somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মনে রাখবেন, শেষ হাসি হাসবে এই ফকিরেরাই...

২৪ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার ভাবনায়, জাময়াত ও বামদের মধ্যে তেমন কোনো তফাত নেই । উভয় দলই সুদূরপ্রসরী লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতি করে । এবং উভয় দলই ক্ষণে ক্ষণে ভোল বদলায় । কোনো বিশেষ দলের বিরুদ্ধে জেহাদে নেমে আবার সে দলের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজনীতি করার চতুরতা উভয় দলের ঝুড়িতে যথেষ্ট আছে ।

পার্থক্য কেবল এতটুকু- জামায়াতের আক্বিদাগত কিছু সমস্যা আছে ; যদি তারা এখনও মওদুদিবাদকে সাপোর্ট করে থাকে। আর বামদের আক্বিদা বলতে কিছুই নেই । এরা আগাগোড়া ধর্মবিরোধী ।

তবে এটা সত্য, অনেকের মতো আমিও মনে করি, সাঈদী ও জামায়াত এক নয় । সাঈদীর উপর অবিচার করা হচ্ছে ।

অবশ্য অবিচার যার প্রতিই হোক না কেন, তাতে বাম আর জামায়াত বলে আলাদা করার অবকাশ নেই, ইসলামের অবস্থান সব অবিচারের বিরুদ্ধে । আজ জামায়াতের উপর যে অবিচার চলছে, কাল যদি সে অবিচার বামদের বিরুদ্ধে হয়, অবশ্যই তার প্রতিবাদ ইসলামি জনতার পক্ষ থেকে আসতে হবে ।

এটাই ইসলামের শিক্ষা ।

মক্কা বিজয়ের সূচনা হয়েছিলো একটি অমুসলিম গোত্রের উপর কোরাইশদের সন্ধিবিবর্জিত আক্রমণের সূত্র ধরে । রাসূল সা. সে আক্রমণের প্রতিবাদ করেছিলেন । এবং তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করার জন্য মক্কায় প্রতি আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন । যা ছুড়ান্ত ভাবে মক্কা বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছে ।

অবশ্য এখন ধর্মদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হোক কিংবা সরকার বিরোধী হোক, সব আন্দোলনই পরোক্ষভাবে জামায়াতকে প্রক্সি দিচ্ছে । এবং সাধারণ মানুষ জামায়াতের প্রতি খুবই সংবেদনশীল হয়ে পড়েছে । আর আলেমদের ধারণা, জামায়াত নিয়ে এখন ঘাটাঘাটি না করে রাজনৈতিক সমঝোতা করে নিলেই ভালো ।

আ.লীগ বারবার বিএনপিকে বোঝাতে চাচ্ছে, জামায়াত থেকে সরে এলেই তাদের কাঙ্ক্ষিত মুক্তি মিলবে । দেশের মানুষ, মানে কতিপয় টকশোবাজি করা আমলারা তাহলে সুর বদল করে বিএনপির পক্ষে দু’একটা গুণগান গাইতে রাজি থাকবে । যা দেশের জন্য, বিশেষ করে গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত শুভকর । বিএনপি কেন চুপ করে আছে ? তারা কেন বলে না, তাহলে আ.লীগের জনাবেরা আপনারা কেন বামদের ছাড়ছেন না ? তাদের কেন আঁচলে বেঁধে রখেছেন ? মুক্তিযুদ্ধে তাদের যে কোন মহৎ অবদান ছিলো, তা আমরা ভালো করেই জানি । কম্যুনিস্টদের ক’জন রাজাকার আর ক’জন মুক্তিযোদ্ধা ছিলো- সেই ডক্যুমেন্ট এখনও হারিয়ে যায় নি।

সেটা বিএনপি বলার মতো ক্ষমতা রাখে না । কারণ ওরাও কম্যুনিস্টদের প্রশস্তি শুনতে ভালোবাসে । আসলে আ.লীগ আর বিএনপি উভয় দলই ভোটব্যাংক রাজনীতি করে । একেকটা ভোট ওদের ক্ষমতায় যাওয়ার একেকটা সিঁড়ি । তাই কোনমতে কাউকে চটাতে চায় না, যতক্ষণ না তাদের বিদেশি প্রভুরা চোখ টিপে ইশারা দেয় ।

যত যাই বলেন, এখন সময় হলো ইসলামপন্থী গণমানুষের । বিশ্বের যেখানেই গণ বিস্ফোরণ ঘটছে, শুরুতে কিছু মশা-মাছি উড়লেও শেষ পর্যন্ত রায় ইসলামপন্থীদের পক্ষেই যাচ্ছে । মানুষ এখন যে কোন সময়ের তুলনায় ইসলাম নিয়ে অনেক বেশি ভাবে । এবং ইসলামের আলোয় আলোকিত সমাজ ব্যাবস্থা গড়ার প্রত্যয় ক্রমশ মানুষের চেতনায় স্থান করে নিচ্ছে ।

আমাদের নেতা নেই, অর্গানাইজেশন নেই, ঐক্য নেই- এ সবই সত্য । কিন্তু আমাদের আল্লাহ আছেন । প্রয়োজনের সময় একটু সাহস করে সামনে বাড়লেই যে তিনি সব কিছু জুগিয়ে দিতে পারেন, এ সময়কার ট্র্যাজেডি এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ । কই, আমাদের তো কিছুই ছিলো না । একটা মঞ্চও ছিলো না । মিডিয়ার দল কুৎসা রটাচ্ছিলো অবিরত ।

শেষে হলো কি ! মিডিয়া এসে গেলো কামানের মতো । নেতা এলো সিপাহশালারের মতো । ঐক্য এলো বারুদের মতো । আর সংগঠিত হতে সময় লাগলো- আরে না, কোনো সময়ই লাগে নি ।

এখন শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়া । মোনাফেক থাকবেই । মদীনার সবচেয়ে সম্মানিত নেতাই ছিলো মদীনার সবচেয়ে বড় মোনাফেক । তাতে কি ! তার সন্তানও ছিলো সাচ্চা মুসলমান ।

তাহলে এবার শুরু হোক পথচলা । খোদাভীরুতার সামান আর তাহাজ্জুদের চোখের পানি যদি আমাদের পাথেয় হয়, তাহলে খোদায়ী নুসরত আসবেই আসবে ।

“নাসরুম মিনাল্লাহ...ওয়া ফাতহুন করীব”
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০১৩ ভোর ৪:০০
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

“Epstein “ বুঝতে পারেন ! কিন্তু রাজাকার,আলবদর,আলশামস আর আজকের Extension লালবদর বুঝতে পারেন না ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৮

মূলত এটি একটি ছবি ব্লগ। এক একটি ছবি একটি করে ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কস্টের অধ্যায়।

এপস্টেইন ফাইল দেখে আপনারা যারা বিচলিত, জেনে রাখুন ভয়াবহ আরেক বর্বরতা ঘটেছিলো ৭১এ এদেশেই, আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×