বাস থেকে নামতে গিয়েই হাত থেকে মোবাইলটা ছিটকে পড়ে গেল বাসের মেঝেতে। বোধহয় মোবাইলটা গেল! খুব সখ করে কিনেছিলাম। আফসোস হচ্ছিল ঐ মুহুর্তগুলো। নীচু হয়ে মোবাইলটা তুলে তাকাতেই চোখ পড়ল সেই সিটে বসে থাকা যাত্রীর দিকে। চোখে চোখ পড়তেই ও যেন বিদ্যুতের শক পেল। চমকে উঠলো।
"আরে, তুমি?" অপর্না আমাকে বলল।
আমিও তো বলি তুমি এখানে? কোথায় যাচ্ছো?
অফিস থেকে বাসায় ফিরছি। এইতো সামনের ষ্টপেজে নামবো। তুমি কোথায় এদিকে?
আমি বললাম, হ্যাঁ আমার অফিস গুলশানে, বাসায় ফিরছি। কথাগুলো বলতে বলতে দেখি বাস ছেড়ে দিলো। আর নামা হলো না আমার। অপর্না বলল, সামনের ষ্টপেজে নেমে যেও। আমিও তো নামবো। ও জানালার দিকে চেপে বসে আমাকে জায়গা দিলো বসার। আমি বসলাম। তারপর টুকটাক কথাবার্তা। জানলাম ওর স্বামী আমেরিকা থাকে। এখনও বাচ্চা কাচ্চা হয়নি। একটা এনজিও তে কাজ করছে। দুই রুমের একটা বাসা ভাড়া করে থাকে ঢাকাতেই। সাথে একটা কাজের মেয়ে থাকে।
কিন্তু ও আমাকে একটি বারের জন্য প্রশ্ন করলা না যে বিয়ে করেছি কিনা? তবে অন্য ধরনের প্রশ্ন করে জানতে চায় বিয়ে করেছি কিনা? আমিও সেটা বুঝতে পেরে উত্তরের আশপাশ দিয়ে যাই।
বললাম, তোমার সাথে তো অনেক দিন তাও প্রায় ১১ বছর পরে দেখা। আমি ভাবিনি যে তোমার সাথে আবারও দেখা হবে এভাবে। ওর কাছ থেকে ওর মোবাইল নাম্বার নিলাম। আমার নাম্বারটাও দিলাম। তবে একটা জিনিস লক্ষ্য করছিলাম অপর্না সব কথাই একটু কি যেন আড়াল করে বলতে চাইছে। যাই হোক আমি ওটা পাত্তা দিলাম না। কেন যেন আমাকে ভয় পাচ্ছে এমন একটা ভাব ওর কথার মধ্যে।
আমি বললাম, চলো বাস থেকে নেমে কোথাও গিয়ে বসি। অপর্না বলল, না মানে, আজ না হয় থাক। বললাম, আবার কবে দেখা হবে, চলো কিছুক্ষণ গল্পসল্প করি, তবে যদি তোমার আপত্তি না থাকে।
তবে চলো আমরা চেরিশে বসতে পারি। ওর কথা মতো চেরিশেই বসলাম। ওখানে সেলস সার্ভিস। ওকে বসতে দিয়ে দুটো বার্গার আর দুটো কোক নিয়ে আসলাম কাউন্টার থেকে।
নাও, শুরু করো। অপর্না হঠাৎ চমকে উঠলো আমার কথা শুনে। আমি বললাম, কি ব্যাপার অপর্না কি ভাবছিলে তুমি?
আমার দিকে চোখ তুলে তাকালো অপর্না। আমি ওর চোখে চোখ রাখলাম।
চলবে..............

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


