এমন এক ক্রান্তিকালে এলো বৈশাখ যেসময় মানুষের ঘরে নেই আনন্দ। কৃষকের মুখে নেই হাসি। ধান, গম, আলুর বলে বাম্পার ফলন। কৈ? যে কৃষক তার নিজের জমিতে ফসল ফলায় তার ঘরেই আজ খাদ্য নাই। সুখ নাই। ধনে ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা শুধুই গান। কোনই মিল নেই এখনকার সাথে। মাঝে মাঝে মনে হয় সব কাব্য, সব কবিতা, সব গান মুছে আবারো নতুন করে লেখা হোক। রচিত করা হোক সেগুলো মেহানতী কৃষকের ক্রন্দনের সুরে।
কৃষকের চওড়া কপালের রেখা হয় বিস্তৃত। হয় আরো মোটা। বাহুর পেশীর শক্তি হয় স্তিমিত। হালের বলদ হয় শীর্নকায়। হালে ধরে ঘুণ। ভেঙ্গে যায় কৃষকের স্বপ্ন। কারবালায় পরিণত হয় এই বাংলা। একসময়ে গ্রামের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে হতো হালখাতা। পুরোনোকে ঝেড়ে ফেলে নতুন হিসেব হতো। এখন হিসেব হবে কি? সেই হালখাতার লালখাতা আর শোভা পায় না মহাজনের কাঠের ক্যাশবাক্সের উপর। তা এখন শিকায় তোলা। সেখানে এখন উঁই এর বসবাস। মানুষ খেতেই পায় না, পাওনা শোধ করবে কি দিয়ে। বাড়তে থাকে সুদ। বাড়তে থাকে হিসেব। ফতুর হতে থাকে মহাজন, ফতুর হতে থাকে কৃষক, ফতুর হতে থাকে বাংলার ঐতিহ্য, বাংলার ইতিহাস।
অপরদিকে চলে শহুরে পান্তা-ইলিশের বৈশাখ বরণ। যে বৈশাখের সাথে শহরের জনপদের কোন খবরই নেই। যারা বাংলার বারোটি মাসের নাম গুলো বলতেই পারে না। তাদের কলিকালের বর্ষবরণ। একদিন মাটির সানকিতে নুন দিয়ে পান্তা খেয়ে তারা কিভাবে বুঝবে এই বাংলার দুঃখ। অযথা দাম বাড়ে জাতীয় সম্পদ ইলিশের। দালানবাবুদের বৈশাখ বরণের উপাদান জাটকা, বিক্রেতা হাঁকে হাজার টাকায়। ধিক্ এই নগরের মেকী সভ্যতাকে।
তারপরেও কষ্টে প্রসব করতে হবে আরো একটি কষ্টকে, বৈশাখ ১৪১৫।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



