|
সিনেমায়, নাটকে এমনকি বাস্তব জীবনেও অনেক সময় দেখা যায়, অনেক স্বাস্থ্যসচেতন ডাক্তার ভিজিটের টাকা হাত দিয়ে না ধরে চিমটা দিয়ে ধরছেন। এটি দেখে আমাদের মতো আমজনতার যতই খারাপ লাগুক না কেন, দেশের টাকার যা অবস্থা তাতে এটিই আসলে টাকা ধরার সঠিক পদ্ধতি। টাকা-পয়সা হাতের ময়লা বলে অনেকেই আমরা হাসি-ঠাট্টা করি। কিন্তু একটু গভীরভাবে ভেবে দেখলে বিষয়টি সবারই বোধগম্য হবে যে টাকা-পয়সা আসলেই হাতের ময়লার আধার। আমাদের সবার হাতের ময়লাগুলো নিশ্চিন্তে টাকার ওপর বসবাস করছে দিনের পর দিন। মাছওয়ালারা মাছের হাত দিয়ে ধরছে টাকা, কসাই মাংসের হাত দিয়ে, ত্বরিত নাকটা ঝেড়েই সেই হাত দিয়ে ধরছে টাকা সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত লোকটি। আর এভাবেই টাকার মাধ্যমে জীবাণু বিনামূল্যে ভ্রমণ করে বেড়াচ্ছে দেশব্যাপী, ইচ্ছামতো আশ্রয় নিচ্ছে বিভিন্ন মানুষের শরীরে। জলবাহিত, বায়ুবাহিত ও পানিবাহিত বিভিন্ন জীবাণুর মতো টাকাবাহিত জীবাণু আমাদের দেশে খুব একটা পাত্তা না পেলেও এই ‘মানি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ’-এ সারা বছরই মানুষ মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে, দৌড়াতে হচ্ছে ডাক্তারের কাছে। এসব জীবাণুর হাত থেকে কি আমাদের মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় নেই? আছে। এর সমাধান হলো, সবাই একটি করে চিমটা নিয়ে ঘুরে বেড়ান। হাত দিয়ে না ধরে সচেতন ডাক্তারদের মতো নাক সিটকিয়ে চিমটা দিয়ে টাকা আদান-প্রদান করুন।
এ ছাড়া সরকার এমন ধরনের টাকার প্রচলন করতে পারে যে টাকা চাইলেই সাবান বা ডিটারজেন্ট পাউডার দিয়ে আমরা যেকোনো সময় ধুয়ে ফেলতে পারি। আরও এক ধাপ এগিয়ে সরকার এমন উপাদান দিয়ে টাকা তৈরি করতে পারে যে টাকায় জীবাণু আটকে থাকতে পারবে না, বসলেই পিছলা খেয়ে পড়ে যাবে। এ ব্যাপারে যত দ্রুত সরকার সিদ্ধান্ত নেবে ততই মঙ্গল হবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেমন সাধারণ লোকদের অত্যাচার করেছে, তেমনি পদে পদে নিজেরাও নাজেহাল হয়েছে। তাই পাকিস্তানি হানাদাররা সব সময় দলবল নিয়ে ঘুরত। কিন্তু একদিন দুপুরে এক পাকিস্তানি সেনা মুক্তিযোদ্ধা খুঁজতে খুঁজতে দলছুট হয়ে গেল। তো সে গ্রামের পথ ধরে যাচ্ছিল। আর তার চোখে পড়ল এক রাখাল বালক, যে গাছের নিচে বসে জাম খাচ্ছিল। পাকিস্তানি সেনা তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘মুক্তি কিধার হে?’ অর্থাত্ মুক্তিবাহিনী কোথায় আছে? সে কিছুই না বুঝে হাত নাড়ল। তখন পাকিস্তানি সেনার চোখে পড়ল ছেলেটির হাতের জাম। এদিকে দুপুরবেলা হাঁটতে হাঁটতে তার খুব ক্ষুধাও পেয়ে গিয়েছিল।
সে ছেলেটির কাছ থেকে জাম নিয়ে খেল। তার কাছে খুব ভালো লাগল। ছেলেটির কাছে আর জাম ছিল না, তাই সে পাকিস্তানি সেনাকে জামগাছটা দেখিয়ে দিল। পাকিস্তানি সেনাটি অনেক কষ্টে গাছে উঠল।
জামগাছে ছিল একটা ভোমরার বাসা। তার রাইফেলের বাঁটের খোঁচা লেগে বাসা গেল ভেঙে।
ভোমরাগুলো এলোপাতাড়ি ছুটোছুটি করছে আর পাকিস্তানি সেনাটি ভাবল, তাকে দেখে বাঙালিদের মতো জামগুলোও পালিয়ে যাচ্ছে। তাই সে হাতের থাবা দিয়ে ভোমরা ধরছে আর বলছে, ‘ভেঁ কারো অর ভুঁ কারো, নেহি ছোড়েঙ্গা, কালা কালা যো ভি, হে সাব খায়েঙ্গা...’ অর্থাত্, ভেঁ করো আর ভুঁ করো মোটেও ছাড়ব না, কালো কালো যা পাব সব খাব...।
রেলগাড়ির কামরায় উঠল এক বাংলাদেশি। তার সঙ্গে বিশাল বোঝা। বোঝাটা ওঠানোর দরকার ওপরের তাকে।
কিন্তু তার গায়ে জোর কম, সে কিছুতেই নিজের ঘাড়ের ওপর বোঝাটা তুলতে পারছে না।
এগিয়ে এল এক পাকিস্তানি। বোঝাটা এক ঝটকায় তুলে দিল তাকের ওপর।
তারপর বাংলাদেশিকে বলল, ‘রুটি খাও, গায়ে জোর হবে।’
বাংলাদেশি খানিক পর রেলগাড়ির চেইন টানার চেষ্টা করতে লাগল।
কিন্তু তার ভাবখানা এমন, কিছুতেই সে চেইন টেনে জুত করতে পারছে না।
তার সাহায্যে এগিয়ে এল পাকিস্তানিটি। চলন্ত ট্রেনের চেইনটা টেনে দিল সে এবং আবারও বলল, ‘রুটি খাও, গায়ে বল হবে।’
ততক্ষণে রেলপুলিশ এসে হাজির। ‘কে চেইন টেনেছে? দাও, ২০০ টাকা জরিমানা।’
বেচারা পাকিস্তানি অর্থদণ্ড দিতে বাধ্য হলো। তখন বাংলাদেশি বলল,
‘ভাত খাও, বুদ্ধি হবে।’
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

