
আমাদের মানচিত্রটা অনেক ছোট...যার কারনে কেউ কেউ ভারতের মানচিত্র আকতে গেলে বাংলাদেশের মানচিত্রের রেখাগুলো কে স্পষ্ট করার প্রয়োজন বোধ করেনা। তাই বলে ভেবে আত্মতৃপ্তি করার কোনো কারন নেই যে তাদের এই কাজটা ইচ্ছা প্রসূত নয়। মনে রাখতে হবে যে আমরা শুধু মীর জাফর মীর জাফর বলে চিল্লাই... সে তো পলাশী নাটকের খল নায়ক নয়, সে কোনো গুরুত্ত্বপূর্ণ চরিত্রও নয়। সত্যি কারের শত্রুদেরকে আমরা প্রায় ভুলে যেতে বসেছি।
জগত শেঠ, রাজ বল্লভ এদের নাম গুলো ক্যমন যেনো ধিরে ধিরে অদৃশ্য করে দেয়া হচ্ছে ইতিহাস থেকে। খুব ভালো করে খেয়াল করলে বুঝা যাবে যে পলাশীর ইতিহাস টাকে এমন ভাবে দাড় করানোর প্রয়াস চলছে যেনো সেখানে মুসলমানই মুসলমানের বিপক্ষে ক্ষমতা পাওয়ার লোভে ইংরেজদের সাথে আপোষ করে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে। আর হিন্দু ইতিহাসবিদেরা সর্বদাই প্রচার করার চেষ্টা করেছে নবাব ছিলেন একজন নারী লোভী আমুদে এবং অত্যাচারী ব্যাক্তি। অথচ সত্য ঠিক এর বিপরিত। বর্ণবাদী হিন্দুরা কখনোই মুসলিম শাষকদেরকে সম্মানের চোখে দেখেনি, যদিও মুসলিম শাষকেরা তাদেরকে দরবারে অনেক আদর আপ্যায়ন করতেন...এমন কি দরবারের গুরুত্ত্বপূর্ণ অবস্থানেও তাদেরকে অধিষ্ঠিত করতেন। আর মীর জাফর তো ছিলেন শুধুমাত্র দাবার একটি চাল।
আজকে সত্যিকার ইতিহাস বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে আমাদের ভয় আর অলসতার কারনে। বলা হয়ে থাকে বাংলার স্বাধীনতার শেষ সুর্য অস্ত যায় এই পলাশীর অম্র কাননে। সেই সুর্যকে আবার টেনে তুলতে সক্ষম হয় একাত্তরের বীর যোদ্ধারা। কিন্তু আজকের তরুন প্রজন্ম একাত্তরের আগের কোনো ইতিহাস জানে ও না আর জানানো ও হয়না। মনে হয় যেনো বাংলা ও বাঙ্গালীর ইতিহাসের জন্ম হয়েছে এই একাত্তরেই। এর আগে এই বিশাল ভুখন্ডে কেউ ই ছিলো না। তরুন প্রজন্মের মস্তিস্ক থেকে সুকৌশলে এর আগের ইতিহাস জানার ইচ্ছাকে চিমটি দিয়ে তুলে ফেলার সবচেয়ে গুরুত্ত্ব পূর্ন যে কারন তা হচ্ছে সেখানে ইসলামের সংমিশ্রন। সেই ইতিহাসে মুসলমানদের যে বিপুল অংশগ্রহন তা যদি আজকের প্রজন্ম জানতে পারে তাহলে ঘুমন্ত সিংহ জেগে ঠবেনা তার গ্যারান্টি কি?
আজকের কিছু অতিবুদ্ধিমান বোদ্ধাদের মতে সাতচল্লিশের বিভাগটা সঠিক ছিলোনা... আরে ভাই তখন যদি ভারত পাকিস্তান ভাগ না হতো তাহলে আজকের এই বুদ্ধি বেচে খেয়ে পড়ে বাচার বাংলাদেশ আপনি কোথায় পেতেন? আবার বলা হয় বাংলাদেশের জন্মে ইসলামের কোনো অবদান নেই... সুতরাং এখানে সংবিধান হবে ধর্ম নিরোপেক্ষ। এদের কথা শুনে হাসবো নাকি কাদবো বুঝিনা। আরে ভাই ধর্মীয় জনগোষ্ঠির সংখ্যার উপর ভিত্তি করেই তো বিভাগ হয়েছে নাকি? ইসলামের কারনে পাকিস্তান। আর পাকিস্তানের কারনে বাংলাদেশ। যদি এটা অখন্ড ভারতই থাকতো তাহলে শুনি... স্বাধীনতার দাবী উত্থাপনের কারনে শেখ মুজিবুর রহমানকে কি ছেড়ে দিতো শাষক গোষ্ঠী? তাকে বিদ্রোহী বলে গুলি করে মারতো না?
