somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বাবা হওয়া, ১২০০ টাকা ও ৮ ব্যাগ রক্তের কাহিনী

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জুলাই ৭, ১৯৯৯। সকাল বেলা কুমিল্লা থেকে ঢাকা এলাম। আজ ছোট বোনের জন্মদিন। এ দিনটি আমাদের পরিবারে বেশ ঘটা করে পালন করা হয়। সবার ছোট আর আল্লাদী বলেই হয়তো! ওর জন্মদিনের প্রোগ্রাম শেষ করে রাতে বড়ো বোনের বাসায় থেকে গেলাম। আমার বৌয়ের শরীরটা তেমন ভালো যাচ্ছিলো না। ভাবলাম,পরদিন বিকেলে আমাদের পারিবারিক ডাক্তার রওশন আরা আপাকে দেখিয়ে তারপর কুমিল্লা ফিরে যাবো।

পরদিন সকাল থেকে বৌয়ের শরীর বেশ খারাপ হয়ে পড়ে। প্রেশার কোনোভাবেই কন্ট্রোল করা যাচ্ছিলো না। তাছাড়া পেটে বাচ্চার নড়াচড়া টের পাওয়া যাচ্ছে না। বিকেলে ডাক্তার আপার চেম্বারে আসলাম। আপা তখোন মগবাজার ওয়ারলেস গেটের পাশে বিশাল সেন্টার সংলগ্ন মেডিস্টোন ক্লিনেকে (এখন সম্ভবত ক্লিনিকটি নেই) বসতেন। আপা তার রোগী দেখে বললেন- প্রেশার খুব বেশি, পেটের ভেতর পানি কমে গেছে, বাচ্চার নড়া চড়া টের পাওয়া যাচ্ছে না...। তার মতামত হচ্ছে, অপারেশন করতে হবে এবং যতো দ্রুত সম্ভব। আমি হতভম্ব । বলে কী !! বাবুর বয়েস মাত্র ৭ মাস প্লাস...। ডাক্তার আপার প্রতি আমাদের পরিবারের সবার অগাধ আস্থা। এর আগে আমাদের পরিবারের ৩/৪ টি বাবু তার হাতে হয়েছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বললেন। রাজী হলাম আমি।

ওটিতে ঢুকার আগে ডাক্তার আপা বললেন, আপনার তো অনেক সাহস। সে জন্যই আপনাকে বলা...। মা আর বাচ্চা দুজনের অবস্থাই খারাপ। একজনের আশা ছেড়ে দিতে হবে। আমি চেষ্টা করবো...বাকী কথা আমার কানে আর ঢুকেনি। ওটিতে ঢুকে গেলেন তার রোগীকে নিয়ে। আমি বাইরে দাঁড়িয়ে...। ভাই বোন আর বন্ধু বান্ধবে ভরে গেছে ক্লিনিক। আমার শাশুড়ি ও এলেন নারায়ণগন্জ থেকে। আধা ঘন্টা পর এক নার্স বেরিয়ে এলো হাসি মুখে। বললো,আপনার ছেলে হয়েছে, মিষ্টি খাওয়ান। বাচ্চার মা কেমন আছে ? প্রশ্ন করার আগেই নার্স আবার ঢুকলেন ওটিতে। ক্ষাণিক বাদে ডাক্তার আপা বেরিয়ে এলেন। বললেন, আপনার বাচ্চা খুব ছোট, ইনকিউবিটরে রাখতে হবে। মনোয়ারা হাসপাতালে চলে যান। আমি বলে রেখেছি। ছেলেকে নিয়ে আমি দৌড়ালাম। ওকে ইনকিউবিটরে রাখা হলো। আবার এলাম বৌয়ের কাছে।

ডাক্তার আপা আমাকে ডেকে বললেন, আপনার স্ত্রীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। রক্ত দিতে হবে। কমপক্ষে ৪/৫ ব্যাগ। রক্তের গ্র“প বি পজেটিভ। ছোট ভাই তার বন্ধুদের বলে ঘন্টা খানেকের মধ্যে ৭/৮ জন ডোনার ব্যবস্থা করে ফেললো। সে রাত এবং পরদিনের মধ্যে ৮ ব্যাগ রক্ত দিতে হলো। সারারাত সে অচেতন ছিলো। সকালে জ্ঞান ফিরে প্রথমে তার বাচ্চার কথা জানতে চাইলো। বললাম, ভালো আছে। বিশ্বাস করলো না। কাঁদতে কাঁদতে আবার জ্ঞান হারালো। ১ দিন পর ছেলেকে মায়ের কাছে আনা হলো। সে যাত্রা মা আর ছেলেকে ২৩ দিন ক্লিনিকে থাকতে হয়েছিলো। আপা ডিসকাইন্ট করার পরও বিল এসেছে ৬৩ হাজার টাকা। অথচ আমি মাত্র ১২০০ টাকা নিয়ে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় এসেছিলাম। আমার সে ছেলে রোদ্দুর এখন ক্লাসে থ্রিতে পড়ে। গবর্ণমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলে...
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×