সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিসিটি নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রাক্তন মেয়র
নাগরিক কমিটি কর্তৃক মনোনীত প্রার্থী মহানগরী আওয়ামী লীগ সভাপতি এ.বি. এম. মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ব্যাপকভাবে দোষারোপ করে ও নির্বাচন কমিশনকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রচারনা শুরু হয়েছে। এ হুজুগ আরো কিছুদিন চলবে। স্ব-বিরোধিতায় অভ্যস্ত এ দেশের এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবিদের চরিত্র বিশ্লেষণের জন্য নমুনা হিসাবে দৈনিক সমকালের ১৯/০৬/২০১০ তারিখে গোলাম সারওয়ার লিখিত ‘এ অনাস্থা মহিউদ্দিনের প্রতি’ প্রবন্ধটি হতে উদ্ধৃতি দিতে পারিঃ ‘‘প্রধানমন্ত্রীকে নানা 'সুপরামর্শ' দিচ্ছিলেন অনেকেই। শেখ হাসিনা কোনো পরামর্শেই কর্ণপাত করেননি। সংকটের মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেন না। তাই নির্বাচনের ফল প্রচারে কোনোরকম অন্তরায় সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী। তার কঠোর মনোভাবে শেষ পর্যন্ত মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সমর্থকদের নিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে।’’
অথচ,
একটু আগেই তিনি লিখেছেন, ‘‘ রাজনৈতিক সরকারের আমলেও সম্পূর্ণ চাপমুক্ত থেকে নিরপেক্ষ স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠান যে সম্ভব, তা নির্বাচন কমিশন সার্থকভাবে প্রমাণ করেছে।’’
তাহলে,
কোন্ টি সঠিক? চাপ সৃষ্টি না করা, অথবা চাপমুক্ত থেকে (কমিশন কর্তৃক ) নিরপেক্ষ ... (ভূমিকা পালন) ?
এরপর তিনি লিখেছেন, ‘‘মহিউদ্দিনের পরাজয়ের সঙ্গে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা-অনাস্থার প্রশ্ন আদৌ জড়িত বলে মনে করি না। এ পরাজয় কোনো সতর্ক সংকেতও নয়।’’
মহিউদ্দিন চৌধুরীকে বলির পাঠা হিসাবে ব্যবহার করার যুক্তি হিসাবে তিনি বলছেন, ‘‘দুর্নীতির নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করে মার্কেট নির্মাণ, পৌর করপোরেশনের শত শত দোকান বরাদ্দে দুর্নীতি, চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে নোংরা রাজনীতি তার ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। তাই পরাজয়ের যাবতীয় অনুষঙ্গ মহিউদ্দিন নিজেই তৈরি করেছেন। তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে।’’
প্রশ্ন হলো -
এহেন ব্যক্তি আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র নেতা, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় আন্দোলনের বীর, ৪র্থ বারের মতো মেয়র প্রার্থী হন কিভাবে? এর দায় শুধুই তাঁর?
জিতলে, আমি নিশ্চিত, সবাই বলতো, মহিউদ্দিন বলেই পেরেছে .... ।
নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে রাত বারোটা পর্যন্ত প্রায় এক লক্ষ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রায় দ্বিগুন ভোটে এগিয়ে ছিলেন ! প্রায় দু’ঘন্টা টি.ভি. চ্যানেলগুলো ৬৪ থেকে ৭৩ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষনায় থমকে ছিল !
ভাগ্যিস
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন !
যাহোক,
অন্ততঃপক্ষে প্রমানিত হলো যে, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে।
কিন্তু,
মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মনোনয়নদানকারী নাগরিক কমিটিতো বলছে, নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি হয়েছে। মহিউদ্দিন চৌধুরী ষড়যন্ত্র করে হারানো হয়েছে। (দেখুন চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী)
এই নাগরিক কমিটি কারা?
নিশ্চয় বি.এন.পি. বা জামাত নয়। তাহলে ...
সর্বশেষ কথা হলো এই যে, মহিউদ্দিনের এতো ‘সমস্যা’র কথা আজ বলা হচ্ছে কেন? এতদিন এসব সাংবাদিকরা কোথায় ছিলেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


