বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং সরকারের Micro Credit Regulatory Authority এর বর্তমান এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাজহারুল হক ২০০২ সালের ২১-২৩ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত সার্ক দেশসমূহের ক্ষুদ্রঋণ সংক্রান্ত এক সেমিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধে বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণপ্রদানকারী এনজিওর সংখ্যা প্রায় ১৫০০ উল্লেখ করেছিলেন। (সূত্র:http://www.bangladesh-bank.org/seminar/cpbdesh.html)
সরকারের NGO Affairs Bureau এর ওয়েবসাইট (http://www.ngoab.gov.bd) ভিজিট করে দেখা গেল, ১৫ জুলাই ২০০৯ পর্যন্ত তালিকাভুক্ত বাংলাদেশে এনজিও-এর সংখ্যা ২৪১৮ টি । অন্যদিকে, Micro Credit Regulatory Authority এর পরিচালক মোঃ সাজ্জাদ হোসেন কর্তৃক গণমাধ্যমে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ‘প্রায় ৪২শ’ এনজিও দ্রঋণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে’। আবার এনজিও ফেডারেশনের পরিচালক এম তাজুল ইসলাম বলেছেন, প্রায় আড়াই থেকে ৩ শ এনজিও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যদিও তালিকাভূক্ত ৪৫ হাজার। (সূত্র: দৈনিক সংগ্রাম: ২৩.০৭.০৯)
গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০০৯ দৈনিক আমাদের সময়-এর প্রথম পাতায় প্রকাশিত একটি খবরের শিরোনাম ছিল ‘দেশে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করছে ৬০ হাজারেরও বেশি এনজিও, অনুমোদন রয়েছে ৪১৮টির’। পত্রিকাটির মতে, দেশে ৬০ হাজারেও বেশি এনজিও ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করছে। কিন্তু ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের জন্য মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) অনুমোদন নিয়েছে মাত্র ৪১৮টি প্রতিষ্ঠান। অনুমোদনের জন্য এ পর্যন্ত আবেদন করেছে ৪ হাজার ৩২৬টি প্রতিষ্ঠান। মজার ব্যাপার হল, পত্রিকাটির ভাষ্যমতে, দেশে কতগুলো প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনা করছে তার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব সরকারের কাছেও নেই। তাদের মতে, বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের হিসাব অনুযায়ী দেশে ৮০ হাজারের বেশি এনজিও কাজ করছে। ২০০৭ সাল পর্যন্ত সমাজ সেবা অধিদফতরে নিবন্ধিত এনজিও’র সংখ্যা নাকি ছিল ৪৯ হাজার। এছাড়া এনজিও ব্যুরো, সমবায় বিভাগ ও জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধিত হাজার হাজার এনজিও রয়েছে। পত্রিকাটি আরও লিখেছে, সম্প্রতি নাটোর, বগুড়া, রাজশাহী, দিনাজপুর, কুষ্টিয়াসহ দেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনা করতো এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের আমানতের অর্থ নিয়ে পালিয়েছে। ফ্রিডম উন্নয়ন সংস্থা, গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা, প্রভাতি’র মতো এনজিওগুলো প্রতারণার উদ্দেশ্য নিয়েই ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান প্রতারণার উদ্দেশ্যে গ্রাহকদের বেশি লাভ বা ভাল চাকরি দেয়ার কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
উক্ত রিপোর্ট পড়ে আমরা আরও জানতে পারলাম, Micro Credit Regulatory Authority (এমআরএ) সনদের জন্য সারাদেশ থেকে ৪ হাজার ৩২৬টি ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। এসব আবেদনের মধ্যে চলতি ২০০৯ সালের জুন মাস পর্যন্ত ৪১৮টি প্রতিষ্ঠান এমআরএ’র সনদ পেয়েছে। প্রায় দুই হাজার প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে যারা শুধুমাত্র কাগজে-কলমে আছে, কিন্তু কার্যক্রমে নেই।
তাই প্রশ্ন জাগে, আসলে দেশে ক্ষুদ্রঋণপ্রদানকারী এনজিওর সংখ্যা কত?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





