আমি আগে থেকেই বাবা মায়ের পছন্দে বিয়ে করবো বলে মনস্থির করেছিলাম। সেই মোতাবেক আমার আম্মা রাজশাহীতে গিয়েছিলেন তার ভাই বোনের বাড়ীতে বেড়াতে। আমি জানতে পারলাম যে, তিনি সেখানে আমার বিয়ের জন্য পাত্রী দেখছেন। উনি কয়েকদিন পর ঢাকায় ফিরে আসলেন এবং আমাকে একটা ছবি হাতে দিয়ে বললেন,‘‘আমি বেশ কয়েকটা মেয়ে দেখেছি, তার মধ্যে এই মেয়েটাকেই আমার পছন্দ হয়েছে। তুমি ছবি দেখো এবং আমাকে জানাও।” আমি দেখে জানালাম যে, আমার কোন সমস্যা নেই। তোমরা যেটা ভাল মনে করো সেটাই করো। কারণ আমার কয়েকটা শর্ত ছিল। সেসব সব শর্তই মিলেছিল। যেমন: মেয়েকে মাষ্টার্স পাশ হতে হবে, মোটামুটি ধরনের সুন্দরী হতে হবে, শিক্ষিত ও সচ্ছল ফ্যামিলি হতে হবে, মেয়েকে গান গাইতে জানতে হবে, ভাল রান্না জানতে হবে।
আম্মার কথামত আমি একদিন বৃহস্পতিবার অফিস করে বওনা দিলাম রাজশাহী, ন্যাশনাল ট্র্যাভেলসে করে। রাত ১২টায় গিয়ে উঠলাম লক্ষীপুরে খালার বাসায়। যেয়ে খাওয়া দাওয়া করার পর জানতে পারলাম যে, খালার জা আমার জন্য আরো একটা পাত্রী দেখেছে এবং তাকেও পরের দিন দেখতে যেতে হবে। কিন্তু আমি তো দেখতে এসেছি আম্মার পছন্দ করা মেয়েকে। তো ঠিক আছে দেখতে যাবো।
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রেডী হয়ে গেলাম খালার সাথে বড় মামার বাড়ীতে। এখানে বলে রাখি মেয়েদের ফ্যামিলি আবার আমার মামীদের (দুর সম্পর্কেও আত্মীয়) সাথে পরিচিত। ওখানেই মেয়ের আসার কথা তার বড় বোনের সাথে। আমি আগেই বলে রেখেছিলাম যে, বাঙালী সনাতন পদ্ধতিতে আমার বিয়ের পাত্রী দেখা একদম পছন্দ নয়।
সকাল ৯টায় মামার বাসায় গেলাম এবং মেয়ের দেখলাম। মেয়ের বোনের সাথে কথা বললাম। উনারা আমাদের দুজনকে একান্তে কিছুক্ষণ কথা বলার ব্যাবস্থা করে দিলেন। আমরা দুজন দুজনকে জানলাম বিভিন্ন রকম প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে। মেয়ে সাইকোলজিতে মাষ্টার্স করেছেন। মেয়ে আমাদের সবাইকে গান গেয়ে শোনালো। বেশ একটা আড্ডা দেওয়ার পরিবেশে আমাদের দুজনের পরিচয় হলো। বেশ ভালই লাগলো। তারপর বিদায় নিল ওরা। আমি আম্মাকে ফোন করলাম বেলা ১২টার দিকে। বললাম, আমার পাত্রী পছন্দ হয়েছে।
চলবে....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


