somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার কষ্টের স্বপ্নগুলো- (হায়রে মানুষ!!)

০৬ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফজরের আজানের সময় আজ লাইনে দাঁড়িয়েছি। আমার বউ আমার পাশের লাইনে। এখানে নারী পুরুষের জন্য আলাদা আলাদা লাইন। আগে শুনেছি নারী পুরুষ একসাথেই দাঁড়াতো কোনদিন নাকি একলোক এক মহিলার গায়ে আলতো হাত বুলানোর পর থেকে আলাদা লাইনের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। কি যে অবস্থা, এই শালা গরীব গুলোর আসলেই কোনদিন হুঁশ হবে না। শালা শুয়োরের পুত, বাইনচোদ।

সকাল আটটা থেকে বিডিআর বাবুরা আসবে। তারা দাড়িপাল্লা আর বাটখারা দিয়ে মেপে মেপে চাল দিবে। আজ শুনেছি জনপ্রতি ৩ কেজির বেশী দিবে না। তাতে আমার সমস্য নেই। আমরা স্বামী-স্ত্রী পাবো মোট ৬ কেজি। আহ কি আনন্দ। ঘরে এক কেজি রেখে বাকী পাঁচ কেজি দিবো বিক্রি করে। ২৫ টাকা দরে কিনে ৩০ টাকা করে ৫ কেজি বেচলেও ২৫ টাকা লাভ। তাহলে একটু টেংরা মাছ কিনে করল্লা দিয়ে পাতলা ঝোল করে খাবো। আহ! কত দিন খাইনা। বউটাও না খেতে পেয়ে শুকিয়ে গেছে।

এভাবে প্রতিদিন লাইনে দাঁড়ালেই মোটামুটি আমাদের দুজনের সংসার ভাল ভাবেই খেয়ে দেয়ে চলে যায়। ফকরুদ্দিন ভাই আর মইন ভাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। উনারা যদি সময় মত সাহসী পদক্ষেপ (অপারেশন ডাল ভাত) না নিতো তাহলে আমাদের মত গরীব গুলোর এই বাড়তি কামাইটাও হতো না আর দুবেলা পেট ভরে খাওয়াটাও হতো না। দোয়া করি এটা যেন বন্ধ না হয়।

আমি খেয়াল করলাম সবার মধ্যে আমার কাপড় চোপড়ই একটু ভাল। এতেই হয়েছে যা বিপত্তি। সবাই টিটকারী মারছে। বলছে বড়লোক আইয়া খাড়াইছে আমাগো লগে, পুরান পাগলে ভাত পায়না নতুন পাগলের আমদানী। কত বোঝানোর চেষ্টা করছি ভাই আমিও তোদের মত। আমারও পেটে ভাত নাই। তাও বোঝে না। পিছন থেকে কে যে একবার গাল দিয়ে বললো, এই হালাত পুতরে লাথথি মার, যতটাকা লাগে আমি দিমু। আমি হাসি মনে মনে, আর বলি, তুই টাকা পাইবি কই, তুই একটা ফকির, নাইলে এইহানে খাঁড়াইছস কিল্লিগা।

দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পা ব্যথা হয়ে গেছে। আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না। দেখলাম আমার বউটা মাটিতে বসে পড়েছে। বসে বসে ঝিমাচ্ছে।

দাড়িপাল্লা আর বাটখারার শব্দ পেয়ে বুঝলাম সকাল আটটা বেজে গেছে। সবাই বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো। চারিদিকে একটা শোরগোল পড়ে গেল। হৈ হৈ করে উঠলো সবাই। সবার চোখেতে খুশির ঝিলিক। ভাবটা এমন যেন, ট্রেন এসে পড়েছে তাড়াতাড়ি উঠতে হবে।

বিডিআর বাবুরা অলস ভাবে চাল মাপছেন। একজনকে দিতেই অনেক সময় লাগছে। ওদের পেটেতো ভাত আছে। আমরা না এই চাল নিয়ে গিয়ে রান্না করে খাবো । ওদের তো সরকারী বাবুর্চী রেঁধে খাওয়াচ্ছে। গুনে দেখলাম আমার সামনে আরো ৩১ জন। হোক তাতে সমস্যা কি, চাল আজকে নিয়েই যাবো। মহিলার লাইনে সামনে ক্যাচাল লেগেছে, এক বিডিআর বাবু বলছেন, খানকি মাগী, চাইলের দাম দিবার পারোস না, লাইনে খাড়াসোস ক্যা? তুই যে এক টাকা কম আনছোস এইডা কি আমার বাপে দিয়া যাইবো? জানিনা ওনার বাপ কে? বাবু কার কথা বলছেন। মনে হয় ফকরুদ্দিন ভাই ওনার বাপ লাগে।

মনে মনে বললাম, আসলেই বেটি একটা খানকি মাগী, ফকিরউদ্দিন ভাই যে কত কষ্ট করে দাদাদের কাছ থেকে চাল বেশী দাম দিয়ে কিনে নিয়ে এসে আমাদের দুবেলা খাওয়াচ্ছেন! আসলে আমরা গরীবগুলো যেন কেমন? ঘাড়ে তুললে মাথায় উঠতে চাই।

মোবাইল এলার্মে ঘুম ভেঙ্গে দেখি সকাল সাতটা বাজে। তাড়াতাড়ি নাস্তা খেয়ে দৌড়ে এসে বাস ধরলাম অফিস যেতে হবে। মিরপুর জাতীয় ষ্টেডিয়ামে দেখলাম বিডিআর বাবুদের দোকানের সামনে নারী পুরুষের লম্বা লাইন। আমি লাইনের প্রথম থেকে ৩১ জন পরে আমাকে খুঁজতে চেষ্ট করলাম। বাস ছুটে চলে, আর আমি আবার ঝিমাই, চেষ্টা করি স্বপ্নের পরের পর্বটা দেখতে। আমার স্বপ্নকে পিছনে ফেলে বাস ছুটে চলে অফিসের দিকে। আমার মাথাটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে।

ছবি সুত্র: দৈনিক পত্রিকা,
ছবি এডিট: লেখক।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:৩১
৭টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×