছ , সেটার সাথেও একমত । যুদ্ধ মানেই যুদ্ধ ফ্রন্ট না । এই পোস্টে যে চারটা মুভির কথা উল্লেখ করলাম , তার মাঝে কেবল একটাতেই যুদ্ধের ছোঁয়াটা প্রত্যক্ষভাবে আছে , বাকিগুলো যুদ্ধ থেকে উদ্ভূত জীবন বোধের ছবি । সে ছবিটা আঁকতে পারাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ


কমেন্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ :)

৭. ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫১
অলস ছেলে বলেছেন: অনেক হাসলাম লেখাটা পড়তে পড়তে। জাতিগত ভাবে মেধার দৈন্যতা সুন্দর ভাবে লিখেছেন, তাই দেখে দু:খমিশ্রিত হাসি।
০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪২

লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা , আমার দৃষ্টিকোণটা ধরতে পেরেছেন বলে ধন্যবাদ জানবেন।

(দুঃখমিশ্রিত হাসি )

৮. ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৬
অলস ছেলে বলেছেন: ফ্রান্সের সিনেমাটার নাম জানানোর জন্য ধন্যবাদ। টরেন্টে দিলাম, আলজেরিয়া নিয়ে আমার আগ্রহ বেশী। আলজেরিয়ান বন্ধু থেকে অনেক গল্প শুনেছি, তাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের। দেখতে ইচছা করছে, মার্কিনীতের ভিয়েতনাম মার্কা সিনেমাগুলোর মতো কি না।
০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১০

লেখক বলেছেন: না , এটা অন্যরকম । মার্কিনীদের ভিয়েতনাম শব্দটা শুনলেই গায়ে জ্বর আসে । ব্যাটল অব আলজিয়ার্স , ১৯৫৫/৫৬ সালের দিকে ফরাসী শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাকামী আলজেরিয় গেরিলারদের প্রথম আঘাতের প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিনেমা

৯. ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৩
নিরব হাসি বলেছেন: এত না গেজিয়ে নিজে বানাই দেহান।কইতে মজা লাগে।কষ্ট পাইয়েন না ভাই।
০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৮

লেখক বলেছেন: ভাই , যত কিছুই বলেন , কষ্ট পাব না । কারণ আপনি যেটা বললেন সেটা অযৌক্তিক ।

আমি ক্রিকেট খেলতে জানি না , ক্রিকেট খেলাটা আমার কাজও না । কিন্তু তাই বলে আশরাফুলকে বাজে খেলার জন্য সমালোচনা করার আগে কি আমাকে মাঠে নেমে দেখিয়ে দিয়ে আসতে হবে ?

ডাক্তার যদি অপারেশন করতে গিয়ে রোগী মেরে ফেলে , সেটা উল্লেখ করার আগে কি আমাকেও ইঞ্জিনিয়ার হয়েও অপারেশন করে আসতে হবে ?

যার কাজ যেটা , সেটা সে করবে । চলচ্চিত্র বানানো আমার কাজ না , তবে যাদের কাজ , তারা যদি ঠিকমত না পারে , আমি তো হাজারবার সমালোচনা করার অধিকার রাখি

১০. ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৯
রশীদ বলেছেন: খুবই সুন্দর লেখেছেন। এই কাহিনীগুলোর বাইরে অন্য কোন মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা চোখে পড়েনি।

------------
সিনেমাটির নাম "বিহান্ড দ্যা এনেমি গেইটস" নয়,
"এনিমি অ্যাট দ্য গেইটস" হবে।
০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৫

লেখক বলেছেন: বিহাইন্ড দ্য এনেমি লাইনস এর সাথে নাম গুলিয়ে ফেলেছিলাম , লেখার সময়ই সন্দেহ হচ্ছিল । ধরিয়ে দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ

০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৬

লেখক বলেছেন: মাইন্ড করলেন ? sorry

১২. ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০১
হাসান তারিক বলেছেন: শুধু প্লাসানোর জন্য লগইন করলাম, এমন ঘটনা খুব বেশী নাই।
এই পোস্ট যানি ক্যামনে ক্যামনে সেই ঘটনার মধ্যে পইরা গ্যালো।
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৪

লেখক বলেছেন: অঘটনঘটনপটিয়সী হতে পেরে খুশি হলাম

ধন্যবাদ আপনাকে

১৩. ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৩
রুদমী বলেছেন: ১/ "কিছুটা সময় নিয়ে , খুব কষ্টে কিছু কথা বার্তা বলে তারপর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ".।এটাতো বাংলাদেশের সব ছবিতেই হ্য়। জীবনের শেষ কথাটা বলে তারপরই মারা যায়।

২/ আমার মনে হয় যুদ্ধে যাবার আগে মায়ের কাছ থেকে কখনো বিদায় নেয়া হয়না। কারন মা যুদ্ধে যেতে দিতে চায়না। মুক্তিযোদ্ধারা মা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় পায়ে ধরে সালাম করে বিদায় নেয় আর কমন ডায়ালগ হল..."তোমার ছেলে যুদ্ধে যায়তাছে মা, দেশ স্বাধীন কইরায় বাড়িত ফিরবো। " ছেলে পায়ে ধরে সালাম করলো, এত কথা বলল তবুও মায়ের ঘুম ভাঙে নায়।এমন যুদ্ধের রাতে মা এত গভীর ভাবে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে অবাক লাগে।

৩/ বিয়ের রাতেই নায়িকার কাছ থেকে বিদায় নিতে হ্য়। এটা মোটামুটি একটা কমন সিন।

৪/ gramer মোড়োলকেই রাজাকার হতে হয়।

৫/ "সবশেষে নায়ক ফিরে আসে পাগল হয়ে যাওয়া মায়ের কোলে ।"....এমন কী সবসময় হয়? সাধারঁণত নায়ক ফিরে এসে দেখে তার পুরো ফ্যামিলিকে পাক আর্মি মেরে ফেলেছে। আর পাগল মনে হয় নায়িকারাই বেশী হয়।

বিদেশী ছবি গুলো দেখা হয়নি। তবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত দুটো ছবি দেখেছিলাম....আগুনের পরশমনি আর হাঙ্গর নদীর গ্রেনেড...বেশ ভালোই ছিলো বলা যায়।
১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৬

লেখক বলেছেন: জবাব নেই ।

এই দৃশ্যগুলো অনেক বেশি পারফেক্ট হয়েছে । পোস্টে জুড়ে দিতে পারলে ভাল হত ।


অনেক অনেক ধন্যবাদ

১৪. ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৩২
আমিই জিনিয়া বলেছেন: মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী নিয়ে তৈরী ছিনেমাগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙ্গালীর যে অনুভূতি ছিলো,তা তুলে ধরার ক্ষেত্রে অতটা সফলতা পরিলক্ষিত হয়না।হয়তো তা নির্মাতাদের ব্যর্থতা।মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি।কিন্তু বড়দের মুখে মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী শোনার সময় মুক্তিযুদ্ধের আবেদনের যতটা গভীরে পৌঁছতে পারি,ছিনেমায় ততটা হয়না।
১৪ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৪

লেখক বলেছেন: আপনার সাথে পুরোপুরি একমত । শুধু বড়দের মুখে শুনেছি যেটা, সেটার বাইরেও বইপত্রে লেখালেখিতে মুক্তযুদ্ধের আবেদনটা অনেক বেশি ,কখনও অনেক বেশি হৃদয়স্পর্শী , কখনও বা অনেক বেশি ইস্পাতকঠিন । অথচ , যে মিডিয়ায় এসবগুলোর সবচেয়ে চমৎকার সমন্বয় সম্ভব , সেই সিনেমাতেই আমরা যোজন যোজন দূরত্বে পিছিয়ে আছি .....

