ইয়ারমুকের যুদ্ধ আমার মতে বদরের পর মুসলমানদের ২য় গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ। [sএই যুদ্ধে মুসলিমরা পরাজিত হলে আজ ইসলামের ইতিহাস অন্যভাবে লিখতে হত। আমি আমার জানা জ্ঞান দিয়ে বিস্তারিতভাবে যুদ্ধের বিষয় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করবো।
ঐ যুদ্ধের দুই পক্ষের এক দল ছিল ইসলামী আদর্শে উজ্জীবিত রাশেদিন সম্রাজ্জ্য যাদের দখলে সৌদি আরব,ইয়েমেন সহ অন্যান্য আরব অঞ্চল। অপরদিকে ছিল তৎকালীন সময়ের সর্ব শক্তিশালি বাইজান্টাইন সম্রাজ্জ্য। তাদের সাথে যোগ হয়েছিল আরবীয় খ্রিস্টান ও স্বাধীনচেতা বেদুইন দল, যারা হয় ইসলাম বা যাকাত দেয়া কিংবা খলিফাদের সহ্য করত না। তাদের এইরুপ ধারনা বদ্ধমূল ছিল যে মুসলিমরা তাদের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করবে।
মুসলমানদের তৎকালীন অবস্থাঃ
মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ) ইসলাম প্রচারের শুরুতে নওমুসলিমদের সাহস জোগানোর জন্য বলতেন, আল্লাহ তোমাদের জন্য পারস্য ও রোমক সম্রাজ্জ্য বিজয় নিশ্চিত করেছেন। হিজরতের পর আমরা দেখি মহানবী(সাঃ) কনস্টান্টিনোপল , পারস্য , ইথিওপিয়া(আবিসিনিয়া) তে তার আনুগত্য স্বীকারের জন্য প্ত্র পাঠান। পার্সিয়ান সম্রাট খসরু প্ত্র ছিড়ে ফেলেন, রোমক সম্রাট হিরাক্লিয়াস প্রথমে তাকে শেষ নবী বলে স্বীকার করলেও পাদ্রীদের চাপে তা অস্বীকার করেন। তাবুকে হিরাক্লিয়াসের বাহিনীর সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ হয়, কিন্তু এতে ২ পক্ষের বেশি ক্ষয় হয় নি।
মহানবী (সাঃ) মারা যাবার পর আবু বকর(রাঃ) প্রথম খলিফা নির্বাচিত হন। তার শাসনামলের প্রথম ১ বছর নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করে কাটাতে হয়, যা রিদ্দার যুদ্ধ বা ভন্ডনবীর যুদ্ধ বলে পরিচিত। যুদ্ধ শেষে সমগ্র আরব মদিনার শাসন মেনে নেয়। তিনি খালিদ-বিন- ওয়ালিদ(রাঃ) কে পাঠান ইরাক তথা পারস্য অভিযানে। তিনি ইরাকে সফল হলে আবু বকর(রাঃ) সিরিয়া তথা বাইজান্টাইন অভিযানের পরিকল্পনা নেন।
বাইজান্টাইনের তৎকালীন অবস্থাঃ
বাইজান্টাইনের তৎকালীন সম্রাট ছিলেন হিরাক্লিয়াস। দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে পার্সিয়ানদের সাথে তার যুদ্ধ চলে। প্রথমে তিনি চরমভাবে ব্যর্থ হলেও ধীরে ধীরে তিনি সফল হতে শুরু করেন। তিনি তার হারান সিরিয়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকা পুনরুদ্ধার করেন। এতে করে পার্সিয়ানদের মধে দ্বন্দ্ব শুরু হয় এবং খসরু তার ছেলের নিকট প্রান ত্যাগ করেন।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ৯:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