অথচ ইতিহাসে যে আরো কতো হাস্যকর ব্যাপার রয়েছে যেগুলো পড়লে আমি আনমনে আমাদের বোকামী দেখে হাসি। পাকিস্তান আন্দোলনে যারা অংশগ্রহন করেছেন তাদেরকে আমরা ইসলাম পন্থি বলে থাকি অথবা কিছুটা ঘৃনার চোখে দেখে থাকি। অথচ সেই আন্দোলনের তরুন নেতৃত্তের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অন্যতম। কই এ ব্যাপারে তো কেউ মুখ খোলেনি, পাছে সবাই বুঝে ফেলে যে শেখ মুজিব ও পাকিস্তান আন্দোলনে জড়িত ছিলো।
পাকিস্তান আমাদের জন্য কিছুই করতে পারেনি তা অনস্বিকার্য কিন্তু তার কারনে আজকের এই বাংলাদেশ এটাকে অস্বিকার করাটা অনেকটা এরকম যে, একশত টাকা ভেঙ্গে পঞ্চাশ টাকা করার পর ঐ একশত টাকা যে ছিলো তা অস্বিকার করছে। তবে কিছু জীবন্ত ইতিহাস আজো আমাদের মাঝে বেচে আছেন যারা নির্লোভ ভাবে সত্যের আলোকে ছড়িয়ে যাচ্ছেন। জাতি তাদেরকে সম্মান করেনা... করবে কত্থেকে তাদের তো শাহরুখ আর প্রিয়াংকা চোপড়া কে প্রনাম করতে করতেই দিন যায়।
আমি জাতি মানে বুঝিয়েছি তরুন প্রজন্মকে। আজকে যারা জ্ঞানী গুনি আছেন তাদের সবাইইতো বৃদ্ধ। এরা বেশীদিন বাচবেনা। আর তরুনদের তো হালের ক্রেজ সেলিব্রিটিদের মায়াজাল থেকে ছুটানো সম্ভব হচ্ছেনা। সুতরাং মেধাশুন্য আগামীর জন্য হয়তো খুব একটা অপেক্ষার প্রহর আমাদেরকে গুনতে হবেনা। বার বার মাথা তুলে দাঁড়ানো সংগ্রামী একটি জাতির মরণ দেখার আগে যেনো আমার মৃত্যু হয় তা বলবোনা... বলবো তাদেরকে যেনো সজাগ করার যোগ্যতা খোদা আমায় দান করেন।

আজকে, শহীদ নবাব সিরাজুদ্দৌলার দুই শত বায়ান্ন তম শাহাদাত বার্ষিকীতে আমার প্রিয় জাতিকে একটি কথাই বলবোঃ সেদিন পলাশীতে সুর্য অস্তমিত হয়ে আবার একাত্তরে উদিত হয়েছিলো। কিন্তু আজ যদি ডুবে যায় তবে আর উঠবেনা...হে আমার আপন জাতি আর কোন ভাষায় আমি তোমাকে সতর্ক করবো একুশ শতকের লর্ড ক্লাইভ, জগত শেঠ, রাজ বল্লভদের ষড়যন্ত্র থেকে?
এভাবেই তোরা মার খেয়ে যাবি সিরাজের থেকে আজি এ দিন?
কভু জাগলিনা পার হয়ে গেলো কতো সহস্র রাত্রিদিন।
হাড়ে কি তোদের মজ্জাও শেষ?তাই ভালো তোরা ঘুমিয়ে থাক,
বন্ধুর সাজে শত্রুরা এসে মানচিত্রটা চিবিয়ে খাক।
সনাতন
রাত12.5
04/07/09
লেখাটি আরো বড় ও তথ্যবহুল করার ইচ্ছা ছিলো...কিন্তু অনেকে বড় লেখা দেখলে ভয় পান এবং একই সাথে বিরক্তিও বোধ করেন। তাই এই ক্ষুদ্রাকৃতি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

