somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশের ৪০ শতাংশ লোক বেকার কর্মক্ষেত্র ছোট হয়ে আসছে

০৩ রা মে, ২০১০ দুপুর ১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা আড়াই কোটি
দেশের ৪০ শতাংশ লোক বেকার কর্মক্ষেত্র ছোট হয়ে আসছে

দেশের কর্মক্ষম ৪০ শতাংশ লোক বেকার। এর মধ্যে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। কর্মক্ষেত্র ছোট হয়ে আসছে, বাড়ছে জনসংখ্যা আর বেকারত্ব।
দেশে বেকার জনসংখ্যার হালনাগাদ কোনো তথ্য নেই। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কাছেও হালনাগাদ কোন তথ্য নেই। তবে বিভিন্ন শ্রম সংস্থার আনুমানিক হিসাব হচ্ছে যে- দেশে বর্তমানে বেকার জনসংখ্যা প্রায় ৫ কোটি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ হিসাবে বলেছে, দেশের জনসংখ্যা (২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে) ১৪ কোটি ৪০ লাখ ২ হাজার। আর ২০০১ সালে ছিল ১৩ কোটি। ২০০৮ সালের হিসাবে সাক্ষরতার হার ছিল (১১ বছর থেকে তার উপরে) ৪৯.১ শতাংশ। মোট শ্রমশক্তি (১৫ বছর থেকে তার উপরে) ৪ কোটি ৯৫ লাখ এর মধ্যে পুরুষ ৩ কোটি ৭৪ লাখ, মহিলা ১ কোটি ২১ লাখ। কৃষিকাজে জড়িত ৪৮.০৪ শতাংশ, শিল্পে ২৪.০৩ আর সেবা খাতে ১৪.০২ শতাংশ।
এদিকে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ১৫ কোটি। এর মধ্যে সাড়ে ৪ কোটির বেশি যুবক। তাদের মধ্যে প্রায় আড়াই কোটি বেকার। শিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত ও অশিক্ষিত মিলিয়ে কাজ করতে সক্ষম, এমন বেকার লোকের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি। এরা কাজ করতে সক্ষম, কিন্তু কাজ নেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা ও শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রায় রমেশ সেন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বলেছেন- দেশে বেকার বা অর্ধ বেকারের সংখ্যা ৪০ শতাংশ। আর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জাফরুল হাসানও একই কথা বলেছেন বা এটাকে সমর্থন করেছেন। যুব উন্নয়ন অধিদফতর থেকে বলা হয়েছে যে, দেশের মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ যুবক। যার পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি। এদের বয়সসীমা হচ্ছে ১৮ থেকে ৩৫ বছর। তাদের হিসাবে, বর্তমানে শিক্ষিত যুবক প্রায় আড়াই কোটি। যুব সমাজের বেশির ভাগই বেকার। আবার একাধিক এনজিও বলছে, তাদের হিসাবে শিক্ষিত অশিক্ষিত মিলিয়ে দেশে কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি। এদের কোনো কাজ নেই। তাদের অনেকেই মানবেতর জীবন-যাপন করছে। কেউবা বাবা-মা, কেউবা অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে আছে।
দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী বেকার, আর এই বেকারত্ব বেড়েই চলছে। শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকারত্ব বাড়ছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতার কারণেও বেকারত্ব বাড়ছে। গত প্রায় সাড়ে ৩ বছরে নতুন করে কয়েক লাখ লোক বেকার হয়েছে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল বেকারত্ব দূর করা, ঘরে ঘরে চাকরি দেয়া, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন করা ইত্যাদি। এসবই এখন কল্পকাহিনী। ঘরে ঘরে বা প্রতি পরিবারে একজনকে চাকরি দেয়া এই সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, যুব সমাজের ভোট পাওয়ার জন্যেই এধরণের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি পরিবার, এই ৩ কোটি পরিবারের একজন করে চাকুরী দেয়া অবাস্তব বিষয়। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন যে, সরকার দেশের যুব সমাজ, তথা প্রতি পরিবারে যারা কর্মক্ষম তাদের নির্ভরশীল করে তোলার জন্যে নানাভাবে সহায়তা দিতে পারেন। ঘরে ঘরে চাকরি দেয়ার নামে সরকার ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তবে এটা কোনো স্থায়ী চাকরি বিধান নয়। চলতি অর্থবছরে সরকার এখাতে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি। দলীয়ভাবে কিছু যুবক ও যুব মহিলার তালিকা করে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ চলাকালে দৈনিক ১০০, প্রশিক্ষণোত্তর ২ বছর বসিয়ে দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা দেয়া হবে। প্রকৃতপক্ষে এটা কোন চাকরি নয়।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ আর সরকারের দায়িত্বহীনতার কারণে ঢালাওভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে। হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বন্ধ শিল্প চালু, নতুন শিল্প স্থাপন ছিল এই সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার। কিন্তু নতুন শিল্প স্থাপনতো দূরের কথা, চালু শিল্প বন্ধ হচ্ছে। বেসরকারি হিসাবে গত দেড় বছরে বিভিন্ন পাটকল বন্ধ হওয়ায় ৭ হাজার শ্রমিক কর্মচারী বেকার হয়েছে। হাজার হাজার ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্প বন্ধ হয়েছে গত ৩ বছরে। বেকার হয়েছে অসংখ্য শ্রমিক। গত এক বছরে গার্মেন্টস শিল্পের প্রায় ৪৫ হাজার শ্রমিক বেকার হয়েছে। অর্থাৎ শিল্প কারখানা বন্ধ হওয়ায় প্রচুর পরিমাণে শ্রমিক বেকার হচ্ছে। বাড়ছে বেকারত্ব।

১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×