অনেক ধন্যবাদ কমেন্টের জন্য , সেফ ব্লগার হওয়ায় সাথে অভিনন্দন

১৫. ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৪৭
একরামুল হক শামীম বলেছেন: মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত সিনেমাগুলো কিছু গৎবাধা বিষয়ে আবদ্ধ হয়ে গেছে। তবে "এখনো অনেক রাত" সিনেমাটি আমার কাছে ভালো লেগেছিল সেই সময়।

জহির রায়হান বেঁচে থাকলে হয়তো এই বিষয়ে খুব ভালো সিনেমা আমরা পাইতাম।

১৪ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৭

লেখক বলেছেন: সেটা নিয়ে কোনই সন্দেহ নেই । জহির রায়হানের কথা যতবার ভাবি , প্রচন্ড আফসোস হয় । আমরা হয়ত নিজেরাই জানি না , কত বড় ক্ষতি হয়ে গেছে তাকে হারিয়ে

১৬. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:০৯
হাসান মাহবুব বলেছেন: শুধু মুক্তিযুদ্ধ কেন, কোন বিষয় নিয়ে আমাদের কয়টা ভালো ছবি আছে বলেন! সবাই খালি মেতেছে এক সুস্থ্য ছবি সুস্থ্য ছবি ব্যবসায়। মানে অশ্লীলতা না থাকলেই, নাদুসনুদুস প্রেমের ছবি বানালেই আমাদের নির্মাতারা আত্নতৃপ্তির ঢেকুর তোলেন।
১৪ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৪

লেখক বলেছেন:
পয়েন্ট টু বি নোটেড :

"সবাই খালি মেতেছে এক সুস্থ্য ছবি সুস্থ্য ছবি ব্যবসায়। মানে অশ্লীলতা না থাকলেই, নাদুসনুদুস প্রেমের ছবি বানালেই আমাদের নির্মাতারা আত্নতৃপ্তির ঢেকুর তোলেন।"

এগিয়ে যাবার ইচ্ছাই নেই , কি করে এত তুষ্টিতে ভুগছি সবাই কে জানে । ঘুরে ফিরে একটা কাহিনী দিয়েই বছরে ১০০ সিনেমা , চারদিকে করতালি আর করতালি

১৭. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:৪৫
সহেলী বলেছেন: তুমি কেমন তথ্যবহুল , সুচিন্তিত পোষ্ট দাও ।
তোমার জন্য শুভকামনা ।
১৪ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:১৪

লেখক বলেছেন: তাই বলে এভাবে লজ্জা দেবে ? হঠাৎ নিজেকে বুদ্ধিজীবি মনে হয়ে গেল :) (মজা করলাম)

অনেক ধন্যবাদ জেনো

১৮. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৭:৫১
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন: Saving Private Ryan এর ফার্স্ট পোর্শানের সম্মুখ সমরের ওই যুদ্ধ দৃশ্যগুলো আমার দেখা এখন পর্যন্ত সেরা নির্মান ! আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় সম্মুখ যুদ্ধ গুলো বিশেষ করে যেগুলো নদীতীরে হয়েছিল , এমনি হয়তো ছিল! হয়তো অত্যাধুনিক অস্ত্র ছিলনা , বড় বড় যুদ্ধ যান ছিলনা , কিন্তু হামলা -পালটা হামলা , মরণপণ লড়াই , অসীম সাহসীকতা , ডেডিকেশন , শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত শত্রুকে হটানোর দুর্দান্ত প্রচেষ্টা ......... এগুলো তো কোন অংশে কম ছিলনা ! আমরা নির্মান করতে পারিনা কারন আমরা আসলে চাইনা ! ইচ্ছেটা নেই যারা ওই সেক্টরে কাজ করে , খুব এমন স্বপ্ন নিয়ে কেউ যদি যায় ও ওই শিল্পে , কিছু পরেই সেও হয়ে যাবে বানিজ্যিক , শিল্প স্বত্বা তার কত আগেই মরে যাবে !!! স্বপ্ন টাও চলে যাবে যাদুঘরে কিংবা গ্রেভিয়ার্ড এ!
আর সব কিছুর উপরে , আমাদেরতো অমন প্রযুক্তি ও নাই ! মেধাবী নির্মাতাদের জন্য কোন ইনফ্রাস্ট্রাকচার নাই। দক্ষ কর্মী নাই। আবেগ নির্ভর সিনেমা বানানো পর্যন্তই আমাদের দৌড় ! আমাদের যুদ্ধ সিনেমা তাই শেষ পর্যন্তঃ একজন রাগান্বিত যুবক , সে মুক্তিযোদ্ধা , তার অসহায় বাবা মা , ওই মুক্তিযোদ্ধার ওবশ্যই একজন ভালোবাসার মানুষ থাকবে যে পরে লাঞ্ছিত হবে , একজন রাজাকার যার অবশ্যই দাড়ি টুপি থাকবে আর থাকবে ধার্মিক ভাব, একজন ভাড় থাকবে যে অবশ্যই ওই রাজাকারের পেছনে থাকবে হাতে ছাতা ও থাকতে পারে , একজন শিক্ষক থাকবেন যিনি অনেক নীতি কথা বলবেন ,দেশপ্রেমের কথা বলবেন ,পরে তিনিও গুপ্ত হত্যার শিকার হবেন......
আর যুদ্ধ দৃশ্য গুলো তো ভাইয়া উপরে বলেই দিলেন......
ঘুরে ফিরে একি কাহিনী!

