তো যাই হোক আজকের আলোচ্য বিষয় সেটা নয়। ১ম সাময়ীকি অংক পরীক্ষায় আমি মনে হয় পেয়েছিলাম ৫৬/৫৭। অর্থাৎ ৬০ এর কম। স্কুলের স্যাররা সবাই জানতেন যে আমাকে বাড়ীতে পড়াতেন আমার বাবা। আমাদের অংক স্যার ছিলেন তৈমুর স্যার। তো উনি খুব আশ্চর্য হলেন আমার এহেন রেজাল্ট দেখে। তখন ক্লাশে পরীক্ষার খাতা দেখানো একটা রেওয়াজ ছিল। এখন আছে কিনা জানিনা। স্যার ক্লাশে খাতা দেখানো শেষ হলে আমাকে বললেন, এই খাতাটা তোর আব্বাকে দেখাবি আর উনার কাছ থেকে একটা সই নিয়ে আসবি।
এইতো পড়লাম আমি বিপদে। এই খাতা যদি বাবাকে দেখাই তাহলে আর আস্ত থাকবো না, মেরেই ফেলবে। কারণ উনি ছিলেন খুব কড়া মানুষ। স্যারের হাত থেকে খাতা নেওয়ার পরে আমি খুব দুঃচিন্তায় পড়ে গেলাম। কি করে বাবার সই নিয়ে আসি। কোন ভাবেই কোন কিছু মিলাতে পারিনা। দিন যায়, রাত যায় কিন্তু কোন সমাধান পাই না। অবশেষে ঠিক করলাম, বাবার সই নকল করে দিয়ে দিবো।
যথারীতি তাই করলাম পরের অংক ক্লাশে স্যারকে দিলাম সই করা খাতা। স্যার কিছুক্ষণ বাবার সই এর দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন, তোর বাবা খাতা দেখে কি বললো? আমি বললাম, "স্যার বাবা খুব মারলেন। বলেছেন বাড়ী থেকে বের করে দিবেন।"
স্যার যা বোঝার ঠিকই বুঝেছিলেন। বললেন, ঠিক আছে যা আমি তোর বাবাকে বলবো তোকে যেন বাড়ী থেকে বের করে না দেয়। আমিও হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। যাক এ যাত্রায় বাঁচা গেল। আর প্রতিজ্ঞা করলাম, এখন থেকে আর মেয়েদের কথা ভাববো না, ভালো করে পড়ালেখা করবো। ২য় সাময়ীকি পরীক্ষায় ভালো পরীক্ষা দেওয়ার জন্য মনস্থির করলাম।
রাতে বাবা আমার পড়ার টেবিলে পাশে এসে দাঁড়ালেন। আমি তার দিকে তাকিয়ে এমন একটা ভাব করলাম, যে আমি পড়াতে ভীষন ব্যাস্ত। তার হাতের দিকে তাকিয়ে আমার হৃদপিন্ডের লাব ডাব বন্ধ হয়ে গেল কয়েক মূহুর্তের জন্য। পড়ার অভিনয় কোথায় হারিয়ে গেল। আমার জিভ শুকিয়ে গেল। চুল গুলো খাড়া হয়ে গেল। বাবা খাতার সই দেখিযে বললেন,"এটা কি?"
পিঠের উপর ঝড় বয়ে গেল। হঠাৎ সব ঠান্ডা। নিঃশ্চুপ সবকিছু। পিনপতন নিরবতা। বুঝলাম যে, মার শেষ হলো। নিজেকে আবিষ্কার করলাম উদ্ভ্র পাগলের বেশে।
আরো অনেক মার খেয়েছি অনেক কারণে। তবে আমার সৌভাগ্য যে আমার বাবার কাছে কখনই মেয়ে ঘটিত কোন ব্যাপারে নালিশ আসেনি। আমরা সবই করতাম কিন্তু খুব নিরবে। ভিতরে যাই থাক, উপরে কিন্তু ফিটফাট। দেখে বোঝার উপায় নেই।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৯:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



