পূর্বে প্রকাশের পর
........................
কি ব্যাপার অপর্ণা কি ভাবছিলে তুমি? হঠাৎ এমন আনমনা হয়ে গেলে কেন? মনে হয় আমাকে দেখে চমকে উঠলে।
কৈ নাতো। এইতো ঠিক আছি। বল তোমার খবর বলো। অফিস থেকে সরাসরি ফিরছো?
লক্ষ্য করলাম অপর্ণার প্রত্যেকটি কথায় কোন একটা কিছু পাশ কাটিয়ে যেতে চাইছে। বললাম, না আমি গিয়েছিলাম নিউমার্কেটে কিছু বইপত্র কিনতে। একটা বিষয়ের উপর এনালাইসিস করছি। তারই সার্পোটিং কিছু বই কিনলাম। তা তোমার খবর বলো। তোমার আবার দেরী হয়ে যাচ্ছে নাতো? আমার হাতে সময় আছে। আমার কোন সমস্যা নেই। আমি তো দেশে অনেকদিন ছিলাম না। অনেক বন্ধু বান্ধবের সাথে আর যোগাযোগ নেই। আছে নাকি তোমার সাথে যোগাযোগ কারো?
যোগাযোগ মানে তেমন নেই। বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর থেকে তেমন যোগাযোগ করার সময় পাই না। আর চাকুরীর জন্য তো আরো সময় পাই না। তবুও মাঝে মাঝে কয়েকজনের সাথে শুধু টেলিফোনে কথা হয়, ব্যাস এতটুকুই। অপর্ণা বলল।
আমি বললাম, গত বছর ডিসেম্বরে ফিরেছি আমি এদেশে। বিদেশ আমার একদমই ভাল লাগে না। দম বন্ধ হয়ে আসে। আর যেতে চাই না কোথাও। এদেশেই কিছু একটা করতে চাই।
আচ্ছা দেখো কথায় কথায় অনেক সময় পার হলো, কিন্তু তুমি কোথায় চাকুরী করছ সেটাই জানা হলো না। জিজ্ঞেস করলো অপর্ণা।
বললাম, এখানে আছি একটা বেসরকারী ফার্মে। ওরা এখানে মাইনের উপর গবেষনা করছে। আমি ওখানে আছি চীফ সাইন্টিফিক অফিসার হিসেবে আছি। এখন খুব ব্যাস্ত এনালাইসিসের কাজে।
রাজশাহীতে যাও। শেষ কবে গিয়েছো? তোমার আব্বা আম্মা ভালো আছেন? তোমার ভাইটা এখন কি করছে? বললাম আমি।
আমার কথার কোন জবাব না দিয়েই অপর্ণা উঠে পড়লো। বলল, আজকে আর না। আরেকদিন কথা হবে।
কি ব্যাপার অপর্ণা তুমি কি কোন ব্যাপারে টেনশানে আছো? কথার জবাব না দিয়েই চলে যাচ্ছো। আর কিছুই তো খেলেনা।
খেয়াল করলাম ওর কপাল ঘেমে উঠেছে। ভ্যানেটিব্যাগটা হাতে নিয়েই দ্রুত চেরিশ থেকে বেরিয়ে একটা রিক্সায় উঠে বসলো। রিক্সাটা চলে গেল। আমি কাঁচের ভিতর থেকে দেখলাম ওর চলে যাওয়া। মনে মনে বললাম “অপর্ণা তুমি আমাকে ভয় পাচ্ছো কেন? তুমি তো ভাল করেই জানো আমি কিছুই জানিনা।”
রাস্তা থেকে চোখ সরিয়ে প্লেটের দিকে নিতেই দেখি টেবিলে অপর্ণার একটা ছোট নোটবুক ফেলে রেখে গেছে। তাড়াতাড়ি ওর মোবাইলে ফোন দিতে যেয়েও দিলাম না। ঠিক আছে পরে একসময়ে ফোন করে বলা যাবে।
রাতের খাওয়া দাওয়ার পর অপর্ণার মোবাইলে ফোন দিলাম। হ্যালো কে, অপর্ণা তুমি তো তাড়াহুড়া করেই চলে আসলে। কিন্তু তোমার নোটবুক টেবিলে রেখে গিয়েছিলে। এটা সম্ভবতঃ তোমার গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। তোমাকে ফেরত দিতে চাই। তোমার বাসার ঠিকানা দাও আমি পৌছে দিবো।
না না আমার বাসায় তোমাকে ওটা কষ্ট করে দিয়ে যেতে হবে না। আমিই তোমার কাছ থেকে এক সময়ে নিয়ে নিবো।
খেয়াল করলাম ও ওর বাসার ঠিকানা দিতে চাইছে না।
এভাবে বেশ কিছুদিন পার হয়ে গেল। অপর্ণার নোটবুকটা আমার অফিসের ড্রয়ারে রেখে দিয়েছি। যদি কখনও আবার দেখা হয় তবে দিয়ে দিবো। আমিও অপেক্ষা করতে থাকি কবে ওর সাথে আবারও দেখা হবে।
সোমবার সকালে মোবাইলের এলার্মে এ ঘুম ভাঙ্গলো। দেখলাম ওনেক গুলো মিসড কল। অপরিচিত নাম্বার। একটু পরেই ফোন আসলো আবারও ঐ নাম্বার থেকে। কলটি আমি রিসিভ করলাম।
হ্যালো কে বলছেন? হ্যালো...........
চলবে..........
প্রথম পর্ব
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