কখনোই আটষট্টি হাজার গ্রামের একটাই গল্প না ! হাজার হাজার গল্প আছে যুদ্ধের , প্রতিটা বাকি গুলোরচে আলাদা !
একি সমর নীতিতে সবাই যুদ্ধ করেনি !
যারা যুদ্ধ দেখেছে , সবাই এখন বৃদ্ধ প্রায় ... এখনো না বানালে আর সময় কই ? কিন্তু এখনো যা বানানো হবে , সেগুলো ও সত্য হবেনা , বায়াসড হবে ! মিথ্যাচার থাকবে! সততার সাথে বানানো হবেনা , তাই কোন যত্ন থাকবেনা , প্রোপাগান্ডা মুখ্য থাকবে! বহু বছর পর আবারো কেউ এমন পোস্ট দেবে ! :-(


১৪ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:১৪

লেখক বলেছেন: এই কমেন্টটাই একটা পোস্ট হতে পারত । যে কথাগুলো implicit ছিল সবকিছুই মনে হয় বলে দিলে , সবচেয়ে সত্য কথাটাও বললে :

"আমরা নির্মান করতে পারিনা কারন আমরা আসলে চাইনা "

সাথে আরেকটু যোগ করতে চাই , "আমরা সম্ভবত পারিও না , পারার মত কেউ গড়ে ওঠেনি , কারণ কেউ গড়ে উঠতে চায়নি । সামান্যতেই সবার বিরাট ভাব , অথবা ভাবনার অভাব"

বৃত্তের আবর্তে ঘুরবে , তাই তো ? আমিও দিবয়দৃষ্টিতে তাই দেখি , নিকট ভবিষ্যতে অবস্থার কোন পরিবর্তন দেখি না

১৯. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৮:৩৪
সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন: ওরা এগার জন নামে একটা সিনেমা ছিল, আপনি উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন নাকি ইচ্ছে করেই করেন নি ঠিক বুঝতে পারলাম না ...
১৪ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:১৯

লেখক বলেছেন: সিনেমাটা ভাল ছিল , আমার ভাল লেগেছে । ৭২/৭৩ এ নির্মিত , আর একদম প্রথমদিকের মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা । বলতে পারেন , একটা ট্রেন্ড-সেটারও ছিল সিনেমাটা । সেসময় অপ্রতুল কারিগরি ব্যবস্থাপনার মাঝেও ভাল একটা নির্মাণ উপহার দিয়েছিলেন ।

কিন্তু ওটা নিয়েই তৃপ্ত থাকতে চাইনি । হয়ত , সুযোগ সুবিধা থাকলে ওটা অনেক অনেক বেশি উৎকর্ষমন্ডিত হত । যে পথে যাত্রা শুরু "ওরা এগারো জনের" সেই পথে অনেক নতুন নতুন ইনোভেটিভ আইডিয়া চেয়েছিলাম , সেটার কিছু পাইনি বলেই এই পোস্টের সূচনা । যেহেতু অতৃপ্তির কথাটা তুলে ধরাই মুখ্য , তাই ইচ্ছা করেই সেই সিনেমার কথা বাদ রেখেছি । এ সময়ের কাছে দাবী রেখেই কথাগুলো তাই টেনে নিয়ে গেছি

২০. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:১১
মেহবুবা বলেছেন: তোমার মত চিন্তা করতে পারা এবং সেটাকে এভাবে উপস্থাপন করার দৃষ্টান্ত দেখে আশার আলো দেখি এই লন্ডভন্ড সময়ে তোমাদের মত অনেকেই আছে যারা আমাদের সব শেষ হয়ে যেতে দেবে না ।
১৪ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:১০

লেখক বলেছেন: মেহবুবা আপু , কম্প্লিমেন্টস পেয়ে ভীষণ কৃতজ্ঞ । কিন্তু সবসময় একটা কথা মনে চেপে থাকে , এই সামান্য লেখালেখিই হয়ত আমার দৌড় , বাস্তবে কোন পদক্ষেপ নিতে পারব কিনা , কে জানে । কিন্তু ইচ্ছেটা আছে পুরোদমে ।

মাঝে মাঝে মনে হয় , সবাই বদলে যাচ্ছে , সবাই অন্যরকম করে ভাবছে , অথবা আপোস করে নিচ্ছে । কেউ যখন এসে সহমত জানিয়ে যায় , তখন একটু শক্তি পাই

২১. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:৫৮
অনাহুত আগন্তুক বলেছেন: আমার বন্ধু রাশেদ বইটা পুরোপুরি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, কিন্তু পুরো গল্পে মাত্র একটা যুদ্ধের অংশ আছে, তাও সেটা যেরকম ওটা চিত্রায়িত করার জন্য তেমন কিছুই লাগে না, কিছু সাউন্ড এফেক্ট লাগবে বোঝানোর জন্য যে যুদ্ধ হচ্ছে।

আমি যতবারই বইটা পড়ি, দুপাতা পরপর আমার সব গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়..

এরকম বইগুলো নিয়ে চাইলেই মুভি বানানো যায়, খুব অল্প খরচে এবং সেটা হবে সেই-র-ক-ম কিছু একটা। কিন্তু এটা ঠিক গৎ বাঁধা প্রফেশনালদের দিয়ে হবে না.. :( অন্তত আমি আশা করি না তাদের দিয়ে হবে..
১৪ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:২০

লেখক বলেছেন: কি ভীষণ উত্তেজনা নিয়ে "আমার বন্ধু রাশেদ" পড়েছিলাম , চোখ বন্ধ করে ভাবলে ভীষণ কেঁপে উঠি । অসাধারণ প্লট হতে পারত ।


গৎ বাঁধা প্রোফেশনাল দিয়ে হবে না , সেটা আগেই উল্লেখ করেছি , আমিও ভরসা করতে পারি না । ভয় হয় , এমন সিনেমাগুলো শেষমেশ তারা কমেডি বানিয়ে ফেলেন কিনা ।

একটা ব্যাপার কি খেয়াল করেছেন ? বাংলাদেশের শিশু শিল্পীদের দিয়ে কাজগুলো করানো হয় , সেগুলো মোটেও স্বতঃস্ফূর্ত হয় না , ভীষণ আর্টিফিশিয়াল হয় । অনেক বয়েসী ছেলেমেয়েদের দিয়ে ঢং করে কথা বলানো থেকে শুরু করে অনেক ইমম্যাচিউরড আচরণ করানো হয় ।

২২. ১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:১৭
বাবুনি সুপ্তি বলেছেন: কেউ হয়তো বুঝতে পারবে একদিন আর এগিয়ে আসবে ভাল কিছু করতে সেই আশায়।
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:০৯

লেখক বলেছেন: সে আশাতেই ...

কে জানে , শতাব্দী পার হয়ে যেতে পারে বসে থেকে থেকে :)

২৩. ১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:৪০
সুবিদ্ বলেছেন: ওরা ১১ জন-এর ট্রেন্ড থেকে আজো বের হওয়া যায়নি.....যুদ্ধের ছবিতে যুদ্ধের দৃশ্য না দেখাতে পারার অন্যতম কারণ হলো আমাদের নির্মাতাদের যুদ্ধ সম্মন্ধে ধারণা না থাকা......

