somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মা - কে নিয়ে ছোট্ট একটি সত্য গল্প

১১ ই মে, ২০০৮ সকাল ১০:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মা কথাটি খুবই ছোট্ট কিন্তু এর গুরুত্ব অপরীসিম। আমরা এই সবাই এই দুনিয়ার আলো দেখতে পাই এই মায়ের জন্য। একটা মা যে কত কষ্ট করে তার সন্তানকে মানুষ করেন তার কোন হিসেব বা তুলনা নেই। দীর্ঘ নয় মাস দশ দিন গর্ভে থেকে একটি সন্তান ভুমিষ্ট হয়। এই এতটা দিন একটা মা অনেক কষ্ট করে সেই সন্তানকে পেটের মধ্যে লালন করে।

এসব সব কিছুই বুঝেছি যখন আমার স্ত্রী সন্তান গর্ভে ধারণ করেন। আমাদের কোল জুড়ে এলো একটা সন্তান। তাকে আমরা মানুষ করতে থাকলাম। ওহ! সে কত কষ্ট। সেটা শুধু বাবা মাই বোঝে। আজ যখন বাবা হয়েছি এখন বুঝতে পারি একটা মা অথবা একটা বাবা কতটা কষ্ট করে তার সন্তানকে মানুষ করে। এটা যতটা কষ্টের আবার ততটা আনন্দের। এখন আমার সে সন্তান হাঁটে, দৌড়ায়, আমি অফিসে আসলে ফোন করে আমার খবর নেয়, আমার কোলে শুয়ে থাকে, আমার কাছে গল্প শোনে। কত আনন্দের!!

আমি কয়েক বছর আগে একটা গল্প শুনেছিলাম এবং আরো শুনেছিলাম যে সেটা সত্য ছিল। ঘটনাটি সম্ভবতঃ মধ্যপ্রাচ্যে কোন এক দেশের।

এক স্বামীহারা মহিলা তার সন্তানকে অনেক কষ্ট করে মানুষ করে। ছেলেটি দিনে দিনে বড় হয়। স্কুলে পড়ে, কলেজে পড়ে। এভাবে সে একদিন অনেক বিদ্বান হয়। স্কুলে পড়া অবস্থায় মা প্রতিদিন তাকে নিয়ে স্কুলে দিয়ে আসতো। মহিলাটির একটি চোখ ছিল অন্ধ। সে এক চোখে দেখতো। তো স্কুলের অন্যান্য ছাত্ররা সেই ছেলেটিকে তিরোষ্কার করতো যে তার মা দেখতে অসুন্দর বলে। অন্ধ বলে। এর ফলে ছেলেটি খুব লজ্জা ফিল করতো। মা যাতে স্কুলে না আসে ছেলেটি তাই চাইতো। এভাবে ধীরে ধীরে মায়ের প্রতি ছেলেটির ঘৃণা জন্মাতে থাকে। কালে কালে তা প্রকট আকার ধারন করে।

এর অনেকদিন পর ছেলেটি বিদেশে চলে যায় চাকুরীর সন্ধানে। মায়ের সাথে কোন যোগাযোগ রাখে না। সেখানে সে বিয়ে করে ভালো চাকুরী করে এবং তার সন্তান হয়। তাদের নিয়ে বেশ সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকে। মায়ের কোন খোঁজ খবর রাখে না। জানেও না যে, মা বেঁচে আছে না মারা গেছে।

অনেকদিন পর ছেলেটির মা অনেক কষ্ট করে ছেলেটির ঠিকানা যোগাড় করে এবং সেই ঠিকানা মোতাবেক সন্ধানে যায়। মহিলাটি ছেলের বাড়ীতে যখন দরজা নক করে, তখন তার নাতী নাতনী দরজা খুলে দেয় এবং হাসাহাসি করতে থাকে অন্ধ দেখে। এমতাবস্থায় ছেলেটি বাহিরে এসে তার মাকে তিরষ্কার করে, চলে যেতে বলে। এতে মা খুব কষ্ট পায় এবং চলে যায় তার নিজের ঠিকানায়।

এর বেশ কিছুদিন পর ছেলেটি কি যেন এককাজে তার জন্মভুমিতে যায়। তখন সেই এলাকার লোকজন তাকে বলে যে কিছুদিন আগে তোমার মা মারা গেছেন তোমাকে একটা চিঠি লিখে গেছেন। সেই চিঠিটা ছেলেটি হাতে নিয়ে পড়ে আর অনুশোচনা করতে থাকে।

চিঠিতে লেখা ছিল----

খোকা,
"আমি তোমার বাসায় গিয়েছিলাম তুমি কেমন সুখে আছো এটা দেখতে। আমার খুব ভাল লেগেছিল যে তুমি ভালো আছো। আমার মনে কোন দুঃখ নেই। তবে খোকা, তোমাকে একটা কথা আমি জানানো প্রয়োজন মনে করছি। খুব ছোটবেলায় একটা মারাত্বক দুর্ঘটনায় তুমি একটা চোখ হারিয়েছিলে। তোমার একটা চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আমি আমার একটা চোখ দিয়ে দেই তোমাকে। আমার ভাবতে খুব ভাল লাগছে যে, আমার একটা চোখ দিয়ে হলেও তুমি এই সুন্দর পৃথিবীটা দেখছো, উপভোগ করছ। এটাই আমার আনন্দ।"

আসুন আজ আমরা সবাই আমাদের মাকে অন্ততঃ একবার বলি, "মা আমি তোমাকে ভালবাসি"
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মে, ২০০৮ সকাল ১০:১৬
৯টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×