শুধু ছবি ব্লগ ছবি ব্লগ ----দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ চূড়া কেওকারাডং এর পথে পথে......
বগালেক পাড়া থেকে সকাল বেলা শুরু হলো ট্রেকিং। লারাম গাইড। সকালে ওর দোকান থেকে নাস্তা করেছি, বিস্কুট, পাহাড়ি কলা আর পাহাড়ি পেঁপে। পথ দুইটা। আর্মিদের জীপ চলার জন্য পাহাড়ে গাছ কাটা পথ একটা আরাকটা পাহাড়ের গা ঘেষে হাটা পথ। লারাম আমাদের নিয়ে চলল পাহাড় বেয়ে। একের পর এক পাহাড় টপকে চলছি। দূরে নীচে মেঘ দেখে অদ্ভুত সব অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ছে মনে। ট্রেকিংএর সময়ে কথা বললে আর মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়লে দ্রুত দম ফুরিয়ে যায়। তাই কথা বলা নিষেধ। নীরবে হাটছি তিনজন । হাতে বাঁশের লাঠি। চারিদিকে শো শো শব্দে তীব্র বাতাস বয়ে যাচ্ছে।
(উঁচু পাহাড়ের উপর বিশ্রাম, অনেক নীচে মেঘ)
কিছু দুর যাওয়ার পর একটা উচু পাহাড়ের উপর একটা আদিবাসী গ্রামে পৌঁছালাম। লারাম বলল নাম 'হারামন পাড়া'। ও জানালো এর অর্থ 'সাদা চিংড়ি গ্রাম'। ছোট ছোট ১০/১২ ঘর নিয়ে গ্রাম। একটা বাঁশের তৈরী গীর্জাও চোখে পড়ল। কেউই বাংলা বোঝে না। এদের জীবিকা বলতে জুম চাষ। আমরা এখানে একটু জিরিয়ে নিলাম। ছোট কয়েকটা শিশুকে দেখলাম একটা কুকুরের সাথে খেলছে। একজন মহিলা কাচা আদা শুকাচ্ছে রোদে। অদ্ভুত লাগলো। পা ফসকালেই হাজার ফুট নীচে, অথচ কি নিশ্চিন্ত এরা।
(দার্জিলিং পাড়া)
কেওকারাডংএর নীচের পাড়াটির নাম দার্জিলিং পাড়া। এইখানে ব্যগ রেখে চললাম পাহাড়ের চূড়ায় চড়তে। আমাদের তিনজনের মধ্যে একটা অলিখিত প্রতিযোগীতা চলছিল কে আগে চূড়ায় চড়বে। শেষ হাসিটা যখন হাসলাম তখন দম ফুরিয়ে গেছে। পিছিয়ে পড়া দুইজনের অবস্থাও সুবিধার না।
(অবশেষে চূড়ায়)
প্লান ছিল কেওকারাডং থেকে তাজিনডং হয়ে থানচি দিয়ে বান্দারবান ফিরব। কিন্তু হটাৎ ব্যটা লারাম বেঁকে বসল। সে তাজিনডং যাবে না। কিছুদিন আগে এখানে একটা অপহরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেজন্য ক্যম্প থেকে আর্মিরা বোধহয় লারামকে কোন হুশিয়ারী দিয়েছিল তাই সে বিগরে গেল। মেজাজ খারাপ হলো আমার মারাত্মক। ব্যটা আগে কিছু বলেনি শেষে এসে এই ঝামেলা।
অগত্য ফিরে এলাম। এসে দেখি দার্জিলিং পাড়ায় রেখে যাওয়া ব্যগ থেকে আমাদের কিছু জিনিষপত্র হাওয়া। পাড়ার গোত্রপ্রধান(ওরা বলে কারবারী)কে ডেকে লারাম কিছু ভয় টয় দেখানোর পর হারানো মোবাইলটা ফেরৎ পাওয়া গেল। সেটা নাকি এক পিচ্চি খেলার ছলে নিয়ে গিয়েছিল।
পরদিন ঝিরি পথ দিয়ে ফিরে এলাম আমরা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