ঢাকার গেরিলা অপারেশনের উপর ছবি বানানোর কথা তুলে দারুণ একটা সম্ভাবনাকে সামনে এনে দিয়েছেন......কারণ ঐ অপারেশনগুলোতে অনেক 'বস'-রা অংশ নিয়েছিলেন.....ইস!! শাহাদত চৌধুরী বেঁচে থাকলে এই ক্ষেত্রে বিশাল একটা ভূমিকা রাখতে পারতেন.......

মুক্তিযুদ্ধের সিনেমাগুলো হতে পারত , বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে
উপস্থাপনের অনন্য একটি উপায় ----সম্পূর্ণ একমত

১৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৮

লেখক বলেছেন: "যুদ্ধের দৃশ্য না দেখাতে পারার অন্যতম কারণ হলো আমাদের নির্মাতাদের যুদ্ধ সম্মন্ধে ধারণা না থাকা"

এটা তো ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ । মনে আছে , ভার্সিটিতে প্রজেক্ট করার সময় , কখনও কখনও সাইটে গিয়ে ডাটা আনা কিংবা প্রসিডিংস দেখা হয়ে ওঠেনি , ঘরে বসেই সাইট সিমুলেট করতাম , ছোট্ট সেই কাজটাই এত বেশি পেইনফুল ছিল , সম্ভবত বাস্তবতা থেকে বহু ক্রোশ দূরে সরে যেতাম । সেখানে যুদ্ধ নিয়ে অভিজ্ঞতা না থাকাটা তো ভয়াবহ । আমাদের ২/৩ টা প্রজন্ম হারিয়ে গেছে এর মাঝেই , চাইলেও কি আগের মত চমৎকার করে সব তুলে আনা সম্ভব ? এখন সম্ভবত একদম শেষ সময় , প্রত্যক্ষদর্শীরা হারিয়ে গেলে তখন আমরা ফিকশন লিখবো !!


ঢাকা অপারেশনের প্রায় সবাই এখনও আছেন , তাদেরকে কাজে লাগানো উচিৎ । শাহাদাত চৌধুরীর মত একে একে সবাই চলে যাচ্ছেন , তবুও কারও সামান্যতম বিকারও নেই । নাহ , সত্যিই খারাপ লাগে , আমাদের ইতিহাস লালন করি না !!

২৪. ১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:৫১
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: হে হে। বাঙালরা লুকিয়ে লুকিয়ে ময়ুরীর নাচ দেখতে পছন্দ করে, মুক্তিযুদ্ধ ছাইপাশ। আর সুশীলরা তো সিনেমা নিয়ে কিছু কয় না! এগুলোই চরম বাস্তবতা। যে নিজেকে জানে না সে দেশকে কী জানবে!
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:১৪

লেখক বলেছেন: আশরাফ ,
এভাবে দিনে দুপুরে আমাদের সবকিছু উন্মোচন করে দেয়া কি ঠিক ?
২১ শে ফেব্রুয়ারি কি দিবস হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে জানেন ? এই হল আমাদের প্রজন্ম , যারা কিনা দেশকে ভালবাসে !!

২৫. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:১৪
রিজওয়ানুল ইসলাম রুদ্র বলেছেন: আমাদের পরিচালকদের একটা মুখের বুলি হলো 'বাজেট'! সরকার ২৪ লাখ টাকা অনুদান দেবার পরও কারো কারো মুখ থেকে (পত্রিকায় মন্তব্যের প্রেক্ষিতে) আমরা বিজ্ঞ পরিচালকদের মতো অনভিজ্ঞ বুলি শুনি, "এত কম বাজেটে তো খারাপ ছবিই তৈরী করা যাবে না! ভালো ছবি কী করে তৈরী হবে..." সরয়ার ফারুকীর অভিমত ছিলো এটা। 'খারাপ ছবি' বলতে কী বুঝিয়েছেন তা অস্পষ্ট। তবে ফারুকী একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন, তাঁর মতে কোনো নবীন পরিচালকদের 'অনুদান' দেয়া উচিত কারণ একজন নতুনের পক্ষে প্রযোজক খুঁজে পাওয়া কঠিন (এটা বলতে সাহস লাগে বৈকি!)আর একজন অনুদানপ্রাপ্ত গুণী নির্মাতা তো অনুদান ছাড়া ছবি নির্মাণের কথা ভাবতেই পারেন না! অপেক্ষাকৃত কম টাকায়ও (মেধা থাকলে, সাহস থাকলে) ভালো ছবি নির্মাণ সম্ভব। কিন্তু সেই মেধার দারুণ অভাব রয়েছে প্রতিষ্ঠিতদের মধ্যেই! এখন চলচ্চিত্র নিয়ে নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ছে, আমি আশা করি, একদিন আমরা বাংলা চলচ্চিত্রে সম্পূর্ণভাবে ফিরে যাবো, হয়তো সেইদিন খুব বেশি দূরে না!

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ফিকশনাল কাজ করার জন্য প্রচুর হাই কোয়ালিটি সরঞ্জাম দরকার, ঠিক আছে, সেই সাথে বিষয়বস্তু উপস্থাপনের জন্য নতুন চোখ, মেধা, পরিশ্রম সবই প্রয়োজন। সুস্থধারা কিংবা অসুস্থধারা- দুটোই বিভেদ সৃষ্টিকারী পদার্থ। সুস্থধারার পরিচালকদের ছবি মানুষ যেমন দ্যাখে, অসুস্থধারাদেরটাও দ্যাখে, পার্থক্য দর্শকে, কেউ শ্রমজীবী কেউ শিক্ষিত, এরচেয়ে বেশি কিছু না...

তবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র বা ডকুমেন্টারি ফিল্মগুলোকেই আমার নির্ভুল ও ফিল করার মতো বলে মনে হয়। সম্প্রতি যুদ্ধভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করে একটু হলেও বুঝতে পেরেছি, ফিকশনাল কাজের সাথে ডকুমেন্টেশন এর পার্থক্য কতটুকু। তবে এটাও ঠিক, অডিয়্যান্স গড়পড়তায় ফিকশনাল কাজগুলোই প্রিফার করে। তারপরও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের নির্মাতারা চেষ্টা কম করেন নি, হয়তো শতভাগ ভালো কাজ তাঁরা করতে পারেন নাই, তবে তাঁরা ব্যর্থও হননি। আমরা কিন্তু ঠিকই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক যে কোনো ছবি, নাটকের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছি। হোক সেটা যে কোনো নির্মাতার তৈরী!
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:৩১

লেখক বলেছেন: ১. খারাপ ছবি ..... ডেফিনিশনটা ধোঁয়াটে , কত টাকার নিচে বাজেট হলে নিশ্চিতভাবে খারাপ ছবি হয় ?

