সেকালের ঈদ
ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার সাথে সাথে আমরা বন্ধুরা হাতের কাছে যা পেতাম তাই দিয়ে বাজনা বাজানো শুরু করে দিতাম। সারা কলোনি ঘুরতাম আর সাথে গলা ফাটিয়ে শ্লোগান দিতাম।
ঈদের নামাজ কয়টায় ?
সকাল সাড়ে আটটায়...
বাসায় ফিরতাম দশটা নাগাদ। মা রান্নাঘরে। বড়াপা তাঁকে বিভিন্ন রান্নায় সাহায্য করছেন। মুরগী, গোশত্, বিভিন্ন মিষ্টান্ন রাতেই রেঁধে রাখতেন। সকালে শুধু পোলাও আর খিচুড়ি রান্না হবে। ঘুমানোর আগে শেষবারের মতো নতুন জামা, পেন্ট আর জুতোটা দেখে এবং সযতেœ লুকিয়ে রেখে তবেই ঘুমাতে যেতাম। আগে দেখলে ঈদের আমেজ নষ্ট হয়ে যাবে সেজন্য ঈদের জামা, জুতো কাউকে দেখাতাম না।
সকালে মার ধাক্কাধাক্কিতে অনেক কষ্টে ঘুম থেকে উঠতাম। গোসল-টোসল সেরে পাজামা, পাঞ্জাবী, টুপি পরে বাবার সাথে নামাজে যেতাম। কীসের নামাজ ! বন্ধুরা মিলে মসজিদের এ মাথা থেকে সে মাথা দৌড়ে বেড়াতাম। কে, কী নতুন জামা নিয়েছে সে সব গপ্পো করতাম। এরমধ্যে সবাই নামাজে দাঁড়িয়ে যেতো। আমরাও তাড়াতাড়ি কোনো এক লাইনে দাঁড়িয়ে যেতাম। নামাজ শেষে কোলাকুলি সেরে এক দৌড়ে বাসায়। পাজামা পাঞ্জাবী ছুঁড়ে ফেলে নতুন পোশাক পরায় ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। মা খেতে ডাকতেন। কোনো রকমে চারটা খেয়ে নিতাম। তবে বাবা মাকে সালাম করতে ভুলতাম না। সালামী মিলতো যে ! বেরিয়ে পড়তাম বন্ধুরা মিলে। সকালের মর্ণিং শো কোনোদিন মিস করতাম না। দুপুর নাগাদ বাসায় ফিরে খেয়ে নিতাম। আবার বেরিয়ে পড়তাম বন্ধুদের সাথে। এ বাসা সে বাসা ঘুরে বাসায় ফিরতাম ১০/১১ টার সময়। মা জোর করে খাওয়াতেন। ক্লান্ত আমি তারপর কখোন যে ঘুমিয়ে পড়তাম...।
একালের ঈদ
এখন বাবা মা নেই। নিজেই ঈদের কেনাকাটা করি। ছেলে, তার মা, ছোট ভাই বোন, ভাগিনা, ভাগ্নি, আপা, দুলাভাই, শ্বাশুড়ি, সবার জন্য সাধ্যমতো কেনাকাটা করি। কখোনো সখোনো নিজের জন্যও কিছু কিনি। তারপর ঈদের ৩/৪ দিন আগে কাঁচা বাজার করি। আমাদের বাসায় দীর্ঘদিন ধরে মুরগী আর গরুর গোশত এবং পোলাও আর খিচুড়ি ঈদের দিনের একদম কমন আইটেম। শেমাই, পায়েস, চটপটি এ তিনটে আইটেমও প্রায়ই করা হয়। আগেরদিন রাত ১২/১ টা পর্যন্ত এটা সেটা রান্না করে আমার বৌ। তাকে রান্নায় সাহায্য করি আর রিমোর্ট ঘুরিয়ে টিভির এটা সেটা প্রোগ্রাম দেখি। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠি। ছেলেকে গোসল করিয়ে নিজেও গোসলটা সেরে নেই। বাপ-বেটা মিলে মসজিদে যাই। নামাজ সেরে ফিরে নাস্তা করি। ছেলেকে সালামী দেই, তার মাও বাদ যায় না। ঘন্টাখানেকের জন্য বেরিয়ে যাই আমি। আজিমপুর ঘুরে আসি। বাবা সেখানে শুয়ে আছেন। মা রয়েছেন গ্রামের বাড়িতে।
ইতোমধ্যে রান্নার কাজ শেষ হয়ে যায়। টেবিলে সব খাবার সাজিয়ে টিভিতে মনোযোগ দেই। বোন / ভাইয়ের ছেলে মেয়েরা আসে। আমার ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে যায়। দুপুর নাগাদ ফিরে আসে সবাই। দুপুরের খাবারটা একসাথে খাই। তারপর আবার টিভিতে মনোযোগি দর্শক ! একসময় ঘন্টা দুয়েক ঘুমিয়ে নেই। সন্ধ্যার পর বেরিয়ে পড়ি সবাই। বোন বা ভাইয়ের বাসায়। রাতের খাবার সেরে ফিরি বাসায়। অনেক রাত অব্দি টিভিতে এটা সেটা দেখি। তারপর... ঘুম। পরদিন অনেকবেলা পর্যন্ত ঘুমাই....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