২. ভাল খারাপ যাই হোক , মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সিনেমার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে

৩. বাংলাদেশের দর্শকদের কথা ভেবেও হয়ত সিনেমা তাঁর ভাল হবার সম্ভাবনাটুকো হারায় । যারা , সৃজনশীল কিছু চাই , তারা হলমুখী না । যারা হলমুখি , তারা মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা নিয়ে আগ্রহী না ।

৪. ডকুমেন্টারির ইন্টেরিওর থিংকিং টা অনেক কিছু শেখায় । মার্চ অব দ্যা পেঙ্গুইনস এর বাহাইন্ড দ্যা প্রোডাকশন দেখেছিলাম , অবিশ্বাস্য । মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ডকুমেন্টারিগুলো যদিও একদম অন্যরকম হবে । দলিল হিসেবে এগুলো অমূল্য , বাংলাদেশে কেন এগুলোর পাবলিসিটি নেই ?


অনেক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য

২৬. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:২৬
অপরিচিত_আবির বলেছেন: যুদ্ধের ছবি মানেই কামান-গোলাবারুদ নয়, যুদ্ধের ছবির মুল থিম সবসময় যুদ্ধই হতে হবে কেন? ... কেন শিন্ডলার্স লিস্ট, নো ম্যানস ল্যান্ড, বালাড অফ এ সোলজার, পিয়ানিস্ট, লেটার ফ্রম ইয়োজিমার মতো ছবি কেন হবে না আমাদের দেশে আমি নিশ্চিত - শুধু নিশ্চিত নয় জানিই যে এসব ছবির কাহিনী থেকেও রোমহর্ষক এবং অবিশ্বাস্য ঘটনা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের ছবি হতে পারে একজন বা একদল ছেলের বর্ডার পাড়ি দেওয়া নিয়ে, ছবি হতে পারে রিফিউজি ক্যাম্পের জীবন, তরুণ মুক্তিযোদ্ধার ট্রেনিং নিয়ে, একজন শিশু মুক্তিযোদ্ধার চোখে দেখা ৭১ নিয়ে, একজন রাজাকারের দৃষ্টি থেকে, পাকিস্তানিদের টর্চার ক্যাম্পের ঘটনা নিয়ে, পাকিস্তানিদের চোখ থেকে ... খেয়াল করলে দেখবেন সকল বিখ্যাত যুদ্ধের ছবিগুলোর যা থিম তার প্রতিটিই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্মাণ করা যেত। আর একান্তই যুদ্ধের ছবি করতে চাইলে ঢাকার গেরিলা অপারেশনগুলো নিয়ে ছবি করলেই হয়, এর থেকে ভালো থ্রিলার আর কি হবে আমি জানি না। আশা করি জয়যাত্রা বা আবার তোরা মানুষ হ এর মতো আরো ভিন্ন আঙ্গিকের আরো ভিন্ন ঘটনার ছবি আসবে।
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:২২

লেখক বলেছেন: রোবোট ভাই একটা কথা বলে গেল ........."চোথাবাজি" ।

চোথায় কোন অংক দেখে ফেললে যেমন নতুন নিয়মে অংকটা আর মাথায় আসে না , আমাদের নির্মাতাদেরও মনে হয় একই হাল ।

আচ্ছা , এসব সিনেমা বানানোর সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পৃক্ততা থাকে কি ? নাকি ঘরে বসেই সব কিছু কল্পনায় আঁকা হয় ? হঠাৎ চিন্তাটা মাথায় আসল ...

২৭. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৬
আবু সালেহ বলেছেন:
আপনার চিন্তা চেতনা ভালো লেগেছে...তবে দুঃখটা বরাবরের মত রয়েই যাবে মনে হয়....
১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:৩৫

লেখক বলেছেন: আমিও জানি , জেনেই লিখলাম...

এত গুলো বছর এত বড় বড় মানুষরা যেটা ভাবতে পারেননি , বা ভাবলেও কোন ব্যবস্থা নিতে পারেননি , সেখানে তো আমার আক্ষেপ দেয়ালে প্রতিধ্বনি হয়েই ফিরবে ।

ধন্যবাদ , আবু সালেহ ভাই

২৮. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:৩৮
অদ্রোহ বলেছেন: নেকদিন আগে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার নৌ কমান্ডোদের নিয়ে একটা বই পড়েছিলাম ,এখন মনে হল ,আরে , এদের এসব কীর্তি নিয়েই আদ্যন্ত এক থ্রিলার ফাঁদা যায় ,এমনিভাবে বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকেই যুদ্ধের ওপর ছবি করা যায় ............

জাতি হিসেবে আমাদের এক অপরিমেয় দুর্ভাগ্য কি জানেন একাত্তর কেবল আমাদের কাছে কাগজে কলমেই আছে ,কিন্তু সত্ত্বায় বা মননে নেই ।
১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:৩৩

লেখক বলেছেন: মোটামুটি সবাই জানি , পাকিস্তানীরা নৌযুদ্ধে দারুণ অপটু । জলপথ , জলাশয় , বা সাধারণ খাল বিল গুলো পাকীদের মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠেছিল । গ্রামের সাধারণ মানুষগুলো নদী-মাতৃক দেশে বেড়ে ওঠার সুবিধা কাজে লাগিয়ে আচমকা আক্রমণে পাকিদের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছিল ।

একাত্তর নিয়ে তোমার চিন্তার সাথে একমত । একাত্তর এখন অনেকের কাছেই ব্যবসা । অনেকের দেশপ্রেম শুধু একাত্তর শব্দটা উচ্চারণেই শেষ , অন্য সব ব্যাপারে , দেশের চিন্তাটা সর্বনিম্ন প্রায়োরিটিটুকুও পায় না । তাদের কাছে কি আর আশা করতে পারি ?

২৯. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০১
মুহিব বলেছেন: যেখানে যোগ্যতার ব্যাপার থাকে সেখানে আর কি বলার থাকে। নির্মাতারা যদি এর চেয়ে ভালভাবে দেখাতে না পারে তাহলে তো সেই দেখতে হবে।
১৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:১৯

লেখক বলেছেন: সেটাই মুহিব ভাই ,
বাংলাদেশের কাছে তো ফুটবল বিশ্বকাপ আশা করতে পারি না , এখনকার নির্মাতাদের দৌড় এই পর্যন্তই

৩০. ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১১
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: আমার ভাবনার সাথে অনেকটাই মিলে গেল। অনেক দিন ভেবেছি আমাদের দেশে কেন যুদ্ধ নিয়ে খুব বেশি এবং ভাল ছবি হচ্ছে না। মেধার অভাব নাকি ইচ্ছার অভাব। খুব ভাল স্ক্রিপ্টও পাওয়া যায় না। অথচ একটা ভাল যুদ্ধের ছবির সব ধরণের উপাদান আমাদের এই দেশে আছে।
১৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:২১

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ মাসুম ভাই , ভরসা পেলাম , ভাবনাটা অনেকেই তবে ভাবে । সম্ভবত শুধু ভাবেন না তারা , যাদের কাজই হল এসব ভাবা । কোন আশা দেখেন ?

৩১. ১৩ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:২৫
দন্ডিত বলেছেন: @অদ্রোহ বইটা কি সেজান মাহমুদের? অগ্নিবালকের ঔপন্যাসিক?
৩২. ১৪ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২১
তাজা কলম বলেছেন:
সুন্দর তথ্যনির্ভর, আবেগময় লেখা। +


তাজা কলমে প্রসূত লুল বিষয়ক গবেষণা:

Click This Link
১৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:১৭

লেখক বলেছেন: কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ


অফ-টপিক : লুলের ব্যাপারে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ , সেটা ঠিক আছে , তবে যারা সারাক্ষণ এটা নিয়ে মেতে থাকে , তাদেরকেও ওয়াচে রাখেন , আরও বড় লুল পাওয়া গেলেও যেতে পারে

১৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:১৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদও নিয়ে যান

৩৪. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩২
মাহবুবা আখতার বলেছেন: এই রে!
আপনার সাহস আছে :-B যেই জিনিস টাচ করেছেন! একটা মাত্র মাইনাস খাইসেন দেখে একটু অবাক হলাম। বিষয়গুলো সত্য কিন্তু এই জিনিসটা নিয়ে কিছু বলতে গেলেই খুব তাড়াতাড়ি রাজাকার হয়ে যেতে হয়।
ফ্রেন্ড সার্কেলে বসেও যদি বলা যায়, জয়যাত্রা ভালো লাগে নাই। তখন শুনতে হয়, 'তোর তো ভালো লাগবেই না, তুই তো খালি বিদেশী মুভিই দেখবি। কিংবা তুই তো একটা রাজাকার।'
এটা কেউ স্বীকার করে না যে এই ছবিগুলোর মেকিং ভালো না।
একটা জিনিস ছেড়ে গেছেন, পাকিস্তানী সৈন্যদের মুখে অদ্ভুত ভুলভাল কিছু উর্দু ডায়ালগ দেয়া হয় অনেক সময়, আর তাদের যে সাইজ এবং যে কস্টিউম.... :-& বাস্তবের সাথে এক বিন্দুও যদি মিলত!
২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:১৫

লেখক বলেছেন: আপনার কমেন্টটা চিন্তায় ফেলে দিল । এই তাহলে আমাদের অবস্থা ? তাহলে তো আর কোন পথ খোলা নেই ......

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভাল কিছু না করতে পারার আক্ষেপ যদি রাজাকারির সিম্বল হয় , তাহলে গভীর দুঃখভরে বলতে হয় ......... আর কিছুই বলার নেই ।

এমন করে কন্ঠরোধ করেন যারা , তারা কি আদৌ মুক্তিযুদ্ধকে মনে ধারণ করেন , নাকি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকিয়ে ব্যবসায় নেমেছেন ?

যাক অনেক কথা বলে ফেললাম , সাথে আরেকটা ব্যাপার ভাল লাগল ।
এই পোস্টে সবাই আলোচনা করেছেন , যে শ্রেণীটার কথা বলছিলাম , তাদের কারও দেখা মেলেনি । সবাই না হোক , কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ অনেক সিরিয়াসলি ব্যাপারটা নিয়ে ভেবেছেন , এটা অনেক বড় প্রাপ্তি ।


অনেক ধন্যবাদ মাহবুবা , অন্যরকম কমেন্টটার জন্য

৩৫. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:০৮
রাশেদ বলেছেন: দায়সারা ভাবটাই কারণ মনে হয়!
১৮ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:০৬

লেখক বলেছেন: অনেক অনেক দিন পর রাশেদ ভাই ।
কেমন আছেন ?

৩৬. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:১৬
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন: চমৎকার লেখা মেহরাব ভাই ++

একমত ।
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:২২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ :)

১৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৩৮. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৩
রোবোট বলেছেন: ভালো লাগলো। মানি অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, তারপরও সিনেমাতে আরো একটু বাস্তবতার ছোঁয়া থাকলে ভালো হয়। সব হলো টেমপ্লেটের (পড়ো চোথাবাজি) সমস্যা।হুমায়ুন আহমদের আগুনের পরশমণিতে দেখায় দিন দুপুরে অবরুদ্ধ ঢাকায় রবীন্দ্র সংগীত গায় নায়িকা। বিশ্বাসযোগ্য কি?
৭১ এর এত রকমের দিক আছে সিনেমা করার, কিন্তু ঐ টেমপ্লেট থেকে বেরোয় বা কেউ?
১৮ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:২৯

লেখক বলেছেন: রোবোট ভাই ,

চোথাটার প্রথম author কে অন্তত খুঁজে বের করে সম্মানিত করা উচিৎ , তাঁরটা অন্তত জেনুইন কিছু একটা ছিল ।

৩৯. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:১৫
জনৈক আরাফাত বলেছেন: সাধারণ কোন বিষয়ের গভীরে ঢুকতে পারাটা তোমার খুব বড় একটা সক্ষমতা! :) আবারও বলতে হলো!

পোস্ট বিষয়ে নতুন আর কী বলবো! সব তো বলেই ফেলেছো!
১৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:২১

লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা বস

৪০. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৯:০১
ফেরারী পাখি বলেছেন: তোমার লেখায় দ্রুত একনজর বুলিয়েছি। আরও ভালো করে পড়ার জন্য প্রিয়তে নিলাম।

এসব লেখায় বেশ গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য আসে। মানুষের নানারকম দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। তবে পুরো মন্তব্য গুলো পড়তে পারিনি। তবে দন্ডিতের মন্তব্য পর্যন্ত পড়েছি।
মোটামুটি দন্ডিতের দৃষ্টিভঙ্গি আর মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র সম্বন্ধে আমার দৃষ্টিভঙ্গি বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই একই রকম।
তাই নতুন করে আর কিছু লিখছি না। আজ পর্যন্ত বিটিভি তে ১৬ ডিসেম্বরের ছবি মানেই "জীবন থেকে নেওয়া।" ঘুর ফিরে ঐ একটা ছবিই। কি অসাধারণ যে লাগে আমার কাছে। ছবিটা কতবার যে দেখেছি তার ঠিক নেই। ঐ মানের চলচ্চিত্র আর একটাও হল না।
৪১. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:০৯
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: অসম্ভব ভাল লিখেছেন।
বিষয়টির গভীরে ঢুকেছেন।
বিভিন্ন ভাষার যুদ্ধ বিষয়ক মুভীগুলো দেখি আর নিজেদের দৈন্যতার জন্য হা-হুতাশ করি!
:(
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৬

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ তায়েফ ভাই

৪২. ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:২৯
ড়ৎশড় বলেছেন: একটি ভালো ছবি বানাতে একটি মেধাবী পরিচালক,একটি সৃষ্টিশীল লেখক এবং বেশ কিছু সূক্ষ্মানুভূতিবোধসম্পন্ন আর্টিস্ট দরকার।আমাদের কি তা আছে?

উত্তর হলো আছে।কিন্তু এদেরকে আমরা বের করতে পারছিনা।তাই বিশিষ্ট মাদক ব্যবসায়ী ডিপজলের মত লোক এখন সিনেমা দখল করে আছে।নিজে ছোটকালে নাটকের শুটিং দেখেছি,ধারাবাহিক নাটকে অংশগ্রহণ করেছি।বিশ্বাস করেন যারা এই মিডিয়াতে যুক্ত তাদের বেশিরভাগ এর সাথে আছেন কারণ জীবনধারণ।যখন শিল্পধারণের বদলে জীবনধারণ মুখ্য হয়ে উঠে তখন আপনি কতটুকু আশা করবেন?

আমাদের দেশে জীবন ব্যবস্থার দিকে একটু দৃষ্টিপাত করাতে চাই।এখানে সন্তানের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হয় সে বড় হয়ে কি করবে।প্রতিভার প্রয়োগ কোথায় করা উচিত বেশিরভাগ কিন্তু তা জানেনা বা বলতে পারেন জানার সুযোগ নেই।তাই আমরা সিনেমা-নাটকের রঙ্গশালায় যাদের পাচ্ছি তাদের কাছে এটা পেশা হয়েই আছে। যে প্রতিভাগুলোর দরকার ছিলো তারা এখানে নেই।সেইসাথে এটাও বড় সত্য,পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দেশের সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি যেভাবে বাসা বেধে আছে সেখানে সিনেমাশিল্পও নষ্ট হয়ে গেছে।এই পথে তাই সুস্থ পরিবারের কেউ যেতে দ্বিধা করে।সবাই শুধু চিকিৎসক আর প্রকৌশলী হতে চায়।

সবকথার শেষ কথা শিল্প যখন বাণিজ্য হয়ে যায়,তখন তা শুধু কিছু মানুষের উদরতৃপ্তি দিতে পারে,মনের তৃপ্তি নয়।
৪৩. ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ ভোর ৫:০৮
অ্যামাটার বলেছেন: সারারাত জেগে এখনই উঠতে হবে, আপাতত শুধু চোখ বুলিয়ে গেলাম, পরে একটা লম্বা মন্তব্য করব। যে' বিষয়টা তুলে আনলেন, এই প্রশ্নটা আমার মনেও খুব খোঁচাত?
'বর্ডার' দেখার পর বুঝলাম, আসলেই আর কোনও বিষয় না, মূল কথা হল আমাদের পরিচালকদের মাথায় গোবর।
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৭

লেখক বলেছেন: ভাল লিখেছ , তোমার অভিজ্ঞতাগুলো ভবিষ্যতে আরেকটু ডিটেইলস চাই

৪৫. ২০ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৭
চিটি (হামিদা রহমান) বলেছেন: আপনার চিন্তাধারা, লেখার অভিনবত্ব সত্যি অবাক করা ব্যাপার। প্রিয়তে রাখলাম। কখনো যদি সিনেমা বানাই কাজে আসবে অনেক

শুভকামনা থাকলো।
৪৬. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:০৪
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
তোমার চিন্তাধারাগুলো যারা ছবি বানায় তারা পড়লে অনেক কাজে আসবে.....লেখাটা কোন পত্রিকায় ছাপানো হলে বেশ হতো!
আর তুমি কি কোন ছবি বানানোর কথা ভাবছো?
আজকাল তরুণ প্রজন্ম যেভাবে এগিয়ে আসছে সবখানে.......আমরা আশাবাদী ভালো কিছু হবেই।
মুক্তিযুদ্ধের চিঠি যেভাব সংগৃহিত হলো......
মুক্তিযুদ্ধের গল্প যদি সারাদেশ ঘুরে যোগাড় করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে অথবা তাঁদের পরিবারের মানুষের সাথে কথা বলে ,
তাহলেও অনেক সুবিধা হতে পারে চিত্রায়নের ক্ষেত্রে।

অনেক শুভকামনা মেহরাব.........
অনেক ভালো থেকো।
লেখায় থেকো।

২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:০৮

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ নিহন

৪৮. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৩:৪৩
জয় সরকার বলেছেন: আজ সন্ধ্যা থেকে ব্লগে বইসা ছিলাম।যাবার সময়ে পড়ার মত এবং অনবদ্য এই লেখাটা পেলাম।হোক সপ্তাহ দেড়েক আগের লেখা, পড়তে তো পারলাম।

অবশ্যই প্লাস।

খুব সত্য বলেছেন, খুব।বাজেট এর ব্যাপারে যেটা বলেছেন এর উপর সত্য হয়না।আমরা কিচ্ছু না পারলেই এটার দোষ, ওটার দোষ, এর দোষ, ওর অভাব এসব বলি।
ইরানী ছবিগুলোতে কি এমন বাজেটের ছড়াছড়ি?অথচ কতটা টাচ করে একেকটা ছবি।কতটা সচেতনতায় ভরা প্রতিটি নির্মাণ।একটা মুক্তিযুদ্ধের ছবি বানাতে স্পেশাল এফেক্টও লাগেনা, আর কোটি টাকার সেট ও লাগে্না ।শুধু মুক্তিযুদ্ধকে কেউ যদি অন্তরে ধারণ করে একটি ছবি বানায় তাহলেই হয়।একজন প্রকৃ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা থাকলে আর এক মুক্তিযুদ্ধ নিয়া একজনেরই কয়েকটা ছবি বানানো লাগেনা।বরং পুরো দেশেই যদি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক মাত্র একটি ছবিও থাকে তাতেও চলে।আমরা এমন হাজারটা ব্যর্থ ছবি চাইনা।প্রকৃ্ত একটা হলেই চলবে।

জহির রায়হানকে খুব দরকার ছিল, খুব।

আপনার বলা কথাগুলোই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বললাম, তাইনা?কী করব বলেন, আপনি যেভাবে লিখেছেন এরপর আর তো কিচ্ছু বাকী থাকেনা।

ভালো থাকবেন, অনেক শুভকামনা।
২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:০০

লেখক বলেছেন: যত্ন করে , খুব আবেগসহ কমেন্টটা দেখে ভাল লাগল । এমন করেই ভাবি , খুব বেশি না , একটা অন্তঃত , কেউ মুক্তিযুদ্ধের কথা জিজ্ঞেস করলে যে ছবিটার কথা বলতে পারব । নিশ্চিন্তে ভাবতে পারব , এই সিনেমাটা দেখলে সবারই ইচ্ছা হবে মুক্তিযু্দ্ধ নিয়ে আরেকটু জানার

৪৯. ২৮ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৭
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: সম্ভবত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে কয়টা গণমাধ্যমে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য কাজ নেই, হাতে গোনা ২/১ ছাড়া, চলচিত্র তার অন্যতম।

অথচ বাইরের যুদ্ধ সংক্রান্ত যে চলচিত্রগুলো চরমভাবে জনপ্রিয় হয়েছে, সেগুলোর চেয়ে ভয়ংকর কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে এদেশের মানুষের।

আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, এরকম মুভি বানানো তাদের পক্ষেই তুলনামূলকভাবে সহজ হবে, যারা ঐ সময়ে প্রত্যক্ষদর্শী।

সবগুলো পয়েন্টের সাথেই একমত।



৫০. ২৮ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৮
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: অফটপিক: অনেক ব্লগার এখন প্রথম পাতায় দেখছি, পারলে ফারহানের পোস্টটা রিপোস্ট করলে ভাল হয়।
৫১. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:২৯
সীমান্ত আহমেদ বলেছেন: মুভি জিনিসটাই আমার ট্র‌্যাকের বাইরে। সিনেমা দেখি না বললেই চলে। বাংলা সিনেমার কথা অবশ্য ভিন্ন। বাংলা সিনেমার ফানি দিক নিয়ে পুস্টানোর চিন্তা ছিলো।
আপাতত তোমার পোস্ট টা দেখে বেশ সিরিয়াস হয়ে গেলাম।
১৯৭১ পরবর্তী ভালো মুভির সংখ্যা কম হওয়াটা মনে হয় যৌক্তিক । টেকনিক্যালি এখনকার মত সলিড ছিলো না। তখনকার আবেগটুকু দিয়ে তৈরি করা ছবি ওরা এগারো জন, আবার তোরা মানুষ হ, অরুনোদয়ের অগ্নিস্বাক্ষী এই মুভি মানে সে পর্যায়ে না পৌছালেও খুব খারাপ বলা যাবে না। আলোর মিছিল সিনেমার কথা আলাদা ভাবে মনে পড়ে। সরাসরি অ্যাকশন না দেখিয়েও অনেক কিছু দেখিয়ে দেয়া হয়েছে এতে। আগুনের পরশমনি সিনেমাটা নট ব্যাড তবে দায়সারা।
তুলনায় এখনকার জয়যাত্রা কিংবা হুমায়ুনের আরেকটা নাম ভুলে গেছি যথেষ্টই পুর।
তবে মেঘের পরে মেঘ সিনেমাটা কিন্তু আমার কাছে ভাল্লাগছে।
মন্তব্যটি একেবারে নিজের মত সিনেমা বুঝি না। জাস্ট নিজের ভালো লাগার কথাটা বললাম।
৫২. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:১২
বাবুনি সুপ্তি বলেছেন: আমি ভাবলাম এর মধ্যে আপনার ২/৩ টা লেখা ব্লগে দেখা যাবে!!!! কেমন আছেন?
৫৩. ০৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:০০
শূন্য আরণ্যক বলেছেন: আমার মনে হয় এ সংকট কাটবে --


এই তো কেউ না কেউ চিন্তা করছে - আর কিছু দিন পরই হয়তো এই প্রজন্মের কাছেই আমরা অনেক অনেক ভালো মুভি পাবো ।

ধন্যবাদ চমৎকার একটা বিষয় তুলে ধরার জন্য ।
যদি এটাই প্রথম নয়

++++++
৫৫. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩৫
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
আপনার এই লেখাটি অপরবাস্তব -৪ এর জন্য মনোনয়ন দিচ্ছি,
আশা করছি অনুমতি পাবো ।
৫৬. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৪
ত্রিশোনকু বলেছেন: হাসান শহীদ ফেরদৌসের পোষ্ট থেকে লিংক নিয়ে আসা ।

আপনার প্রান্জল বর্ণনায় এত দুঃখেও হাসি চেপে রাখতে পারলামনা।

একেবারে মেধাবী যে কেউই নেই তাও নয়। আমার মনে হয় প্রনোদনের অভাবটাও একটা ফ্যাক্টর। সে অর্থই হোক বা বিষয় বস্তুই হোক।
৫৭. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:৩০
আহমেদ রাকিব বলেছেন: অনেক দেরিতে দারুন একটা পোষ্ট পড়লাম।
৫৯. ১৩ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১১:৪০
কাঊসার রুশো বলেছেন: খাটি কথা , দু:খের কথা :(
৬০. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৪৮
মাহবুব সুমন বলেছেন: মেহেরজান কে নিয়া বিতর্কে এ লেখাটার কথা মনে পরে গেলো। মেহেরজানের মতো ফালতু মুভি তৈড়ি হয় যাকে আবার ফোক ফ্যান্টাসি নাম দেয়া হয় কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মুভি আমাদের কেউ তৈড়ি করে না। বড় বড় গলাবাজী অনেকেই করে।
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১:৫৩

লেখক বলেছেন: মেহেরজানের ব্যাপারে ব্যক্তিগত ভাবে আমার অবস্থান মোটামুটি নেগেটিভ।

কিন্তু সেই কথাটাই আবার --- কেউ এগিয়ে আসল না , শুধু আমরা ভুল ধরতেই পারি , ঠিকটা করে দেখানোর মুরোদ নেই কারও

৬১. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৩:০২
শেখ আমিনুল ইসলাম বলেছেন: অট, আমরা কয়েক জন ব্লগার মিলে চলচ্চিত্র বিষয়ক একটি ই-বুক করতে যাচ্ছি, আপনার এই লেখাটি নিতে আগ্রহী। আশা করছি আপনার আপত্তি নেই।
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১:৫২

লেখক বলেছেন: অবশ্যই , কোন আপত্তি নেই

৬২. ১৮ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৪২
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন:

guerilla

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি চলচ্চিত্র "গেরিলা" মুক্তি পেয়েছে ১৪ এপ্রিল । যদিও দেখার সুযোগ হয়নি , রিভিউ পড়ে মনে হয়েছে , এটা একটা মাইলফলক । এই পোস্টের শুরুর দিকে ঢাকার গেরিলাদের কনসেপ্ট নিয়ে চলচ্চিত্র কেন হল না , সেটা নিয়ে অনেকেই আক্ষেপ করেছিলেন । গেরিলা সম্ভবত সে অসম্পূর্ণতা অনেকটাই কাটিয়ে দেবে । সবাইকে চলচ্চিত্রটি দেখার অনুরোধ থাকল
৬৩. ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২৫
chai বলেছেন: আপনার লেখা অনেক ভাল লগলো। আপনি ২৫ নাম্বার কমেন্টের উত্তরে একটা ডকুমেন্টারির কথা বলেছেন । ইংরেজিতে যদি নাম টা লিখতেন তবে ভাল হত।
৬৪. ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:১৪
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ । ডকুটার নাম: March of the Penguins
আই এমডিবি লিংক : Click This Link

 

মোট সময় লেগেছে ১.১৬৩৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
নেই তবু যা আছের মতো দেখায়
আমরা তাকে আকাশ বলে ডাকি,
সেই আকাশে যাহারা নাম লেখায়
তাদের ভাগ্যে অনিবার্য ফাঁকি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